তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম মাওলানা শরিফ আহমাদ

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

 

 

 

সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ। তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম শিরোনামের অধীনে প্রথমে নামাজের নিয়ম-কানুন এবং পরে এ বিষয়ে আরো কিছু তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়েছে । একজন আমলী মুসলমান হিসাবে এই সকল বিষয় আপনাদের জেনে রাখা প্রয়োজন । অন্যদের শেখানো দরকার। সুতরাং বিষয়গুলো আয়ত্ত করুন।

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজ কি ও কেন ?

 

ইশার নামাজের পর থেকে নিয়ে সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে নফল নামাজ আদায় করা হয় ইসলামী পরিভাষায় তাকে সালাতুল লাইল ,কিয়ামুল লাইল কিংবা তাহাজ্জুদের নামাজ বলা হয় । দুই দুই রাকাত করে সাধারণ নফল নামাজের মত এই নামাজ আদায় করতে হয় । নফল নামাজের মধ্যে এই নামাজের ফজিলত ও মর্তবা সবচেয়ে বেশি । তাহাজ্জুদের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সক্ষম হয় ‌।

 

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত ?

 

তাহাজ্জুদের নামাজ দুই রাকাত থেকে ১২ রাকাত বা তার চেয়ে অধিক ও পড়া যায় । তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ সময় আট রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন ‌ । এজন্য ৮ রাকাত পড়াই উত্তম। ( সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৭৩, রদ্দুল মুহতার, খণ্ড নং ১ পৃষ্ঠা নং ৫০৬ , ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ,খণ্ড নং ১ পৃষ্ঠা নং ১১২ )

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়:

 

ইশার নামাজ আদায় করার পর থেকে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সুবহে সাদিক পর্যন্ত তা বাকি থাকে । অর্থাৎ ফজরের আযানের ৯/১০মিনিট আগ পর্যন্ত পড়া যায় । এক হাদীস থেকে বোঝা যায় ইশার নামাজের পর যেসব নফল নামাজ পড়া হয় তাই তাহাজ্জুদের অন্তর্ভুক্ত । তবে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া উত্তম । সওয়াব বেশি। তবে কেউ যদি শেষ রাতে উঠতে না পারে তাহলে ইশার নামাজের পর( বিতরের আগে বা পরে )তাহাজ্জুদের নিয়ত করে নফল নামাজ আদায় করলে তা তাহাজ্জুদের সওয়াব লাভ করবে ।

( মেশকাত,খণ্ড নং ১ পৃষ্ঠা নং ১০৫ , রদ্দুল মুহতার,খণ্ড নং ১ পৃষ্ঠা নং ৫০৬ ও খণ্ড নং ২ পৃষ্ঠা নং ২৪ )

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজের সূরা:

 

তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য কোন সূরা পড়াকে নির্দিষ্ট করা হয়নি । সুরা ফাতেহার পর পবিত্র কোরআনের যে অংশটি সহজ মনে হবে সেখান থেকে পাঠ করলেই নামাজ হয়ে যাবে । তবে অন্যান্য নামাজের তুলনায় তাহাজ্জুদ নামাজের কেরাত লম্বা হওয়া উত্তম । নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন নামাজে বিভিন্ন সূরা পড়তেন । নামাজের মধ্যে সেগুলো পড়া এবং না পড়া উভয়টার সুযোগ আছে । তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য কেরাতের সুন্নাত ৩ টি পদ্ধতি আছে ।

আর তা হলো ১. ফজর ও যোহর নামাজে তিওয়ালে মুফাসসাল পড়া । ( সূরা হুজরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত সূরা গুলো পড়া ) ২. আসর ও ইশাতে আওসাতে মুফাসসাল পড়া । ( সূরা তারেক থেকে সুরা বাইয়্যেনা পর্যন্ত সূরা গুলো ) ৩. কিসারে মুফাসসাল পড়া । ( সুরা যিলযাল থেকে নাস পর্যন্ত সূরা গুলো পড়া । (ইলাউস সুনান ৪/৩২; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪০-৪১)

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজের আরবী নিয়ত :

نويت ان اصلي لله تعالى ركعتي صلاة التهجد

 

তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়ত:

আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছি । আল্লাহু আকবার ।

 

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম :

 

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত করার পরে তাকবীরে তাহরীমা অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে হাত বাধবেন ।

অতঃপর –

১. ছানা পাঠ করবেন ২. আউযু-বিসমিল্লার সাথে সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন ৩. অন্য আরেকটি সূরা মিলাবেন ৪. অতঃপর রুকু সিজদা করে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করে উঠে দাঁড়াবেন ।

