রচনা সম্ভার বই নবম দশম শ্রেনী PDF 2022

রচনা সম্ভার বই নবম দশম শ্রেনী PDF 2022

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা কেমন আছো আশা করি ভালো আছো  । আজকে আমরা তোমাদের জন্য নিয়ে এলাম রচনা সম্ভার বই নবম দশম শ্রেনী PDF 2022 এবং টেক্সট ফাইল । আমা করি তোমাদের উপকার হবে । 

 

প্রসঙ্গ-কথা

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার জন্য শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত মেধা ও সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশে
সাহায্য করার মাধ্যমে উচ্চতর শিক্ষার যোগ্য করে তোলা মাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য । শিক্ষার্থীকে দেশের
অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত পটভূমির প্রেক্ষিতে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক করে তোলাও
মাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত হয়েছে
মাধ্যমিক স্তরের সকল পাঠ্যপুস্তক । পাঠ্যপুক্তকগুলোর বিষয় নির্বাচন ও উপদ্থাপনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নৈতিক ও
মানবিক মূল্যবোধ থেকে শুরু করে ইতিহাস ও এতিহ্য চেতনা, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,
শিল্প-সাহিত্য- দেশপ্রেমবোধ, প্রকৃতি-চেতনা এবং ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার
প্রতি সমমর্ধাদাবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

রূপকল্প-২০২১ বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার । এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার প্রত্যয় ঘোষণা করে ২০০৯ সালে
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তারই নির্দেশনা
মোতাবেক ২০১০ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তাৎপর্যপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে জাতীয় এীতিহ্য, স্চকৃতি ও মূল্যবোধের সংযোগ ঘটানো
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এসবের ভেতর দিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও পরিচ্ছন্ন দৃষ্চিতজ্ি
তৈরি করা শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য । এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রকাশ
করল ৯ম-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা রচনা বই “রচনা সস্তার: ।

 

এ পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্যকে যথাযথভাবে প্রতিফলনের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে রচনাগুলো
এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা এ দেশের ইতিহাস-এঁতিহ্য, সঞ্চকার-সন্চকৃতি,
শিল্প-সাহিত্য ও নীতি_-নৈতিকতা সম্পর্কে ধারণা লা করতে পারে এবং এ জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন,
দেশপ্রেম, মানবতাবোধ, প্রকৃতি-চেতনা, নৈতিকতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, বিজ্ঞানচেতনা ইত্যাদি নানা
উদ্দেশ্য। ফলে প্রতিটি রচনাকে এক-একটি উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করাই হবে আমাদের কাম্য। এ
ছাড়া গ্রন্থগুলোর বিরচন অংশে যেসব বাগৃধারা ও প্রবাদ-প্রবচন, বাক্য-সংকোচন, প্রতিশব্দ, পরিভাষা,
বিপরীতার্থক শব্দ, চিঠিপত্র, অনুবাদ, ভাব-সম্প্রসারণ, সারাংশ ইত্যাদি সংযোজন করা হয়েছে
সেগুলোকেও মডেল হিসেবে গ্রহণ করাই হবে যৌক্তিক। এইসব উদাহরণ বা মডেল- এর ওপর তিত্তি
করে যেন শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন বিষয় নিয়ে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার আলোকে প্রবন্ধ রচনা ও
বানানের ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রণীত বানানরীতি। পাঠ্যপুন্তকটি রচনা, সম্পাদনা,
চিত্রান্কন, নমুনা প্রশ্নাদি প্রণয়ন ও প্রকাশনার কাজে যারা আন্তরিকভাবে মেধা ও শ্রম দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ
জ্ঞাপন করছি।

প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা
চেয়ারম্যান
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুত্তক বোর্ড, বাংলাদেশ

 

সূচিপত্র

বাগধারা

বাক্য বা বাক্যাংশের বিশেষ প্রকাশতঙ্গিকে বলা হয় বাগ্ধারা। বিশেষ প্রসঙ্গে শব্দের বিশিহীর্থক
প্রয়োগের ফলে বাংলায় বহু বাগ্ধারা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের প্রয়োগের পদগুচ্ছ বা বাক্যাংশ আভিধানিক
অর্থ ছাপিয়ে বিশেষ অর্থের দ্যোতক হয়ে ওঠে । যেমন : “অন্ধকারে টিল ছোড়া” কথাটা দিয়ে বোঝানো হয়
“আন্দাজে কিছু করা’ ৷ এর সঙ্গে অন্ধকারে টিল ছোড়ার বাস্তব কোনো সম্পর্ক নেই।

যে পদগুচ্ছ বা বাক্যাংশ বিশিষীর্থক প্রয়োগের ফলে আভিধানিক অর্থের বাইরে আলাদা অর্থ প্রকাশ করে,
তাকে বলা হয় বাগধারা ।

বাগ্ধারার সাহায্যে আমরা ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করি । ভাবের ইঞ্ভিতময় প্রকাশ ঘটিয়ে বক্তব্যকে রসমধুর করে
উপস্থাপনের অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে বাগ্ধারার ৷ বাগৃধারার মাধ্যমে সমাজের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা
সুক্ষ ব্যঞ্জনায় উদ্ভাসিত হয়। এদিক থেকে বাগধারা বাংলা সাহিত্যের বিশেষ সম্পদ ।

বাগধারা গঠনে বিভিন্ন শব্দের ব্যবহারকে শব্দের রীতিসিন্ধ প্রয়োগও বলা হয়। একে বাগৃবিধিও বলা হয়ে থাকে।

 

বাক্যে বাগধারা প্রয়োগের উদাহরণ :

 

অকাল কুষ্মাও (অকেজো) : অকাল কুম্মা লোকটা গতকালও কাজটা শেষ করতে পারেনি ।

অকালপকৃ (ইচড়ে পাকা) : এমন অকালপকূ ছেলেকে যে শিক্ষকরা প্রশ্রয় দেবেন না তাতে সন্দেহ নেই।
অকুল পাথার (মহাবিপদ) : ভালো কলেজে ভর্তি হতে না পেরে অনেক ছাত্র অকুল পাথারে পড়েছে।

অক্কা পাওয়া (মরে যাওয়া) : যে কোনো দিনই থু্ুড়ে বুড়োটা অন্কা পেতে পারে ।

অগাধ জলের মাহ (সুচতুর ব্যক্তি) : মোড়ল সাহেব অগাধ জলের মাছ, তাঁকে বোঝা বড় কঠিন।
অগ্নিপরীক্ষা (কঠিন পরীক্ষা) : ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্রীলংকা সফর ছিল অগ্নিপরীক্ষা।
অগ্নিশর্মা (খুবই রাগান্বিত) : লোকটার বেয়াদবি দেখে বাবা রেগে অগ্রিশর্মা হলেন।
অদৃষ্টের পরিহাস (ভাগ্যবিড়স্কনা) : অদৃষ্টের পরিহাসে অনেক ধনকুবের পথের ফকির হয়ে গেল।
অনধিকার চর্চা (অজানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ) : আমি ব্যবসায়ী মানুষ, সাহিত্যের আলোচনা আমার জন্যে
অনধিকার চর্চা ।

অনুরোধে টেকি গেলা অনুরোধে কট স্বীকার) : অনুরোধে অনেক টেকি গিলেছি, এখন আর পারছি না।
অন্ধের ঘষ্টি/নড়ি অক্ষম লোকের একমাত্র অবলম্বন) : একমাত্র নাতিটি বুড়ির অন্ধের যি ।

অন্ধকার দেখা (বিপদে সমাধানের উপায় না দেখা) : বাবার অকাল-মৃত্যুতে মেয়েটা চোখে অন্ধকার দেখতে
লাগল।

অন্ধকারে টিল ছোঁড়া আন্দাজে কিছু করা) : অনধকারে টিল না ছুড়ে আসল ঘটনাটা জেনে এসো।
অমাবস্যার টাদ (দুর্লভ ব্যন্তি বা বস্তু) : আঁপনি দেখছি অমাবস্যার চীদ হয়ে উঠেছেন আপনার দেখাই মিলছে না।

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অরণ্যে রোদন (নিষ্কল অনুনয়) : লোকটা হাড়কৃপণ, ওর কাছে কিছু চাওয়া আর অরণ্যে রোদন একই
কথা।

অর্ধচন্দ্র (গলা ধাক্কা) : দারোয়ান উটকো লোকটাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বের করে দিল ।

আকাশকুসুম (অবাস্তব ভাবনা) : শহরের সেরা কলেজে ভর্তি হওয়া অনেকের জন্যই এখন আকাশকুসুম
ব্যাপার ।

আকাশ থেকে পড়া (স্তম্ভিত হওয়া) : পাপিয়ার কথা শুনে তাসলিমা যেন আকাশ থেকে পড়ল।
আকাশ-পাতাল (সীমাহীন) : শহর ও গ্রামের জীবনযাত্রায় এখনও আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

আকাশ ভেঙে পড়ী (মহাবিপদে পড়া) : বন্যায় ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ায় অনেক পরিবারের মাথায় আকাশ
ভেঙে পড়েছে।

আকাশে তোলা (অতিরিত্ত প্রশংসা করা) : কেউ কেউ স্বার্থ হাসিলের জন্য কর্মকর্তাদের আকাশে তোলে ।
আকাশের চীদ (দুর্লত বস্তু) : সেরা কলেজে ভর্তি হতে পেরে ভাইয়া যেন আকাশের চাদ হাতে পেল।
আক্কেল গুডুম হেতবুদ্ধি অবস্থা) : ছেলেটার কথাবার্তা খুনে তো আমার আকেল গুডুম!

আকেল সেলামি (বোকামির দও) : ধাম্পাবাজ লোকটার পাল্লায় পড়ে টাকাগুলো আক্কেল সেলামি দিতে হলো ।
আখের গোছানো (ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নেওয়া) : দুর্নীতিবাজরা আখের গুছিয়ে নিলেও পার পাচ্ছে না।

আঙুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ বিভ্তবান হওয়া) : শেয়ারের ব্যবসায় কুদ্দুস সাহেব এখন আঙুল ফুলে কলাগাছ।
আট কপালে (হতভাগ্য) : আট কপালে লোকের ভাগ্যে চাকরি জোটা মুশকিল।

আঠারো মাসে বছর (টিলেমি) : আমার মামা সব কাজেই দেরি করেন। সবাই বলেন তীর নাকি আঠারো
মাসে বছর ।

আদাজল খেয়ে লাগা (উঠে পড়ে লাগা) : পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য মাহমুদ আদাজল খেয়ে
লেগেছে।

আদায় কীচকলায় শশেত্ুভাবাপন্ন) : ওদের ভাইয়ে ভাইয়ে আদায় কাচকলায় সম্পর্ক, কেউ কাউকে সহ্য করে
না।

আবোৌল-তাবোল (এলোমেলো কথা) : আসল ঘটনা লুকোতে গিয়ে সে আবোল-তাবোল বকে চলেছে।
আমড়া কাঠের টেকি (অকেজো লোক) : ও একটা আমড়া কাঠের টেকি, ওকে দিয়ে কাজটা হবে না।
আমলে আনা (গুরু দেওয়া) : পুলিশ দারোয়ানের কোনো কথাই আমলে আনল না।

আলালের ঘরের দুলাল (বড় লোকের আদুরে ছেলে) : এই আলালের ঘরের দুলালটি কাজ দেখলে ভয় পায়।
আধাটে গন্স বোনানো কথা) : সময়মতো কাজে আসোনি, তার জন্যে আষাট়ে গল্প বলার দরকার কী?
আসমান-জমিন ফারাক (বিপুল ব্যবধান) : ধনী ও গরিবের জীবনযাত্রায় আসমান-জমিন ফারাক ।
আস্তানা গাড়া (সাময়িকভাবে কোথাও থাকতে শুরু করা) : বানভাসি লোকগুলো বাঁধের ওপর আস্তানা
গেড়েছে।

আহ্লাদে আটখানা (আনন্দে আতহারা) : মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ-প্রাস পেয়ে সে আহ্নাদে আটখানা ।
ইচড়ে পাকা জেল্প বয়সেই পেকে গেছে এমন) : ওই ইচড়ে পাকা ছেলেটাকে পাত্তা দিলেই ঘাড়ে চেপে বসবে ।

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

ইতর বিশেষ (সামান্য পার্থক্য) : ফলাফলে একই গ্রেড প্রাপ্তদের মধ্যে ইতর বিশেষ করা মুশকিল
উড়ে এনে জুড়ে বসা (বিনা অধিকারে এসে সর্বেসর্বা হয়ে বসা) : উনি উড়ে এসে জুড়ে বসে মাতব্বরি
করবেন, তা পুরোনোরা মানবেন কেন?

উত্তম-মধ্যম (প্রচ মার) : ছিনতাইকারীকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো।

উভয় সংকট (দু দিকেই বিপদ) : বিজ্ঞান না বাণিজ্য, কোনটা পড়ব এ নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছি।
উদ্বনে সুরা ড়ানো (অপামেযদযবান কিছু প্রদান) : ওকে জ্ঞান দেওয়া আর উলুবনে মুক্তো ছড়ানো
একই কথা ।

এঁটে ওঠা (সমানে পাল্লা দিতে পারা) : তোমার সঙ্গে এঁটে ওঠা মুশকিল।

এক কথার মানুষ কেথা রাখে এমন) : আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন, আমি এক কথার মানুষ ।
একচোখো পেক্ষপাতদুষ্ট) : একচোখো লোকের কাছে কখনো সুবিচার আশা করা যায় না।

এলাহি কাও (বিরাট আয়োজন) : সওদাগর সাহেবের মেয়ের বিয়ে, এলাহি কাণ্ড তো হবেই।

একাই এক শ (যথেষ্ট সমর্থ) : এ পুঁচকে ছৌড়াকে মোকাবেলার জন্য আমি একাই এক শ।

এসপার ওপার (যে-কোনোভাবে মীমাংসা) : ঝামেলাটা আর সহ্য হয় না। এবার এসপার ওসপার করতেই
হবে।

আপনারা পড়ছেন বাগধারা 

ওত পাতা সুযোগের অপেক্ষায় থাকা) : বিড়ালটা মাছ চুরি করার জন্য ওত পেতে রয়েছে।

কড়ায় গণ্ডায় (সূক্ষ্ম হিসেব অনুযায়ী) : ও তার পাওনা কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিতে এসেছিল ।

কথার কথা (হালকা কথা) : আমি কথার কথা একটা মন্তব্য করেছি আর তাতেই রাজু খেপে গেল।
কপাল ফেরা (সৌভাগ্য লাভ) : ছেলেটা হঠাৎ বিদেশে চাকরি পাওয়ায় চাচা-চাচির কপাল ফিরেছে।
কলুর বলদ (অন্যের জন্য একটানা খানি) : সংসারের হাল ধরতে ছোট মামা কলুর বলদের মতো ঘানি
টানছেন ।

কাঁচা পয়সা জেল্প আয়াসে নগদ উপার্জন) :

দুর্নীতি করে অনেকেই কীচা পয়সা কামাই করেছে।
কীঠালের আমসত্ত (অসম্ভব বস্তু) : বাংলায় ১০০-তে ১০০ নম্বর পাওয়া কাঠালের আমসন্ট্ের মতো ।
কাছাটিলা (অগোছালো স্বভাবের) : যেমন কাছাটিলা লোক তুমি, ছাতা তুমি হারাবে না তো কে হারাবে?
কাঠখড় পোড়ানো (নানারকম চেষ্টা ও পরিশ্রম) : কাজটা হাসিলের জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে।
কাঠের পুতুল (নিজীব, অসার লোক) : কোনো কোনো মন্ত্রী হয়ে যান কাঠের পুতুল, সব কাজ চালান তার
সচিব।

কান খাড়া করা মেনোযোগী হওয়া) : আদালতে কী রায় হয় তা শোনার জন্য আইনজীবীরা কান খাড়া করে
রইল।

কান পাতলা (বিশ্বাসপ্রবণ) : বড় সাহেব এমন কান পাতলা যে তার অধীনে কাজ করাই মুশকিল

কান ভারী করা (কারও বিরুদ্ধে অসন্তোষ সৃক্টি) : তুমি নাকি আমার বিরুল্ধে বড়কর্তার কান ভারী করেছ?
কুল কাঠের আগুন (তীব্র মনগঃকষ্ট) : লা্থনা অপমানে তার মনের মধ্যে কুল কাঠের আগুন জ্বলতে লাগল।
কৃপমগ্ডুক (সংকীর্ণমনা লোক) : আমাদের সমাজে কুপমন্ড্ুক লোকের অভাব নেই।

কেউকেটা (নিন্দার্থে গণ্যমান্য লোক) : আপনি কি এমন কেউকেটা যে আপনার কথা শুনতেই হবে!

 

বেঁচে গড্ড্ষ করা গনরায় প্রথম থেকে শুরু করা) : পুরো হিসাবটাই ভুল হয়েছে। আবার কেঁচে গণ্ডুষ
করতে হবে।

কেঁচো খুঁড়তে সাপ (সামান্য ঘটনার সুত্রে গুরুতর ঘটনা প্রকাশ) : জাল টাকা তদন্ত করতে গিয়ে বিরাট
জালিয়াতি চক্র ধরা পড়ল__ এ যে কেঁচো খুঁড়তে সাপ!

কোমর বীধা (কাজে উঠে পড়ে লাগা) : পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য তাহমিনা কোমর বেঁধে পড়াশুনায়

লেগেছে।

খও প্রলয় (তুমুল কাণ্ড) : মোবাইল ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে পাশের বাসায় একটা খ্ড প্রলয় ঘটে

গেছে।

খয়ের খী (খোশামোদকারী, চাটুকার) : ক্ষমতাসীনদের চারপাশে খয়ের খা লোকের ভিড় জমে যায়।

খুঁটির জোর পৃষ্ঠপোষকের সহায়তা) : খুঁটির জোর আছে বলেই সে বারবার বদলি ঠেকায়।

গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধের মতো অনুসরণ) : বিজ্তের মোহে সমাজের অনেকে গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে

দেয়।

গডারের চামড়া (অপমান বা তিরস্কার গায়ে লাগায় না এমন) : ওর বোধ হয় গণ্ডারের চামড়া, তাই শত

অপমানেও কোনো ভাবান্ডর নেই।

গদাঁই লশকরি চাল (টিলেমি) : এমন গদাই লশকরি চালে চললে কাজটা এ মাসেও শেষ হবে না।

গলগ্রহ (দায় বা বোঝা) : অন্যের গলগ্রহ হয়ে বেঁচে না থেকে নিজের পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত।

গাছে তুলে মই কাড়া কোজে নামিয়ে সরে পড়া) : তোমার ভরসায় এত বড় কাজে হাত দিয়েছি। এখন
গাছে তুলে মই কেড়ে নিচ্ছ যে!

গায়ে পড়া অযাচিত ঘনিষ্ঠতা) : অমন গায়ে পড়া লোককে চেয়ারম্যান সাহেব পাত্তা দেবেন বলে মনে হয়

না।

গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা) : ও নেবে দায়িত্ব? গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানোই যে ওর

স্বভাব।

গৌয়ার গোবিন্দ নির্বোধ ও একগুঁয়ে লোক) : কাজটা বুঝে শুনে করবে। গৌয়ার গোবিন্দের মতো করলে

চলবে না।

গোড়ায় গলদ মূলে কিংবা শুরুতে ভুল) বিয়ের আয়োজনে গোড়ায় গলদ ছিল বলে এত বিশৃঙ্খলা ।

গোবর গণেশ (বোকা, অকর্মণ্য লোক) : ছেলেটার না আছে বুদ্ধি, না পারে কোনো কাজ ও একেবারে

গোবর গণেশ।

গোল্লায় যাওয়া উেচ্ছনত্ে যাওয়া) : বাবা-মায়ের আদরের ঠেলায় ছেলেটা গোল্লায় গেছে।

ঘাম দিয়ে দ্কুর ছাড়া ডেদ্বেগ-উত্কষ্ঠা থেকে স্বস্তি) : ছেলেটা ঘরে ফিরে আসায় সবার ঘাম দিয়ে জবর

ছাড়ল।

স্বাস কাটা (বাজে কাজে সময় ন্ট করা) : অন্যেরা কাজ করবে আর তুমি বসে বসে ঘাস কাটবে? তা হবে না।

ঘোড়া রোগ ডেৎকট বাতিক) : ভাত জোটে না, বড়লোকের মেয়ে বিয়ে করতে চায় গরিবের ঘোড়ারোগ

আর কি!

 

ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ী (ওপরওয়ালাকে এড়িয়ে কাজ হাসিল) : সরকারি অফিসে ঘোড়া ডিডিয়ে ঘাস
খাওয়া কঠিন।

ঘোড়ার ডিম (অস্তিতৃহীন বস্তু) : ও তোকে বইটা দেবে? ঘোড়ার ডিম দেবে ।
চাদের হাট (সুখের সংসার) : অবসর জীবনে শরীফ সাহেব কৃতী সন্তানদের নিয়ে টাদের হাট বসিয়েছেন।
চোখে চোখে রাখা (সতর্ক নজরদারি) : অজানা-অচেনা কেউ এলে তাকে চোখে চোখে রাখা দরকার ।
চোখে ধুলো দেওয়া (ফাকি দেওয়া) : পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে অপরাধী গা ঢাকা দিয়েছে।
চোখের বালি (ক্ষুশূল; ক্রোধ বা বিরন্তির কারণ) : মা-মরা ছেলেটা কত শান্ত, তবু সে তার সৎমায়ের চোখের
বালি।

 

ছিনিমিনি খেলা (বেহিসাবি খরচ) : উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা নিয়ে অনেক ছিনিমিনি খেলা হয়েছে।
ছেঁকে ধরা (ঘিরে ধরা) : বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সবাই কারখানার মালিককে ছেঁকে ধরেছে।
ছেলের হাতের মোয়া (সহজপ্রাপ্য জিনিস) : ভালো ফলাফল ছেলের হাতের মোয়া নয়, এ জন্যে যথেষ্ট
পড়াশুনা দরকার।
জগাখিচুড়ি (অবাস্কিত জটিলতা) : তোমার জগাখিচুড়ি কাজ দেখলে আমার মাথা গরম হয়ে ওঠে ।
জিলিপির প্যাচ (কুটিল বুদ্ধি) : ওর মনে যে এত জিলিপির প্যাচ তা বুঝব কী করে!
ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগ বুঝে কাজ করা) : ঝোপ বুঝে কোপ মারতে না জানলে ব্যবসায়ে টেকা
মুশকিল।

 

টনক নড়া (চৈতন্য হওয়া) : ব্যবসা লাটে উঠতেই তার টনক নড়ল।
ঠাঁট বজায় রাখা ( অভাব লুকানো) : জমিদারি নেই, কিন্তু চৌধুরী বংশে এখনও জমিদারি ঠাট বজায়
আছে।
ঠোঁট কাটা স্পেবাদী) : ঠোট কাটা লোক অনেকেরই অপছন্দ।
ডুমুরের ফুল (অদৃশ্য ব্যক্তি বা বস্তু) : কী ব্যাপার! তুমি হঠাৎ ডুমুরের ফুল হয়ে উঠলে যে?
টিমে তেতালা (খুবই মন্থর গতি) : এমন টিমে তেতালাভাবে পড়াশুনা করলে সিলেবাস শেষ হবে না।
তালকানা (তালজ্ঞান বর্জিত) : উনি তালকানা লোক । ওর কাছে পরিপাটি কাজ আশা করছ কেন?
থ বনে যাওয়া (বিস্ময়ে হতবাক হওয়া) : লোকটার কাণ্ড দেখে সবাই থ বনে গেল।
তাসের ঘ্বর (ভঙ্গুর) : ওদের বন্ধৃতৃ তাসের ঘরের মতোই ভেঙে গেছে।
তামার বিষ (অর্থের কুপ্রভাব) : তামার বিষে ওরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।
দা-কুমড়ৌ (নিদারুণ শত্রুতা) : ভাইয়ে ভাইয়ে এখন একেবারে দা-কুমড়ো সম্বনধ ।
দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু) : ধনীর দুলাল ছেলেটাকে দুধের মাছিরা ঘিরে রেখেছে।
দুমুখো সাপ (দু রকম আচরণকারী, ক্ষতিকর লোক) : লোকটা আস্ত দুমুখো সাপ, তোমাকে বলেছে
একরকম আমাকে অন্যরকম ।
ধরাকে সরা জ্ঞান করা (অতিরিত্ত দন্তে কিছুই গ্রাহ্য না করা) : পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।
ননির পুতুল (অন্গ শ্রমে কাতর) : ফারিহা তো ননির পুতুল, এত পরিশ্রমের কাজ ওকে দিয়ে হবে না।

 

নাক গলানো (অনধিকার চর্চা) : যে-কোনো ব্যাপারে নাক গলানো কারো কারো স্বভাব ।

লেই জীকড়া (নাছোড়বান্দা) : কী যে নেই আকড়া লোকের পাল্লায় পড়েছি! রেহাই মিলছে না।

পটল তোলা (মারা যাওয়া) : চাদাবাজটা পটল তুলেছে শুনে এলাকার লোকজন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ।
পথে বসা সর্বস্বান্ত হওয়া) : বন্যায় সব হারিয়ে অনেকে এবার পথে বসেছে।

পালের গোদী (দলের টাই, সর্দার) : পুলিশ পালের গোদাকে কোর্টে চালান দিয়েছে।

পুকুর চুরি (বড় রকম চুরি) : রাস্তা মেরামত না করেই ঠিকাদার ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে এ য়ে রীতিমতো পুকুর চুরি।
ফীঁক-ফোকর (দোষত্রুটি) : আইনের ফীক-ফোকর গলে সক্ত্াসীরা জামিনে খালাস পেয়ে যাচ্ছে।

ফেঁপে ওঠা হেঠাৎ বিভ্তবান হওয়া) : চোরাচালানি করে কেউ কেউ রাতারাতি ফেঁপে উঠেছে।

ফৌঁড়ন কাটা টেস্পনী কাটা) : কথার মাঝখানে ফৌড়ন কাটা ওর অভ্যাস।
ফোপরদালালি (নাক গলানো আচরণ) : সব ব্যাপারে ওর ফোপরদালালি করার অভ্যাস ।

বকঘার্মিক ভেও) : সমাজে বকধার্মিক লোকের অভাব নেই।

বর্ণচোরা আম (কপট লোক) : লোকটা একটা বর্ণচোরা আম। বাইরে থেকে ওকে বোঝা মুশকিল ।

বী হাতের ব্যাপার (ঘুষ দেওয়া-নেওয়া) : এ অফিসে বা হাতের ব্যাপার ছাড়া ফাইল নড়ে না।

বাজিয়ে দেখা (পরখ করা) : সে ঘটনাটা জানে কিনা একটু বাজিয়ে দেখতে হবে ।

বাপের বেটা (সাহসী) : শাবাশ! বাপের বেটার মতোই করেছিস কাজটা ।

বালির বীধ (ক্ষণস্থায়ী) : বড়লোকের ছেলের সঙ্গে বন্ধৃত্ব আর বালির বাধ একই কথা ।
বিড়াল-তপন্বী (ভও সাধু) : সমাজে মাঝে মাঝে বিড়াল-তপস্বীদের তত্পরতা বেড়ে যায়।

বাংলা ব্যাকারণ বাগধারা

বিদ্যার জাহাজ (মূর্খ বা অশিক্ষিত লোক) : যে নিজে বিদ্যার জাহাজ সে অন্যকে কী শেখাবে?

বুকের পাটা (সাহস) : মাস্তানটার বিরুদ্ধে তুই অভিযোগ করেছিস! তোর বুকের পাটা আছে বলতে হবে ।
বুদ্ধির টেকি (নির্বোধ) : এ কাজের জন্য চাই চালাক-চতুর লোক, বুদ্ধির টেকি দিয়ে এ কাজ হবে না।
ভিজে বেড়াল (বাইরে নিরীহ ভেতরে ধূর্ত) : ভিজে বেড়ালদের অনেক সময় চেনা যায় না।

ভরাডুবি (সর্বনাশ) : আদমজি পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাটচাষিদের এবার ভরাডুবি হয়েছে।
ভুইফোড় (হঠাৎ বড়লোক) : মানুষ সচেতন হলে ভূঁইফোড়দের দাপট না কমে পারে না।

ভূতের বেগার (অযথা শ্রম দান) : সারাক্ষণ ভূতের বেগার খাটছি, লাভ কিছুই হচ্ছে না।

মামাবাড়ির আবদার (চাইলেই পাওয়া যায় এমন) : গতকাল ১০০ টাকা নিলে । আজ আবার ২০০ টাকা
চাইছ। একি মামাবাড়ির আবদার নাকি?

মিছরির স্থুরি (আপাতত মধুর হলেও শেষ পর্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক) : তোমার কথাগুলো ঠিক যেন মিছরির ছুরি ।
যক্ষের ধন (কৃপণের কড়ি) : পৈতৃক ভিটেটা সে যক্ষের ধনের মতো আগলে রেখেছে।

বুই-কাতলা (প্রভাবশালী) : সমাজের বুই-কাতলাদের দাপটে চুনোপুটিদের অবস্থা এখন কাহিল ।
লেফাফা দুরস্ত (বাইরের ঠাট ষোল আনা) : ঘরে যে এমন টানাটানি, তা ওর লেফাফা দুরস্ত ভাব দেখে কে বুঝবে?
রাশভারি (গম্ভীর) : আমাদের প্রধান শিক্ষক রাশভারি লোক । সবাই তাকে ভয় পায়।

শীপে বর (অনিষ্টে ইস্ট লাভ) : আমার বড়মামা চাকরি না পেয়ে ব্যবসায়ে টুকেছেন। এতে তার শাপে বর হয়েছে।

সেয়ানে সেম়ানে (দুই সমান প্রতিদন্্ীর মধ্যে) : দুজনের মধ্যে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চলছে অনেকদিন।

সোনায় সোহাগা (সার্থক মিলন) : পরীক্ষায় পাস করতে না-করতেই এমন ভালো চাকরি পাওয়া, এ যে
সোনায় সোহাগা!

হু-য-ব-র-ল (ল্টোপাল্টা) : অনুষ্ঠানের হ-য-ব-র-ল অবস্থা দেখে চলে এসেছি।

হাড়-হাঁভাতে (একেবারে নিঃস্ব) : হাড়-হাভাতে ছেলেটা যে কীভাবে এ সংসারে এসে জুটল বলতে পারব না।

হাতটান (ছোটখাটো চুরির অভ্যাস) : ছেলেটা কাজে-কর্মে বেশ ওস্তাদ। তবে দোষের মধ্যে হাতটান

আছে।

হাতের পীচ (শেষ সম্বল) : হাতের পাচ হিসেবে হাজারখানেক টাকা আছে। তোমাকে ধার দেব কেমন করে?