দ্বিতীয় রাকাতে- ১. আউযু-বিসমিল্লার সাথে সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন । ২. অন্য আরেকটি সূরা মিলাবেন। তারপর রুকু ,সিজদা করে বসে তাশাহুদ, দরুদে ইব্রাহিম ও দোয়া মাসুরা পড়ে অন্যান্য নামাজের মত সালাম ফিরাবেন।

এভাবে যত রাকাত ইচ্ছা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন। দোয়াও করতে পারেন। কেননা হাদীসে এসেছে ঐ সময় দোয়া বেশি কবুল হয় ।

 

মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

 

মহিলাদের জন্য নামাজের বিধান এবং রোকনগুলো এক । শুধু আদায়গত পদ্ধতি আলাদা । অন্য নামাজে নারী পুরুষের নামাজে যতটুকু পার্থক্য আছে তাহাজ্জুদের ক্ষেত্রে ঠিক ততটুকুই । এছাড়া মহিলাদের জন্য তাহাজ্জুদের বিশেষ কোন নিয়ম নেই।

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নাত না নফল?

 

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ আবশ্যক ছিল । তিনি নিয়মিত এই নামাজ আদায় করতেন । ঠিক সাহাবায়ে কেরামও গুরুত্বের সঙ্গে এই নামাজ আদায় করেছেন । তবে উম্মতের জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ ওয়াজিব বা সুন্নাত নয় । বিশুদ্ধ মত অনুসারে এটি হলো সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা বা নফল । এবং নফলের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই নামাজ।

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজ কি প্রতিদিন পড়তে হয় ?

 

তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়মিত প্রতিরাতে পড়া উচিত । হাদীসে এসেছে ইখলাসপূর্ণ অল্প আমল মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় । পরকালে নাজাতের জন্য যথেষ্ট। বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত নারী পুরুষ তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য রাত্রে উঠলে মহান আল্লাহ খুশি হন । তাকে দেখে মুচকি হাসেন । একান্ত অসুস্থ কিংবা ঘুমের কারণে পড়তে না পারলে কাজা করতে হবে না। তবে ইচ্ছা হলে পরের দিন দুপুরের পূর্বে অনুরূপ নফল পড়ে যাওয়া উত্তম । ( ফাতাওয়া দারুল উলুম,আহকামে যিন্দেগী )

 

তাহাজ্জুদ নামাজ কি অন্ধকারে পড়তে হয়?

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজ অন্ধকারে নাকি আলোতে পড়বে এমন কোন বিধান ইসলামে নেই । তবে তাহাজ্জুদ নামাজ মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং একাগ্রতার সঙ্গে আদায় করা উচিত। বাতি বন্ধ করে নামাজ পড়লে যদি আপনাদের কারো মনোযোগ বৃদ্ধি পায় তাহলে অন্ধকারে ভালো । এতে অন্য কেউ দেখার সুযোগও পাবে না । আর যদি বাতি জ্বালিয়ে নামাজ পড়লে একাগ্রতার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা না হয়, তাহলে আলো কম-বেশির বাতি জ্বালিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন।

 

 

তাহাজ্জুদ নামাজের মোনাজাত

 

সহীহ বুখারী শরীফের এক রেওয়ায়েতে তাহাজ্জুতের জন্য ঘুম থেকে ওঠার পর একটি দোয়াও বর্ণিত হয়েছে । সে দোয়াটি পাঠ করার পর দোয়া করলে দোয়া কবুল হওয়ার কথা বলা হয়েছে । হাদীসটি এই–

হযরত উবায়দা ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ,যে ব্যক্তি রাতের বেলায় জেগে উঠে পাঠ করে,

لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير . الحمد لله سبحان الله والله اكبر ولا حول ولا قوه الا بالله .

অতঃপর বলে اللهم اغفر لي ( অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন ) অথবা যেকোনো দোয়া করে তার দোয়া কবুল করা হয় । অতঃপর যদি অজু করে এবং নামাজ পড়ে তাহলে তার নামাজ কবুল করা হয় । ( সহীহ বুখারী)

হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদ এর উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়াতেন তখন এ দোয়া পড়তেন ।

اللهم لك الحمد انت قيم السماوات والارض ومن فيهن و لك الحمد لك ملك سموات والارض ومن فيهن .

ولك الحمد انت نور السماوات والارض و لك الحمد انت الحق ووعدك الحق .ولقاؤك حق وقولك حق الجنة حق النار حق .