হালে পানি না পাওয়া কোজ হাসিলের উপায় না পাওয়া) : সে বড় কাজে হাত দিয়েছে, কিন্তু হালে পানি

পাচ্ছে না।

 

অনুশীলনী

 

প্রয়োগমূলক নমুনা-পরশ্ন
১. নিচের বাগৃধারাগুলোর প্রত্যেকটির অর্থ লেখ ও বাক্য রচনা কর :
ক) অমাবস্যার চাদ, আকাশের চাদ, আকাশ কুসুম, কীচা পয়সা, ফাক-ফোকর।
খ) অনুরোধে টেকি গেলা, অন্ধকারে টিল ছোড়া, আকাশে তোলা, কাঠখড় পোড়ানো, কান খাড়া করা ।
গ) অগাধ জলের মাছ, এক চৌখো, কাঠের পুতুল, কেউকেটা, বিড়াল-তপস্বী।
ঘ) আকেল গৃড়ম, ইচড়ে পাকা, কান পাতলা, খয়ের খা, দুমুখো সাপ।
ঙ) আখের গোছানো, আমলে আনা, টনক নড়া, পথে বসা, বাজিয়ে দেখা ।
২, অর্থ-পার্থক্য দেখিয়ে বাক্য রচনা কর :
ক) অন্ধকার দেখা, অন্ধকারে টিল ছোড়া ।
খ) আকাশ-কুসুম, আকাশ-পাতাল
গ) আক্কেল গুড়ুম, আকেল সেলামি।
ঘ) কান খাড়া করা, কান ভারী করা।
উ) গায়ে পড়া, গায়ে ফু দিয়ে বেড়ানো ।
নৈর্বাক্তিক নমুনাপ্রশ্ন
ঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ () দাও :
১. ‘অকুল পাথার* শব্দের প্রায়োগিক অর্থ কোনটি?
ক. সীমাহীন সাগর খ. মহাবিপদ
গ. বিশাল প্রস্তরখ্ড ঘ. গোমেদ পাথর
পাওয়া” কথাটির অর্থ কী?

ক. আঘাত পাওয়া খ. মরে যাওয়া
গ. কষ্ট পাওয়া ঘ. দুঃখ পাওয়া
ভাগ্য বিড়ম্বনা বোঝাতে কোনটি ব্যবহৃত হয়ঃ

ক. কপাল ফেরা খ. ফেঁপে ওঠা
গ. অদৃষ্টের পরিহাস ঘ. আঙুল ফুলে কলাগাছ
“আকাশকুসুম” বলতে কী বোঝায়?

ক. অতিরিক্ত প্রশংসা খ. অবাস্তব ভাবনা
গ. হতবুদ্ধি অবস্থা ঘ. বিস্তর ব্যবধান
বোকামির দণ্ড অর্থে কোন বাগ্ধারাটি ব্যবহৃত হয়?

ক. আব্কেল সেলামি খ. অর্ধচন্দ্

গ. আকেল গুডুম ঘ. তামার বিষ
খন্ড প্রলয়’ প্রবাদটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?

ক. মহা ঝড়-ঝাপটা খ. তুমুল কাণ্ড

গ. ছোটখাটো কথা কাটাকাটি ঘ. ভয়ংকর ঘটনা
কুল কাঠের আগুন’ বাগৃধারাটির অর্থ কোনটি?

ক. তীব্র মনঃকষ্ট খ. অগ্নিশর্মা

গ. কাঠখড় পোড়ানো ঘ. অগ্নিকাণ্ড
একগুঁয়ে ভাবটি কোন প্রবাদে প্রকাশ পায়?

ক. উড়নচন্ডী খ. গৌফখেজুরে
গ. রাঘব বোয়াল ঘ. গৌয়ার গোবিন্দ
“গোল্লায় যাওয়া” বাগধারাটি কোন অর্থ বহন করে?

ক. উচ্ছন্রে যাওয়া খ. ঘর ছাড়া

গ. পরনির্ভরশীল হওয়া ঘ. আদর পাওয়া
কোন বাগ্ধারাটি “তাসের ঘর’ বাগৃধারার সমার্থক?

ক. ঘরের টেকি খ. ঘর ভাঙানো

গ. চোরাবালি ‘ঘঘ, বালির বাধ

 

“তামার বিষ’ কথাটার অর্থ কী?

ক. অহংকার খ. বিষদ্রব্য

গ. অর্থের কুপ্রভাব ঘ. বিষাত্ত তামা
“দুধের মাছি’ বাগ্ধারাটি কী অর্থ বহন করে?

ক. চালবাজ খ. সুসময়ের বলধু
গ. ভন্ড সাধু ঘ. দুর্দিনের সাথী
“বাইরের ঠাট বজায় রেখে চলে” এমন ভাব বোঝাতে কোন বাগ্ধারা প্রচলিত?
ক. ব্যাঙের আধুলি খ. ঠোটকাটা

গ. লেফাফা দুরস্ত ঘ. ভিজে বেড়াল
“অনিষ্ট ইষ্ট লাভ” বোঝাতে কোন বাগ্ধারাটি ব্যবহৃত হয়?

ক. আহ্লাদে আটখানা খ. তামার বিষ
গ. শাপে বর ঘ. হিতে বিপরীত

২. সারমর্ম ও সারাংশ লিখন

 

গদ্য বা পদ্য রচনার কোনো না কোনো অন্তর্নিহিত মূল ভাব থাকে । সহজ ও সাবলীল ভাষায় সংক্ষেপে তা
লেখার নাম সারমর্ম বা সারাংশ। সাধারণত গদ্যের ভাব-সংক্ষেপণ বোঝাতে সারাংশ ও পদ্যের ভাব-
সংক্ষেপণ বোঝাতে সারমর্ম কথাটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।
সারমর্ম/সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে নির্দেশনা

সারমর্ম কিংবা সারাংশ লেখার দক্ষতা অর্জন করতে হলে নিয়মিত অনুশীলন করতে হয়। চর্চা যত বেশি হয়
ততই শিক্ষার্থীর পক্ষে রচনার মূল ভাববস্তু উপলব্ধির ক্ষমতা ও রচনা-নৈপুণ্য বাড়ে। সারমর্ম/সারাংশ লেখার
ক্ষেত্রে নিয়লিখিত দিকগুলো বিশেষ বিবেচনায় রাখা দরকার :
১. গঠন : সারমর্ম বা সারাংশ লিখতে গেলে অনুচ্ছেদের তথ্য লিখলে চলে না, মূল ভাব বুঝে নিয়ে তাকে

 

 

সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয় । তাই প্রথমেই মূল ভাব বোঝার জন্য রচনাটি ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে
পড়া দরকার।
মুল ভাব সন্ধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্িতকরণ : প্রদত্ত রচনাংশে সাধারণত একটি মূল ভাব বা বক্তব্য
থাকে। কখনো কখনো একাধিক মূল ভাব বা বত্তব্যও থাকতে পারে। তা উপলব্ধি করতে পারলে
সারমর্ম ও সারাংশ লেখা সহজ হয়। মূল ভাব খুঁজে নেওয়ার একটা ভালো উপায় হচ্ছে, যেসব বাক্য বা
বাক্যাংশ মূল ভাবের দ্যোতক বলে মনে হয় সেগুলো চিহ্নিত করা ।
বাহুল্য বর্জন : অপ্রয়োজনীয় অংশ থেকে প্রয়োজনীয় অংশ আলাদা করার মাধ্যমে সহজে মূল ভাব বের
করা যায়। এজন্যে মূল রচনাংশে ব্যবহৃত উদ্ধৃতি, বর্ণনা, সংলাপ, উদাহরণ, অলংকার (উিপমা-রূপক)
ইত্যাদি বাদ দিতে হয়।
. ভিন্নতর প্রসঙ্গের অবতারণা না করা : সারমর্ম কিংবা সারাংশ অবশ্যই মূল রচনার ভাবধারণার মধ্যে
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সীমিত থাকে । তাই মূল ভাবের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা মন্তব্য সারমর্মে/সারাংশে
প্রকাশ করা চলে না।

সারমর্ম/সারাংশ রচনার কৌশল

অনুচ্ছেদ : সারমর্ম কিংবা সারাংশ একটি অনুচ্ছেদে লেখা উচিত।

প্রীরম্ভিক বাক্য : প্রারম্ভিক বাক্য যথাসম্ভব সংহত ও আকর্ষণীয় হওয়া চাই। এতে পাঠক বা পরীক্ষক
শুরুতেই চমৎকৃত হন।

প্রসঙ্গ বাক্য : প্রসঙ্ঞ বাক্য (মূল ভাবটুকু প্রকাশের চুম্বক বাক্য) সারমর্ম/সারাংশের প্রথমে থাকলে
ভালো । তা প্রয়োজনে মধ্যে কিংবা শেষেও থাকতে পারে ।

প্রত্যক্ষ উক্তি : মূলে প্রত্যক্ষ উত্তি থাকলে তা পরোক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয়।

পুরুষ : সারমর্মে/সারাংশে উত্তম পুরুষে (আমি, আমরা) বা মধ্যম পুরুষে তুমি, তোমরা) লেখা চলে না।
বন্তব্য বিষয় যথাসম্ভব নৈর্ব্যক্তিকভাবে লিখতে হয় ।

উদ্ধৃতি : মূলে কোনো উদ্ধৃতাংশ থাকলে সারমর্মে উদ্ধৃতিচিহ্ বর্জিত হবে এবং সংক্ষিপ্ত ও সংহতরুপে
তা প্রকাশ করতে হবে।

ভাষা : সারমর্ম ও সারাংশের ভাষা সরল ও সাবলীল হওয়া দরকার । তাই জটিল বাক্যের পরিবর্তে
সরল বাক্য এবং দুরুহ শব্দের পরিবর্তে সহজ-সরল শব্দ ব্যবহার করা উচিত।

হুবহু উদ্ধৃতি বা অনুকৃতি : মূলের কোনো অংশের হুবহু উল্ধৃতি বা অনুকৃতি সারমর্ম/সারাংশে গ্রহণীয়
নয়। মূলের কোনো অংশকে সামান্য অদল-বদল করে লিখে দেওয়াও অনুচিত।

পরিসর : সারমর্ম/সারাংশ কত বড় বা ছোট হবে তা নির্ভর করে প্রদত্ত অংশে বর্ণিত বিষয়ের গুরুত্ত ও
গভীরতার ওপর প্রদত্ত রচনার ভাববস্তু সুসংহত ও নিরেটভাবে প্রকাশিত হলে তা সংক্ষেপ করা কঠিন
হয়ে দীড়ায়। ফলে সারমর্ম/সারাংশ মূলের সমান, অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ বা তার কমও হতে পারে ।

. খসড়া : সারমর্ম কিংবা সারাংশ লেখার সময়ে প্রথমে প্রদত্ত রচনার মুল ভাবটুকুর আলোকে একটি

প্রাথমিক খসড়া দীড় করানো ভালো । তারপর প্রয়োজনমতো পরিমার্জনা করে পুনর্লিখন করে নিতে হয়।
সারমর্ম/সারাংশের নমুনা

কোথায় স্বর্ণ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর |
আত্মগ্রানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়।

প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দীড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়েঘরে।

সারমর্ম : স্বর্গ ও নরক কেবল সুদূর পরলোকের ব্যাপার নয়। ইহলোকেও এদের অস্তিত্ব রয়েছে। বিবেকহীন

মানুষের অপকর্ম ও নিষ্টুরতার বিস্তার ঘটলে জগৎ হয়ে ওঠে নরকতুল্য। আর মানুষে মানুষে সম্শ্রীতিময়
সম্পর্ক গড়ে উঠলে জগৎ হয়ে ওঠে স্বগাঁয় সুষমাময়।

ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর ।

বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙে লয়,

তরু তবু অকাতর কিছু নাহি কয়।

দুর্লভ মানবজন্ম পেয়েছ যখন,

তরুর আদর্শ কর জীবনে গ্রহণ ।

পরার্থে আপন সুখ দিয়ে বিসর্জন,

তুমিও হও গো ধন্য তরুর মতোন।
জীবন ধন্য। মানুষেরও উচিত বৃক্ষের পরোপকারের আদর্শকে জীবনে অনুসরণ করা । তাহলেই মানবজীবন
ধন্য ও সার্থক হবে।

কে তুমি খুঁজিছ জগদীশে ভাই আকাশ-পাতাল জুড়ে
কে তুমি ফিরিছ বনে-জঙ্গলে, কে তুমি পাহাড়-চুড়ে?
বুকের মানিক বুকে ধরে তুমি খোজো তারে দেশ-দেশ,
সৃষ্টি রয়েছে তোমা পানে চেয়ে, তুমি আছ চোখ বুজে,
মর্টার খোজে আপনারে তুমি আপনি ফিরি খুঁজে ।
ইচ্ছা অন্ধ । আখি খোলো, দেখ দর্পণে নিজ কায়া,
আমারে দেখিয়া আমার অজানা জন্মদাতারে চিনি ।

সারমর্ম : সমস্ত সৃষ্টির মধ্যেই সৃষ্টিকর্তার অবস্থান। নিজেকে চিনে সৃষ্টির সেবাতে আত্মনিয়োগ করে
শ্রষ্টীকে উপলব্ধি করা যায়। বৈরাগ্য সাধনা করে তাকে পাওয়া যায় না।

 

বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।

দুঃখতাপে-ব্যথিত চিতে নাই-বা দিলে সান্তনা,
দুঃখ যেন করিতে পারি জয়।

সহায় মোর না যদি জুটে নিজের বল না যেন ট্ুটে

সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা,
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়

আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা
তরিতে পারি শকতি যেন রয়।

আমার ভার লাঘব করি নাই-বা দিলে সাস্তবনা,

রহিতে পারি এমনি যেন হয়।

সারমর্ম : দুঃখ-বিপদ উত্তরণে মানুষের প্রধান অবলম্বন মানসিক দৃঢ়তা । অন্যের করুণা-নির্ভর না হয়ে
আত্মশত্তি ও সংগ্রামী চেতনার বলেই মানুষ দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-বঞ্চনা মোকাবেলা করতে পারে । আত্মশত্তির
বলেই জীবনে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে হয়।

 

আসিতেছে শৃভদিন

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে খণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দুপাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে সেবিতে যারা পবিত্র অঙ্তো লাগাল ধুলি;

তারাই মানুষ, তারাই দেবতা গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!

সারমর্ম : শ্রমজীবী মানুষের কঠোর শ্রমে ও অপরিসীম ত্যাগে গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা । এদিক থেকে
শ্রমজীবীরাই সত্যিকারের মহৎ মানুষ । কিন্তু সমাজজীবনে এরা বঞ্চিত, শোষিত ও উপেক্ষিত। এখন দিন
এসেছে। শ্রমজীবী মানুষেরাই একদিন নবজাগরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বে পালাবদলের সূচনা করবে ।

 

পরের মুখে শেখা বুলি পাখির মতো কেন বলিসঃ
পরের ভঙ্গি নকল করে নটের মতো কেন চলিস?
তোর নিজতৃ সর্বাঙ্ে তোর দিলেন দাতা আপন হাতে,
মুছে সেটুকু বাজে হলি, গৌরব কি বাড়ল তাতে?
আপনারে যে ভেঙে চুরে গড়তে চায় পরের ছাচে,
অলীক, ফীকি, মেকি সে জন নামটা তার কদিন বাচে?
খাঁটি ধন যা সেথায় পাবি, আর কোথাও পাবি নারে ।

সারমর্ম : অন্ধ পরানুকরণ মানুষের জন্যে মর্যাদাকর নয়। কারণ, তা তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির
বিকাশের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়। বস্তুত, স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি প্রকাশের মাধ্যমেই মানুষ
সত্যিকারের মর্ধাদা অর্জন করতে পারে।

৭.
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
‘সুখ-সুখ’ করি কেঁদো না আর;
যতই কাদিবে যতই ভাবিবে,
ততই বাড়িবে হ্্দয়-ভার ।

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তবে ।

সারমর্ম : আত্স্বার্থে বিভোর না হয়ে পরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করলে প্রকৃত সুখ মেলে। বস্তৃত,
মানবজীবন ব্যত্তিস্বার্থকেন্ড্রিক নয়; একে অন্যের কল্যাণে ব্রতী হওয়াই মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্য ।

দৈন্য যদি আসে, আসুক, লজ্জা কি বা তাহে,

মাথা উঁচু রাখিস।

সুখের সাথী মুখের পানে যদি নাহি চাহে,

ধৈর্য ধরে থাকিস।

রুদ্র রূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে,

আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় ভেঙে পড়ে

উর্ধে দু হাত বাড়াস।
সারমর্ম : ধৈর্য ও সাহস নিয়ে মানুষকে জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতময় পথ অতিক্রম করতে হয়। দুঃখ-দৈন্যের
সঙ্গে লড়াই না করে এবং বিপদকে মোকাবেলা না করে জীবনে সাফল্য অর্জিত হয় না।


সবারে বাস রে ভালো

নইলে মনের কালো মুছবে না রে!
আজ তোর যাহা ভালো
ফুলের মতো দে সবারে।

করি তুই আপন আপন,
হারালি যা ছিল আপন
বিলিয়ে দে তুই যারে তারে ।
যারে তুই ভাবিস ফণী

তারো মাথায় আছে মণি

বাজা তোর প্রেমের বাশি

ভবের বনে ভয় বা কারে?
সবাই যে তোর মায়ের ছেলে
একই নায়ে সকল ভায়ে

যেতে হবে রে ওপারে।

সারমর্ম : কেবল নিজেকে নিয়ে বিভোর থাকলে, অন্যকে দূরে ঠেললে মানুষ হয়ে পড়ে নিঃসক্তা। জীবনকে
সার্থক ও মহীয়ান করতে হলে মানুষ মানুষে চাই শ্রীতি ও প্রেমের মেলবন্ধন

১০
ধন্য আশা কুহকিনী! তোমার মায়ায়
অসার সংসার চক্র ঘোরে নিরবধি;

১৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দীড়াইত স্থিরভাবে চলিত না, হায়
মন্ত্রবলে তুমি চক্র, না ঘুরাতে যদি।
ভবিষ্যৎ অন্ধ মুঢু মানব সকল

ঘুরিতেছে কর্মক্ষেত্রে বর্তুল-আকার;
তব ইন্দ্রজালে মুগ্ধ, পেয়ে তব বল
যুঝিছে জীবনযুদ্ধে হায় অনিবার ।
নাচাও তেমনি তুমি অর্বাটীন নরে।

সারমর্ম : আশাই মানুষের জীবন-সংগ্রামের প্রণোদনা । আশাহীন জীবন হয়ে পড়ে স্থবির ও নিশ্চল । আশার
জাদুতেই মানুষ জীবনে নানা সংকট ও প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে; মঙ্জাল ও সমৃদ্ধির আশায় কাজ করে

যায় সারা জীবন।

১১
“বসুমতী, কেন তুমি এতই কৃপণা?
কত খোঁড়াখুঁড়ি করি পাই শস্যকণী ।
দিতে যদি হয় দে মা, প্রসন্ন সহাস
কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস?”
শুনিয়া ঈষৎ হাসি কন বসুমতী,

“আমার গৌরব তাতে সামান্যই বাড়ে;
তোমার গৌরব তাহে একেবারেই ছাড়ে ।”

সারমর্ম : ধরণীর শস্যসম্পদ অনায়াসলভ্য নয়। তাই মানুষের শক্তি, সামর্থ্য ও শ্রমের এত মূল্য । অন্যের
করুণা-নির্ভরতায় মানুষ মর্যাদা পায় না। পরিশ্রমই মানুষের অস্তিত্বের অবলম্বন এবং মর্যাদার কফ্টিপাথর।

১২
নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো,

যুগ জনমের বন্ধ আমার, আধার ঘরের আলো।
সবাই মোরে ছাড়তে পারে বনধু যারা আছে,
নিন্দুক সে ছায়ার মতো থাকবে পাছে পাছে।
বিশ্বজনে নিঃস্ব করে পবিভ্রতা আনে,
সাধকজনে বিস্তারিত তার মতো কে জানে?
বিশ্বমাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?
নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,
আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপাভরে ।

সারমর্ষ : নিন্দুকের করা সমালোচনা আমাদের সবার জন্য মঙ্গলজনক। এতে আমরা আমাদের ত্রুটি ও
সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারি। নিন্দুক সমালোচনার মাধ্যমে জুটি নির্দেশ করে পরোক্ষভাবে ব্যন্তি ও
সমাজের উপকার করে থাকে ।

১৪

২০১৮
২০১৮

 

১৩
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে ।
সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে
জানি নে তোর ধন-রতন আছে কিনা রানীর মতোন,
শুধু জানি আমার অঙ্গা জুড়ায় তোমার ছায়ায় এ
কোন্‌ বনেতে জানি নে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন্‌ গগনে ওঠে রে টাদ এমন হাসি হেসে
ওই আলোতে নয়ন মেলে মুদিব নয়ন শেষে

সারমর্ম : জন্মভূমির প্রতি মানুষের খণ অপরিসীম । জন্মভূমির আলো-বাতাস, গাছপালা, মাটি ও পরিবেশ
মানুষের জীবনের জিয়নকাঠি । তাই জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পারলে এবং জন্মভূমির মাটিতে শেষ আশ্রয়
পেলে জীবন হয় সার্থক।

১৪

হউক সে মহাজ্ঞানী মহা ধনবান,
অসীম ক্ষমতা তার অতুল সম্মান,
হউক বিভব তার সম সিম্ধ জল,
হুউক প্রতিভা তার অক্ষুণ্ন উজ্ধ্বল,
হউক তাহার বাস রম্য হম্্য মাঝে,
থাকুক সে মণিময় মহামূল্য সাজে,
হউক তাহার রূপ চন্দ্রের উপম,
হউক বীরেন্দ্র সেই যেন সে রোস্তম,
করুক স্তবকদল স্তব সংকীর্তন।
কিন্তু যে সাধেনি কভু জন্মভূমি হিত,
স্বজাতির সেবা যেবা করেনি কিিঃ,
জানাও সে নরাধমে জানাও সতৃর,
অতীব ঘৃণিত সেই পাষণ্ড বর্বর ।

সারমর্ম : স্বদেশ ও স্বজাতির সেবার মাধ্যমে মানবজীবন হয়ে ওঠে মহৎ। জ্ঞান ও বিত্ত, প্রতিভা ও শক্তি,
সম্পদ ও বিলাসিতার জোরে মানুষ নিজেকে গৌরবান্ধিত মনে করতে পারে। কিন্তু দেশপ্রেম-বিবর্জিত
মানুষের কোনো সম্মান ও মর্যাদা নেই। দেশ ও জাতির ঘৃণাই তার প্রাপ্য ।
১৫
দডডিতের সাথে
দডদাতা কাদে যবে সমান আঘাতে

১৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার । যার তরে প্রাণ

ব্যথা নাহি পায় কোনো, তারে দণ্ড দান
প্রবলের অত্যাচার । যে দণ্ড বেদনা
পুত্রেরে পার না দিতে, সে কারেও দিও না।
যে তোমার পুত্র নহে, তারও পিতা আছে
মহা অপরাধী হবে তুমি তার কাছে।

সারমর্ম : অপরাধীর প্রতি সহানুভূতিশীল বিচারই আদর্শ বিচার । অপরাধকে গর্হিত চিহ্নিত করে অপরাধীকে
মমতার চোখে দেখে সংশোধনমুখী করাই প্রকৃত বিচারকের দায়িতৃ।

১৬

আজকের দুনিয়াটা আশ্চর্যভাবে অর্থ বা বিস্তের ওপর নির্ভরশীল। লাভ ও লোভের দুর্িবার গতি কেবল আগে
যাবার নেশায় লক্ষ্যহীন প্রচন্ড বেগে শৃধু আত্মবিনাশের পথে এগিয়ে চলেছে। মানুষ যদি এই মুঢ্ুতাকে জয়
করতে না পারে, তবে মনুষ্য কথাটাই লোপ পেয়ে যাবে। মানুষের জীবন আজ এমন এক পর্যায়ে এসে
পৌছেছে যেখান থেকে আর হয়তো নামবার উপায় নেই, এবার উঠবার সিঁড়ি না খুঁজলেই নয়। উঠবার
সিঁড়িটা না খুঁজে পেলে আমাদের আতমবিনাশ যে অনিবার্য তাতে আর কোনো সন্দেহ থাকে না।

সারাংশ : অর্থ-সম্পদের অন্ধ নেশা একালে মানুষকে এক চরম অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ
থেকে পরিত্রাণ না পেলে মানুষের মনুষ্যত্বই হয়তো লোপ পেয়ে যাবে।
১৭

মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে । জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা,
আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব ওপরের তলা । জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা ।
শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে । অবশ্য জীবসত্তার ঘরেও সে কাজ করে; ক্ষু্ুপিপাসার
ব্যাপারটি মানবিক করে তোলা তার অন্যতম কাজ । কিন্তু তার আসল কাজ হচ্ছে মানুষকে মনুষ্যতলোকের
সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া অন্য কথায় শিক্ষার যেমন প্রয়োজনের দিক আছে, তেমনি অপ্রয়োজনের দিকও
আছে, আর অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক। সে শেখায় কী করে জীবনকে উপভোগ করতে হয়, কী
করে মনের মালিক হয়ে অনুভূতি ও কল্পনার রস আস্বাদন করা যায়।

সারাংশ : অন্য সব প্রাণীর মতো জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হলেও মানুষের শ্রেষ্ঠতের মূলে রয়েছে

তার মনুষ্য । এই মনুষ্যত্ত অর্জনে প্রধান ভূমিকা রাখে শিক্ষা । শিক্ষাই তার অন্তরকে আলোকিত করে,

তার মধ্যে জীবনরস সঞ্চার করে। শিক্ষার গুণেই মানুষ জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে শেখে ।
১৮

অতীতকে ভুলে যাও। অতীতের দুশ্চিন্তার ভার অতীতকেই নিতে হবে । অতীতের কথা ভেবে ভেবে অনেক
বোকাই মরেছে । আগামীকালের বোঝা অতীতের বোঝার সঙ্তো মিলে আজকের বোঝা সবচেয়ে বড় হয়ে
দীড়ায়। ভবিষ্যঘকেও অতীতের মতো দৃঢ়ভাবে দূরে সরিয়ে দাও । আজই তো ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎকাল বলে
কিছু নেই। মানুষের মুক্তির দিন তো আজই। আজই ভবিষ্যতের কথা যে ভাবতে বসে সে ভোগে
শত্তিহীনতায়, মানসিক দুশ্চিন্তায় ও স্নায়বিক দুর্বলতায় । অতএব, অতীতের এবং ভবিষ্যতের দরজায় আগল
লাগাও আর শুরু কর দৈনিক জীবন নিয়ে বাচতে।

১৬

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সারাংশ : অতীতের ব্যর্থতার জন্য আক্ষেপ করে কিংবা ভবিষ্যতের সাফল্যের স্বপ্রে বিভোর হয়ে
বর্তমানকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং বর্তমানকে কাজে লাগানো উচিত সবচেয়ে বেশি । কারণ
বর্তমানের কাজের মধ্যেই নিহিত মানুষের ভবিষ্যৎ সুখ ও সমৃদ্ধি ।

১৯

জাতিকে শক্তিশালী, শ্রেষ্ঠ, ধনসম্পদশালী, উন্নত ও সুখী করতে হলে শিক্ষা ও জ্ঞান বর্ধার বারিপাতের মতো
সর্বসাধারণের মধ্যে সমভাবে বিতরণ করতে হবে । দেশে সরল ও সহজ ভাষায় নানা প্রকারের পুস্তক প্রচার
করলে এই কাজ সিদ্ধ হয়। শক্তিশালী দৃষ্টিসম্পন্ন মহাপুরুষদের লেখনীর প্রভাবে একটা জাতির মানসিক ও
পার্থিব অবস্থার পরিবর্তন অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে সাধিত হয়ে থাকে । দেশের প্রত্যেক মানুষ তার ভুল ও
কুসংস্কার, অন্ধতা ও জড়তা, হীনতা ও সংকীর্ণতাকে পরিহার করে একটা বিনয়-মহিমোজ্বল উচ্চজীবনের
ধারণা করতে শেখে; মনুষ্যত ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করাই ধর্ম মনে করে; আত্মমর্যাদা-জ্ঞানসম্পন্ন হয় এবং
গভীর দৃষ্টি লাভ করে । তারপর বিরাট জাতির বিরাট দেহে শক্তি জেগে ওঠে।

সারাংশ : জাতির সর্বাঙ্গীণ বিকাশের উপায় হলো সবার মধ্যে শিক্ষার প্রসার | সহজ-সরল ভাষায় লেখা
বই জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় সহায়ক । মহৎ লেখকরাই পারেন জাতিকে কুসংস্কারমুক্ত করে মহৎ জীবনে
ব্রতী করতে । এভাবেই জাতি আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠে।

২০

মানুষের মূল্য কোথায়? চরিত্র, মনুষ্যতৃ, জ্ঞান ও কর্মে। বস্তুত চরিব্রবলেই মানুষের জীবনে যা-কিছু
শ্রেষ্ঠ তা বুঝতে হবে। চরিত্র ছাড়া মানুষের গৌরব করার আর কিছুই নেই। মানুষের শ্রদ্ধা যদি মানুষের
প্রাপ্য হয়, সে শুধু চরিত্রের জন্য । অন্য কোনো কারণে মানুষের মাথা মানুষের সামনে নত হবার দরকার
নেই।

জগতে যে-সকল মহাপুরুষ জন্ুগ্রহণ করেছেন, তাদের গৌরব মূলে এই চরিত্রশক্তি। তুমি চরিত্রবান লোক। এ
কথার অর্থ এই নয় যে, তুমি শুধু লম্পট নও, তুমি সত্যবাদী, বিনয়ী এবং জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ কর; তুমি
পরদুঃখকাতর, ন্যায়বান এবং মানুষের ন্যায় স্বাধীনতাপ্রিয় । চরিত্রবান মানে এই।

সারাংশ : চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মের ওপর নির্ভর করে মানুষের মর্যাদা। এসবের মধ্যে চরিত্রই
মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ । চরিব্রগুণেই মানুষ শ্রদ্ধা অর্জন করে। যিনি সত্যবাদী, বিনয়ী,
জ্ঞানী, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ, স্বাধীনতাপ্রিয় ও সঙ্জন তিনিই চরিত্রবান ।

২১

অভ্যাস ভয়ানক জিনিস । একে হঠাৎ স্বভাব থেকে তুলে ফেলা কঠিন । মানুষ হবার সাধনাতেও তোমাকে ধীর
ও সহিষ্ণু হতে হবে। সত্যবাদী হতে চাও? তাহলে ঠিক কর সপ্তাহে অন্তত একদিন মিথ্যা বলবে না।
ছ মাস ধরে এমনি করে নিজে সত্যকথা বলতে অভ্যাস কর। তারপর এক শুভদিনে আর একবার প্রতিজ্ঞা
কর, সপ্তাহে তুমি দুদিন মিথ্যা বলবে না। এক বছর পরে দেখবে সত্যকথা বলা তোমার কাছে অনেকটা
সহজ হয়ে পড়েছে। সাধনা করতে করতে এমন একদিন আসবে যখন ইচ্ছা করলেও মিথ্যা বলতে পারবে
না। নিজেকে মানুষ করার চেষ্টায় পাপ ও প্রবৃত্তির সঙ্গে সংখ্বামে তুমি হঠাৎ জয়ী হতে কখনও ইচ্ছা কোরো
না তাহলে সব পন্ড হবে।

১৭
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
সারাংশ : অভ্যাসের দাস না হয়ে ধীরতা ও সহিফুতার সাধনায় ব্রতী হওয়া উচিত। এটাই মনুষ্যত্ব
অর্জনের পথ। মিথ্যা বলার প্রবণতা দূর করে সত্য বলার অভ্যাস গঠনের জন্য চাই সাধনা। সাধনার
মাধ্যমেই মানুষ পাপ ও প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে সফল হতে পারে।

২২

নিন্দা না থাকিলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কি থাকিত? একটা ভালো কাজে হাত দিলাম, তাহার নিন্দা
কেহ করে না, সেই ভালো কাজের দাম কী? একটা ভালো কিছু লিখিলাম, তাহার নিন্দুক কেহ নাই, ভালো
গ্রন্থের পক্ষে এমন মর্মান্তিক অনাদর কী হইতে পারে? জীবনকে ধর্মচর্চায় উৎসর্গ করিলাম, যদি কোনো মন্দ
লোক তাহার মধ্যে মন্দ অভিপ্রায় না দেখিল, তবে সাধুতা সে নিতান্তই সহজ হইয়া পড়িল। মহত্তুকে পদে
পদে নিন্দার কীটা মাড়াইয়া চলিতে চায় । ইহাতে যে হার মানে, বীরের সংগতি সে লাভ করে না। পৃথিবীতে
নিন্দা দোষীকে সংশোধন করিবার জন্য আছে তাহা নহে, মহত্তুকে গৌরব দেওয়া তাহার একটা মস্তকাজ।