والنبي جون حق فمحمد صلى الله عليه وسلم حق والساعة حق . اللهم لك اسلمت وبك امنت وعليك توكلت واليك ،انبت وبك ما صنت. واليك حاكمت فاغفر لي ما قدمت وما اخرت وما اسررت وما اعلنت انت المقدم وانت المؤخر. لا اله الا انت او لا اله غيرك.

 

তাহাজ্জুদ নামাজের পর আমল

 

তাহাজ্জুদ নামাজের পর দোয়া করা উচিত । এ সময় দোয়া কবুল হয় । হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত ।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রতিরাতে প্রথম আসমানে অবতরণ করেন যখন এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে (অন্য এক বর্ণনামতে যখন এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় )অতঃপর বলতে থাকেন কে আছে আমার কাছে দোয়া করবে আমি তা দোয়া কবুল করবো ! কে আছে আমার কাছে আবেদন করবে আমি তাকে দান করব! কে আছে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব । এক বর্ণনায় আছে এভাবে ফজর পর্যন্ত আল্লাহপাক বলতে থাকেন । ( বুখারী ও তিরমিযী )

 

 

 

তাহাজ্জুদ পড়লে কি জীন-ভূত দেখা যায়

 

কোরআন এবং হাদীসে জীনের কথা বলা হয়েছে । বিশ্বাস করা ঈমানের দাবী। বিজ্ঞানে সেটা প্রমাণিত হোক কিংবা না হোক । কিন্তু ভূত-পেত্নী বলতে আসলে কিছুই নেই। এগুলো শুধু কাল্পনিক গল্প উপন্যাস এবং নাটক সিনেমায় আছে । তবে অনেকে খারাপ জীনদেরকে ভূত-পেত্নী ইত্যাদি বলে থাকে । ভয়ংকর ও ক্ষতিকর জীন বাড়ির আশেপাশে থাকতে পারে । এজন্য ভয়ের কিছু নেই । তাহাজ্জুদ পড়তে উঠলে তারা আপনাদের সামনে আসবে না ‌। ওদের থেকে বাঁচার জন্য কুরআন হাদিসের বর্ণিত দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করুন ।

 

তাহাজ্জুদ সম্পর্কিত আয়াত

 

 

کَانُوۡا قَلِیۡلًا مِّنَ الَّیۡلِ مَا یَہۡجَعُوۡنَ. وَبِالۡاَسۡحَارِ ہُمۡ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ

অনুবাদ:তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত,

রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত,

( আয-যারিয়াত ১৭– ১৮)

 

وَالَّذِیۡنَ یَبِیۡتُوۡنَ لِرَبِّہِمۡ سُجَّدًا وَّقِیَامًا

অনুবাদ:এবং যারা রাত্রি যাপন করে পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দন্ডায়মান হয়ে;

(আল ফুরকান – ৬৪)

 

اَلصّٰبِرِیۡنَ وَالصّٰدِقِیۡنَ وَالۡقٰنِتِیۡنَ وَالۡمُنۡفِقِیۡنَ وَالۡمُسۡتَغۡفِرِیۡنَ بِالۡاَسۡحَارِ

অনুবাদ: তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।(আল ইমরান – ১৭)

 

 

তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফজিলত

 

তাহাজ্জুদ নামাজ সংক্রান্ত বেশ অনেক কথাই হল । সেখান থেকে গুরুত্বের কথা অবশ্যই জেনেছেন ‌। এবার ফজিলত সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস দেখুন ‌।

 

১ নং হাদীস

عن ابي هريره رضي الله تعالى عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: افضل الصلاة بعد المفروضة صلاة في جوف الليل .

অনুবাদ: আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ফরজ নামাজের পর সমস্ত নফল নামাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদার নামাজ হল রাতের গর্ভের নামাজ (অর্থাৎ তাহাজ্জুতের নামাজ ) ( মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)

২ নং হাদীস

 

عن ابي هريره رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: افضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم وافضل الصلاة بعد المفروضة صلوة الليل .

অনুবাদ: আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন রমজানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা । আর ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হল তাহাজ্জুদের নামাজ ।

( সহীহ মুসলিম ও নাসায়ী )

৩ নং হাদীস

عن ابي مالك الاشعري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ان في الجنه غرفا يرى ظاهرها من باطنها من ظاهرها اعدها الله لمن اطعم الطعام وافشسي السلام وصلى بالليل والناس نيام .