সারাংশ : নিন্দার মাধ্যমেই ভালো কাজ পায় গৌরবজনক স্বীকৃতি । নিন্দুকের সমালোচনার মাধ্যমেই
ভুল-ত্রুটি সংশোধিত হয়। তাই নিন্দার কাছে হার মানলে গৌরবের জয়মাল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

২৩

ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই হলো জ্ঞানীর কাজ। পিঁপড়ে-মৌমাছি পর্যন্ত যখন ভবিষ্যতের জন্য ব্যতিব্যস্ত তখন
মানুষের কথা বলাই বাহুল্য । ফকির-সন্ন্যাসী যে ঘর-বাড়ি ছেড়ে আহার-নিদ্রা ভুলে পাহাড়-জঙ্ঞালে চোখ
বুজে বসে থাকে, সেটা যদি নিতান্ত গঞ্জিকার কৃপায় না হয়, তবে বলতে হবে ভবিষ্যতের ভাবনা ভেবে ।
সমস্ত জীবজন্তুর দুটো চোখ সামনে থাকবার মানে হলো ভবিষ্যতের দিকে যেন নজর থাকে । অতীতের ভাবনা
ভেবে লাভ নেই। পড্িতেরা তো বলে গেছেন, ‘গতস্য শোচনা নাস্তি’। আর বর্তমান সে-তো নেই বললেই
চলে। এই যেটা বর্তমান সেই এই কথা বলতে বলতে অতীত হয়ে গেল। কাজেই তরঙ্গা গোনা আর
বর্তমানের চিন্তা করা, সমানই অনর্থক । ভবিষ্য্টা হলো আসল জিনিস। সেটা কখনও শেষ হয় না। তাই
ভবিষ্যতের মানব কেমন হবে, সেটা একবার ভেবে দেখা উচিত।

সারাংশ : চিন্তাশীল মানুষ ভবিষ্যৎ ভেবেই কাজ করেন। অতীত গত, আর বর্তমান নিতান্তই
ক্ষণস্থায়ী। তাই অতীতের জন্য অনুশোচনা করে লাভ নেই। ক্ষণস্থায়ী ভবিষ্যৎ ভেবে বর্তমান
কাজের পরিকল্পনা করে অগ্রসর হওয়াই দুরদর্শিতার লক্ষণ ।

২৪
বাল্যকাল হইতেই আমাদের শিক্ষার সহিত আনন্দ নাই। কেবল যাহা কিছু নিতান্ত আবশ্যক, তাহাই কষ্ঠস্থ
করিতেছি । তেমনি করিয়া কোনোমতে কাজ চলে মাত্র, কিন্তু মনের বিকাশ লাভ হয় না । হাওয়া খাইলে পেট
ভরে না, আহার করিলে পেট ভরে, কিন্তু আহারাদি রীতিমতো হজম করিবার জন্য হাওয়া আবশ্যক ৷ তেমনি
একটি শিক্ষাপুস্তককে রীতিমতো হজম করিতে অনেকগুলি অপাঠ্য পুস্তকের সাহায্য আবশ্যক । ইহাতে
বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বললাভ করে।

১৮

 

মাধ্যমিক বাংলা রচনা বই

সারাংশ : প্রচলিত শিক্ষার একটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো মুখস্থবিদ্যা। এর সঙ্গে আনন্দের যোগ নেই।
ফলে প্রকৃতপক্ষে পাঠ আয়ত্ত হয় না। প্রকৃত শিক্ষার জন্য পাঠ্যবই ছাড়াও চাই পাঠ-সহায়ক আনন্দকর
শিক্ষা-উপকরণ | শিক্ষার সঙ্গো আনন্দের যোগে মনের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে ।

 

কিসে হয় মর্যাদা? দামি কাপড়, গাড়ি-ঘোড়া, না ঠাকুর-দাদার কালের উপাধিতে? না, মর্যাদা এসব জিনিসে
নেই। আমি দেখতে চাই তোমার ভিতর, তোমার বাহির, তোমার অন্তর । আমি জানতে চাই, তুমি চরিত্রবান
দৌড়ে আসে, প্রজারা তোমায় দেখে সন্ত্রস্ত হয়, তুমি মানুষের ঘাড়ে চড়ে হাওয়া খাও, মানুষকে দিয়ে জুতা
খোলাও, তুমি দিনের আলোতে মানুষের টাকা আত্মসাৎ কর। বাপ-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি তোমায় আদর করেন,
আমি তোমায় অবজ্ঞায় বলব __যাও ।

সারাংশ : অর্থ-বিত্ত, বংশগরিমা, প্রতাপ-প্রতিপত্তি মানুষকে করে তোলে দাস্তিক ও অহংকারী । তাতে
প্রকৃত মর্যাদা অর্জিত হয় না। চরিব্রবান, সত্যবাদী মানুষ ও জ্ঞানী-গুণীজনরাই মহৎ গুণাবলির শক্তিতে
জীবনে প্রকৃত মর্ধাদার অধিকারী হন ।

 

বর্তমান সভ্যতায় দেখি, এক জায়গায় একদল মানুষ অন্ন উৎপাদনের চেষ্টায় নিজের সমস্ত শত্তি নিয়োগ
করেছে, আর এক জায়গায় আর একদল মানুষ স্বতন্ত্র থেকে সেই অন্নে প্রাণধারণ করে। চাদের এক পিঠে
অন্ধকার, অন্য পিঠে আলো-_-এ সেইরকম | একদিকে দৈন্য মানুষকে পঙ্গু করে রেখেছে অন্যদিকে ধনের
অর্থের সংগ্রহ চলে নগরে। অর্থ উপার্জনের সুযোগ ও উপকরণ সেখানেই কেন্দ্রীভূত; স্বভাবতই সেখানে
আরাম, আরোগ্য, আমোদ ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে অপেক্ষাকৃত অল্পসংখ্যক লোককে এঁশুর্ষের আশ্রয়
দান করে। পল্লিতে সেই ভোগের উচ্ছিষ্ট যা-কিছু পৌছায় তা যৎকিঞ্িৎ।

সারাংশ : বর্তমান সভ্যতায় উৎপাদন ও পরিভোগে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। পল্লির বিপুল জনগণ
অনু উৎপাদন করেও দারিদ্রযকবলিত। অথচ নগরের মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীরা ভোগবিলাসিতায়
আচ্ছন্ন । অর্থের কেন্দ্রীভবন নরকে দিয়েছে নানা নাগরিক সুবিধা । পক্ষান্তরে, পল্লি সুবিধাবঞ্চিত ও
অন্ধকারে নিমজ্জিত ।

২৭

শ্রমকে শ্রদ্ধার সঙ্ো গ্রহণ কর। কালি-ধুলার মাঝে, রৌদ্র-বৃষ্টিতে কাজের ডাকে নেমে যাও । বাবু হয়ে
ছায়ায় পাখার তলে থাকবার দরকার নেই। এ হচ্ছে মৃত্যুর আয়োজন। কাজের ভেতর কুবুদ্ধি কুমতলব
মানবচিত্তে বাসা বাধতে পারে না। কাজে শরীরে সামর্থ্য জন্মে, স্বাস্থ্য, শক্তি, আনন্দ, স্ফুর্তি সকলই লাভ
হয়। পরিশ্রমের পর যে অবকাশ লাভ হয় তা পরম আনন্দের অবকাশ । তখন কৃত্রিম আয়োজন করে আনন্দ
করার কোনো প্রয়োজন হয় না। শুধু চিন্তার দ্বারা জগতের হিতসাধন হয় না। মানব সমাজে মানুষের সো

১৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সারাংশ : কর্মহীন জীবন মানুষকে নির্জীব ও হীনপ্রবৃত্তিসসপন্ন করে তোলে । বস্তুত, পরিশ্রমের
মাধ্যমেই মানুষ পায় স্বাস্থ্যময় জীবন ও পরিচ্ছন্ন মন, হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ মানুষ । কর্মসূত্রেই মানুষ
সৌজন্য শেখে, লাভ করে কাজের ও অবকাশের আনন্দ, অবদান রাখে জগতের কল্যাণে ।

ঢা

মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রাণী। জগতের অন্যান্য প্রাণীর সহিত মানুষের পার্থক্যের কারণ মানুষ বিবেক ও বুদ্ধির
অধিকারী । এই বিবেক, বুদ্ধি ও জ্ঞান নাই বলিয়া আর সকল প্রাণী মানুষ অপেক্ষা নিকৃষ্ট । জ্ঞান ও
মনুষ্যতের উৎকর্ষ সাধন করিয়া মানুষ জগতের বুকে অক্ষয় কীর্তি স্থাপন করিয়াছে, জগতের কল্যাণ সাধন
করিতেছে । পশুবল ও অর্থবল মানুষকে বড় বা মহৎ করিতে পারে না। মানুষ বড় হয় জ্ঞান ও মনুষ্যতের
বিকাশে জ্ঞান ও মনুষ্যতের প্রকৃত বিকাশে জাতির জীবন উন্নত হয়। প্রকৃত মানুষই জাতীয় জীবনের
প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন আনয়নে সক্ষম ।

সারাংশ : জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেকের অধিকারী বলে মানুষ সৃষ্টির সেরা প্রাণী। পাশব শক্তি ও বিস্তের
দাপট মানুষের মহিমার পরিচায়ক নয় । বরং জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে মানুষ হয়ে
ওঠে যথার্থ মানুষ । এ ধরনের মানুষের অবদানেই অর্জিত হয় জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি ।

২৯

জাতি শুধু বাইরের এঁশৃর্যসম্ভার, দালানকোঠার সংখ্যাবৃদ্ধি কিংবা সামরিক শক্তির অপরাজেয়তায় বড় হয়
না, বড় হয় অন্তরের শক্তিতে, নৈতিক চেতনায়, আর জীবন পণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দীড়ানোর ক্ষমতায় ।
জীবনের মূল্যবোধ ছাড়া জাতীয় সত্তার ভিত কখনো শক্ত আর দুর্মূল্য হতে পারে না । মূল্যবোধ জীবনাশ্রয়ী
মূল্যবোধের বৃহত্তম বাহন ভাষা, তথা মাতৃভাষা, আর তা ছড়িয়ে দেবার দায়িতু লেখক আর সাহিত্যিকদের ।

সারাংশ : জাতির অগ্রগতির মাপকাঠি বাইরের আড়ম্বর নয়, অন্তরের এশূর্ষে। মনের এই এঁশূর্ষের
অন্য নাম সামাজিক মূল্যবোধ। তার প্রকাশ ঘটে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীনতায় ও নৈতিক
চেতনায় । জাতির ভিত্তিকে দৃঢ় করতে হলে এই মূল্যবোধের প্রসার দরকার । মাতৃভাষার মাধ্যমে সর্বত্র
তা সঞ্চারিত করার দায়িত লেখকদের ।

৩০

আজকাল বিজ্ঞানের দ্বারা যেসব অসাধ্য সাধন হইতেছে, তাহাও বহু লোকের ক্ষুদ্র চেষ্টার ফলে মানুষ পূর্বে
একান্ত অসহায় ছিল। বুদ্ধি, চেষ্টা ও সহিষুতার বলে আজ সে পৃথিবীর রাজা হইয়াছে। কত কষ্ট ও কত
চেষ্টার পর মানুষ বর্তমান উন্নতি লাভ করিয়াছে, তাহা আমরা মনেও করিতে পারি না। কে প্রথম আগুন
জানি না। এই মাত্র জানি যে, প্রথমে যাহারা নৃতন কোনো প্রথা প্রচলন করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন, তাহারা
পদে পদে অনেক বাধা পাইয়াছিলেন। অনেক সময় তাহাদিগকে অনেক নির্যাতনও সহ্য করিতে হইয়াছিল ।
এত কষ্টের পরও অনেকে তাহাদের চেষ্টা সফল দেখিয়া যাইতে পারেন নাই। আপাতত মনে হয়, তাহাদের

 

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

চেষ্টা একেবারে বৃথা গিয়াছে। কিন্তু কোনো চেষ্টাই একেবারে বিফল হয় না । আজ যাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র মনে

হয়, দুই দিন পরে তাহা হইতেই মহৎ ফল উৎপন্ন হইয়া থাকে। প্রবাল দ্বীপ যেরুপ একটু একটু করিয়া
সারাংশ : নানা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির পেছনে রয়েছে অগণিত মানুষের ছোট ছোট কর্ম-
প্রচেষ্টা। যুগ যুগ ধরে নাম না-জানা অজস্র মানুষের নিরন্তর পরিশ্রম ও আবিষ্কারে এবং বিজ্ঞান ও
সভ্যতার অসামান্য অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছি আমরা। এমনি করে ছোট ছোট অনেক অবদানে ঘটছে
জ্ঞান রাজ্যের বিপুল সমৃদ্ধি ।

 

অনুশীলনী
সারমর্ম/ সারাংশ (অনুশীলনের জন্য রচনাংশ)

একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে
দহিল হৃদয় মন সেই ক্ষোভানলে।
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে ।
দেখি সেথা একজন পদ নাহি তার
অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার ।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন
আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ ।

যাক বান ডেকে যাক বাইরে এবং ঘরে;
আর নাচুক আকাশ শুন্য মাথার পরে,

২১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আসুক জোরে হাওয়া,

এই আকাশ মাটি উঠুক কেঁপে কেঁপে,

শুধু ঝড় বয়ে যাক মরা জীবন ছেপে,
বিজলি দিয়ে ছাওয়া।

আয় ভাই-বোনেরা ভয়-ভাবনাহীন

সেই বিজলি দিয়ে গড়ি নতুন দিন।
গেয়ে নূতন গান।

যত আবর্জনা উড়িয়ে দেরে দূরে,

আজ মরা গাঙের প্রান্তে নতুন সুরে
ছড়িয়ে দে রে প্রাণ

8

এইসব মৃঢ় স্রান মুক মুখে
দিতে হবে ভাষা, এইসব শ্রান্ত শুষ্ক ভগ্ন বুকে
মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাড়াও দেখি সবে;
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা-চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে ।
যখনি দীড়াবে তুমি সম্মুখে তাহার তখনি সে
পথকুন্ধুরের মতো সংকোচ সত্রাসে যাবে মিশে
দেবতা বিমুখ তারে, কেহ নাহি সহায় তাহার;
মুখে করে আস্ফালন, জানে সে হীনতা আপনার
মনে মনে ]

কবি, তবে উঠে এসো–যদি থাকে প্রাণ

তবে তাই লহ সাথে, তবে তাই করো আজি দান।
বড় দুঃখ, বড় ব্যথা সম্মুখেতে কষ্টের সংসার
অন্ন চাই, প্রাণ চাই, আলো চাই, চাই মুক্ত বায়ু,
চাই বল, চাই স্বাস্থ্য, আনন্দ-উজ্্বল পরমায়ু,
সাহসবিস্তৃত বক্ষপট | এ দৈন্য মাঝারে, কবি,
একবার নিয়ে এসো স্বর্গ হতে বিশ্বাসের ছবি ॥

 

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কোন্‌ রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে ।
বীরের স্ৃতি-স্তস্তের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবাঃ

কোনো কালে এক হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারি,

মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন,
আমরাও হব বরণীয়।
আমরাও হব যে অমর
সেই চিহ্ন লক্ষ্য করে, অন্য কোনো জন পরে,
যশোদ্ারে আসিবে সত্বর |
কোরো না মানবগণ, বৃথা ক্ষয় এ জীবন,
সংসার সমরাক্ঞান মাঝে
সংকল্প করেছ যাহা, সাধন করহ তাহা,
ব্রতী হয়ে নিজ নিজ কাজে ।

শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কতু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমস্তিক ধান পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পডশ্রম,

ফল চাহে, সেও অতি নির্বোধ অধম ।
কিসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?

এ জগতে যিনি উঠেন, তিনি সাধারণের মধ্যে জনিয়া, সাধারণের মধ্যে বাড়িয়া, সাধারণের ওপর মস্তক
তুলিয়া দীড়ান। তিনি অভ্যন্তরীণ মাল-মসলার সাহাষ্যেই বড় হইয়া থাকেন। কৃশকায় লতা যেমন বৃষ্টির
সাহায্যে মাচার ওপর ওঠে, তেমনি কোন কাপুরুষ, কোন অলস শ্রমকাতর মানুষ কেবল অপরের সাহায্যে এ
জগতে প্রকৃত মহত্ত লাভ করিয়াছেঃ এ জগতে উঠিয়া-পড়িয়া, রহিয়া-সহিয়া, ভাঙিয়া-গড়িয়া, কীদিয়া-
কাটিয়া মানুষ হইতে হয়। ইহা ছাড়া মনুষ্যত্ব ও মহন্ত লাভের অন্য পথ নাই।


মাধ্যমিক বাংলা রচনা
১০

অপরের জন্য তুমি তোমার প্রাণ দাও আমি বলতে চাই নে। অপরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ তুমি দূর কর । অপরকে
এটকুখানি সুখ দাও । অপরের সঙ্গে একটুখানি মিষ্টি কথা বল। পথের অসহায় মানুষটার দিকে একটু করুণ
কটাক্ষ নিক্ষেপ কর তাহলেই অনেক হবে । চরিত্রবান মনুষ্যত্বসম্পন্ন মানুষ নিজের চেয়ে পরের অভাবে বেশি
অধীর হন। পরের দুঃখ ঢেকে রাখতে গৌরববোধ করেন ।

১৯

নিষ্ঠুর ও কঠিন মুখ শয়তানের । কখনও নিষ্ঠুর বাক্যে প্রেম ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠা হয় না। কঠিন ব্যবহারে ও
রূঢ়তায় মানবাআার অধঃপতন হয়। সাফল্য কিছু হইলেও যে আত্মা দরিদ্র হইতে থাকে, সুযোগ পাইলেই সে
আপন পশু-স্বভাবের পরিচয় দেয় ।

যে পরিবারের কর্তা ছোটদের সঙ্গে অতিশয় কদর্ধ ব্যবহার করে, সে পরিবারের প্রত্যেকের স্বভাব অতিশয় মন্দ
হইতে থাকে । শিশুর প্রতি একটি নিষ্ঠুর কথা, এক-একটা মায়াহীন ব্যবহার, তাহার মনুষ্য অনেকখানি রক্তের
মতো শুষিয়া নেয়; পক্ষান্তরে শ্রেহ-মমতা শিশুর মনুষ্যতকে সঞ্জীবিত করে । পরিবারের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক
উন্নতির জন্য সকলেরই চেষ্টা করা উচিত৷ ইহাই পরিবারের প্রতি প্রেম।
১২

তুমি জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করিতে চাও? কিন্তু সেজন্য তোমাকে প্রাণান্ত পরিশ্রম করিতে হইবে । মহৎ
কিছু লাভ করিতে হইলে কঠোর সাধনার দরকার ৷ তোমাকে অনেক দুঃখ সহ্য করিতে হইবে । অনেক বিপদ-
আপদের সম্মণীন হইতে হইবে । এইসব তুচ্ছ করিয়া যদি তুমি লক্ষ্যের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হইতে পার
তবে তোমার জীবন সুন্দর হইবে । আরও আছে, তোমার ভেতরে এক “আমি’ আছে। সে বড় দুরত্ত। তাহার
স্বভাব পশুর মতো বর্বর ও উচ্ছঙ্খল। সে কেবল ভোগ-বিলাস চায়, সে বড় লোভী । এই “আমি’-কে জয়
করিতে হইবে । তবেই তোমার জীবন সুন্দর ও সার্থক হইয়া উঠিবে।

১৩
জীবনের কল্যাণের জন্য, মানুষের সুখের জন্য এ জগতে যিনি যত কথা বলিয়া থাকেন তাহাই সাহিত্য।
বাতাসের ওপর চিন্তা ও কথা স্থায়ী হইতে পারে না, মানবজাতি তাই অক্ষর আবিষ্কার করিয়াছে। মানুষের
লিখিয়া রাখা হইয়া থাকে । যে নিতান্তই হতভাগা, সেই সাহিত্যকে অনাদর করিয়া থাকে । সাহিত্যে মানুষের
সকল আকাঙ্ার মীমাংসা হয়। তোমার আত্মা হইতে যেমন তুমি বিচ্ছিন্ন হইতে পার না, সাহিত্যকেও তুমি
তেমনি অস্বীকার করিতে পার না উহাতে তোমার মৃত্যু, তোমার দুঃখ ও অসম্মান হয়।

১৪

যাহারা মুখ্যভাবে ঠকাইয়া স্বার্থসিদ্ধি করিতে যায় আমরা তাহাদিগকে শীঘ্রই চিনিয়া ফেলি এবং “শঠ’,
‘কৃতী’, শস্বী, ইত্যাদি প্রশংসিত আখ্যায় বিভূষিত করি। কেহ সোনা বলিয়া পিতল বিক্রয় করিলে আমরা
আমরা তাহাকে কৃতী পুরুষ বলি।

২৪

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
১৫

বাংলাদেশ যে শস্যক্ষেত্র, এই সত্যের ওপর আমাদের সমগ্র জাতীয় জীবন গড়ে তুলতে হবে । বাংলার উন্নতি
মানে কৃষির উন্নতি । এই উন্নতি অনেকে সাধন করতে চান ম্লেফ জমিতে সার দিয়ে । তারা ভুলে যান যে
কৃষকের শরীর-মন যদি অসার হয়, তাহলে জমিতে সার দিয়ে দেশের শ্রী কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
আমাদের দেশে যা দেদার পতিত রয়েছে, সে হচ্ছে মানবজমিন; আর আমরা যদি স্বদেশে সোনা ফলাতে চাই
তাহলে আমাদের সর্বাগ্রে কর্তব্য হবে এই মানবজমিনের আবাদ করা এবং তার জন্য দেশের জনসাধারণের
মনে রস ও দেহে রন্তু, এই দুই জোগাবার জন্য আমাদের যা-কিছু বিদ্যাবুদ্ধি, যা-কিছু মনুষ্য আছে তার

সাহায্য নিতে হবে।
৩. ভাব-সম্প্রসারণ

‘ভাব-সম্প্রসারণ’ কথাটির অর্থ কবিতা বা গদ্যের অন্তর্নিহিত ততৎপর্যকে ব্যাখ্যা করা, বিস্তারিত করে লেখা,
বিশ্লেষণ করা । এশৃর্যম্ডিত কোনো কবিতার চরণে কিংবা গদ্যাংশের সীমিত পরিসরে বীজধর্মী কোনো বত্তব্য
ব্যাপক ভাবব্যঞ্জনা লাভ করে । সেই ভাববীজটিকে উন্মোচিত করার কাজটিকে বলা হয় ভাব-সম্প্রসারণ।
ভাববীজটি সাধারণত রুপকধর্মী, সংকেতময় বা তৎপর্যপূর্ণ শব্দগুচ্ছের আবরণে প্রচ্ছন্ন থাকে। নানা দিক
থেকে সেই ভাবটির ওপর আলোকসম্পাত করে তার স্বরূপ তুলে ধরা হয় ভাব-সম্প্রসারণে ৷ ভাববীজটি
বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারি, এ ধরনের কবিতার চরণে বা গদ্যাংশে সাধারণত মানবজীবনের
কোনো মহৎ আদর্শ, মানবচরিত্রের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য, নৈতিকতা, প্রণোদনমূলক কোনো শক্তি,
কল্যাণকর কোনো উত্তির তাৎপর্যময় ব্যঞ্জনাকে ধারণ করে আছে। ভাব-সম্প্রসারণ করার সময় সেই গভীর
ভাবটুকু উদ্ধার করে সংহত বন্তব্যটিকে পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে । সেই ভাব বুপক-প্রতীকের আড়ালে
সংগুপ্ত থাকলে, প্রয়োজনে যুক্তি, উপমা, উদাহরণ ইত্যাদির সাহায্যে বিশ্লেষণ করতে হবে ।

ভাব-সম্প্রসারণের কিছু নিয়ম

ভাব-সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি দিকের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন । যেমন :

ক. প্রদত্ত চরণ বা গদ্যাংশটি একাধিকবার অভিনিবেশসহকারে পড়তে হবে । লক্ষ্য হবে প্রচ্ছন্ন বা অন্তর্নিহিত
ভাবটি কী, তা সহজে অনুধাবন করা ।

খ. অন্তর্নিহিত মূলভাবটি কোনো উপমা, রূপক-প্রতীকের আড়ালে সংগুপ্ত আছে কিনা, তা বিশেষভাবে লক্ষ
করতে হবে । মূলভাবটি যদি রূপক-প্রতীকের আড়ালে প্রচ্ছন্ন থাকে, তবে ভাব-সম্প্রসারণের সময়
প্রয়োজনে অতিরিক্ত অনুচ্ছেদ-যোগে ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়।

গ. সহজ ভাষায়, সংক্ষেপে ভাবসত্যটি উপস্থাপন করা উচিত । প্রয়োজনে যুক্তি উপস্থাপন করে তাৎপর্যটি
উদ্ধার করতে হবে।

ঘ. মূল ভাববীজকে বিশদ করার সময় সহায়ক দৃষীন্ত, প্রাসঙ্গিক তথ্য বা উদ্ধৃতি ব্যবহার করা চলে।
এমনকি প্রয়োজনে এঁতিহাসিক, পৌরাণিক বা বৈজ্ঞানিক তথ্যও উল্লেখ করা যায়। তবে ভূল বা
অপ্রাসঙ্গিক তথ্য, উদ্ধৃতি দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই ভালো ।

৬. ভাব-সম্প্রসারণ করার সময় মনে রাখতে হবে যে, যেন বন্তৃব্যের পুনরাবৃত্তি না ঘটে । বারবার একই কথা
লেখা ভাব-সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দূষণীয়।

নিচে নমুনা হিসেবে কয়েকটি ভাব-সম্প্রসারণের উদাহরণ দেওয়া হলো :
২৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

অপরের উপকার করেই মানবজীবন ধন্য ও সার্থক হয়। অন্যের উপকার সাধনই তাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবে না। চারপাশের মানুষের কথাও ভাবতে হবে, ভাবা উচিত।
সমাজে বাস করতে হলে একে অপরের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করে চলতে হবে । কারণ পারস্পরিক
সহযোগিতাই মানবজীবনের উন্নতির মূল। এই সহযোগিতা ছাড়া সুস্থ, সুন্দররূপে বাচা সম্ভব নয়। অন্যকে
বঞ্চিত রেখে কেউ কখনো বেশিদূর অগ্রসর হতে পারে না। তাই সংকীর্ণ ব্যন্তিসবার্থ পরিহার করে বৃহত্তর
মানুষের কথা ভাবতে হবে । সেখানেই রয়েছে মানবজীবনের সার্থকতা । অন্যের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে
এগিয়ে যাওয়াই প্রত্যেকের কর্তব্য । প্রয়োজনে নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের জন্য জীবন উৎসর্গ
করার মহৎ মানসিকতাই দিতে পারে বৃহস্তর মুক্তি। পুষ্ণের ন্যায় পরার্থে জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই নিহিত
রয়েছে জীবনের সার্থকতা ।
স্বার্থপর হয়ে কেউ পৃথিবীতে বাচতে পারে না। তাই পরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার মাধ্যমেই
জীবনকে সার্থক ও ধন্য করা সম্ভব ।

নানান দেশের নানান ভাষা
বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা ?

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কাছে তার মাতৃভাষা শ্রেষ্ঠ । অন্য ভাষা যতই সহজ হোক না কেন, মাতৃভাষা ছাড়া
মনের ভাব উত্তমরূপে আর কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
মাতৃভাষা যে-কোনো মানুষের অস্তিতু ও আত্মপ্রকাশের অবিকল্প একটি বাহন। বিদেশি ভাষায় যতই দক্ষতা
অর্জন করুক, মাতৃভাষার ন্যায় এমন সাবলীলভাবে মনের ভাব প্রকাশ করা বিদেশি ভাষায় সম্ভব নয়।
মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ যতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং আনন্দ পায়, অন্য ভাষায় তা
অসম্তব। কারণ মাতৃভাষার সঙ্তো রয়েছে তার আত্মিক সম্পর্ক। এ সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য । তার আনন্দ-বেদনা,
আবেগ-আকাঙ্ঞা, স্বপ্ন-কল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মাতৃভাষা । মাতৃভাষা মানুষের অস্তিতের মহৎ অবলম্বন ।
তা দেশ ও জাতির সঙ্গ গড়ে তোলে অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক বন্ধন। মাতৃভাষায় কথা বলে যে আনন্দ,
আত্মতৃগ্তি আর প্রশান্তি অনুভব করা যায়, বিদেশি ভাষায় কথা বলে হৃদয়ের সেই তৃষ্কা কিছুতেই মেটে না।
মাতৃভাষাই মানুষের মত প্রকাশের সর্বোন্তম বাহন। মানুষের আশা-আকাঙ্া, বিমূর্ত চেতনা মাতৃভাষার
মাধ্যমেই সঠিক প্রতিমূর্তি লাভ করে । বিদেশি ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করে মানুষ খ্যাতি অর্জন করতে পারে
কিন্তু মাতৃভাষাই তার অস্তিত্বের আসল পরিচয় ।

শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির
লিখে ব্রেখ এক ফোঁটা দিলেম শিশির ।

 

পৃথিবীতে এমন কিছু লোক আছে, যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না। বরং তারা সামান্য উপকার
করতে পারলেই, দম্ডভরে তা প্রচার করে বেড়ায় ।

 

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দিঘির বিশাল জলরাশির মধ্যে শৈবালের অবস্থান ও অস্তিতৃ । এই শৈবালের ওপর জমেছে ভোরের শিশির |
শিশিরের ক্ষুদ্র ফৌটা গড়িয়ে পড়েছে দিঘির অগাধ জলে । এই সামান্য শিশির-ফোৌটাকে শৈবাল দিঘির প্রতি
তার মহৎ দান বলে গণ্য করছে। অথচ দিঘির বিশাল জলরাশির কাছে এক ফৌটা শিশির অতি তুচ্ছ। দিঘির
জলেই যার অস্তিতৃ, সেই দিঘির প্রতি শৈবালের এমন দস্তোন্তি সত্যি হীনম্মন্যতার পরিচায়ক ।

শৈবালের মতো মানবসমাজেও এমন অনেক অকৃতজ্ঞ লোক আছে, যারা পরের দয়া-দাক্ষিণ্য দু হাতে গ্রহণ
করে কিন্তু সামান্য উপকার করতে পারলেই মনে করে আমি মহৎ কিছু করে ফেলেছি। প্রকৃতপক্ষে যিনি মহৎ
এবং যথার্থ পরোপকারী তিনি অপরের উপকার করে কখনো দন্ত প্রকাশ করেন না। নিছক আত্মপ্রচারের জন্য

প্রতিদানের প্রত্যাশা নয়, মানবকল্যাণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে পরের উপকার করাই মহত্প্রাণ ব্যক্তির কাজ।

আলো বলে, “অন্ধকার, তুই বড় কালো”
অন্ধকার বলে, ‘ভাই, তাই তুমি আলো ।’

 

বৈপরীত্য আছে বলেই আমরা বস্তুর স্বরুপ উপলব্ধি করতে পারি। পৃথিবীতে মন্দ আছে বলেই ভালোর
এত কদর।

আলো ও অন্ধকার__আপাতদৃষ্টিতে দুটোকে বিপরীত মনে হলেও আলোর স্বরূপ বুঝতে হলে অন্ধকারের
প্রয়োজন হয়। রাত্রি ও দিনের মধ্যে যদি কোনো পার্থক্য না থাকত, একটানা আলো বা একটানা অনধকার
হলে আমরা রাত্রি ও দিনের কোনো তফাত বুঝতে পারতাম না। ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, ইতর-ভদ্র,
সুজন-কুজন, পাহাঁড়-সমতল, মরুভূমি-সমুদ্র এসব প্রাকৃতিক বৈপরীত্যের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এ জগৎ-
সংসার। এই বৈপরীত্যের স্বরুপ উপলব্ধি করেই মানুষ বেছে নেয় সঠিক পথ ও পন্থা। তৈরি হয়
বিবেচনাবোধ । তুলনার মধ্য দিয়ে কোনো বস্তুর স্বরুপ অনুধাবন করা যায় সহজ । আলো ও অনধকারের এ
ঝগড়া অমূলক । আসলে ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার একে অপরের পরিপূরক ।

অন্ধকার কালো বলে তাকে নিন্দা করার কিছু নেই। কারণ, অন্ধকার আছে বলেই আলোর এত কদর।


যেখানে দেখিবে ছাই

উড়াইয়া দেখ তাই
পাইলেও পাইতে পারো অমুল্য রতন।

পৃথিবীতে কোনো বস্তুকেই তুচ্ছজ্ঞান করা উচিত নয়। অতি তুচ্ছ বস্তুর মধ্যেও হয়তো লুকিয়ে থাকতে
পারে বিশাল কোনো সম্ভাবনা ।

বস্তুর প্রয়োজন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয় । কাজেই বস্তুর স্বাভাবিক অন্তর্নিহিত গুণের কথা
চিন্তা করে সব জিনিসকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা আবশ্যক | অতি ক্ষুদ্র বা তুচ্ছ কোনো বস্তুর মধ্যেও
লুকিয়ে থাকতে পারে এমন কিছু শ্তি বা সম্ভাবনা, যা মানুষকে পৌছে দিতে পারে উন্নতির চরম শিখরে ।

মানুষ সাধারণত বড় বা মূল্যবান জিনিসের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে এবং ছোট ও নগণ্য জিনিসকে তুচ্ছ
জ্ঞান করে অবহেলা করে । আসলে তা উচিত নয়, কারণ অনেক ক্ষুদ্র বা তুচছ বস্তুর মধ্যেও অনেক মুল্যবান

২৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
জিনিস লুকিয়ে থাকতে পারে । উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, স্বর্ণকার যে ছাই ফেলে দেয়, তা ধুয়েও স্বর্ণকণা
পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে ছাই বলতে বোঝানো হয়েছে পৃথিবীর তাবৎ তুচ্ছ অথচ মূল্যবান বস্তুকে ।

ক্ষুদ্র বলে কোনো বস্তুকে তুচ্ছজ্ঞান করা উচিত নয়। প্রয়োজনে ক্ষুদ্র বস্তুকে যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করে দেখা উচিত।

 

 

পরের অনিক চিন্তা করে যেই জন
নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।

অন্যের ক্ষতিসাধন করতে গিয়ে অনেক সময় মানুষ নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে । তাই জেনেশুনে অন্যের
ক্ষতি করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যে সমাজ গড়ে উঠেছে, সেখানে কল্যাণচিস্তাই প্রধান। যে মানুষ সর্বদা
অন্যের উপকারের কথা ভাবে, সে সমাজে সম্মানিত হয়। অপরদিকে, যে ব্যক্তি সর্বদা অন্যের ক্ষতির চিন্তা
করে, সে অবশ্যই হীনমন্য। অন্যের অনিষ্ট করার চিন্তা করতে করতে তার মন ছোট হয়ে যায়। মানুষ
হিসেবে সে হয়ে পড়ে ক্ষুদ্র, নিকৃষ্ট । খারাপ চিন্তার কারণে তার চিত্তে শান্তি থাকে না, শুদ্ধি আসে না। ফলে
সে কর্মক্ষেত্রেও উন্নতি করতে পারে না। পার্থিব কর্মের ফল মানুষ কোনো না কোনোভাবেই পৃথিবীতে পেয়ে
যায়। তাই এ ধরনের ব্যক্তিকে নিজ জীবনেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

বিশবর মহৎ ব্যক্তিরা সবসময় অপরের কল্যাণ চিন্তা করেছেন। ‘পরার্থে জীবন এই মহান বাক্যে
তারা সর্বদা ছিলেন নিবেদিত।

কথায় বলে, “ফুল আপনার জন্য ফোটে না।’ অন্যের জীবন সুন্দর এবং সুবাসিত করার জন্যই ফুল ফোটে।
অপরের উপকার সাধন করার মধ্যেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা । তাই অপরের অনিষ্ট চিন্তা করা উচিত নয়।
অপরের ক্ষতি করার চিন্তার মধ্যেই রয়েছে নিজের অপরিণামদর্শী ক্ষতির আশঙ্কা ।

 

যাহা চাই ভাহা ভুল করে চাই
যাহা পাই তাহা চাই না।

মানুষের চাওয়া-পাওয়ার কোনো শেষ নেই। প্রাপ্তিতে তার কোনো তৃষ্তি হয় না। কাঙ্কিত বস্তু তার ভাগ্যে
জোটে না, অথচ যা পায়, তা সেচায় না।

পৃথিবীতে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে মানুষের রয়েছে নিরন্তর দ্বন্ধব। কাঙ্ক্ষিত বস্তু বা একান্ত মনোবাঞ্ছা তার
কোনোদিন পূরণ হয় না। কঠিন-কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে যা সে পায়, তা হয়তো তার মোটেই কাঙ্কিত
ছিল না। না পাওয়ার বেদনা তার আকাঙ্ষাকে আরো তীব্র করে তোলে ।

অর্থ-সম্পদ, বিলাসের মধ্যে কিছুদিন কাটাবার পর বৈরাগ্যের জন্য কারো মন আকুলি-বিকুলি করে ওঠে ।
দিকে । মানুষের মনের এ অস্থিরতা, এ চিত্তচাঞ্চল্য তাকে কখনো স্থির হতে দেয় না।

সে যে সত্যিকার অর্থে কী চায়, তা সে নিজেও জানে না । তাই মানুষ তার কাম্যবস্তু পেয়ে কখনো পরিতৃস্তি অর্জন
করে না। এটা মানবমনের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। চাওয়া-পাওয়ার এ ছন্ব তাকে সারাজীবন যন্ত্রণা দেয়, ব্যথিত করে,
তাকে সুখ দেয় না।

 

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

মানব হৃদয়ে চাওয়া-পাওয়ার দ্বন্দ চিরন্তন । সাধ এবং সাধ্য, চাওয়া এবং পাওয়ার যোগফল কখনো মেলে
না। প্রাশ্তিতেও তার পরিতৃপ্তি নেই। ভুল চাওয়ার পেছনে সারাজীবন হেঁটে মনে হয়, যা পাওয়ার কথা ছিল
তা সে পায়নি, যা পেয়েছে, তা সে চায়নি।

পরন্থগত বিদ্যা পর হস্তে ধন
নহে বিদ্যা, নহে ধন, হলে প্রয়োজন ।

বিদ্যা ও ধন, এ দুটো মানুষের জীবনে খুবই প্রয়োজন । এ দুটোকে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করে অর্জন করতে
হয়। প্রয়োজনের মুহূর্তে এ দুটো কাজে না লাগলে বিদ্যা ও ধন দুটোই অর্থহীন বোঝার মতো মনে হয়।
বিদ্যা ও জ্ঞান মানুষ পরিশ্রম করে আত্মস্থ করে। বাস্তব ও ব্যবহারিক জীবনে সেই বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে
উপকৃত হয়। এটাই প্রত্যাশিত । অনুরুপভাবে ধনসম্পত্তি মানুষ কঠিন পরিশ্রম করে অর্জন করে এ জন্য যে,
তা প্রয়োজনের সময় কাজে লাগিয়ে বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে, নিজেকে বিপদমুস্ত করতে পারবে । কিন্তু
প্রয়োজনের সময় সেই ধন যদি অন্যের হাতে থাকে, নিজের কাজে লাগাতে না পারে, তখন সেই ধনের
কোনো মূল্য থাকে না। মুখস্থ বা গ্রন্থগত বিদ্যাও ঠিক সেরকম, বাস্তব জীবনে মুখস্থ ৰা গ্রন্থগত বিদ্যাও
কোনো কাজে আসে না।
বিদ্যা ও ধনের সার্থকতা নির্ভর করে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর ওপর প্রয়োজনের মুহূর্তে কাজে না লাগলে
এ দুটোরই কোনো মূল্য নেই। তাই বিদ্যা ও ধনকে আয়ত্তাধীন রেখে সেগুলির সদ্যবহার করতে হবে ।

স্বদেশের উপকারে নেই যার মন

কে বলে মানুষ তারে? পশু সেইজন।

স্বদেশ ও স্বজাতির উপকার সাধন মানুষের অন্যতম কর্তব্য। কিন্তু যে ব্যক্তি স্বদেশের উপকার সাধনে
দ্িধাগ্রস্ত, স্বদেশ ও স্বজাতির বিপদে যার প্রাণ কাদে না, সে মানুষ হয়েও পশুর সমান।
দেশপ্রেম ইমানের অঙ্ঞা ৷ দেশ সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের সার্থকতা নিহিত । যে দেশে
মানুষ জন্মগ্রহণ করে, সে দেশের কল্যাণ ছাড়া যে অকল্যাণ চিন্তা করে, সে সত্যিকার মানুষ হতে পারে না। পশু
আর তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মানুষ হয়েও কেউ যদি জন্মুভূমির কল্যাণে কাজ না করে, উল্টো স্বদেশের
ক্ষতি করে, মা-মাটির বিরুদ্ধে কাজ করে, তবে স্বদেশও একসময় তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
সত্যিকার দেশপ্রেমিক মানুষ দেশের মাটি ও মানুষকে নিয়ে সবসময় ভাবে এবং তাদের উপকার সাধনে সে
দৃঢ়সংকল্প। কিন্তু যারা আত্মকোন্দ্রিক, কেবল নিজের স্থার্থচিন্তায় বিভোর থাকে, তারা মানুষ নামের কলজ্ক।
দেশপ্রেমহীন বিবেকবর্জিত এ মানুষগুলো পশুর তুল্য। পশুর যেমন থাকা-খাওয়া ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা থাকে
না; উপলব্ধিহীন, বিবেকবর্জিত এ মানুষগুলোও তেমনি । দেশপ্রেমহীন মানুষ তাই পশুর নামান্তর ।

সত্যিকারের মানুষ হতে হলে অবশ্যই দেশকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে হবে। দেশপ্রেমহীন মানুষ
প্রকৃতপক্ষে পশুর সমান।
১০
কতবড় আমি, কহে নকল হীরাটি
তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি।

মিথ্যা পরিচয় নিয়ে যারা বড়াই করে, তাদের গর্ব ঠুনকো । আর ষারা প্রকৃত অর্থে বড়, তারা নিরহংকার ও
বিনয়ী হয়।

৯৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

মিথ্যা, ভিত্তিহীন পরিচয়ের অহংকার নিয়ে বেশিদিন চলা যায় না। একদিন না একদিন তার আসল পরিচয়
ধরা পড়বেই। তখন তার অহংকার চূর্ণ হয়ে কচুপাতার পানির মতো গড়িয়ে পড়ে।

হীরা খুবই মূল্যবান জিনিস। কিন্তু নকল হীরার সেই মূল্য নেই। আসল বা খাঁটি হীরার মতো সে যদি
নিজেকে মহামূল্যবান ভেবে অহংকার করে, তবে তার দর্প চূর্ণ হতে বাধ্য। আমাদের সমাজে এমন অনেক
প্রচার করে যে তারা অনেক বড়। শুধু তাই নয়, অনেক সময় হীনচিত্তের এ মানুষগুলো নকল হীরের মতো
আমাদের সমাজের মধ্যমণি হয়ে ওঠে । কিন্তু অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বেশিদূর অগ্রসর
হওয়া যায় না। একদিন তাদের সত্যিকার মুখোশ বেরিয়ে পড়ে । তখন তাদের মুখ লুকোবার জায়গা থাকে
না।

যার গুণ আছে তার সুনাম এমনিতেই প্রকাশ পায়। তার পরিচয় জাহির করার প্রয়োজন হয় না। পক্ষান্তরে,
মিথ্যা পরিচয়ে যে অহংকার করে, একদিন তার সত্য পরিচয় উন্মোচিত হলে সে লজ্জিত হয়।

১১

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি
কোনোকিছু অর্জন করতে হলে নিরলস পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ সাধনার কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রম করেই বিরুপ
ভাগ্যকে করায়ত্ত করতে হয়।

ভাগ্যে বিশ্বাসী লোক অলস এবং শ্রমবিমুখ হয় । ‘ভাগ্যে থাকলে পাব’_ এই আশায় কেউ বসে থাকলে জীবনে তার
কোনো উন্নতি হবে না। আসলে সৌভাগ্য নিয়ে কেউ পৃথিবীতে আসে না। কঠিন, কঠোর পরিশ্রম করেই বিরূপ
ভাগ্যকে জয় করতে হয়। লক্ষ্য স্থির করে, সঠিক পদ্ধতিতে পরিশ্রম করলে সৌভাগ্য আপনা-আপনি ধরা দেয়।
পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যারা সফল হয়েছেন, তাদের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে পরিশ্রমের জাদু । কৃষক ভাগ্যের ওপর
বসে থেকে ফসল ফলায় না, তাকে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপন্ন করতে হয়।
তেমনি পরিশ্রম ছাড়া দুনিয়াতে ভালো কিছু অর্জিত হয় না।

আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে কিংবা তাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,
তারা নিরলস পরিশ্রম করেই উন্নতির চরম শিখরে পৌছেছে । একমাত্র শ্রমশত্তিই তাদেরকে কাজ্ফিত
সাফল্যের সবর্ণদধারে পৌছে দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমবিমুখ, অলস কত যুবক বেকার হয়ে অভিশপ্ত জীবন
কাটাচ্ছে।

জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য পরিশ্রম অপরিহার্য । যে জাতি যত পরিশ্রমী, সে জাতি তত উন্নত। তাই অযথা
ভাগ্যের পেছনে না দৌড়ে, লক্ষ্য স্থির করে সঠিক পদ্ধতিতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা উচিত।

১২
চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ

চরিত্রের গুণেই মানুষ মর্ধাদাবান হয়ে ওঠে। চরিত্রহীন ব্যক্তিকে সবাই ঘৃণা করে। চরিত্র মানবজীবনের
মুকুটস্বরুপ ।

মানুষের সামগ্রিক আচরণের সমফ্টিই তার চরিত্র। একজন মানুষ কতটা ভালো বা কতটা মন্দ তা শনান্ত

৩০

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

হয়। চরিত্র ব্যস্তির অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য। নারীদের ক্ষেত্রে অলংকার যেমন তার বূপের মাধূর্বকে বাড়িয়ে
অমূল্য সম্পদ । সুন্দর ও শোভন চরিত্রের মানুষকে সবাই শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে, মর্যাদা দেয়। অপরদিকে
চরিব্রহীন ব্যক্তিকে কেউ বিশ্বাস করে না, মর্ধাদাও দেয় না। লক্ষ টাকার সম্পদ নষ্ট হলেও তা আবার ফিরে
পাওয়া সম্ভব, কিন্তু চরিত্র একবার হারালে তা কোটি টাকার বিনিময়েও ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য
চরিত্রকে অমূল্য সম্পদের সঙ্জো তুলনা করা হয়।

নেই। চরিত্রকে তাই মাথার মুকুটের সক্তো তুলনা করা হয়।

১৩
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড

আরোহণ করতে পারে না।

শিক্ষা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি । শিক্ষাহীন মানুষ পশুর সমান। নিরক্ষর মানুষ সমাজের জন্য শুধু বোঝা নয়,
দেশের অগ্রগতির পথেও বাধাস্বরূপ। কারণ, শিক্ষা মানুষকে কর্মদক্ষ ও সচেতন নাগরিক হতে সাহায্য করে।
দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য দরকার সচেতন ও কর্মদক্ষ মানুষ । মেরুদণ্ডহীন প্রাণী যেমন সোজা হয়ে দীড়াতে
পারে না, তেমনি শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতিই পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দীড়াতে পারে না। এ জন্য শিক্ষাকে
মেরুদণ্ডের সঙ্গো তুলনা করা হয়েছে। পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত।

শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান সোপান। আত্মশ্তি অর্জনের প্রধান উপায় শিক্ষা । তাই জাতির উন্নয়নের
জন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ দেওয়া উচিত। শিক্ষাকে সহজলত্য ও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে
হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার ।

১৪

নাম মানুষকে বড় করে না, মানুষই নামকে বড় করে তোলে ।

প্রতিটি মানুষের ভেতরেই রয়েছে অমিত সম্ভাবনা । শত প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিভাবান মানুষ সেই অমিত
সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে হতে পারেন স্মরণীয়, বরণীয়। ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বাক্ষরিত করতে
পারেন স্বর্ণাক্ষরে।

সুন্দর নাম মানুষকে সুন্দর করে না, দেয় না কোনো খ্যাতি বা সুনাম। বরং সৎকর্মের জন্যই মানুষের নাম
ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে । কারণ, মানুষের চূড়ান্ত পরিচয় ও ভূমিকা মৃল্যায়িত হয় তার কৃতকর্মের দ্বারা।
রবীন্দ্রনাথ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তার অনন্য সাহিত্যকর্মের জন্যে। অনুরূপভাবে নজরুল জন্মগ্রহণ
পাতায় অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। এ উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, মানুষই তার নামকে মহিমান্বিত করতে পারে
মহৎ সাধনা কিংবা কীর্তিময় কাজের জন্য । একটা গানে আছে_

নাম দিয়ে কী হয়

৩১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

নামের মাঝে পাবে নাকো
সবার পরিচয় ]

অর্থাৎ কোনো কীর্তি না থাকলে কারো নাম মানুষ স্মরণ করে না।

ক্ষণস্থায়ী জীবনকে মানুষ মহিমান্বিত করতে পারে তার সৎকর্ম বা মহৎ অবদানের মধ্য দিয়ে । মহৎ কীর্তির

১৫
দুর্নীতি জাতীয় জীবনের সকল উন্নতির অন্তরায়।

নীতিহীনতাই দুর্নীতি। নীতিহীন ব্যক্তি স্বার্থ-অন্ধ। এ ধরনের ব্যক্তি দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর । তারা
দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দীড়ায়।
নৈতিকভাবে উন্নত, সৎ, বিবেকবান মানুষ যে পদেই থাকুন না কেন, তিনি সমাজ ও দেশের বড় সম্পদ ।
তাকে দিয়ে উপকার না হলেও অন্তত ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে না। অপরদিকে নৈতিকতা বিবর্জিত ব্যক্তি
যতই উচ্চ আসনে অবস্থান করুক না কেন, তিনি মোটেও শ্রদ্ধার পাত্র নন। পদ মর্যাদার কারণে তাকে
হয়তো মানুষ সামনে কিছু বলে না কিন্তু পেছনে অন্তর থেকে ঘৃণা করে । তার দ্বারা ক্ষতির আশভ্কাও বেশি।
কারণ, তিনি স্বার্থ-অন্ধ, বিবেকবর্জিত। তিনি সবসময় নিজের স্বার্থ সিদ্ধির মতলবে থাকেন। স্বার্থ-অন্ধ
ব্যক্তি নিজের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার কাজেই ব্যস্ত থাকেন। সমাজের কল্যাণ, দেশের মঙ্গলের কথা তিনি
ভাবেন না। জাতীয় জীবনের উন্নতি, সমৃদ্ধির কথা ভাবতে তার বিবেক সায় দেয় না। এজন্য বিবেকবর্জিত,
দুর্নীতিগ্রস্ত লোক দেশের সকল উন্নতির পথে বাধাস্বরূপ।
দুর্নীতি বাংলাদেশের প্রধান অভিশাপ। বেশ কয়েকবার বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে
বাংলাদেশের ছিল লজ্জাজনক অবস্থান | আমাদেরকে এ কলজ্কজনক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
যে দেশের জনগণ রত্তৃক্ষরী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেও
তাদের বিজয়ী হতে হবে। তাহলেই দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব হবে।

১৬

প্রাণ থাকলে প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না।

যার বিবেক ও বুদ্ধি আছে সে-ই মানুষ, পশুদের তা নেই। মানুষ হতে হলে চাই প্রশস্ত মন। চাই মানবীয়
গুণাবলির অধিকারী হওয়া ।

প্রাণী কিন্তু মানুষ জন্মসূত্রে মানুষ হয়ে উঠতে পারে না। তাকে মানুষ হওয়ার জন্য, মানবীয় বৈশিষ্ট্য অর্জন
করার জন্য চেষ্টা করতে হয়। যে মানুষ ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা করতে পারে এবং মহৎ মানবীয়
গুণাবলি অর্জন করে, সে যথার্থ মনুষ্যত্বের অধিকারী হতে পারে। মনের বিকাশের মাধ্যমে মানুষ মহৎ গুণাবলি
অর্জন করতে পারে এবং যথার্থ মানুষের মর্যাদা পায়। তাই শুধু প্রাণ নয়, মনই মানুষকে মানুষ হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত করে । বিকশিত চৈতন্য আর মনের দৌন্দর্যস্পৃহাই মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ ও আলাদা করেছে।

মানুষ এবং অন্য প্রাণীর মধ্যে তফাত হচ্ছে : মানুষের বিবেক, বুদ্ধি, ন্যায়-অন্যায় বোধ, সুন্দর-অসুন্দর
বোধ, মহানুভবতা, ভালোবাসার ক্ষমতা ইত্যাদি গুণাবলি রয়েছে, কিন্তু পশুদের তা নেই। মানবমনের এ
শক্তিই তাকে অন্য প্রাণী থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করেছে।

৩২

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
১৭

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।
অথবা
মানুষ বীচে তাঁর কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নহে।

দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে অনেকে পৃথিবীতে স্মরণীয় হতে পারে না। বরং সংক্ষিপ্ত জীবন যাপন করেও অনেকে

এ নশৃর পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না। একদিন না একদিন তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়।
মৃত্যু অমোঘ জেনেও এ সংক্ষিপ্ত জীবনে কেউ কেউ মানবকল্যাণে এমন কিছু কীর্তি রেখে যান, মৃত্যুর পরও
যারা মানুষের হ্দয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের মৃত্যু হলে পৃথিবীতে কেউ তাকে আর
স্মরণ করে না। অথচ কীর্তিমানের মৃত্যু হলে তার শরীরের অবসান হয় বটে কিন্তু তার মহৎ কাজ, অস্রান
কীর্তি তাকে বাচিয়ে রাখে। কীর্তিমান মানুষের মৃত্যুর শত শত বছর পরেও মানুষ তাকে স্মরণ করে।
বায়ান্নর মহান ভাষা-আন্দোলনে শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, কিংবা মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদ
বাংলার মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে । তাদের অস্ত্রান কীর্তি বাঙালি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্ঞো
স্মরণ করবে।

মানুষের দেহ নশ্বর কিন্তু মহৎ কীর্তি অবিনশৃর। মৃত্যুর শত শত বছর পরেও কীর্তিমান মানুষের অমর
অবদানের কথা মানুষ স্মরণ করে । তাই বলা হয়, কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।

১৮

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।

পরাধীন জাতি বোঝে স্বাধীনতার মর্ম কী। রন্তু ও প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করা হয়তো সহজ, কিন্তু
সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা তার চেয়ে বেশি দুরুহ।

পরাধীন হয়ে কোনো মানুষ বেঁচে থাকতে চায় না। তাই মানুষ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে, সংগ্রাম
করে, যুদ্ধ করে। অনেক অমূল্য জীবন বিসর্জন দিয়ে এবং রত্তৃক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই কেবল স্বাধীনতা
অর্জিত হতে পারে। স্বাধীনতা অর্জিত হলেই সংগ্রাম শেষ হয়ে যায় না। তখন বিজয়ী জাতির সামনে আসে
স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম । সে সংগ্রাম আরো বেশি কঠিন। স্বাধীনতা-যুদ্ধের সময় শত্রু চিহ্নিত থাকে, তাই
তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাও সহজ, কিন্তু স্বাধীনতার পর প্রকৃত শত্রুদের চেনা যায় না। তাই তাদের দমন
করা খুব দুরুহ হয়ে পড়ে। স্বাধীন দেশের ভেতরের শত্রু আর বাইরের শত্সু একত্রিত হয়ে যে-কোনো সময়
জন্য প্রয়োজন হয় সতর্ক নজরদারি ।

পরাধীন জাতি অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রত্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার গৌরবময় সূর্যকে

অর্জন করে। জাতির যে-কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যেন পরাজিত শত্রু স্বাধীনতার সেই সূর্যকে ছিনিয়ে
নিতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে |

৩৩
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
১৯

দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য ।

দুর্জন মানে দুষ্ট-প্রকৃতির লোক। এ ধরনের মানুষ বিদ্বান হলেও অবশ্যই পরিত্যাজ্য । দুষ্ট লোক দেশ ও
সমাজের শত্রু। তারা বিদ্বান হলেও লোকে তাদের ঘৃণা করে ।

বিদ্যা মানুষের অমূল্য সম্পদ । বিদ্বান ব্যক্তি সর্বত্র সম্মানিত। কিন্তু বিদ্বান ব্যক্তি যদি চরিত্রবান না হন, বরং
দুষ্ট-প্রকৃতির হন, তবে তার কাছ থেকে দুরে থাকাই মঙ্জীলজনক। কারণ, শিক্ষিত অথচ দুশ্চরিত্র লোক
সবচেয়ে ভয়াবহ । যে-কোনো মুহূর্তে এ ধরনের লোক নৃশংসতম কাজটি করতে পারে। বিদ্যা যার চরিত্রকে
সংশোধন করতে পারেনি, তাকে দিয়ে মানুষের কোনো কল্যাণ হতে পারে না। দুর্জন ব্যক্তি সাপের সাথে
তুলনীয় এবং তার অর্জিত বিদ্যা সাপের মাথার মণির সঙ্গে তুলনীয় । সাপকে মানুষ ভয় করে। কারণ যে-
থেকে যে-কোনো সময় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে । এ ধরনের ব্যক্তির সান্ধ্য কেউ কামনা করে না। সকলেই
তাকে ঘৃণা করে।

চরিত্র মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ । বিদ্বান ব্যক্তি দুশ্চরিত্র হলে সে অমানুষে পরিণত হয়। তাই শিক্ষিত হলেও
চরিত্রহীন দুর্জন ব্যক্তির সাহচর্য থেকে দুরে থাকা উচিত।
২০

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।

সৌন্দর্য মোটেই নিরপেক্ষ নয় । স্থান-কাল-পাত্রের ওপর সৌন্দর্ষের পূর্ণতা নির্ভর করে।

যে জিনিস যে স্থানে থাকা উচিত, সেখানে থাকলে শুধু যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয় তা নয়, দেখতে
সুন্দরও লাগে । যথার্থ স্থানেই বস্তুর স্বাভাবিক বিকাশ হয়। অস্থানে, কৃত্রিমভাবে যতই তাকে পরিচর্যা
করা হোক তার স্বাভাবিক বিকাশ ও বৃদ্ধি ঘটবে না। পাখিকে যতই সোনার খাঁচায় রেখে বুলি শেখানো হোক,
সেটা পাখির জন্য কারাগার, মানুষের জন্যও অসুন্দর | তেমনি, মায়ের কোলে একটি শিশু যেমন ফুলের
মতো স্বাভাবিক, অন্যের কোলে তেমন নয়। ফুল যতক্ষণ গাছের ডালে প্রস্ফুটিত, ততক্ষণ তার মধ্যে স্বীয়
সৌন্দর্য থাকে, কিন্তু বোটা থেকে ছিড়লে ফুলের সেই স্বাভাবিক সৌন্দর্য আর থাকে না। এ জন্য বলা হয়, যার
যে স্থান, তাকে সে স্থানে থাকতে দাও। যার যে কাজ, তাকে সে কাজ করতে দাও । তাকে স্থানান্তর
করলে সৌন্দর্যের অবলুপ্তি ঘটে ।

স্বাভাবিক স্থানে বস্তুর স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে । তাকে স্থানান্তর করলে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট
হয়, তেমনি সৌন্দর্ষেরও হানি ঘটে ।

২১
পু আপনার জন্য ফোটে না।
ভোগে নয়, ত্যাগেই মানুষের প্রকৃত সুখ ও মুক্তি। অন্যের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই রয়েছে
মানবজীবনের

তা।
মানুষকে তার অর্জিত গুণাবলি আত্মস্থার্থে ব্যয় করলে চলে না, পরের জন্য ভাবতে হয়। ফুল যখন গাছের

৩৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
ডালে ফোটে, তখন তার সৌন্দর্য বৃপপিয়াসী মানুষকে মুগ্ধ করে, মধুলোভী মৌমাছিকে করে আকর্ষণ। মানুষ
প্রশংসা করে তার সৌন্দর্যের, ঘ্রাণ নিয়ে মুগ্ধ হয়। মেয়েরা খৌোপায় গৌজে, সাজায় ফুলদানিতে । মধুকর পান
করে ফুলের মধু, গড়ে তোলে মৌচাক। এভাবে একসময় ফুল শুকিয়ে যায়, ঝরে পড়ে । অপরের জন্য
নিজের জীবন উৎসর্গ করে ফুল তার জীবন সার্থক করে তোলে।

পৃথিবীর বুকে এমন অনেক মহৎ্প্রাণ ব্যক্তি আছেন, ধারা ফুলের মতোই অন্যের কল্যাণে নিজের মেধা, জ্ঞান,
শ্রম, এমনকি মুল্যবান জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন। ইতিহাসের পাতায় তারাই স্বরণীয়-বরণীয় হয়ে
আছেন। বস্তুত নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা মানুষের গুণ নয়, স্বার্থসর্বস পশুর বৈশিষ্ট্য। আমরা প্রত্যেকেই
পৃথিবীতে এসেছি একে অপরের জন্য জীবনধারণ করে সার্থক হতে, মনুষ্যতের মর্ধাদা অন্ষুপ্ন রাখতে ।
সৌরভময় করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করে। পরার্থে জীবন উৎসর্গ করতে পারলে, মানুষের জীবনও ফুলের
মতো সুন্দর ও সৌরভময় হয়ে উঠতে পারে।

২২
আত্মশস্তি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য ।

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের কর্মশক্তি অর্জন ও মনুষ্যতের বিকাশ । মানুষের মনোদৈহিক ক্ষমতাগুলোকে
বিকশিত করা।

অর্থ উপার্জনই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। যদিও বর্তমান যুগে ভালো ফলাফল করার উদ্দেশ্য হলো ভালো
একটি চাকরি পাওয়া এবং অধিক অর্থ উপার্জন করা, কিন্তু এতে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যায়।
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে মানুষ অনেক দূরে সরে যায়।

মানবসম্পদ উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার প্রচলন হয়েছে। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের
কল্যাণ সাধন করা । কেননা, মানুষ জন্মসূত্রে মানুষ নয়, তাকে মনুষ্যত্ব অর্জন বা মানুষ হওয়ার জন্য চেষ্টা
করতে হয়। শিক্ষার মাধ্যমেই কেবল মনুষ্যত্ব অর্জন করা সম্ভব। এ জন্য বলা হয়ে থাকে, সুশিক্ষিত
ব্যক্তিমাত্রই স্বশিক্ষিত। একজন শিক্ষিত মানুষ অন্যের থেকে আলাদা হয়ে ওঠে তার মার্জিত আচরণ, উন্নত
চিন্তা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ইত্যাদি চারিত্রিক গুণাবলির কারণে । এগুলো মানুষের মানবিক
গুণ, আত্মগত শত্তি। শিক্ষা মানুষকে এ সমস্ত সামর্থ্যের অধিকারী করে তোলে ।