অনুবাদ: হযরত আবু মালেক আশআরী রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন ,জান্নাতে এমন কিছু (সুন্দর) কক্ষ আছে যার ভিতর থেকে বার দেখা যায় আর বার থেকে ভেতর দেখা যায় । আল্লাহ তাআলা সেগুলো ওইসব লোকদের জন্য তৈরি করেছেন যারা মেহমানদারি করে, বেশি বেশি সালাম করে এবং রাতের বেলায় নামাজ পড়ে যখন অন্য মানুষ ঘুমন্ত থাকে । ( সহীহ ইবনে হিব্বান)

৪ নং হাদীস

عن ابي امامه الباهلي رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال عليكم بقيام الليل فانه داب الصالحين قبلكم وهو قربة لكم الى ربكم ومغفرة للسيئاة ومنهاة عن الاثم.

অনুবাদ: হযরত আবু উমামা বাহিলী রাদিআল্লাহু তা’আলা বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন ,তোমরা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ো । কেননা তাহাজ্জুদের নামাজ হলো তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার লোকদের তরীকা এবং তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদের নৈকট্য লাভের উপায় । আর তোমাদের গুনাহ মোচনকারী ও গুনাহ থেকে বাধা দানকারী । ( মুসতাদরাকে হাকেম)

 

৫ নং হাদীস

عن ابي سعيد وابي هريره رضي الله عنه قالا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من استيقظ من الليل وايقظ امراته فصليها ركعتين جميعا كتب من الذاكرين الله كثيرا والذاكرات

অনুবাদ: হযরত আবু সাঈদ ও হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুমা বলেন, যে রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয় এবং নিজের স্ত্রীকে জাগ্রত করে দেয় । অতঃপর উভয়ে একত্রে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তাদের উভয়কে অধিক জিকিরকারীদের তালিকাভুক্ত করা হয়। ( আবু দাউদ)

 

৬ নং হাদীস

 

عن ابي الدرداء رضي الله عنه يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال: من اتى فراشه وهو يصلي من الليل فغلبته عيناه حتى اصبح كتب له ما نوى وكان نومه صدقة عليه من ربه

 

অনুবাদ: হযরত আবু দারদা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন । নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাতে জেগে নামাজ পড়ার নিয়তে বিছানায় বসে অতঃপর তা নিদ্রা প্রবল হয়ে উঠতে না পেরে সকাল হয়ে যায় । তার জন্য নিয়ত মোতাবেক সওয়াব লিখে দেওয়া হয় । আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিদ্রা সদকা স্বরূপ গণ্য হবে । ( নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)

 

৭ নং হাদীস

 

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه قال قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم من الليل فترك قيام الليل.

অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন হে আব্দুল্লাহ তুমি অমুকের মত হয়ো না যে তাহাজ্জুদ পড়তো অতঃপর তার ছেড়ে দেওয়া শুরু করেছে । ( সহীহ বুখারী)

 

৮ নং হাদীস

 

عن ابي هريره رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ينزل ربنا كل ليلة الى السماء الدنيا حين يبقى. (وفي رواية في ابواب الصلوات حين يمضي) ثلث الليل الاخر فيقول من يدعوني فاستجيب له من يسالني فاعطيه ما يستغفرني فاغفر له وفي رواية فلا يزال كذلك حتى يضيء الفجر .

অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রতিরাতে প্রথম আসমানে অবতরণ করেন যখন এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে (অন্য এক বর্ণনামতে যখন এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় )অতঃপর বলতে থাকেন কে আছে আমার কাছে দোয়া করবে আমি তা দোয়া কবুল করবো ! কে আছে আমার কাছে আবেদন করবে আমি তাকে দান করব! কে আছে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব । এক বর্ণনায় আছে এভাবে ফজর পর্যন্ত আল্লাহপাক বলতে থাকেন । ( বুখারী ও তিরমিযী )

 

৯ নং হাদীস

 

হযরত উবায়দা ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ,যে ব্যক্তি রাতের বেলায় জেগে উঠে পাঠ করে,

لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير . الحمد لله سبحان الله والله اكبر ولا حول ولا قوه الا بالله .

অতঃপর বলে اللهم اغفر لي ( অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন ) অথবা যেকোনো দোয়া করে তার দোয়া কবুল করা হয় । অতঃপর যদি অজু করে এবং নামাজ পড়ে তাহলে তার নামাজ কবুল করা হয় । ( সহীহ বুখারী)

 

আরো পড়ুনঃ বাংলাতে বায়োডাটা লেখার নিয়ম

পিজি হাসপাতালে অনলাইন টিকিট বুকিং করার নিয়ম

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির দোয়া

 

গ্রন্থনা: মাওলানা শরিফ আহমাদ

লেখক ও শিক্ষক

Leave a Reply

Your email address will not be published.