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের ভেতরের সক্ষমতাগুলো সক্রিয় করা । সুপ্ত মনোদৈহিক শত্তিগুলোকে জাগ্রত
করা। অপ্রকাশিত মানবিক গুণগুলোকে বিকশিত করা । কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য
থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

ত্৩
ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।
বাস্তব জীবনে মানুষ ভোগকে অধিক ণুরুতৃ দেয়। মনে করে ভোগের মধ্যেই জীবনের সর্বসুখ। কিন্তু ত্যাগই
প্রকৃত সুখের আকর।
মানুষ লোভের কাছে পরাজিত। কামনায় পরাভূত । প্রবৃত্তির দাস হয়ে জীবনের সার্থকতা খোজে মানুষ

৩৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

ভোগের আসক্তিতে নিমজ্জিত মানুষের মধ্যে কেবল ভোগের আকাঙ্কা বাড়তে থাকে । অধিক ভোগ করেও
তার তৃপ্তি মেটে না। আত্মমুক্তি ঘটে না হুদয়ের। এভাবে ভোগের শৃঙ্খলে বন্দি মানুষ নিজের সর্বনাশ ডেকে
আনে । ভোগের বশবর্তী মানুষ পশুর স্তরে নেমে যায়। তার মধ্যে মনুষ্য থাকে না। অন্যদিকে ত্যাগের
মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই স্বীয় মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ত্যাগের বিনিময়ে মানুষ পায় শ্রদ্ধা, ভালোবাসা,
সম্মান। স্থার্থত্যাগকারী মানুষের কাছে উপকৃত মানুষের কৃতজ্ঞতার থাকে না। তাই ত্যাগই মানুষের সর্বোচ্চ
আদর্শ হওয়া উচিত। ত্যাগের মাধ্যমে মানুষ অন্তরে যে প্রশান্তি আর সুখ অনুভব করতে পারে, জগতে কোটি
টাকার বিনিময়েও সেই সুখ কেনা সম্ভব নয়।

মানুষ যদি অপরের কল্যাণে আত্তোৎসর্গ করতে পারে, তবে মরেও অমর হয়। ভাষা-আন্দোলনে শহিদ
রফিক, সালাম, বরকত জাতির কল্যাণে নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন বলেই আজ তারা জাতীয় বীর ।
বাঙালি হৃদয়ে চিরকাল তারা অমর হয়ে থাকবে । তাই বলা যায়, ভোগে নয়, ত্যাগেই জীবনের গৌরব।
অর্থাৎ প্রকৃত সুখ ত্যাগেই নিহিত।

২৪
দুঃখের মতো এত বড় পরশপাথর আর নেই।

পরশপাথরের ছোয়ায় লোহা সোনা হয়। তেমনি মানবজীবনে কোনো কোনো দুঃখময় ঘটনা ক্ষুদ্র মানুষকে
মহৎ মানুষে রূপান্তরিত করে।

আগুনে পোড়ালে যেমন খাঁটি সোনার পরিচয় স্পষ্ট হয়, তেমনি দুঃখের দহন মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত
করে। আঘাতে আঘাতে, বেদনায় বেদনায় মানুষের মনুষ্যতবোধ, সত্যনিষ্ঠা ও বিবেকবোধ জাগ্রত হয়।
দুপ্$খে না পড়লে কোনো মানুষই জীবনের যথার্থ স্বরুপ উপলব্ধি করতে পারে না। মনীবীগণ তাই দুঃখকে
আঘাত অমানুষকে মহৎ মানুষে পরিণত করতে পারে । বেদনার অশ্রুতে যখন ভেসে যায় সমস্ত গ্রানি, তখন
অপার্থিব এক পবিত্রবোধ জন্ম নেয় হৃদয়ে । সেই পবিত্রবোধই তাকে সুন্দর করে, নতুন এক মানুষে পরিণত
করে।

সুখ-দুঃখ মানবজীবনের এক অনিবার্য ফসল তবে বাস্তব জীবনে এমন অনেক বিবাদময় ঘটনা ঘটতে
দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষকে মহৎ হৃদয়ের মানুষে পরিণত করে । স্রষ্টার পক্ষ থেকে দুঃখ একধরনের
পরীক্ষা । দুঃখের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে সাধারণ মানুষ উত্তম মানুষে পরিণত হয়।


মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
সাধনা দ্বারাই সিদ্ধি লাভ করা সম্ভব । পরিশ্রম ছাড়া জগতে ভালো কিছু অর্জন করা যায় না।

পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম ছাড়া ভাগ্যের দুয়ার কখনো খোলে না। যথার্থ পরিশ্রমই ভাগ্যের
লক্ষ্মীকে ডেকে আনে । পরিশ্রমবিমুখ, অলস ব্যক্তির কাছে সবকিছুই নাগালের বাইরে থাকে । পক্ষান্তরে কষ্ট
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা বিনা আয়াসে এসব অর্জন করেননি । বরং তাদের সৎ

৩৬

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, কঠিন সাধনা । একজন কৃষক যেমন মন্ত্র পড়ে ফসল ফলান না;
সনিষ্ঠ শ্রমের মাধ্যমে বিমুখ ভাগ্যকে জয় করতে হয়।
মন্ত্রবলে নয়, শ্রমের মাধ্যমেই আসে কাজের সাফল্য । বিনা আয়াসে কোনোকিছু লাভ করা যায় না। রবার্ট
ব্রুস বারবার যুদ্ধে পরাজিত হয়েও হতাশ হননি । দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি অবশেষে জয়লাতে সমর্থ হন।
তাই ‘একবার না পারিলে দেখ শত বার’ _-এ উত্তিই যথার্থ ।

অনুশীলনী

 

ভাব-সম্প্রসারণ কর :

১. আলো বলে, “অন্ধকার, তুই বড় কালো ।”
অন্ধকার বলে, ‘ভাই, তাই তুমি আলো ।”

৮ অন্যায় ঘে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।

৩. যেজাতি জীবনহারা অচল অসার,
পদে পদে বাধে তারে জীর্ণ লোকাচার।

৪. দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটারে রুখি
সত্য বলে, আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি ।

৫. নহে আশরাফ যার আছে শুধু বংশ পরিচয়
সেই আশরাফ জীবন যাহার পুণ্য কর্মময় ।

৬. দক্ডিতের সাথে
দণ্দাতা কাদে যবে সমান আঘাতে
সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার ।

৭, সংসার সাগরে দুঃখ-তরজ্তোর খেলা
আশা তার একমাত্র ভেলা।

৮. বিশ্রাম কাজের অক্তা একসঙ্তো বাধা
নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা ।

৯. পরের অভাব মনে করিলে চিন্তন
আপন অভাব ক্ষোভ রহে কতক্ষণ ।

৩৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

১০,

১১,

১২,

১৩.
১৪,
১৫.
১৬,
১৭.
১৮,
১৯,

২০,
২১.
ই,

বেঁচেও মরে যদি মানুষ দোষে

মরেও বাচে যদি মানুষ ঘোষে ।

শৃধাল ফটিক, “সাগর হতে কী অধিক ধনবান?
কলঙ্ক যা আছে তাহা আছে মোর গায়ে ।
প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক।

অতি দীন ও অশত্তু লোকেরাই দৈবের দোহাই দিয়া থাকে ।
পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথের সৃষ্টি করে।
এ পৃথিবী অলস ভীরু কাপুরুষের জন্য নয়

বিস্ত হতে চিত্ত বড়।

অতাব অল্প হলে দুঃখও অল্প হয়ে থাকে ।

বিদ্যার সাথে সম্পর্কহীন জীবন অন্ধ এবং

জীবনের সাথে সম্পর্কহীন বিদ্যা পঞ্গু।

কর্তব্যের কাছে ভাই বন্ধু কেহই নাই।

পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা কর।

স্পষ্টভাবী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো ।

৩৮

২০৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

৪. পত্রলিখন

আমাদের ব্যবহারিক জীবনে চিঠিপত্রের একটি গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা
প্রয়োজনে আমাদেরকে চিঠি লিখতে হয়। আত্ীয়, বন্ধুর সঙ্গো যোগাযোগ এবং সংবাদ আদান-প্রাদানের
মাধ্যম হিসেবে চিঠির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা । অফিস-আদালত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ অনেকাংশে চিঠিপত্রের
ওপরই নির্ভরশীল । সাম্প্রতিককালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত
চিঠি লেখার গুরুত্ব কিছুটা কমেছে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য চিঠি লেখার প্রয়োজন এতটুকুও কমেনি ।
চিঠি লেখার রীতি আমাদের সংস্কৃতির এক অনুষজ্গী উপাদান । যোগাযোগ এবং ভাব-বিনিময়ের এক অনুপম
মাধ্যম হিসেবে চিঠি লেখার এ ব্রীতি অব্যাহত থাকবে । কাগজ আবিষ্কারের আগে মানুষ গাছের পাতায়,
গাছের ছালে, চামড়ায়, ধাতব পাতে লিখত। পাতায় লিখত বলেই এর নাম হয় “পত্র” । সুন্দর, শুদ্ধ চিঠির
মাধ্যমে মানুষের শিক্ষা, বুদ্ধিমত্তা, রুচি ও ব্যক্তিতের প্রকাশ ঘটে । সুলিখিত চিঠি অনেক সময় উন্নত সাহিত্য
হিসেবে বিবেচিত হয়৷ যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ছিন্নপত্র’ ।

চিঠির প্রকারভেদ
বিষয়বস্তু, প্রসঙ্গ ও কাঠামো অনুসারে বিভিন্ন ধরনের পত্রকে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায় :

ক. ব্যক্তিগত চিঠি

খ. আবেদনপত্র বা দরখাস্ত

গ. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি
ঘ. মানপত্র ও সআরকলিপি

উ. বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র
চ, আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র

চিঠি লেখায় অনুসরণীয় পন্দধা
চিঠি যে ধরনেরই হোক না কেন, তা লেখার সময় কয়েকটি দিক বিবেচনায় রাখা দরকার :

১. বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গের ওপর চিঠির কাঠামো নির্ভর করে । ব্যন্তিগত চিঠি আর ব্যবসায়িকপত্রের
মধ্যে পার্থক্য আছে। তাই এক-একরকম পত্রের জন্য এক-একরকম পদ্ধতি, ভাষাভঙ্গি
অনুসরণ করতে হয়।

২. চিঠির মাধ্যমে মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে । তাই অস্পষ্ট এবং কাটাকাটি যেন না হয়,
সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে ।

৩. ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নির্ভুল বানান, যথাযথ শব্দ এবং
বাগাড়স্বরহীন বাক্য ব্যবহারের ওপর চিঠির মান নির্ভর করে। ভুল বানান, এলোমেলো বাক্য
অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে। তা পত্রলেখক সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিতে পারে ।

৪. চিঠি নিজের হওয়া চাই। অর্থাৎ নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, অভিরুচি, ব্যক্তিত্ের সুস্প্ট ছাপ
থাকতে হবে । পাঠ্যবইতে নমুনাচিঠি ধারণা তৈরি করার জন্য দেওয়া হয়। তা হুবহু মুখস্থ না
করে, পাঠ্যবইয়ের নমুনা অনুসরণ করে চিঠিতে নিজস্বতা আনা উচিত।

৩৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

চিঠির বিভিন্ন অংশ

একটি চিঠি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত :
ক. শিরোনাম

খ. পত্রগর্ভ

শিরোনাম অংশে চিঠির খামের ওপর বামদিকে প্রেরকের ঠিকানা ও ডানদিকে প্রাপকের ঠিকানা লিখতে হয় ।
বর্তমানে সরকারি পোস্ট অফিসে প্রাপ্ত খামের সামনের অংশে প্রাপকের ঠিকানা লেখার নির্দিষ্ট ছক এবং
পেছনের অংশে প্রেরকের ঠিকানা লেখার আলাদা ছাপানো ছক রয়েছে। পর্রগর্ হচ্ছে চিঠির ভেতরের অংশ ।

ব্যন্তিগত চিঠি : ব্যক্তিগত চিঠির কাঠামোতে ছয়টি অংশ থাকে । নিচে প্রদর্শিত ছকের মাধ্যমে এ ছয়টি অংশ
তুলে ধরা হয়েছে_

 

 

 

 

 

চিঠির ছক
[১, মঙ্গলসূচক শব্দ]
২. জ্থান ও তারিখ
৩. সম্বোধন
৪. মূল বন্তব্য
€. পত্র-লেখকের স্বাক্ষর
৬. শিরোনাম
ডাক টিকিট
প্রেরক-_
নাম £ 7777 লা…
ঠিকানা £ টি ঠিকানা :

 

 

 

 

১. মক্জালসূচক শব্দ : এককালে ব্যক্তিগত চিঠির প্রথমে কাগজের পৃষ্ঠার মাঝামাঝি জায়গায় পত্রলেখক নিজ
ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী মঙ্ালসূচক শব্দ লিখতেন । মুসলমানরা লিখতেন : এলাহি ভরসা, আল্লাহ সহায়, হাবিব
ভরসা, খোদা ভরসা, বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম ইত্যাদি । হিন্দু ধর্মাবলঙ্থীরা লিখতেন : ও, ওমা, শ্রী শ্রী
দুর্গা সহায়, শ্রীহরি ইত্যাদি। এটা লেখা না-লেখা ব্যক্তিগত অভিরুচির ওপর নির্ভরশীল । আজকাল ব্যস্তিগত
চিঠিতে এগুলো আর লেখা হয় না।

৪8০

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
২. স্থান ও তারিখ : চিঠির ডানদিকে তারিখ এবং যে স্থানে বসে পত্র লেখা হচ্ছে তার নাম লিখতে হয়।

৩. সম্বোধন : পত্র লেখার শুরুতে পত্রের বামদিকে প্রাপকের সঙ্জো সম্পর্ক অনুযায়ী সম্বোধন বা সম্ভাষণ
লিখতে হয়। পত্রদাতার সঙ্গে প্রাপকের সম্পর্ক অনুসারে এবং পত্র-প্রাপকের মান, মর্যাদা, সামাজিক
প্রতিষ্ঠা অনুযায়ী সম্বোধনসূচক শব্দ নির্বাচন করতে হয়। ধর্ম-সম্প্রদায় অনুসারে এই সম্বোধন বা
সম্ভাষণসূচক শব্দের পার্থক্য হতে পারে । যেমন :

ব্যক্তিগত পত্রের সম্ভাষণ রীতি

শ্রদ্ধাভাজন (পুরুষ) : শ্রদ্ধাম্পদেষু, পরম শ্রদ্ধাভাজন, মাননীয়, মান্যবরেষু, মান্যবর,
শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।

শ্রদ্ধাভাজন (মহিলা) : মাননীয়া, মাননীয়াসু, শ্রদ্ধেয়, শ্রদ্ধাস্পদাসু ইত্যাদি।

সন্্রান্ত ব্যন্তি : সুধী, মান্যবর, সৌম্য ইত্যাদি ।

সমবয়স্ক শ্রিয়জন/বন্ধু (পুরুষ) : বনধুবরেষু, প্রিয়বরেষু, প্রিয়, প্রিয়বর, বন্ধূবর,
প্রিয়বন্ধু, সুপ্রিয়, সুহ্দবরেষু, শ্রীতিভাজনেষু ইত্যাদি ।

সমবয়স্ক শ্রিয়জন/বন্ধূ মেহিলা) : সুচরিতাসু, প্রীতিভাজনীয়াসু, প্রীতিনিলয়াসু, সুহ্দয়াসু ইত্যাদি।

বয়ঃকনিষ্ঠ (ছেলে) : কল্যাণীয়, কল্যাণীয়েষু, স্েহাস্পদেষু, ম্নেহভাজনেষু, স্নেহের, প্রিয়,
শ্রীতিভাজনেষু, গ্রীতিনিলয়েবু ইত্যাদি।

বয়ঃকনিষ্ঠ (মেয়ে) : কল্যাণীয়া, কল্যাণীয়াসু, স্েহের, স্রেহভাজনীয়া, গ্লেহভাজনীয়াসু ইত্যাদি ।

৪. মূল পত্রাংশ (মূল বন্তব্য)

এই অংশে পত্রলেখকের মূল বক্তব্য, উদ্দেশ্য, ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি, ওৎসুক্য ইত্যাদি লিখতে হয় । সহজ, সরল
ও হৃদয়গ্রাহী করে লেখার ওপরই চিঠির সার্থকতা নির্ভর করে। রচনার গুণেই চিঠি উৎকৃষ্ট ও শিল্পনিপুণ হয়ে
ওঠে । চিঠির পূর্বাপর বত্তৃব্যের সামঞ্জস্য, সংগতি ও ধারাবাহিকতা যেন রক্ষা হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে ।

এ জন্য বত্তব্যকে প্রয়োজন মতো অনুচ্ছেদে বিভত্ত করে লিখলে ভালো হয় । যেমন : প্রথম অনুচ্ছেদে সালাম
বা শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি লেখার কারণ বা পটভূমি তৈরি করতে হয়। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে মূল বন্তব্যকে
যথাসম্ভব স্পষ্ট বাক্যে লেখা উচিত। তৃতীয় অনুচ্ছেদে ইচ্ছা বা অভিপ্রায় প্রকাশ এবং প্রয়োজনে বক্তব্যকে
আরো বিস্তার ঘটিয়ে সমাপ্তি টানা যেতে পারে। ব্যক্তিগত চিঠি আত্তরিকতাপূর্ণ এবং হৃদয়স্পর্শী হতে হয়।
সমাপ্তিসূচক শব্দ হিসেবে সাধারণত ইতি, নিবেদন-ইতি ইত্যাদি লেখাই দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। তবে এখন
ইতি না লিখে শুভেচ্ছান্তে, ধন্যবাদান্তে, ধন্যবাদসহ, সালামান্তে, প্রণামান্তে, নিবেদনান্তে ইত্যাদি প্রয়োজন ও
অভিরুচি অনুযায়ী ব্যবহৃত হচ্ছে।

পত্র-সমাপ্তিসূচক অভিব্যন্তির পর বিদায় সম্ভাষণ হিসেবে পত্র-প্রাপকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অনুযায়ী
বিশেষণ ব্যবহৃত হয়। স্থান, কাল, পাব্রভেদে পত্র-প্রাপকের সঙ্গো সম্পর্ক অনুসারে বিশেষণ ব্যবহারের
পার্থক্য দেখা যায়।

৪১
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-ঙ
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

প্রীপক শ্রদ্ধাভাজন (পুরুষ) : শ্লেহধন্য, গ্নেহাকাড়ী, গ্রীত্যর্থী, গৃণমুগ্ধ, প্রণত, বিনীত, প্রীতিধন্য,
প্রীতিয়িষ্ধ ইত্যাদি ।

প্রীপক শ্রদ্ধাভাজন : পেত্রলেখক মহিলা) স্েহধন্যা, প্রণতা, বিনীতা, গুণমুগ্ধা, প্রীতিধন্যা,
শ্রীতিয়িগ্ধা ইত্যাদি।

প্রাপক অনাত্ীয় সম্মানীয় লোক : (পত্রলেখক পুরুষ) নিবেদক, ভবদীয়, বিনীত, বিনয়াবনত ইত্যাদি ।
: পেত্রলেখক মহিলা) নিবেদিকা, বিনীতা, বিনয়াবনতা, ইত্যাদি ।
প্রীপক বন্ধূস্থানীয় বা প্রি়ভাজন : (পব্রলেখক পুরুষ) শ্রীতিধন্য, প্রীতিমুগ্ধ, অভিন্নহ্দয়, আপনারই,
তোমারই ইত্যাদি।
: পেত্রলেখক মহিলা) গ্রীতিধন্যা, প্রীতিমুগ্ধা, অভিন্নহ্দয়া ইত্যাদি
প্রীপক বয়সে ছোট হলে : আশীর্বাদক, আশীর্বাদিকা, শুভাকাজ্কী, শুভানুধ্যায়ী ইত্যাদি ।
বিদায় সম্ভাষণ সাধারণত পত্রের ডানদিকে লিখতে হয়।

৫. নামস্থাক্ষর (পত্রদেখকের স্বাক্ষর)

নাম-স্বাক্ষর চিঠির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৷ তাই চিঠির শেষে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হয়। মা-বাবা, নিকট আত্মীয়,
ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে চিঠি লিখতে গিয়ে পুরো নাম না লিখে সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর বা ডাক নাম ব্যবহার করাই
সংগত। নাম স্বাক্ষরের আগে কেউ কেউ “তোমার পুক্র’, “তোমার প্রিয় মুখ”, “তোর বন্ধু’ ইত্যাদি পরিচিতি
লিখে তারপর নাম-স্বাক্ষর করে।

৬। শিরোনাম

শিরোনাম পত্র পাঠাবার খামের ওপর লিখতে হয়। খামের ওপর বাম দিকে পত্রলেখকের (প্রেরক) ঠিকানা
এবং ডান দিকে পত্র প্রাপকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা স্পহ্টভাবে লিখতে হয়। খামের ওপরে ডান কোণে প্রযোজ্য
ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যের ডাক টিকিট লাগাতে হয়। আজকাল বড় বড় পোস্ট অফিসে ডাক টিকিটের পরিবর্তে
মেশিনের সাহায্যে খামের ওপর ছাপ মারার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

ক. ব্যক্তিগত চিঠি

১. বাবার কাছে মেয়ের চিঠি।

০২/০২/২০১৭
শ্রদ্ধেয় বাবা,
আমার ভক্তিপূর্ণ সালাম নেবেন। মাকেও আমার সালাম জানাবেন। ফারজানা ও ছোন্টরভাই রিয়াদের প্রতি
রইল অশেষ গ্রেহ।
সেদিন বাস স্টপে আপনার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ভালোভাবেই বরিশাল এসে পৌছেছি। যদিও
সারা পথ বাড়ির কথা ভেবে কী-যে মন খারাপ লেগেছে। প্রতিবারই বাড়ি থেকে আসার সময় আমার এরকম
হয়। এখানে আসার পর হোস্টেলের বান্ধবীদের পেয়ে ভালো লাগছে। আগামী ১০ই নভেম্বর থেকে
আমাদের প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা। তাই পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। বাবা, আপনার স্বপ্র-
আকাঙ্ফার কথা আমার মনে আছে। আপনি শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি ভালো ফল করে
আপনার মুখ উজ্জ্বল করতে পারি । মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারি ।

৪২

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

খোদার অশেষ কৃপায় আমি ভালো আছি। আপনি আমার জন্য কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না। নিজের শরীরের
প্রতি যত্ব নেবেন। চিঠিতে আপনাদের খবর বিস্তারিত জানাবেন।

ইতি

 

 

 

 

 

 

 

 

আপনার স্রেহধন্যা
শিমু
ডাক টিকিট
প্রাপক
নাম : অধ্যাপক জাকির হোসেন
প্রেরক গ্রাম : হোসনাবাদ
শামীমা আক্তার শিমু পোস্ট : হোসনাবাদ
সদর রোড , বরিশাল গৌরনদী, বরিশাল।
২. মায়ের কাছে ছেলের চিঠি।
২০/০৪/২০১৭
মিরপুর, ঢাকা ।

প্রিয় মা,

সালাম নিও । আমি কলেজের ছাত্রাবাসে নিরাপদে পৌছেছি।

এসেই দেখলাম আমাদের টেস্ট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ছুটিতে বাড়ি গিয়ে লেখাপড়ায় বেশ
অবহেলা করা হয়েছে। অনেক পড়া বাকি। আমি আর দেরি করছি না। বেশি পরিশ্রম করে লেখাপড়ার
সাময়িক ক্ষতি পুবিয়ে নিতে হবে। আমার জন্য দোয়া কোরো। আমি যেন তোমাদের আশা পূরণ করতে
পারি। আসার সময় মিনুকে কিছুটা অসুস্থ দেখে এসেছি। এখন ও কেমন আছে জানিও। বিদেশ থেকে
বাবার কোনো চিঠি এসেছে কি? আমার জন্য কোনো চিন্তা কোরো না। আমি এখানে ভালো আছি।

 

 

 

 

 

 

ইতি
তোমার ম্লেহের
রাশেদ
ডাক টিকিট
প্রাপক
প্রেরক বেগম শামসুন নাহার
রাশেদ আহমদ প্রযত্ণে : জনাব এম. রেজাউল হক
মিরপুর, ঢাকা। প্রাম : দক্ষিণ আলীপুর
ডাক : চৌধুরী হাট
জেলা : বগুড়া।

 

 

৪৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
৩. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বন্ধুকে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি।

২/১১/২০১৭
প্রিয় রাজন হালিশহর, উট্টগ্রাম।

সড়ক দুর্ঘটনায় তুমি আহত হয়েছ শুনে ভীষণ চিন্তিত আছি। আজ সকালে তুহিন ফোন করে জানাল যে,
তুমি রিক্শা উল্টে গড়ে গেছ। ডান হাত আর ডান পায়ে মারাত্বক জখম হয়েছে। শুনে খুব কষ্ট পেলাম।
আশা করি, জখমগুলো শরীরের স্থায়ী ক্ষতি করবে না।

পা এক্স-রে করেছ কি? ভান্তার কী বলেছেন? ওখানে যদি ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা না হয়, তবে দ্রুত
চট্টগ্রাম চলে এসো । আমার মামা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বোন্-স্পেশালিস্ট । মামাকে আমি তোমার
কথা বলে রাখব, কোনো সমস্যা হবে না। সরাসরি আমাদের বাসায় এসে উঠবে । কোনো দ্বিধা করবে না।
আমার মনে হয়, ভয়ের কিছু নেই। এখন চিকিৎসা-ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। দরকার শুধু সময়মতো
ডাক্তারের কাছে যাওয়া। আশা করি, পরম করুণাময়ের কৃপায় দ্রুত তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে । আমাদের ফোন
ন্বর তো তোমার জানা প্রয়োজনে ফোন কোরো। তুমি দত ভালো হয়ে ওঠো এটাই কামনা করি।

সি

 

 

 

 

 

 

 

তোমার বন্ধু
মুনতাসির
ভাক টিকিট
প্রাপক
প্রেরক রাজন বড়ুয়া
মুনতাসির জিলানি প্রযত্ণে : সবুজ স্টোর
বাড়ি নং- ৫, লেন নং-৩, বক- এ পি.সি রোড
হালিশহর আবাসিক এলাকা কুটাখালি, কক্সবাজার ।
চট্টগ্রাম ।
8. বন্ধুর বাবার মৃত্যুতে দমবেদনা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি।
০২-০৫-২০১৭
ঢাকা।
প্রিয় বন্ধু মাসুদ,

তোমাকে কী বলে যে সান্তনা দেব জানি না। শোকাহতকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাবা আমার জানা নেই।
তবু একান্তভাবে চাইছি, জীবনের এই বুকভাঙা শোক যেন তুমি কাটিয়ে উঠতে পার। এ কঠিন শোক সহ্য
করার শক্তি যেন আল্লাহ তোমাকে দেন।

আজ স্কুলে জাভেদের কাছে শুনলাম, হার্ট আ্যাটাকে তোমার বাবা মারা গেছেন। খবরটা শুনে আমি খুবই
মর্মাহত। সাথে সাথে চাচার চেহারাটা মনের পরঁয় ভেসে উঠল। যখনই তোমাদের বাড়ি গেছি, দেখেছি তার
হাসি-হাসি মুখ । আহ্‌, আমাকে কী আদরটাই না করতেন! খুব ভালোমানুষ ছিলেন তিনি। আমার চোখের
জল যেন বাধা মানছে না। মৃত্যুর ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। চিরদিন কারো বাবা বেঁচে থাকে না। এই
বাস্তবতা আজ তোমাকে মেনে নিতে হবে।

8৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

মাসুদ, তুমি বাবার বড় ছেলে । তোমার মা এবং ছোটবোন তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে। তাদের দিকে
চেয়ে মনকে শত্ত কর । আর দোয়া করি, তোমার বাবার বিদেহী আত্মা যেন শান্তি পায় ।

 

 

 

 

ইতি-
তোমারই
বুবেল
ডাক টিকিট
প্রাপক
প্রেরক ইমদাদ হোসেন মাসুদ
কাজী জিয়াউদ্দিন রুবেল আমজাদ সর্দারের বাড়ি
€১ সিদ্ধেশ্বরী রোড, ঢাকা । রৌমারি
সি 1
৫. এ্রতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি।
০৬-১১-২০১৭
মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিস। অনেকদিন তোর কোনো চিঠিপত্র পাচিছি না। আমার কথা কি ভুলে গেছিস?
কোন অভিমানে তুই চিঠি লেখা বন্ধ করেছিস জানি না। আশা করি, আমার এ চিঠি পাওয়ার পর তোর
অভিমানের বরফ গলবে।

আজ তোকে লিখতে বসেছি এক এঁতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানাতে । গত “মাথী পূর্ণিমার
ছুটিতে আমি আর রতন গিয়েছিলাম ইতিহাস-প্রসিদ্ধ সোনারগা দেখতে। ইতিহাস বইতে বাংলার
বারোভূইয়াদের কাহিনী পড়েছি। সেই বারোভূঁইয়াদের একজন ছিলেন ঈশা খা। তারই অমর কীর্তি
সোনারগী। এর প্রাকৃতিক শোভা, প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের কথা চিঠিতে লিখে ঠিক তোকে বোঝাতে পারব
না।

সকাল সাতটায় নাশতা সেরে আমরা দুজন সোনারগার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । ঢাকার কাছেই, তাই পৌঁছতে
বেশি সময় লাগল না। রাস্তার পাশে বিরাট দ্বিতল ইমারত। এখন অন্নপ্রায়। সামনে মস্ত পুকুর । চারপাশে
সারি সারি গাছ। শানবীধানো ঘাটের পাশে পাথরে খোদাই করা বীরযোদ্ধার গর্বিত প্রতিমূর্তি। তা বাংলার
অবলুপ্ত শৌর্যবীর্ষের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে রয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুলের প্রচেষ্টায় নির্মিত লোক ও
কারুশিল্প জাদুঘর এবং ঈশা খার রাজধানীর মূল ভবন। রাস্তার দুপাশে রয়েছে অনেক পুরানো অন্টালিকা।
প্রাচীন যুগের অবাক-করা সব স্থাপত্য নিদর্শন । ইতিহাসের উত্থান-পতনের কাহিনী । এসব দেখতে দেখতে
যেন অতীতে হারিয়ে গেলাম ।


মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সময় পেলে তুইও একবার দেখে আসিস বাংলার ইতিহাস-প্রসিদ্ধ সোনারগী। তোর পড়ালেখা কেমন চলছে
জানাবি। ভালো থাকিস।

 

 

 

 

 

ইতি
দীপভকর
ডাক টিকিট
প্রেরক প্রাপক
দীপঙ্কর দাস নরেশচন্দ্র দাস
৩২/এ, তাজমহল রোড 8৪, কান্দির পাড়,
মোহাম্মদপুর, ঢাকা। কুমিল্া।

 

 

 

৬. এসএসসি পরীক্ষার পর অবসর দিনগুলো কীভাবে কাটাবে তা জানিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র ।

৫.১.২০১৭
নীলফামারী

প্রিয় মুকুল,

শুভেচ্ছা নিস। অনেকদিন পর তোর চিঠি পেলাম । চিঠিতে তুই জানতে চেয়েছিস, আসন্ন পরীক্ষার পর কী
করব? কেন, তোর কোনো পরিকল্পনা আছে নাকি? সিঙ্গাপুর, কলকাতা, কাঠমান্ডু কিংবা কক্সবাজারে
সমুদ্রসৈকতে আনন্দভ্রমণে যাবার প্ল্যান? আসলে পরীক্ষার পর তিনমাস সময়টা যে খুব দীর্ঘ তা নয়। দেখতে
দেখতে হয়তো কেটে যাবে । তবে আমি এই সময়টা কাজে লাগাতে চাই। নিরর্থক আনন্দদ্রমণের চেয়ে আমি
বরং সময়টাকে অর্থময় করে তুলতে চাই।

প্রথমে আমার ইচ্ছে, পরীক্ষার পর কিছুদিন আমি গ্রামের বাড়িতে কাটাব। সেখানে আমার একটা পরিকল্পনা
আছে। আমরা গ্রামের বন্ধুরা মিলে ১০০০টি ফলজ, বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করব। গাছগুলো
চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে আমাদের গ্রামের যে নতুন রাস্তাটা আছে, তার দুপাশে লাগাব। কয়েকদিন
গ্রামের বাড়িতে থাকাও হবে, বন্ধুদের নিয়ে গ্রামের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগবে । আমাদের
দেশে যে হারে বৃক্ষনিধন চলছে, তাতে পরিবেশ বিপর্যয় অত্যাসন্ন।

হয়নি । মামা-মামি কতবার যেতে বলেছেন । কিন্তু পড়াশোনার জন্যে এতদিন যাওয়া হয়নি । ভাবছি মামার
বাসায় বেড়ানো হবে, দর্শনীয় স্থানও দেখা হবে। আপাতত পরিকল্পনা হচ্ছে, ঢাকার রায়েরবাজারে
অবস্থিত শহিদ বুদ্ধিজীবী স্ৃতিসৌধ, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিল দেখা ।
সম্ভব হলে ঈশা খার সোনারগী পরিদর্শন করব ।

তুই তো জানিস, আমার বড়মামা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমার মেঝমামাকে পাকিস্তানি আর্মিরা

৪৬

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

গুলি করে হত্যা করেছে। এসব আমার জন্মেরও আগের কথা । মায়ের মুখে মেজমামার নির্মম হত্যাকান্ডের
কথা শুনতে শুনতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জন্মে গেছে। তাই প্রথমে
রায়েরবাজারের বধ্যভূমি এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখতে যাব। তারপর অন্যান্য জায়গা। মোটামুটি এই
আমার পরিকল্পনা । ইচ্ছে করলে তুইও আমার সঙ্তো যোগ দিতে পারিস।

আমার পরিকল্পনা তো জানালাম । এবার তোর অবসর কাটানোর পরিকল্পনা লিখে জানা । চাচা ও চাচিকে
আমার সালাম দিস। তোর সুন্দর, বিকশিত জীবন কামনা করে আজকের মতো শেষ করছি।

 

 

 

 

 

 

শুভেচ্ছান্তে
নজরুল
ডাক টিকিট
কুষিয়া। জেলা : দিনাজপুর।

 

 

৭. মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য জানিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র।

৫,৩.২০১৭
সুনামগঞ্জ
প্রিয় জিন্নু,
আমার আন্তরিক ভালোবাসা নাও। গতকালই তোমার চিঠি পেলাম । চিঠিতে তুমি আমার জীবনের লক্ষ্য
সম্পর্কে জানতে চেয়েছ। তবে কি তুমি নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে শুরু করেছ? জীবন সম্পর্কে
তোমার এ সচেতনতা দেখে সত্যি আমি আনন্দিত। আসলে জীবন সম্পর্কে, জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে
ভাবনা-চিন্তা করার এটাই উৎকৃষ্ট সময়
তুমি জেনে খুশি হবে যে, আমার এসএসসি পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। ইনৃশাল্লাহ আমি ভালোভাবে
উত্তীর্ণ হব। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আমি ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হতে চাই। বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে
চাই। তারপর মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার আমার খুব ইচ্ছা। কারণ ভবিষ্যতে ভালো ডাক্তার হওয়াই আমার
স্বপ্ন । জানি না তা কতটা সফল হবে।
কেন ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবছি জানো? আমাদের গ্রামে এখনো কোনো এমবিবিএস ডাক্তার নেই। আমি
দেখেছি, চিকিৎসার অভাবে আমাদের গ্রামে কত দরিদ্র মানুষ কষ্ট পায়, অকালে প্রাণ হারায় কত মানুষ ।
আমার ইচ্ছা, ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে আমি এই হতদরিদ্র মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করব । চিকিৎসা
সেবাকে আমি মহৎ মানবিক সেবা বলে মনে করি । আমি এ সেবায় আত্তবোৎসর্গ করতে চাই।
এ মহৎ পেশার মাধ্যমে আমি যেন জনগণের সেবা দান করতে পারি, প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারি একজন

৪৭
মাধ্যমিক বালা রচনা
মহত্প্রাণ চিকিৎসক হিসেবে, এই দোয়াই সবার কাছে প্রত্যাশা করি।

 

 

 

 

 

ভালো থেকো ।
তোমারই
মোস্তাফিজ
ডাক টিকিট
প্ররক প্রাপক
ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ । ২/সি, উপজেলা স্টাফ কোয়ার্টার
মাগুরা ।

 

 

 

৮. গ্রামকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র।
২২.৭.২০১৭
নওগী

সুপ্রিয় সাজিদ,
আমার শুভেচ্ছা নাও। আশা করি সবাইকে নিয়ে ভালো আছ। তোমার সাথে অনেকদিন কোনো যোগাযোগ

করতে পারিনি। এর কারণ “নিরক্ষরতার অভিশাপ* থেকে আমাদের গ্রামকে মুক্ত করার কাজে ব্যস্ত ছিলাম
এতদিন। এ ব্যস্ততার কারণে তোমার কাছে চিঠি লিখতে দেরি হলো ।

নিরক্ষর মানুষ যে কী অভিশপ্ত জীবনযাপন করে, তা চোখে না দেখলে বোঝা যায় না। নিরক্ষরতার কারণে
তারা প্রতিনিয়ত ঠকছে, বঞ্চিত হচ্ছে, ধোঁকা খাচ্ছে, রোগ-শোকে ধুঁকে মরছে। এসব চিত্র কোনো ক্রমেই
সহ্য করতে পারছিলাম না।

তাই সমমনা কয়েকজন মিলে ‘প্রত্যয়’ নামে একটা সংগঠন গড়ে তুলি। এর প্রথম কাজ হলো, যে-কোনো মূল্যে
আমাদের গ্রামকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। তাই আমরা প্রথমে গ্রামের মুরব্বিদের সাথে কথা বলি।
তারা আমাদের কথা শুনে খুব খুশি হলেন এবং নানা পরামর্শ ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। ইউনিয়নের
কয়েকজন শিক্ষকের ভূমিকা পালন করি। পুরো গ্রামে উৎসাহের ধুম পড়ে গেল । নিরক্ষর ছেলে, বুড়ো, বৌ-ঝিরা
এ নৈশবিদ্যালয়ে আসতে শুরু করে । আমরা প্রত্যেকে কাজ ভাগ করে নিলাম । এভাবে আজ ছয়মাস কাজ করছি।
আশা করছি আর ছয়মাস কাজ করলে গ্রামের সব বয়স্কদের নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা যাবে ।

ইতোমধ্যে উপজেলা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আমাদের নৈশবিদ্যালয় পরিদর্শন করে গেছেন। কিছু
সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়ে গেছেন । এ বিষয়ে “প্রথম আলো’ পত্রিকায় একটা সচিত্র প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে।

৪৮

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

থেকে মুক্ত হতে চলছে। তুমি সময় পেলে একবার আমাদের নৈশবিদ্যালয়টি এসে দেখে যেও। আজ আর নয়।
চিঠির উত্তর দিও ।

 

 

 

 

ইতি
তোমার প্রীতিধন্য
নুরুল আমিন
ডাক টিকিট
প্রেরক প্রাপক
মো. নুরুল আমিন সাজিদ আরমান
বদলগাছি ২৮/২, সেগুনবাগিচা
নওগা ঢাকা- ১২০৭।

 

 

 

৯. সম্প্রতি পড়া একটা বই সম্পর্কে মতামত জানিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র ।

২,৭.২০১৭
ভেড়ামারা
আন্তরিক শুভেচ্ছা নাও। আশা করি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো আছো । গতকাল তোমার চিঠি পেয়ে
বিস্তারিত জেনে খুশি হলাম। এভাবে মাঝে মাঝে চিঠিপত্র লিখে খবরাখবর নিলে ভালো লাগে। চিঠিতে
তুমি জানতে চেয়েছ পরীক্ষার ঝামেলা শেষে আমি এখন কী করছি? কীভাবে সময় কাটাচ্ছি?
আমি এখন বিভিন্ররকম বই পড়ে সময় কাটাচ্ছি। ইতোমধ্যে পড়েছি “ছোটদের রামায়ণ’, “ববীন্দ্রনাথের
রূপকথা’, মুহম্মদ জাফর ইকবালের “দীপু নাস্বার টু’ ইত্যাদি। গতকাল পড়ে শেষ করলাম বিভূতিভূষণ
বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পথের পীচালী’।

৪৯
রচনা সন্তার ৯-১০, ফর্মী-৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আমার আপার হুবহু সংস্করণ । গ্রামের প্রান্তে কাশবনে লুকোচুরি খেলা, হঠাৎ রেল আসতে দেখে অবাক
চোখে তাকিয়ে থাকা_ এসবের মধ্যে আমি আমার কিশোরবেলাকে খুঁজে পেয়েছি। বিভূতিভূষণের বর্ণনাও
অসাধারণ। যেন আমাদের দেবরামপুর গ্রাম মুহূর্তে নিশ্চিন্দপুর হয়ে গেছে। অপু, দুর্গার মা সর্বজয়া যেন
আমার দুখিনী মা। সবচেয়ে কষ্ট লেগেছে দুর্গার মৃত্যু। বিশ্বাস কর, এ অংশটি পড়তে গিয়ে আমি কেঁদে
ফেলেছি। রাতে ভাত খেতে পারিনি। সারারাত লেপের নিচে শুয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছি। আমার মা
ধমকের সুরে বলেছেন, যে বই পড়ে কাদতে হয়, সেরকম বই পড়ার দরকার কী? মাকে কী করে বোঝাই,
দুর্গার মৃত্যুতে আমার কী যে কষ্ট হচ্ছে। ইন্দিরা ঠাকুরনের চরিত্রও আমার হৃদয়কে স্পর্শ করেছে
প্রবলভাবে । আজ অবধি আমি যত বই পড়েছি, তার মধ্যে “পথের পীচালী’ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা ।
এটি বিভূতিভূষণের একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

আজ আর লিখছি না। ভালো থেকো । তোমার সময় কীভাবে কাটছে জানিয়ে চিঠি লিখো ।

 

 

 

 

 

 

ইতি
জান্াতুল ফেরদৌসী
ডাক টিকিট
প্রাপক
প্রেরক
দীসী নভেরা আহমেদ
হিলি প্রযত্রে : আলম মাস্টারের বাড়ি
দালালী গ্রাম : জয়নগর
কুষিয়”। ঈশ্বরদী, পাবনা ।

 

 

১০. বিদ্যালয়ে শেষ দিনের মানসিক অবস্থা জানিয়ে বন্ধুর কাছে চিঠি।

১৭-৫.৯২০১৭
শিবচর ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা । আশা করি খোদার কৃপায় ভালো আছ। অন্যরকম একটি দিনের কথা লিখতে
বসেছি আজ তোমাকে । আজ আমার স্কুলজীবনের শেষদিন । এ দিনটির কথা আমি আগে কখনো ভাবিনি।

৫০

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
একদিকে দীর্ঘ দশ বছরের অভ্যস্ত জীবন, পরিচিত পরিবেশের মায়া ছিন্ন করার কষ্ট, অন্যদিকে স্কুলের
দেয়াল ডিঙিয়ে বৃহত্তর জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ। মনের মধ্যে এক মিশ্র অনুভূতি তৈরি
হয়েছে।
এ স্কুলের প্রতিটি ইট-কাঠের সঙ্গো আমার কেমন যেন মায়াময় সম্পর্ক অনুভব করছি আজ। শ্রদ্ধেয়
শিক্ষকমণ্ডলী, অগণিত ছাত্রছাত্রী, পরিবেশের সঙ্গে একধরনের আত্মিক সম্পর্ক রচিত হয়েছিল। এগুলো ছেড়ে
পড়ল। তাদের অমূল্য উপদেশ আর দোয়া নিয়ে বাসায় ফিরলাম।

স্কুলের শেষদিনে আমার মনের অবস্থা ঠিক তোমাকে বোঝাতে পারব না। আমার ক্ষুদ্র জীবনের আজ এক
আরণীয় দিন। স্মৃতির আযলবামে পাতাঝরা দিনের মতো এ দিনটি গচ্ছিত থাকবে চিরদিন ।

তোমার খবর কী? কেমন লেগেছে স্কুলের শেষ দিনটাতে? তোমার অনুভূতি জানিয়ে চিঠির উত্তর দিও।

 

 

 

 

 

 

 

 

ইি-
তোমারই
রফিক
ডাক টিকিট
প্রেরক প্রাপক
উমেদপুর ১৬৭, পাইক পাড়া
শিবচর মিরপুর-১
মাদারীপুর । ঢাকা-১২১৬
১১. ছাত্রজীবনে শিক্ষামূলক সফরের উপকারিতা বর্ণনা করে বন্ধুর কাছে পত্র ।
২৪/৪/২০১৭
কুড়িগ্রাম ।

প্রিয় জসীম,

শুভেচ্ছা নিও। আশা করি বাড়ির সবাইকে নিয়ে ভালো আছ। আমরাও খোদার কৃপায় ভালো আছি। গত
সপ্তাহে আমাদের স্কুলের সবাই মিলে ইতিহাসখ্যাত বগুড়া মহাস্থানগড় শিক্ষাসফরে গিয়েছিলাম ।
তোমাকে আজ লিখছি আমাদের সেই শিক্ষাসফর সম্পর্কে ।

সেদিন সকাল সাড়ে আটটায় স্কুল ক্যাম্পাস থেকে আমাদের বাস ছেড়েছে। গিয়ে পৌছতে পৌছতে দুপুর

৫৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সোয়া বারোটা । শিক্ষাসফরে যাব বলে সবার মাঝে ছিল দারুণ আনন্দ । মহাস্থানগড়ের প্রাচীন পুরাকীর্তি,
বৌদ্ধযুগের স্থাপত্য নিদর্শন ও ভাস্কর্য সম্পর্কে বইতে শুধু পড়েছি। সেখানে দীড়িয়ে যখন সেই লুস্তপ্রায়
অতীতের সেই সমৃদ্ধ যুগে ।

আমি উপলব্ধি করলাম, আসলে শুধু বই পড়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করা কখনো সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে
এতিহাসিক স্থানগুলোতে শিক্ষাসফরে যাওয়া উচিত। এতে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গো আমাদের আতিক
হয়।

বাস্তব শিক্ষার জন্য আসলে শিক্ষাসফরের কোনো বিকল্প নেই। তাই জীবনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার
জন্যে শিক্ষাসফরের খুবই প্রয়োজন। এতে আনন্দও হয়, আবার বাস্তবতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানা ও
বোঝার সুযোগ ঘটে । আজ আর নয়। ভালো থেকো।

ইতি-_

 

 

 

 

 

 

 

 

ফিরোজ
ডাক টিকিট
প্রেরক প্রাপক
ফিরোজ চৌধুরী মো. জসীমউদ্দিন
রাজারহাট কলারোয়া
কুড়িথাম । সাতক্ষীরা
১২. পরীক্ষায় কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য বন্ধুকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র।
৩.৬,২০১৭
ঢাকা।

আজ তোমাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাই। তোমার কৃতিতৃপূর্ণ ফলাফলে আজ আমরা যারপরনাই আনন্দিত ।
উঠলাম। আমার সমস্ত হৃদয় জুড়ে যেন মহাসাগরের আনন্দহিল্লোল বয়ে গেল।। টট্টগ্রাম বোর্ডের আড়াই লাখ
ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র তিনশ সীইত্রিশ জন এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার মধ্যে তুমি একজন । তোমার এ
সাফল্যে এক সোনালি ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ গৌরবোজ্বল ফলাফলের জন্য তোমাকে আমার আন্তরিক
অভিনন্দন

৫২

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
নিঃসন্দেহে তুমি একদিন জাতির অন্যতম কর্ণধার হবে। তোমার জ্ঞানসাধনার সঙ্ো সততা ও নিষ্ঠা
থাকবে । তুমি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে একদিন ভূমিকা রাখবে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তোমার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে এখানেই শেষ করলাম । ভালো থেকো।

 

 

 

 

 

ইতি-
তোমার প্রীতিমুগ্ধ
দিলীপ
ডাক টিকিট
প্রাপক
প্রেরক
দিলীপ ঘোষ আসাদের
৫১, বড় মগবাজার : দেবরাম পু
ঢাকা। পোস্ট : ইয়াকুবপুর
দাগনভূইয়া, ফেনী।

 

 

 

খ. আবেদনপত্র বা দরখাস্ত

কোনো পদে নিয়োগপ্রাস্তির জন্যে বা ছুটি, বদলি, সাহায্য চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যে আনুষ্ঠানিক পত্র

লেখা হয়, তাকে দরখাস্ত বা আবেদনপত্র বলে। আবেদনপত্র শুদ্ধ, সুলিখিত এবং তথ্য সংবলিত হওয়া

বাঞ্থনীয়। অসম্পূর্ণ এবং ভাষাগত ত্রুটিময় আবেদনপত্র অনেক সময় মূল উদ্দেশ্যের বাধা হয়ে দীড়ায়।
পক্ষান্তরে সুন্দর, নির্ভুল, সুলিখিত দরখাস্ত প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, শিক্ষা ও বুচি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের
অনুকূল দৃষ্টি লাভে ও উচ্চ ধারণা পোষণে সাহায্য করে।

তাই যে-কোনো আবেদনপত্র বা দরখাস্তে প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকা দরকার দরখাস্ত লেখার সময়

নিয়লিখিত দিকগুলোর প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে :

১. প্রীপকের নাম-ঠিকানা : প্রাপকের অংশে নিয়োগকর্তার নাম, পদ বা নিয়োগকারী সংস্থার নামের বানান
সঠিক এবং ঠিকানা নির্ভুল হতে হবে। অনেক সময় ঝামেলা এড়াতে বা গোপনীয়তা রক্ষা করতে
পোস্টবক্স কিংবা কোনো পত্রিকার মাধ্যমে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। যেমন :

বিজ্ঞাপন দাতা
পোস্ট বক্স নং ০৬৫
প্রযত্তে : দৈনিক ইত্তেফাক
ঢাকা।

২. বিষয় : এ অংশে কাজকিত বিষয় বা পদের কথা স্পট করে উল্লেখ করতে হবে । আবেদনের মূল বিষয়টি
যেন কর্তৃপক্ষ সহজে অনুধাবন করতে পারে সে জন্য সরল ভাষায় তার উল্লেখ প্রয়োজন।

৩. সম্বোধন : আনুষ্ঠানিক সম্বোধন হবে : মহোদয়, মহাতুন ইত্যাদি।

৫৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

৪. আবেদনের সূত্র : সাধারণত পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরির নিয়োগের কথা জানা যায়।
তাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখসহ সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সূত্র উল্লেখ করে অথবা বিশৃস্ত সূত্রের কথা
জানিয়ে আবেদনপত্রের বক্তব্য শুরু করতে হয়।

আবশ্যিক তথ্য : আবেদনপত্রে আবেদনকারীর পূর্ণ নাম, বাবা-মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান

হবে।

অতিরিন্ত তথ্য : কোনো উচ্চতর ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ কোর্স বা সংশ্রিষ কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তাও

আবেদনপত্র উল্লেখ করা প্রয়োজন ।

. সংুত্তি : দরখাস্তের শেষে আবেদনে বর্ণিত তথ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে যা কিছু সংযুক্ত করা হয়,
যেমন : বিভিন্ন পরীক্ষা পাসের সনদ, প্রাপ্ত নম্বরপত্র, প্রশংসাপত্র, নাগরিকতেের সনদ, অভিজ্ঞতার
সনদ, সত্যায়িত করা ছবি ইত্যাদির উল্লেখ করতে হয়। কী কী প্রামাণ্য কাগজ দেওয়া হলো,তা
ক্রমানুসারে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় ।

৮. মার্জিন : আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় মার্জিন থাকতে হয়। পৃষ্ঠার উপরে এবং বামে প্রয়োজনীয় মার্জিন
রেখে দরখাস্ত লিখতে হবে ।

সি

্ে

শটে

৫৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
আবেদনপত্রের নমুনা

১. প্রশংসাপত্র” চেয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট দরখাস্ত।

তারিখ : ১৪/৬/২০১৭

প্রধান শিক্ষক

জাহানারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
বসুরহাট, কোম্পানীগঞ্জ
নোয়াখালী ।

বিষয় : প্রশহসাপত্রের জন্য আবেদন।

জনাব,

সবিনয়ে নিবেদন এই যে, আমি আপনার স্কুলের একজন নিয়মিত ছাত্রী । ২০০৭ সালে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে
অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় আমি জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। স্কুলে গত পীচ বছর অধ্যয়নকালে
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম | কোনো আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কাজের সঙ্গে
আমার কোনো সম্পৃত্ততা ছিল না। আমি কলেজে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক। তাই আপনার
স্বাক্ষরিত একটি প্রশংসাপত্র অত্যন্ত প্রয়োজন।

অতএব অনুগ্রহপূর্বক আমাকে চারিত্রিক ও শিক্ষাবিষয়ক প্রশংসাপত্র প্রদান করে বাধিত করবেন।

বিনীত
আপনার একান্ত অনুগত-

(নাহিদ সুলতানা পলি)
এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রী
পরীক্ষার ক্রমিক নম্বর ৭
রেজিস্ট্রেশন নম্বর : ১৩২৭
ব্যবসায় শিক্ষা শাখা
জাহানারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী |

২. দরিদ্র তহবিল/ছাত্রকল্যাণ তহবিল হতে সাহাষ্যের আবেদন।

তারিখ : ৫/৭/২০১৭
প্রধান শিক্ষক
পটিয়া আদর্শ বিদ্যালয়
পটিয়া, চট্টগ্রাম ।

বিষয় : ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্যের আবেদন।

মহোদয়,
আমি আপনার স্কুলের নবম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। পীচ বছর যাবৎ আমি এ স্কুলে পড়ালেখা

৫৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

করছি। গত বার্ষিক পরীক্ষায়ও আমি প্রথম স্থান অধিকার করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু সম্প্রতি
আর্থিক অনটনে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আমার বাবা একজন কৃষক। গত কয়েক মাস যাবৎ তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে
শয্যাশায়ী । তার চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ দরকার । এ বিপদে সাহায্য করবে এরকম আত্মীয়স্জনও তেমন
নেই। ভাইবোনের লেখাপড়া, ভরণশোষণ, বাবার চিকিৎসার ব্যয়, সব মিলিয়ে আমাদের পরিবারের অবস্থা
বিপন্ন। তাই নিরুপায় হয়ে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। পারিবারিক দুরবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে
বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ এবং ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক কিছু সাহায্য প্রদান করলে বিশেষভাবে
উপকৃত হব। না হয় আমার পড়ালেখা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে আমার
জীবনে নেমে আসবে গভীর অনধকার।

অতএব বিনীত প্রার্থনা, আমাকে বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ এবং দরিদ্র তহবিল থেকে এককালীন কিছু অর্থ
অনুদানের ব্যবস্থা করে বাধিত করবেন ।

বিনীত-_
আপনার একান্ত অনুগত ছাত্র

(মো. শামসুল আলম)
নবম শ্রেণি, রোল-১
বিজ্ঞান শাখা

পটিয়া আদর্শ স্কুল, পটিয়া ।

৩. চ্কুলের ভেতরে ক্যান্টিন স্থাপনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধান শিক্ষকের সমীপে দরখাস্ত।

তারিখ : ২০.৩.২০১৭
মাননীয়

প্রধান শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল
মতিঝিল, ঢাকা।

বিষয় : স্কুলের ভেতরে ক্যান্টিন স্ীপনের আবেদন ।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা আপনার স্কুলের অনাবাসিক ছাত্রছাত্রী । প্রতিদিন আমরা অনেক দুরদুরান্ত থেকে
স্কুলে আসি। নানা কারণে অনেকের পক্ষে প্রতিদিন টিফিন আনা সম্ব হয় না। স্কুলের টিফিন পিরিয়ডের
স্বল্পতম সময়ে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে টিফিন কিনে আনা ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় স্কুল
ক্যাম্পাসের ভেতরে একটা ক্যান্টিন স্থাপন করা হলে ছাত্রছাত্রীদের এ সমস্যা নিরসন হতে পারে।

৫৬

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অতএব মহোদয়ের কাছে প্রার্থনা যে, ছাত্রছাত্রীদের বৃহত্তর প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে স্কুল ক্যাম্পাসে
একটি ক্যান্টিন স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমরা বিশেবভাবে বাধিত হব ।

বিনীত-

অনাবাসিক ছাত্রছাত্রীবৃন্দ
আইডিয়াল স্কুল
মতিঝিল, ঢাকা ।

৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের জন্য আবেদনপত্র ।

তারিখ : ২৪.৭.২০১৭
মাননীয়

মহাপরিচালক

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

মিরপুর, ঢাকা ।
বিষয় : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন।

মহোদয়,

সবিনয়ে নিবেদন এই যে, গত ১৬ই জুন ২০১৭ তারিখে দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের
মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে লোক নিয়োগ করা হবে । আমি উত্ত পদের
একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করছি। নিম্নে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ করা হলো :

১. নাম : ফাল্গুনী আহমেদ দীপিকা
২. পিতার নাম : কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ
৩. মাতার নাম : বেগম হাফিজা সুলতানা

৪. স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : ফজলুল হক মুলদী বাড়ি, গ্রাম : ডুমুরখালি, পোস্ট : ঝিকরগাছা, জেলা :
যশোর |

৫. জন্ম তারিখ : ২৮শে মে, ১৯৯২
৬. জাতীয়তা : বাংলাদেশি

৭. ধর্ম : ইসলাম

৮. শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ :

৫৭
রচনা সস্তার ৯-১০, কর্মা-৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পরীক্ষার নাম পাসের বছর গ্রপ জিপিএ/শ্রেণি বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়
এসএসসি ২০০৮ বিজ্ঞান £»+ জিপিএ-৫ যশোর বোর্ড
এইচএসসি ২০১০ বিজ্ঞান /* + জিপিএ-৫ যশোর বোর্ড
বিএ ২০১৩ মানবিক দ্বিতীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

অতএব, উপযুন্ত তথ্যাবলির আলোকে অনুষ্রহপূর্বক আমাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের
জন্য বিবেচনা করলে বাধিত হব।

বিনীত নিবেদক

ফাল্গুনী আহমেদ দীপিকা

সংযুক্তি :

১. সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি- ৩ কপি

২. নাগরিকতৃ ও চারিত্রিক সনদ- ২ কপি

৩. সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজ ছবি- ৩ কপি।

৫. শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে বিদ্যালয়ের প্রধানের কাছে আবেদনপত্র ।

তারিখ : ২১.৩.২০১৭

প্রধান শিক্ষক

মানিকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়

বইলছড়ি, রাঙ্গামাটি ।

বিষয় : শিক্ষাসফরে যাওয়ার প্রয্নোজনীয় অর্থ ও অনুমতির জন্য আবেদন।

মহাত্বন

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা আপনার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী । আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে
অর্জনের জন্য এই শিক্ষাসফর সহায়ক হবে বলে মনে করি । আমরা ইতিহাসখ্যাত কুমিল্লার ময়নামতি যেতে
চাই। ময়নামতি সম্পর্কে আমরা পাঠ্যবইতে অনেক পড়েছি, বাস্তবে তা প্রত্যক্ষ করে আমাদের জানার
পরিধি আরো বাড়াতে চাই।

অতএব মহাত্মনের নিকট আমাদের বিনীত নিবেদন, আমাদের শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতি ও প্রয়োজনীয়

অর্থ বরাদ্দ করলে বিশেষভাবে বাধিত হব।

বিনীত-

নিরু চাকমা
মনিকা মারমা ও

৫৮

২০১৮
২০৬৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দীপংকর চাকমা,
মানিকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়
বইলছড়ি, রাজ্ঞামাটি ।

৬. আর্সেনিকমুস্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন।

তারিখ : ১১.০১.২০১৭
মাননীয়

পৌরসভা চেয়ারম্যান
ফুলবাড়িয়া পৌরসভা
ময়মনসিংহ ।

বিষয় : আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের আবেদন ।

জনাব,

সবিনয়ে নিবেদন এই যে, আমরা ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের অধিবাসী । এই এলাকা খুবই
ঘনবসতিপূর্ণ। কয়েকটি গার্মেন্টস, পৌর-বাণিজ্যবিতানসহ বেশ কয়েকটি কারখানা থাকায় এই এলাকা
ফুলবাড়িয়া পৌরসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ
জরিপ চালিয়ে এলাকার অধিকাংশ চাপাকলের পানিতে ভয়াবহ আর্সেনিকের দূষণ আছে বলে প্রমাণ
পেয়েছেন। আর্সেনিকযুক্ত চাপাকলগুলোতে লাল রং দিয়ে শনান্ত করে এগুলোর পানি পান না করার জন্য
এলাকার মানুষদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তবু অজ্ঞতাবশত অনেক মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করে
মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এলাকায় বর্তমানে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র অভাব বিরাজ
করছে। তাই অতিসতৃর আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ করা দরকার ।

অতএব মহোদয়ের সমীপে বিনীত আবেদন, আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে
এলাকাবাসীকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করবেন। এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ জরুরি বিষয়।
তাই জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ।

বিনীত-

মো. সোহরাব পাশা
ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ ।

৫৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
৭. অজাপুকুর সং্কারের জন্য আবেদন জানিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দরখাস্ত।

তারিখ : ১২ই মার্চ ২০১৭
চেয়ারম্যান
সিরাজগঞ্জ ।

বিষয় : ধানগড়া রামেন্দ্র পুকুর সংস্কারের জন্য আবেদন।

জনাব,

সবিনয়ে নিবেদন এই যে, ধানগড়া গ্রামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সরকারি রামেন্দ্র পুকুরটি দীর্ঘদিন যাবৎ
হাজামজা হয়ে পড়ে আছে। বহুদিন অব্যবস্থৃত থাকায় পুকুরটিতে ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানার জঙ্তালে
পরিণত হয়েছে। ফলে এটি যেমন মশামাছি, সাপখোপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, তেমনি এলাকায়
বাতাসে দুর্সন্ধও ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এ পুকুরটি সংস্কার করে সেখানে মৎস্য চাষ করা হলে সরকার
যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তেমনি এলাকার পরিবেশও নির্মল হবে ।

অতএব জনস্বার্থ বিবেচনা করে ধানগড়া রামেন্দ্র পুকুরটি আশু সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার
বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিনীত_

এলাকাবাসীর পক্ষে,
আপনার বিশৃস্ত

মো. শাহাজাহান চৌধুরী
ধানগড়া, সিরাজগঞ্জ ।

৬০

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
গ. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্যে চিঠি

জনগণের অভাব-অভিযোগ, স্থানীয় কোনো সমস্যা, জনণুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি
আকর্ষণ করতে অনেক সময় সংবাদপত্রের শরণাপন্ন হতে হয়। কেউ কেউ ব্যন্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
সাথে যোগাযোগ করেও যথাযথ প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হন। তাই সমস্যার আশু সমাধানের জন্যে উ্ধ্বতন মহলের
দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পত্র-পত্রিকায় চিঠি লিখতে হয় । বিভিন্ন পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে সেইসব চিঠি গুরুতৃ দিয়ে
ছাপা হয়ে থাকে। যেমন : ইত্তেফাকের ‘চিঠিপক্র’, প্রথম আলোর ‘পাঠকের অভিমত”, জনকষ্ঠের “সম্পাদক
সমীপে” ইত্যাদি। প্রকাশিত চিঠির বন্তব্য ও দায়দায়িতু লেখকের ওপর বর্তায় । সম্পাদক প্রকাশিত চিঠির কোনো

দায়দায়িত নেন না। এসব কলামের নিচে তাই লেখা থাকে- “মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়” ।
সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য আসলে দুটো চিঠি লিখতে হয় :

১. সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদককে অনুরোধ করে পত্র, এবং

২. পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পত্র ।

পত্রলেখক যে সংবাদপত্রে চিঠিটি প্রকাশ করতে চান, সেই পত্রিকার সম্পাদককে অনুরোধ জানিয়ে একটি
চিঠি লিখতে হয়। এই চিঠি সংক্ষিপ্ত হওয়াই ভালো। সম্পাদককে সম্বোধন করা ছাড়াও যথাস্থানে তারিখ
এবং নিচে প্রেরকের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর দিতে হয়। অনুরোধপত্রের সঙ্কো প্রকাশিতব্য চিঠি যুক্ত করে
পাঠাতে হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিতব্য চিঠিটাই মূলচিঠি। বিষয়বস্তু অনুযায়ী সেটি তথ্যসমৃদ্ধ, যুক্তিযুত্ত, বাস্তবভিত্তিক হওয়া
উচিত। প্রাসঙ্গিক বিষয় এমনভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুতত অনুভব করে দ্রুত
পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর হয়। সমস্যা ও বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে চিঠি বড় বা ছোট হয়। চিঠির বন্তব্য
যথাযথ, বিষয়ানুগ, বাহুল্যবর্জিত ও সংক্ষিপ্ত হওয়াই বাঞ্নীয়। এ ধরনের চিঠিতে সাধারণত ভাবাবেগ
প্রকাশের সুযোগ নেই। বত্তুব্যের পারম্পর্য এবং ভাষার শুদ্ধতার প্রতি তাই বিশেষ মনোযোগ দিতে হয়।

সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্যে চিঠির নমুনা :
১. বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশু প্রতিকার চেয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র ।

তারিখ : ১২.৪.২০১৭
সম্পাদক
দৈনিক করতোয়া

বগুড়া।
বিষয় : সংঘুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন।

জনাব,
শিরোনামে কটি চিঠি পাঠাচ্ছি। বদ
আশা করি, এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি প্রকাশে আমরা আপনার আনুকূল্য থেকে বঞ্চিত হব না।

বিনীত-
মজিদ মাহমুদ
আক্কেলপুর, বগুড়া ।

৬১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আকেনপুরে বিদ্যুৎ বিশ্রাটের প্রতিকার চাই

বগুড়া জেলার সুত্রাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এবং অবহেলিত অঞ্চল আকেলপুর। এ অঞ্চলের মানুষের মতো
এত অবহেলিত সম্ভবত বাংলাদেশের আর কোনো অঞ্চলের মানুষ নেই। অনেক সরকার এসেছে, গেছে,
কিন্তু আক্কেলপুরের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি । এই এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে ১৯৯৬ সালে ।
নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় সবাই বাসা-বাড়িতে সংযোগ নিয়েছে, কেউ লেদ মেশিন, কেউ স্টুডিও,
কেউ কটোস্ট্যাটের মেশিন কিনে দোকান খুলেছেন। এখন সবার মাথায় হাত। বিদ্যুৎ এই আছে তো এই
নেই। বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজির কারণে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ব্যবসা-
বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার দারুণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তা ছাড়া
বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বেড়ে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি
ঘটেছে। তাই এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন “আক্কেলপুরে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে কি? কবে শেষ হবে
এই গভীর অমানিশার কাল?

বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই সংশ্লিষ্ট
উতধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আকুল আবেদন-_ আকেলপুরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিকার হোক।
অবিলম্বে জনগণের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ।

২. বন্যার্তদের সাহায্যের আবেদন জানিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র ।

তারিখ : ১৪.৮.২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক ইত্তেফাক

১ আর. কে. মিশন রোড, ঢাকা।

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন ।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত জনপ্রয় ‘দৈনিক ইন্তেফাক’ পত্রিকায় এইসঙ্জে প্রেরিত পত্রটি প্রকাশ করে যথাযথ
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়তা করলে বাধিত হব।

বিনীত-
মো. নুরুল ইসলাম
সোনাগাজী, ফেনী।

৬২

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কেনী-সোনাগাজী অঞ্চলের বন্যার্তদের জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন।

ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা নদী-উপকূলীয় একটি নিয়নাঞ্চল। প্রতিবারের মতো এবারও সর্বনাশা
বন্যার গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি। এবারের বন্যা স্রণকালের ভয়াবহ বন্যা। অবিরাম বৃষ্টির ফলে স্থানীয়
মাতামুহ্রী নদীর বেড়িবাধ ভেঙে গিয়ে পুরো উপজেলা আজ ভয়াবহ বন্যাকবলিত। পাহাঁড়ি ঢল আর আসাম-
ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পানিতে ভেসে গেছে এই এলাকার সমস্ত অবকাঠামো । রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি,
অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। চারদিকে পানি অথচ বিশুদ্ধ পানীয় জলের খুবই অভাব। বন্যা
পানিবাহিত রোগ । অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না
করলে হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

বন্যাকবলিত সোনাগাজী অঞ্চলের জনজীবনের বিপর্যস্ত অবস্থা বিবেচনা করে অতিসতৃর প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কৃপাদৃষ্ি প্রার্থনা করছি।

নিবেদক_
সোনাগাজী উপজেলাবাসীর পক্ষে,

মো. নুরুল ইসলাম

কুটিরহাট, সোনাগাজী
ফেনী।

৩. পানীয় জলে আর্সেনিক দূষণের ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের
জন্য পত্র।

তারিখ : ২৪.১২.২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক জনকণ্ঠ

২৪/এ ইস্কাটন রোড, ঢাকা।

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশনার আবেদন।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত “জনকণ্ঠ’ পত্রিকায় নিম্নলিখিত পত্রটি প্রকাশ করলে কৃতার্থ হব।

নিবেদক-

মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন
তেতুলিয়া, পঞ্চগড় ।

ভত
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল চাই
আমরা সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ার অধিবাসী । এই এলাকার সবগুলো টিউবওয়েলের পানিতে
ভয়াবহ রকম আর্সেনিকের দূষণ রয়েছে। সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পরীক্ষা চালিয়ে আর্সেনিকযুক্ত
অধিকাংশ টিউবওয়েলকে লাল রং দিয়ে চিহ্িত করে এবং এগুলোর পানি ব্যবহার-অযোগ্য বলে ঘোষণা

করেছে। শুষ্ক মৌসুমে এই এলাকার পুকুর ও কুয়াতে পানি থাকে না। বাধ্য হয়ে মানুষকে নলকূপের পানির
ওপর নির্ভর করতে হয়। অথচ আজ সেই নলকুপের পানি ক্ষতিকর আর্সেনিক-আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে

তেতুলিয়া এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। অজ্ঞতাবশত গ্রামের সাধারণ
মানুষ আর্সেনিকযুত্ত পানি ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞগণের অভিমত, এ
মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা
উচিত। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পরিস্থিতির গুরুত্ত উপলব্ধি করে
যথাশীঘ্ব সম্ভব আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। এটা জনগণের মানবিক
আবেদন । আশা করি, কর্তৃপক্ষ মানবিক আবেদনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।

নিবেদক-_

মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন
তেতুলিয়া, পঞ্চগড় ।

৪. “বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ” পালনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র।

তারিখ : ৭.৮.২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক আমার দেশ
বিসিআইসি ভবন
কারওয়ান বাজার, ঢাকা ।

বিষয় : সংঘুন্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত “দৈনিক আমার দেশ” পত্রিকায় জনগুরুত্পূর্ণ পত্রটি প্রকাশ করলে বিশেষভাবে বাধিত হব।

নিবেদক-

সুজিত কুমার দে
মরেলগঞ্জ, বাগেরহাট ।

ঙ৪

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বৃক্ষরোগণ সম্তাহ পালনের প্রয়োজনীয়তা

মানুষের জীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, তা আমরা কখনো ভেবে দেখি না। ডানায় তোলা মাছের
যেমন প্রাণহীন ছটফট অবস্থা হয়, সে তুলনায় বৃক্ষহীন পৃথিবীতে মানুষের অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ ।
সবুজ বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন দিয়ে প্রাণ রক্ষা করে । পৃথিবীর পরিবেশকে সুস্থ ও শীতল রাখে। শৃধু তাই
প্রকৃতির অকৃপণ দান বৃক্ষের ওপরই নির্ভরশীল । তাই সবৃজ বনভূমিকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস ।
আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় বৃক্ষ ও বনভূমির পরিমাণ খুবই কম। যে-কোনো দেশে মোট ভূখডডের
পঁচিশ শতাংশ বনভূমি থাকা দরকার । অথচ আমাদের দেশে আছে মাত্র সতেরো শতাংশ । তারপরও
প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কেটে ফেলে আমরা সবুজ বনভূমি উজাড় করে চলেছি। এরকম অবস্থা চলতে
থাকলে যে-কোনো সময় আমরা ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারি। তাই শীঘ্রই সরকারি-
বেসরকারি উদ্যোগে আমাদের বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালনের মধ্য দিয়ে প্রচুর বনায়ন করতে হবে।

‘একটা গাছ কাটলে তিনটি গাছের চারা লাগাতে হবে’ এই জ্রোগানকে সামনে রেখে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
গ্রহণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিনীত_

মরেলগঞ্জ গ্রামবাসীর পক্ষে,

সুজিত কুমার দে
মরেলগঞ্জ, বাগেরহাট |

৫. ডাকঘর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র ।

২.১,২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক আজাদী

৯ সিডিএ এভিনিউ
মোমিন রোড, টট্টগ্রাম

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন।

জনাব,
আপনার স্বনামধন্য বহুল প্রচারিত “দৈনিক আজাদী” পত্রিকায় নিম্নোন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ পত্রটি প্রকাশ করলে
কৃতার্থ হব।

নিবেদক-_

মো. রফিকুল ইসলাম
মোহনপুর, কিশোরগঞ্জ ।

৬৫
ব্রচলা সন্তার ৯-১০, ফর্মা-৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
ডাকঘর চাই

কিশোরগঞ্জ জেলার মোহনপুর একটি জনবহুল গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় বিশ হাজার লোকের বসবাস। এখানে
রয়েছে রবিশস্য ও তরিতরকারির বিশাল পাইকারি বাজার, কৃষি ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, একটি হাইস্কুল, দুটি
চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে। কিন্তু দুঃ্কখের বিষয় এখানে কোনো ডাকঘর নেই। এখান থেকে প্রায় পাচ
কিলোমিটার দূরে থানা সদরে একটা ডাকঘর রয়েছে। সেখান থেকে একজন ডাকপিয়ন সপ্তাহে মাত্র একদিন
চিঠি বিলি করতে আসে । তাই জরুরি চিঠিপত্র, মানিভর্ভার সময়মতো পাওয়া যায় না। এতে জনগণের

দুর্ভোগের শেষ নেই। একটা ডাকঘরের অভাবে মোহনপুর গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠী নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে।
ডাক বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, কিশোরগঞ্জ জেলার মোহনপুরে ডাকঘরের একটা
শাখা স্থাপন করা হোক । এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে । পাশাপাশি জনগণেরও দুর্ভোগ লাঘব হবে ।

নিবেদক-_

মো. রফিকুল ইসলাম
মোহনপুর, কিশোরগঞ্জ ।

৬. সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে অভিমত জানিয়ে পত্রিকায় প্রকাশের জন্যে পত্র ।

তারিখ : ১২.৬.২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক যুগান্তর
ঢাকা।
বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত “দৈনিক যুগান্তর” পত্রিকায় নিম্নলিখিত পত্রটি প্রকাশ করলে বাধিত হব ।

বিনীত_

মো. আবুল হোসেন
কলেজ রোড, দিনাজপুর।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকার চাই
“একটা _সারা জীবনের কান্না’ __এ ফ্লোগানটি নির্মম বাস্তবতানির্ভর। আজকাল আমাদের দেশে
সড়ক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দীড়িয়েছে। প্রতিদিন টিভির পর্দায় আর পত্রিকার পাতা খুললেই
চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনার মর্মান্তিক খবর ৷ এতে কত মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে, কত পরিবার পথে

৬৬

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
বসছে, সেই অশ্রুসজল করুণ মুখের হিসাব কেউ রাখে না। পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ অথবা অপ্রাপ্ত বয়স্ক
পুত্রের সামনে পিতার রত্তাক্ত নিথর দেহ এই অনাকাঙ্ঞিত মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।
সাধারণত আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনাগুলো কয়েকটি কারণে হয়ে থাকে : ক. ত্রুটিযুক্ত গাড়ি; খ. অনভিত্র
বা নেশাখোর ড্রাইভার; গ. ধারণ ক্ষমতার অধিক মাল বা যাল্রী বহন; ঘ. ওভারটেকিং বা চালকদের
দায়িতৃহীনতা; ড. ট্রাফিক আইন না মানার মানসিকতা ইত্যাদি । এই সমস্যা সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ
করতে হবে। পাশাপাশি আরো কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার | যেমন : রাস্তা সংস্কার, ট্রাফিক
ব্যবস্থা উন্নয়ন, পরিবহণ সংশ্লিষ সবাইকে যানবাহনবিধি ও আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং
মিডিয়াগ্ুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারের ব্যবস্থা করা ।
আশা করি, উপর্যুন্ত কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করলে
সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে ।

নিবেদক-

এলাকাবাসীর পক্ষে,
মো. আবুল হোসেন
কলেজ রোড, দিনাজপুর।

৭. আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পূর্বে এলাকার রাস্তা সংদ্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে
সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র।

তারিখ : ১৬.৩.২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক সমকাল

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা
ঢাকা।

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন ।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত “দৈনিক সমকাল+ পত্রিকায় নিম্নলিখিত পত্রটি প্রকাশ করলে বিশেষভাবে বাধিত হব ।

বিনীত-

শামসুল হক হায়দার
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী ।

কোম্পানীগঞ্জ-দাগনতৃইয়া সড়কটি সকার করা হৌক

কোম্পানীগঞ্জ-দাগনভূঁইয়া সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ এটি
ফেনী এবং নোয়াখালী দুটো জেলার গুরুতৃপূর্ণ সংযোগ সড়ক প্রায় পাচ লাখ লোকের যাতায়াতের একমাত্র

৬৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সড়কটি গত বছর বন্যায় মারাআ্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের দূরদূরাত্ত
থেকে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক মারাত্বক ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে। ইতোমধ্যে বেশ
কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে এ সড়কে । কয়েকদিন আগে দুধমুখা পুল ও মুন্গীবাড়ির দরজায় দুটি গাড়ি
দুর্ঘটনায়-কবলিত হয়ে পাচজন লোক মারা গেছে এবং আহত হয়েছে শতাধিক। আসন্ন বর্ধার আগে এই
গুরুতৃপূর্ণ সড়কটি যদি সংস্কার না করা হয়, তবে যানচলাচল সম্পূর্ণ বনধ হয়ে যাবে। তাই কোম্পানীগঞ্জ-
দাগনভূইয়া সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নিবেদক-_

এলাকাবাসীর পক্ষে,

শামসুল হক হায়দার

কোম্পানীগঞ্জ, বসুরহাট

নোয়াখালী ।

৮. দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধকল্পে জনমত তৈরি করার জন্য সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র ।

তারিখ : ২৬.৩.২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক ইত্তেফাক

১ রামকৃষ্ণ মিশন রোড
ঢাকা ।

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন ।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত “ দৈনিক ইত্তেফাক” পত্রিকায় নিয়োন্ত পত্রটি প্রকাশের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিনীত-
ইন্দ্রজিৎ মণল
কুমারখালী, কুষ্টিয়া ।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে জনমনে নাভিশ্বাস
সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন পাগলা ঘোড়া জনমনে চরম নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। আমাদের দেশের
অধিকাংশ মানুষ স্বল্প আয়ের । খেটে খাওয়া এসব সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতির কারণে আয়ের সঙ্গে
ব্যয়ের সংগতি রাখতে পারছে না। মানুষ এমনিতে নানারকম সমস্যায় জর্জরিত, তার ওপর দ্রব্যমূল্যের
উর্ধ্বতি যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দীড়িয়েছে। শুধু স্বল্প আয়ের মানুষ নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত সবার
জীবনেই নেমে এসেছে চরম হতাশা । দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা আজ জরুরি হয়ে
পড়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। তা ছাড়া

সর্বস্তরের মানুষের মাঝেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার দ্রব্যমূল্যের উ্ধ্বগতির কারণে জনমনে যে
অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠছে, তা যে-কোনো সময় গণবিস্ফোরণে বুপ নিতে পারে ।

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আশা করি, সরকারের উধ্্বতন মহল ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে কার্ধকর পদক্ষেপ নেবেন । তা না হলে
সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে।

নিবেদক-

এলাকাবাসীর পক্ষে,

ইন্দুজিৎ মল
কুমারখালী, কুষ্টিয়া

রখালী, যা।
৯. চিকিৎসালয়ের দুরবস্থার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃফি আকর্ষণ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের
জন্য পত্র।

তারিখ : ১১.২.২০১৭
সম্পাদক

দৈনিক ইনকিলাব

২/এ আর. কে. মিশন রোড
ঢাকা।

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন ।

জনাব,
আপনার বস্থুল প্রচারিত “দৈনিক ইনকিলাব” পত্রিকায় এইসঙ্জো প্রেরিত পত্রটি প্রকাশ করলে কৃতার্থ হব।

বিনীত

তৌহিদুর রহমান
মালাশিয়া, রাজবাড়ি।

বিরামপুর দাতব্য চিকিৎসালয়টির প্রতি নজর দিন
রাজবাড়ি জেলার বিরামপুর উপনগর দাতব্য চিকিৎসালয়টি ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। পাংশা,
মালাশিয়াসহ আশেপাশের প্রায় দশটা গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন এ দাতব্য চিকিৎসালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা লাভ
করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এখানকার চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বিল্ডিংগুলো
পুরানো ও জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। নিয়মিত ওঁধধ সরবরাহ নেই। আউটডোর, ইনডোর মিলিয়ে পাচ জন
ডাক্তারের পদ শূন্য হয়ে আছে। সামান্য ঁধধপত্র যা আসে তারও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার কেউ নেই। একজন
কম্পাউন্ডার গত তিন বছর ধরে চিকিৎসালয়টি চালাচ্ছেন ।

এলাকাবাসীর দাবি, এ করুণ অবস্থা থেকে চিকিৎসালয়টিকে রক্ষা করা হোক । স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক
অধিকার, যথাযথ কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে বিরামপুর উপনগর দাতব্য চিকিৎসালয়ের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে
জনগণের সে মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেবেন বলে আমরা আশা রাখি ।

নিবেদক-

এলাকাবাসীর পক্ষে,

তৌহিদুর রহমান
মালাশিয়া, রাজবাড়ি ।

৬৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

১০. গ্রন্থাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দৈনিক
পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পত্র ।

তারিখ : ১.১২.২০১৭
সম্পাদক

ইত্তেফাক

১ রামকৃষ্ণ মিশন রোড
ঢাকা ।

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন ।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্র “দৈনিক ইত্তেফাক” পত্রিকায় প্রকাশের জন্য জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট
একটি চিঠি এইসঙ্জো পাঠাচ্ছি। আশা করি, এটি প্রকাশ করে এলাকাবাসীর কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন।

নিবেদক-
খায়রুল আনাম চৌধুরী

গাইবান্ধা ।

মনন বিকাশের জন্য গ্রন্থাগার চাই

গাইবান্ধা জেলার হরিনাথপুর একটি জনবহুল ও বর্ধিষ্ু গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় বিশ হাজার লোক বাস করে।
এখানে একাধিক হাইস্কুল, বাজার, মাদ্রাসা, ব্যাংকসহ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু অত্যন্ত
পরিতাপের বিষয়, এখানে কোনো গ্রন্থাগার নেই। ফলে জ্ঞানপিপাসু ও শিক্ষার্থীদের বহুদূরে জেলা শহরে
গিয়ে বই বা পত্রপত্রিকা সংগ্রহ করতে হয় । অথচ গ্রামে একটা গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি থাকলে সাধারণ মানুষ
থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, সকলে অবসরে-অবকাশে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেত।
উঠতি বয়সী তরুণরা বই, পত্রপত্রিকা পড়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পেত। এ
ব্যাপারে নানা সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
আকর্ষণ করছি। আশা করি উত্ত এলাকায় একটা গ্রন্থাগার স্থাপন করে আলোকিত সমাজ গঠনে ও
বিদ্যানুরাগীদের জ্ঞানপিপাসা মেটাতে এগিয়ে আসবেন।

নিবেদক-
এলাকাবাসীর পক্ষে,

খায়রুল আনাম চৌধুরী
গাইবান্ধা ।

৭০

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
স্ব. মানপত্র ও স্মারকলিপি

আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বরণ বা বিদায় জানানোর জন্যে যে সম্মাননাপত্র রচনা করা হয়, তাকে মানপত্র
বলে। মানপত্র সাধারণত সামাজিক, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রচুর দর্শক-শ্রাতার উপস্থিতিতে পাঠ করে
সংবর্ষের ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়। মানপত্রের ভাষা পরিশীলিত ও সমৃদ্ধ হতে হয়। এতে সংবর্ধেয়
ব্যক্তির কর্মকৃতি, ব্যস্তিতৃ, ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য, পাড়িত্য, শিক্ষা ও দক্ষতা ইত্যাদির উল্লেখ থাকে । তাই বিভিন্ন
উপশিরোনাম দিয়ে তার বৈশিষ্ট্য, অবদান প্রভৃতিকে নানা বিশেষণে অভিষিত্ত করতে হয়। মানপত্র সুন্দর
হস্তাক্ষরে লিখে বা ছাপিয়ে, অলংকৃত এবং বাধাই করে দেওয়াই নিয়ম।

“সংবর্ধনা’ শব্দের প্রকৃত অর্থ সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা, সসম্মানে অভ্যর্থনা। তাই সংবর্ধেয় ব্যক্তির সম্মান

যাতে বৃদ্ধি পায়, তার জন্য সুশোভন শব্দ ব্যবহার করা উচিত। গুণী ব্যক্তির আগমন বা তার মহৎ ভূমিকা,

অবদানের স্বীকৃতিকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোই মূলত এ ধরনের মানপত্র রচনার লক্ষ্য ।

মানপত্রের বিভিন্ন অংশ

মানপত্র রচনার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম বা রীতি অনুসরণ করতে হয় । মানপত্রের বিভিন্ন অংশ এরকম: ১.

মূল শিরোনাম, ২. উপশিরোনাম, ৩. নাম-স্বাক্ষর ও তারিখ ।

১. মুল শিরোনাম : যে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, যাকে, যে উপলক্ষে সংবর্ধনা দেয়, তার উল্লেখ করতে হয় এ
অংশে । তারপর উপলক্ষ ও মানপত্রের প্রকৃতি অনুযায়ী উষ্ণ অভিনন্দন”, ‘প্রাণঢালা শুভেচ্ছা”, ‘শরদ্ধার্জলি’,
শ্দ্ধার্্’ ইত্যাদি লিখতে হয়।

২. উপশিরোনাম : এটাই মানপত্রের মূল অংশ। এক-একটি উপশিরোনাম দিয়ে এক-একটি অনুচ্ছেদ
লিখতে হয়। ভাব ও বক্তব্য অনুযায়ী অনুচ্ছেদগুলো পরস্পর সংগতিপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয় । প্রত্যেক
অনুচ্ছেদের শুরুতে সংবর্ধেয় ব্যন্তির গুণপ্রকাশক সম্বোধন বা সম্ভাষণ থাকতে হয়। যেমন : সংবর্ষেয়
ব্যক্তি শিক্ষক হলে, সম্ভাষণ হবে “হে বরেণ্য শিক্ষক’, “হে শিক্ষাগুরু*, “হে আলোর পথের দিশারী”, ‘হে
মহান সাধক’, “হে জ্ঞানতাপস’ ইত্যাদি। ছাত্রছাত্রীদের বরণ বা বিদায়ের ক্ষেত্রে হবে-“হে নবীন

৩. নাম-্থাক্ষর ও তারিখ : যে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, মূল পত্রাংশের শেষে
তাদের সমফ্টিগত প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় দিতে হয়। তারপর নাম-্বাক্ষরের আগে ‘বিনীত’, ‘গুণমুগ্ধ”,
‘বিনয়াবনত,, ‘্রদ্ধাবনত’ ইত্যাদি বিশেষণ ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। নাম-স্বাক্ষর অংশ ডানদিকে থাকে।
বামদিকে তারিখ দিতে হয়। তারিখের বেলায় কেউ কেউ বঙ্গাব্দ ও খ্রিকাব্দ দুটিই দিয়ে থাকেন।

মানপত্র ও সরকলিপির নমুনা:
১। এসএসমি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনাপত্র।

ইস্পাহানী পাবলিক ক্কুলের ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে
আন্তরিক সংবর্ধনা
হে বিদায়ী ভাই-বোনেরা,

যে পথ একদিন তোমাদের নিয়ে এসেছিল এই স্কুলের আঙিনায়, আজ সেই পথই আবার তোমাদের ডাক
৭১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দিয়েছে-হাকিছে ভবিষ্যৎ, হও আগুয়ান। হৃদয়-বীণায় তাই আজ বাজছে বিদায়ের করুণ সুর । সেই সুর যেন
বলছে- “ভুবনের ঘাটে ঘাটে, এক ঘাটে লও বোঝা, শুন্য করে দাও অন্য ঘাটে ।’ শুভ হোক তোমাদের
ভবিষ্যৎ। তোমরা আমাদের প্রীতি গ্রহণ কর।

হে অগ্রজ বন্ধুরা,

এই স্কুলে তোমাদের কেটেছে স্মৃতিময়, গ্রীতিময় অনেক দিন তোমাদের প্রাণোচ্ছল পদভারে এই স্কুলের
আঙিনা ছিল মুখরিত। তোমাদের সাথে আমাদের গ্েহসিক্ত শ্রীতিময় বন্ধন যেন অটুট থাকে আজীবন ।
তোমরা যেন ভুলে না যাও এই স্কুলের স্মৃতিময় দিনগুলি । প্রিয় শিক্ষকদের আন্তরিক সাহচর্য ও অমূল্য
অবদানের কথা তোমাদের মনে থাকুক অমলিন। বিষণ্ন নয়নে আজ শুধু বলি_ “যেতে নাহি দিব হায়, তবু
চলে যেতে হয়, তবু চলে যায়|”

হে আলোর পথের যাত্রীরা,

নবজীবনের আহ্বানে, আলোকিত জীবনের সন্ধানে তোমরা এগিয়ে যাচ্ছ নবদিগন্তের দিকে । মনে রেখো,
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের দেশ আজ স্বাধীন। জাতি আজ প্রত্যাশা করে দুঃখ, দারিদ্র্য,
অন্ধকার ঘুচিয়ে তোমরা গড়ে তুলবে একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ । তোমরাই আনবে সোনালি উষার
আলোকিত দিন ।

তোমাদের নতুন যাত্রাপথ নতুন নতুন সাফল্যে ভরে উঠুক ।

তারিখ : ২৩/২/২০১৭ তোমাদের শ্রীতিগ়লিগ্ধ
চ্টগ্রাম। ছাত্রছাত্রীবৃন্দ
ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল, চট্টগ্রাম।
২. প্রধান শিক্ষকের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে বিদায় অভিনন্দনপত্র।
রাজশীহী কলেজিয়েট স্কুলের মাননীয় প্রধান শিক্ষক
শ্রন্ধেয় জাকির হৌসেন সাহেবের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে
শরন্ধাঞ্জলি

হে মহান শিক্ষান্তী,

আমাদের সম্রদ্ধ চিন্তের অভিনন্দন গ্রহণ করুন। আজ আমাদের হৃদয় ব্যথিত। এক আলোকময় দিনে
অফুরন্ত কর্মোদ্দীপনা নিয়ে আপনি এই স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর সুদীর্ঘকাল আপনি কর্মনিষ্ঠা,
আন্তরিকতা ও গ্রীতিসরিগ্ধ ভালোবাসা দিয়ে আমাদের অন্তর জয় করেছিলেন । অজস্র ছাত্র পরশপাথরের মতো
চলেছে। আপনি অবসরগ্রহণ করছেন। আজ আপনার বিদায়ের কথা ভেবে আমরা বেদনা-ভারাক্রান্ত । আজ
বিদায়বেলায় আপনাকে জানাই আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ।

৭২

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

হে কর্মবীর,

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে আপনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের এক আদর্শ প্রতীক। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের
সমৃদ্ধিতে আপনি রেখেছেন অনন্য অবদান। স্কুলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষাসফর,
সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আপনাকে পেয়েছি সুদক্ষ দিক-নির্দেশক ও অভিভাবক হিসেবে ।
একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং আদর্শ কর্মবীর হিসেবে আপনার স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরদিন অস্্রান হয়ে
থাকবে ।

হে বিদায়ী শিক্ষাগুরু,
আজ আপনাকে বিদায় দিতে কী যেন হারানোর বেদনায় হুদয় ভেঙে কান্না আসছে। অনেক সুখকর স্মৃতি

উলে উঠছে মনে । বিদায়মুহূর্তে আশা করব, আপনি আমাদের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিগুলো ক্ষমা করবেন।
অস্লান।

প্রার্থনা করি আপনি দীর্ঘায়ু হোন । আপনার দিনগুলি সুস্থ, সুন্দরভাবে কাটুক, এ আমাদের আন্তরিক কামনা ।

আপনার গ্নেহধন্য
তারিখ : ৯.২.২০১৭ ছাত্রবৃন্দ
রাজশাহী । রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহী ।

৩. নতুন প্রধান শিক্ষকের আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা জানিয়ে মানপত্র।
সাটুরিয়া পাইলট গার্লস হাইস্কুলের নবাগত প্রধান শিক্ষক জনাব কামাল হৌসেনের যোগদান উপলক্ষে
শ্রদ্ধা-অভিনন্দন

হে নবাগত শিক্ষাুরু,

আপনার শুভাগমনে শতান্দী প্রাচীন পাইলট গার্লস স্কুলটি আজ আনন্দে উদ্বেলিত। এঁতিহ্যবাহী এই
শিক্ষাঙ্গনে আপনার মতো একজন গুণী পড্িতের পদার্পণে আমরা ধন্য, গৌরবান্বিত। আপনি আমাদের
প্রাণঢালা অভিনন্দন গ্রহণ করুন।

হে মহান শিক্ষাবিদ,

আপনার আলোকশিখা সবার অন্তরে জ্ীলাবে জ্ঞানের প্রদীপ। সেই আলোয় আলোকিত হব আমরা, হবে

সমাজ ও দেশ। সাটুরিয়া পাইলট গার্লস হাইস্কুলের আজকের সুনামকে ধরে রাখতে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও
করতে আপনার মতো সৎ, একনিষ্ঠ ও যোগ্য ব্যক্তির নেতৃতের একান্ত প্রয়োজন। আলোকিত সমাজ
আপনার অবদান যেন চিরস্মরণীয় থাকে, এটা আমাদের একান্ত কামনা । আপনার প্রেরণা ও

কর্মচাঞ্চল্য নতুন প্রাণ-প্রাচুর্ষে ভরে দেবে আমাদের আঙিনা ।

হে মহান,
আমরা আশাবাদী, আপনার যোগ্য নেড়ে নতুন মাতা পাবে আমাদের পথ চলা সমল শিক্ষার পরিবেশ
হবে আরো উন্নত। আপনার গ্রেহচ্ছায়া জ্ঞানের দীস্তিতে উজ্জ্বল হব আমরা । অবক্ষয়-জীর্ণ সমাজ হয়ে উঠবে
আলোকোজ্জল।

৭৩
রচনা সন্তার ৯-১০, ফর্মা-১০
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
বুকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমরা আজ আপনাকে স্বাগত জানাই । আপনার চলার পথ হোক কুমসুমকোমল।

তারিখ : ৩০.৮-২০১৭ শ্রদ্ধাবনত
মানিকগঞ্জ | আলোকপ্রত্যাশী
সাটুরিয়া পাইলট গার্লস
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ ।

৪. খ্যাতিমান কবি বা সাহিত্যিকের আগমন উপলক্ষে অভিনন্দনপত্র ।
রাজশাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নন্দিত কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আগমনে

হুদয়োফ শ্রন্ধার্ঘ্য

হে বরেণ্য অতিথি,
পুদ্রবর্ধন, বরেন্দ্রভূমি নামে খ্যাত রাজশাহী আজ আপনার পদধুলিতে ধন্য। রবীন্দ্স্ৃতিধন্য এই অঞ্চলের
আমরা উৎসাহিত, উজ্জীবিত। আপনি আমাদের প্রাণঢালা উ্ণ-হুদয় শ্রদ্ধার্ঘ্য গ্রহণ করুন ।

হে নন্দিত কথাশিল্পী,

বাংলাদেশের সমকালীন কথাসাহিত্যে আপনার অবদান অনন্য। সায়েন্স ফিকশন ও কিশোরজীবন বূপায়ণে
আপনার শৈল্পিক দক্ষতা বিস্ময়কর ও চূড়াম্পর্শী। কথাশিল্পী হিসেবে আপনার উন্নত জীবনবোধ, শৈল্সিক চৈতন্য
পাঠকদের মুগ্ধ করে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে আপনার রয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা । আজ আপনাকে আমাদের
মাঝে পেয়ে আমরা মুগ্ধ, অভিভূত ।

হে বিজ্ঞানসাধক শিক্ষাবিদ,

এই স্কুলে আপনার আগমন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে । সৃজনশীল সাহিত্যসাধনার পাশাপাশি কম্পিউটার,
গণিত ও বিজ্ঞানশিক্ষায় আপনার অবদান অসামান্য । নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ ও আধুনিক শিক্ষায়
আপনার লেখা আমৃত্যু সচল থাকুক। আপনি দীর্ঘজীবী হোন। বাংলাদেশের সাহিত্যের আকাশে আপনার
সাহিত্যকর্ম চির উজ্জ্বল দীপ্তি পাক, এই আমাদের একান্ত কামনা ।

ইতি
তারিখ : ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ আপনার গুণমুগ্ধ
রাজশাহী রাজশাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
রাজশাহী ।

৭৪

২০১৮
২০৬৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

ঙ. বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র

১. ভিপিপি করে বই পাঠানোর জন্য পুস্তক ব্যবসায়ীর নিকট পত্র ।

তারিখ : ১৫.২.২০১৭

কর্মীধ্যক্ষ

সাহিত্য প্রকাশ

প্রিতম ভবন,

পুরানা পল্টন, ঢাকা ।

জনাব,

সালাম নেবেন। নিম্নলিখিত বইগুলো অনুগ্রহপূর্বক অতিসত্বর নিম্ন ঠিকানায় ভিপিপি যোগে পাঠালে
বিশেষভাবে উপকৃত হব। বই প্রাপ্তির সঙ্ভো সঙ্গো মূল্য প্রেরণের নিশ্চয়তা রইল।

অনুগ্রহ করে অতিশীঘ্র বইগুলো পাঠানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচিহি।

 

 

আপনার বিশৃস্ত
সাইফ উদ্দিন রুবেল
নবম শ্রেণি(বিজ্ঞান), রোল-৩
দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
দিনাজপুর ।
বইয়ের তালিকা :
১. শিশু বিশ্বকোষ (৫ খন্ড), শিশু একাডেমি, ঢাকা ।
২. নজরুল রচনাবলি (৪ খন্ড), বাংলা একাডেমি, ঢাকা ।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ঢাকা ।
ডাক টিকিট

 

 

 

 

 

 

৭৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
২. মালামাল রস্তানির জন্য অন্য কোনো দেশের কোম্পানির সাথে যোগাযোগ স্থাপনের পত্র ।

তারিখ : ২৭.৫.২০১৭
কর্মাধ্যক্ষ

সিগনেট প্রেস

২৫/৪ বঙ্তিকম চ্যাটার্জি স্ট্রিট,
কলকাতা ৭০০০৭৩, ভারত।

মহাত্বন,
শুভেচ্ছাসহ জানাচ্ছি যে, “বই প্রকাশনী” ৩৮/এ, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০, বাংলাদেশ থেকে বাংলাভাষায়
ব্যবসাভিত্তিক প্রসারে আগ্রহী ।
আপনার অনুমতি পেলে আমি গ্রন্থতালিকা ও নিয়মাবলি পাঠাব । এ বিষয়ে আপনার মতামত জানিয়ে দ্রুত
পত্র লিখুন ।

শুভেচ্ছাসহ

প্রধান ব্যবস্থাপক
বই প্রকাশনী
৩৮/এ, বাংলাবাজার
ঢাকা-১১০০।

 

 

ডাক টিকিট

 

 

 

 

 

 

৭৬

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

চ. আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র

সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নানা প্রয়োজনে আমাদেরকে আমন্ত্রণ, নিমন্ত্রণ বা সমাবেশের আয়োজন
করতে হয়। বিয়ে, জন্মদিন, দিবস উদ্যাপন, সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া উপলক্ষে নির্ধারিত কর্মসূচির আলোকে
যে পত্র লেখা হয় তাকে আমন্ত্রণপত্র বা নিমন্ত্রণপত্র বলে। সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে নির্ধারিত তারিখের
পূর্বেই তা ছাপিয়ে আত্ীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাঝে বিলি করতে হয়।
আমন্ত্রণপত্র বা নিমন্ত্রণপত্র বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন : বিয়ে, জন্মুদিন, কুলখানি, রবীন্দ্র-নজরুল
জয়ন্তী, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্ুয়ারি, বার্ষিক ক্রীড়া, পহেলা বৈশাখ, বর্ষবরণ, সাহিত্যসভা, সাংস্কৃতিক
সপ্তাহ, শিক্ষাসপ্তাহ, বইমেলা, শোকসভা, নাগরিক সংবর্ধনা, সুবর্ণজয়ন্তী, নাট্য-উৎসব, লোক-উৎসব,
সাংস্কৃতিক-উৎসব ইত্যাদি নানা উপলক্ষে ।

নিমন্ত্রণপত্র রচনার বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য নিমন্ত্রণ প্রযোজ্য বলে সাধারণত এ ধরনের পৰ্রের শীর্ষে ধর্মীয় বা
মঙ্গালসূচক কথা ব্যবহৃত হয় না। তবে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের পত্রশীর্ষে কেউ কেউ মুসলমান রীতিতে “পরম

করুণাময়ের নামে” এবং হিন্দুরীতিতে শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ লিখে থাকেন। পত্রশীর্ষে অনুষ্ঠানের
শিরোনামও থাকতে পারে । যেমন : “ঘ্বাধীনতা দিবস”, “লোকমেলা ২০১৭” ইত্যাদি ।

নিমন্ত্রণপত্রের বিভিন্ন অংশ :

১. সন্তাষণ : নিমন্ত্রণপত্রে প্রাপককে সম্বোধন করার জন্য বিশেষ কিছু শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন : সুধী, সৌম্য,
২. মূল পত্রাংশ : এ ধরনের পত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ দেওয়া হয়। নিমন্ত্রণপত্রের
মূল বিষয়বস্তু নির্ভর করে অনুষ্ঠানের প্রকৃতির ওপর । যে উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয় সেই উপলক্ষ, স্থান,
তারিখ, সময় ইত্যাদির উন্লেখ থাকতে হয়। প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে উদ্বোধক, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও
আলোচকের নাম উল্লেখ থাকে । বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে বর-কনের পরিচিতিও আজকাল উল্লেখ করা হয়। এ
ধরনের পত্রের ভাষা সহজ সরল সাবলীল ও স্পঙ্ট হওয়া উচিত। বক্তব্যের মধ্যে বিনম্রভাবও থাকা চাই।

৩. ইতি বা সমাপ্ত : এ ধরনের পত্রে একসময় “পত্র ছ্বারা নিমন্ত্রণের জন্য তুটি মার্জনীয়’, “নিবেদন ইতি’-_
এসব লেখার প্রচলন ছিল। এখন “বিনয় আরজ”, ‘নিবেদক’ ইত্যাদি লেখা হয়ে থাকে।

৪. নাম-স্থাক্ষরে সৌজন্য : চিঠির বিষয় অনুসারে এ ধরনের পত্রে “বিনীত’ “বিনয়াবনত ‘শ্রদ্ধাবনত”,
“ভবদীয়” ইত্যাদি ডানদিকে লিখে তার নিচে আমন্ত্রণকারীর নাম লিখতে হয়। কেউ কেউ সৌজন্য শব্দ ও
স্বাক্ষর বামদিকেও লিখে থাকেন।

৫. ঠিকানা ও তারিখ : নিমন্ত্রণপত্রের বামদিকে তারিখ এবং ডানদিকে আমন্ত্রণকারীর নামের নিচে ঠিকানা
লেখাই প্রচলিত নিয়ম। অধুনা সৌজন্য শব্দ, আমন্ত্রণকারীর নাম, ঠিকানা ও তারিখ বামদিকে লেখার
প্রবণতাও লক্ষ করা যাচ্ছে।

৬. অনুষ্ঠানসূচি : কোনো কোনো অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে আলাদাভাবে অনুষ্ঠানসূচি দেওয়ার প্রয়োজন
পড়ে। এর ফলে আমন্ত্রিত ব্যক্তি অনুষ্ঠানের প্রকৃতি, ব্যাপ্তিকাল ইত্যাদি সম্পর্কে আগেভাগেই ধারণী করে
নিতে পারেন।

৭. পত্র-প্রাপকের ঠিকানা : এ ধরনের পত্রের খামের ওপর আলাদাভাবে পত্র-প্রাপকের নাম-ঠিকানা লিখতে
হয়। নাম-ঠিকানা ভুল থাকলে তা প্রাপকের হাতে নাও পৌছাতে পারে।

৭৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

 

 

 

 

 

 

 

নিমন্ত্রণপত্রের বিতিন্ন অংশ:

পত্রশীর্ষ বিজয় উৎসব ও লোকমেলা ২০১৭

সম্ভাষণ সৌম্য,

মুল পত্রাংশ এবছর মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ তম বর্ষপূর্তি হচ্ছে। গৌরবের এই হিরন্ময়

 

 

 

নাম-স্বাক্ষরে সৌজন্য

 

 

নাম-স্বাক্ষর

 

 

 

 

 

 

 

 

লগ্নে আমরা শেকড়ের সন্ধানে সম্মিলিত হতে চাই। মৃল্যায়ন করতে চাই
আমাদের অর্জন। নির্ধারণ করতে চাই উজ্ভ্বলতর আগামীর লক্ষ্যে এগিয়ে
চলার পথ।

এ উপলক্ষ্যে আগামী ১৬ই ডিসেম্বর জাতীয় শহীদ মিনারে আয়োজন
করা হয়েছে দিনব্যাগী বিজয় উৎসব ও লোকমেলা। এ অনুষ্ঠানে
দেশবরেণ্য গুনীজনরা যোগ দেবেন। এ আয়োজনকে সার্থক করার জন্য
আপনার সবানধব অনশগ্রহণ প্রার্থনা করি।

বিনীত-

রাশেদুল
আহ্বায়ক

বিজয় উৎসব ও লোকমেলা উদ্যাপন পরিষদ ২০১৭ ঢাকা।
৭-১২-২০১৭

অনুষ্ানসূচি

১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার

বিকেল ৪টা : উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

উদ্বোধকি : বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান

প্রধান অতিথি : মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি

সন্ধ্যা টা : গণসীত ও স্বাধীন বাতা বেতারকেন্দ্ের শিল্পীদের গান
রাত৮টা : দেশাত্মবোধক গান

রাত ৯টা : মুক্তিযুদ্ধের নাটক “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
রচনা ঃ সৈয়দ শামসুল হক।

পরিচালনা আনিসুল হক।

 

 

৭৮

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
১. নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে আমন্ত্রণপত্র।
সুধী,
আগামী ২৫শে মে ২০১৭, ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ শুরুবার বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের
জন্বার্ষিকী পালিত হবে। এ উপলক্ষে এ দিন সকাল দশটায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল মিলনায়তনে এক
আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাই ।
১২ই মে ২০১৭ বিনীত-
বেইলি রোড, ঢাকা । ভিকারুননিসা নূন স্কুলের
ছাত্রীদের পক্ষে,
শ্যামলী সুলতানা
সাংস্কৃতিক সম্পাদক
অনুষ্ঠানসূচি

১. সকাল ১০টা : অতিথিদের আসন্গ্রহণ
২. সকাল ১০-১৫ মি. : আলোচনা সভা

মুখ্য আলোচক : নজরুল গবেষক ড. করুণাময় গোস্বামী
৩. সকাল ১১টা : সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

৪. সকাল ১২.৩০ মি. : সমাপ্তি।

২. স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আমন্ত্রণপত্র ।

সৌম্য,

আসছে ২৬শে মার্চ ২০১৭ সোমবার মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আমাদের স্কুলে এক
অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এই মহতী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে সংবর্ধনা
দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয়
উপাচার্য প্রফেসর আ আম স আরেফিন সিদ্দিক । এ ছাড়া উত্ত অনুষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য
ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে আপনি আমন্ত্রিত

তারিখ : ১৬ই মার্চ ২০১৭ বিনীত_
ঢাকা। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল আ্যান্ড কলেজের
ছাত্রদের পক্ষে,
তারেক মাসুদ

মোহাম্মদপুর, ঢাকা ।

৭৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অনুষ্ঠানসূচি :

ভোর ৫ টা ০১ মিনিটে : স্মৃতিসৌধে পুষ্ণস্তবক অর্পণ
সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে : র্যালি

সকাল ১০টায় : সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা
সকাল ১১টায় : সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সকাল ১২টা ৩০ মিনিটে : সমাস্তি।

৫. অনুবাদ

অনুবাদ বলতে বোঝায় ভাষাস্তর। এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর বা পুনর্বিবৃতি। বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর
মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রধান উপায় হচ্ছে অনুবাদ । পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি বিভিন্ন ভাষায় সাহিত্য-সংস্কৃতি,
জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সেসবের পরিচয় পেতে হলে সেসব ভাষা থেকে সেগুলি নিজের
ভাষায় অনুবাদ করে নিতে হয়। বিশ্বের প্রায় সব তথ্য ও জ্ঞান ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাওয়া যায়। তাই
ইংরেজি ভাষা থেকে অনুবাদের ওপর অধিকতর গুরুতু দেওয়া হয়ে থাকে ।

ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদে দুটো ভাষাতেই যথেষ্ট পারদর্শিতা থাকা দরকার। বাংলা ভাষার গাশাপাশি
ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য ও জ্ঞানের বই, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি পড়ার অভ্যাস করলে এ ধরনের দক্ষতা গড়ে ওঠে ।

অনুবাদের ধরন
অনুবাদ প্রধানত দু-ধরনের : ক. আক্ষরিক অনুবাদ, খ. ভাবানুবাদ।
ক. আক্ষরিক অনুবাদ

এক ভাষার শব্দের বদলে অন্য ভাষার শব্দ বসিয়ে অনুবাদ করাকে বলা হয় আক্ষরিক অনুবাদ । আক্ষরিক
অনুবাদ মূলানুগ হয়ে থাকে । এ ধরনের অনুবাদ প্রায় ক্ষেত্রেই কৃত্রিম হয়। আক্ষরিক অনুবাদে ভাষার সৌন্দর্য
ও মাধুর্য থাকে না বললেই চলে । যেমন : “11979 ৬43 19 19[‘-এর আক্ষরিক অনুবাদ : “সেখানে কোনো
উত্তর ছিল না ।” এ জাতীয় অনুবাদ গ্রহণযোগ্য হয় না। গ্রহণযোগ্য অনুবাদ হচ্ছে : ‘কোনো উত্তর এল না।’
সাবলীল হয় না বলে সাধারণত আক্ষরিক অনুবাদ পরিহার করা হয়। তবে দলিল-দস্তাবেজ, বিজ্ঞান ও
আইনের বিষয়ের অনুবাদ অনেক ক্ষেত্রে আক্ষরিক হয়ে থাকে।

খ. ভাবানুবাদ

মূলের অর্থ ঠিক রেখে নিজের ভাষার রীতি অনুযায়ী স্বাধীন অনুবাদকে বলা হয় ভাবানুবাদ। এ ধরনের

অনুবাদ মূলানুগ হয় না, কিন্তু প্রাঞ্জল, সুখপাঠ্য ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে থাকে । আক্ষরিক অনুবাদ রস উপলব্ধির
পক্ষে বাধা হয় বলে সাহিত্যের অনুবাদ সাধারণত ভাবানুবাদ হয়ে থাকে ।

ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের কৌশল

অনুবাদ মানে এক ভাষার শব্দের বদলে অন্য ভাষার শব্দ সাজানো নয় | বরং মূল ভাব বা বত্তব্য অন্য ভাষায়
প্রকাশ করা। তাই ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদের সময় নিচের কয়েকটি প্রধান দিকের প্রতি লক্ষ রাখা
দরকার :

৮০

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

১. অনুবাদ করার সময় নির্ধারিত অংশটুকু মন দিয়ে বারবার পড়ে মূল কথা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

২. দুর্বোধ্য শব্দ বা বাক্যাংশের অর্থ জানা না থাকলে বত্তব্য বিষয়ের সঙ্ভো সংগতি রেখে সম্ভাব্য কাছাকাছি
বাংলা শব্দ ব্যবহার করতে হবে । অনুবাদ সম্ভব না হলে দুর্বোধ্য শব্দ বা বাক্যাংশটুকু হুবহু বাংলা
বাক্যে ব্যবহার করা যেতে পারে ।

৩. ইংরেজি অনেক শব্দের আক্ষরিক বাংলা অনুবাদ সম্ভব নয়। এমন ক্ষেত্রে ভাবানুবাদ করা ছাড়া উপায়
থাকে না।

৪. মূলের বাচ্য ও ক্রিয়ার কাল অনুবাদে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।

৫. মুল বাক্য জটিল বা যৌগিক বাক্য হলে বাংলা অনুবাদের সুবিধার জন্য তা একাধিক বাক্যে ভেঙে
অনুবাদ করা ভালো । যেমন :

মুল বাক্য : [1010৬ 010 1081) 57100 0100 চ05107085 19 010 9010 0111 [10100 9112000].
আড়ব্ট অনুবাদ : আমি এ লোকটাকে জানি যে গতকাল মারা গেছে সে আমার বন্ধু সবুজের পিতা।

সাবলীল অনুবাদ : গতকাল যিনি মারা গেছেন তাকে আমি চিনি। তিনি আমার বন্ধু সবুজের বাবা ।
৬. মূলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উত্তি অনুবাদে অক্ষুণ্র রাখতে হবে ।

৭. ব্যত্তি, স্থান ইত্যাদি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য শব্দের অনুবাদ হয় না। এ ধরনের শব্দ বাংলায় প্রতিবর্ণীকরণ
করতে হয়। অর্থাৎ উচ্চারণ অনুযায়ী বাংলায় লিখতে হয় । যেমন : 57819599216 _শেকসপিয়র, 15101
নিউটন, [.00007-_ লন্ডন ।
৮. মূলে পরিভাষা থাকলে অনুবাদে সুপ্রচলিত বাংলা পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত। বাংলা পরিভাষা
অপ্রচলিত বা দুর্বোধ্য হলে মূল পরিভাষার বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ করতে হয়। যেমন :
পারিভাষিক শব্দের ভাষান্তর : [91০5-_-পদার্থবিদ্যা, 401০০1%6–বিশেষণ,
0007- আদালত ।
পারিভাষিক শব্দের প্রতিবর্ীকরণ : [91951510॥–টেলিভিশন,
00105019-_কম্পিউটার, 318000-_স্টেশন |
৯. মূল পাঠে ব্যবহৃত শব্দের একাধিক অর্থ থাকলে অনুবাদে অধিকতর গ্রহণযোগ্য শব্দ বেছে নিতে হয়।
যেমন :
[91010110176 1116-_-টেলিফোনের লাইন/ তার
4৯ [91105 1176-_মাছ ধরার সুতো
[১8181161111195–সমান্তরাল রেখা
4&, 1085 116–বাস চলাচল ব্যবস্থা
[76 8001] 1176- বংশপরম্পরা |
১০. বাংলা অনুবাদে যেন সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণ না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হয়।
১১. বাংলা অনুবাদের ভাষা যেন কৃত্রিম বা আড়ষ্ট না হয়। বাংলা ভাষার মাধুর্য, সরলতা, স্পষ্টতা,
সাবলীলতা ইত্যাদি যেন বজায় থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত।
১২. বাংলা ছাদের বাক্যরীতি ও ইংরেজি ছীদের বাক্যরীতির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। তাই অনুবাদ
করার সময় ইংরেজি রীতির বাক্যকে বাংলা রীতিতে বদলে নেওয়া ভালো । এ ক্ষেত্রে কয়েকটি লক্ষণীয়
দিক হচ্ছে:

ক. ইংরেজিতে কর্তীর পর ক্রিয়া ও শেষে কর্ম বসে। পক্ষান্তরে বাংলায় কর্তার পরে কর্ম ও শেষে ক্রিয়া

৮১
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-১১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বসে। যেমন :
[79 01855000901081] 59516]0দ5, [কর্তা + ক্রিয়া + কর্ম অন্য পদ)]
সে গতকাল ফুটবল খেলেছিল। [ কর্তা (+অন্য পদ)+ কর্ম + ক্রিয়া]

, ইংরেজিতে ৮৪1) ব্যবহার করতেই হয়। বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে । যেমন :
7৩ 0001 15 0০.–দরজাটা খোলা [ক্রিয়াপদ উহ্য]

. ইংরেজি বাক্যে ৪, 2], 016 থাকলে অনেক ক্ষেত্রে বাংলায় সেগুলির অনুবাদ হয় না। যেমন :
চ010919 15 8 10010 %10০.-__-সততা মহৎ গুণ ।
[79107055 ৪101 20006 005 92101), [176 5010 2120 11091770010.

তিনি পৃথিবী, সূর্ধ ও চন্দ্র সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন।

, ইংরেজি বাক্যে অনেক ক্ষেত্রে 1, 1০1০, 178 ইত্যাদি বিশেষ রীতি হিসেবে ব্যবস্থৃত হয়। বাংলায়
এগুলো বাদ দিতে হয় । যেমন :
[01915 ৪ 90000] 10 0811511188০. আমাদের গ্রামে একটি স্কুল আছে।

. ইংরেজি বাগ্ধারা বা প্রবাদ-প্রবচন অনুবাদের সময় লাগসই বাংলা বাণৃধারা বা প্রবাদ-প্রবচন
ব্যবহার করা উচিত। যেমন :

৪ 011 90৬ 90 00 [982.__-যেমন কর্ম তেমন ফল।

ঢ০1095 5016 (0 1085.__-সে গোল্লায় গেছে।

– ইংরেজি ও বাংলা প্রশ্নবাক্যের পদক্রম আলাদা । বাংলা অনুবাদে বাংলা রীতি অনুসরণ করতে হয়।
যেমন :

£&15 7০11]? [ ক্রিয়া/সহায়ক ক্রিয়া + কর্তা +…]

আপনি কি অসুস্থ? [ কর্তা + প্রশ্নসূচক অব্যয় +….]

৮২

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

শুনা অনুবাদ

 

বঙ্গানুবাদ : আমি চিঠি লিখছি। এখন রাত, সবাই নিদ্রাচ্ছন্ন। রাত জেগে জানালার পাশে বসে তোমার কাছে
লিখছি। বাগান সুগনেধ ভরপুর । বাতাসে উ্ণতা ।

 

বঙ্গানুবাদ : আমার শখ বিদেশি ডাকটিকিট সংগ্রহ করা । আমি এটা বেছে নিয়েছি কারণ এটা যেমন মজার
তেমনি শিক্ষামূলক । এটা সংগ্রহের ভেতর দিয়েই বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক, এঁতিহাসিক, সামাজিক অবস্থা
সম্পর্কে জানা যায়। কৌতৃহলজনক বিভিন্ন জিনিস, দুর্লভ প্রাণী, সুন্দর জায়গার ছবি___ সবই চিন্তাকে
উসকে দেয়।

 

বঙ্গানুবাদ : এই আমার মা। আমার মায়ের মতো আর কেউ নেই। আমার প্রতি তিনি কত না ম্তরেহশীল!
তিনি সদাই আমার যত্বু নেন। আমি অসুস্থ হলে মা বড়ই উদ্বিগ্ন হন।

 

বঙ্গানুবাদ : ধূমপান খুব ক্ষতিকর । সেইসঙ্গে ব্যয়বহ্রলও। এটি পরিবেশকে দূষিত করে । যারা ধূমপান
করেন তারা বেশিদিন বাচতে পারেন না। তাই প্রত্যেকেরই উচিত ধূমপান ত্যাগ করা ।

 


মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বঙ্গানুবাদ : পরিচ্ছন্নতা একটি গুণ। শরীর ও অন্য সবকিছু ময়লামুক্ত রাখার একটি অভ্যাস এটি বিশুদ্ধ
মনের জন্য চাই পরিচ্ছন্ন দেহ। পরিচ্ছন্রতা স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এটা বিনয়েরও লক্ষণ ৷ ভালো স্বাস্থ্য মনকে
প্রফুল্ল রাখে।

বঙ্গানুবাদ : সময়ানুবর্তিতার চর্চা করে একে অভ্যাসে পরিণত করতে হয়। শৈশবকাল থেকেই বিভিন্ন
কাজের মধ্য দিয়ে এই গুণ অর্জন করতে হয়। শৈশব হচ্ছে বীজ বপনের সময়। এ সময়ে গড়ে ওঠা
অভ্যাসই আমাদের মধ্যে সারা জীবনে বজায় থাকে । আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত “যথাসময়ে যথা কাজ ।”

গ্‌

 

বঙ্গানুবাদ : সততা মহৎ গুণ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের গোপন রহস্য হলো সততা । সততার মূল্য
খুবই বেশি। সততা দিয়ে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও নিভীঁকতা জয় করা যায়। সৎ ব্যক্তি সুখে ও মর্যাদায় দিন
অতিবাহিত করে । সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা ।

 

বঙ্গানুবাদ : কট ছাড়া এ জীবনে কিছুই অর্জিত হয় না। বস্তৃত, বাধা-বিদ্ব না থাকলে জীবন হয়ে পড়ত
নিরানন্দ। খেলায় যদি প্রতিযোগিতা না থাকে আর তার ফলাফল পূর্বনির্ধারিত হয়, তবে সে খেলা তার মজা
হারিয়ে ফেলে । খেলায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দিতা তীব্র হলে বিজয়ী এবং বিজিত উভয়েই তা দারুণ
উপভোগ করে।

.

বঙ্গানুবাদ : ছাত্রদের আছে তারুণ্য ও শত্তি। তারা উচ্চ আদর্শে ভরপুর । পরিবার চালানোর দায়িতু থেকে
তারা মুক্ত । কাজেই, সমাজসেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা তাদের পক্ষে সহজ ।
৮৪

২০১৮
২০১৮

অনুবাদ : আমাদের জীবন সংক্ষিপ্ত। কিন্তু আমাদের অনেক কিছু করার থাকে । মানবজীবন কিছু মুহূর্তের
সমফ্টি মাত্র । তাই এক মুহূর্তও আমাদের অকারণে নষ্ট করা উচিত নয়। সময় নষ্ট করার অর্থ জীবনকে
সংক্ষিপ্ত করা। সময় ও জোয়ার-ভাটা কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

১১

1191) 0090০ ৬০1০ 00 166 71017011195 076 969. %/859 00160 2100] 016 5 585 ০169 280 0106. 1176
81110 15% 1999 11180 11911 ৪ [0116 টিটো) [179 5110106. [79 ৮7191160116 001110 16801160 (116 51111055106 89 15
1180 100 10900 8110 110 01011)116 ৮101) 101705 50 116 5৮/ঞা। 00 (0 10 20 201 1110 (116 9101]95 08101
(01010£1) ৪ 11016 1) 0116 9100.

অনুবাদ : পরদিন সকালে যখন ক্রুসোর ঘুম ভাঙল তখন সমুদ্র শান্ত, আকাশ নীল এবং মেঘমুক্ত। জাহাজ
তটভূমির আধ মাইলেরও কম দূরে রয়েছে। সে জাহাজের কাছে যেতে চাইল। কারণ খাবার বা পোশাক
কিছুই তার কাছে ছিল না। সে সীতার দিয়ে জাহাজের পাশের একটি গর্তের মধ্য দিয়ে কেবিনে প্রবেশ
করল।

১২

 

অনুবাদ : সেকালে পৃথিবীর বিখ্যাত পর্যটকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মার্কো পোলো । তিনি ভেনিস শহরে
১২৫৪ খিষ্টাব্দে জন্গ্রহণ করেছিলেন। মার্কোর বয়স যখন পনেরো, সেই সময় তাঁর পিতা চীন দেশে যাবেন
বলে স্থির করেছিলেন । মার্কোর স্বাস্থ্য বিশেষ ভালো ছিল না । এই দীর্ঘ ভ্রমণের পক্ষে তা ছিল একেবারেই
অনুপযোগী । কিন্তু তিনি ছিলেন সাহসী । তিনি পিতাকে তার সহ্যাত্রী করে নেবার জন্য সম্মত করালেন ।

 

অনুবাদ : হারকিউলিস ছিলেন একজন মস্ত বীর। একবার এক অচেনা জায়গায় যাওয়ার পথে তিনি এক

৮৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দৈত্যকে দেখতে পেলেন । দৈত্যটি ছিল পাহাড়ের চেয়েও লম্বা, সে তার মাথায় করে আকাশ ধরে রেখেছিল।
সে হারকিউলিসকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কে? কী চাও?” সেই বীর বলল, “আমি হারকিউলিস ৷ আমি সোনালি
আপেলের বাগানে যেতে চাই

১৪

,

অনুবাদ : গ্রন্থের মাধ্যমেই আমরা সর্বোত্তম সমাজের পরিচয় পাই। গ্রন্থ আমাদের শ্রেষ্ঠ মননশীল ব্যক্তিদের
অস্তিতের কাছে নিয়ে আসে । আমরা তাদের কথা ও কাজের সম্বন্ধে জ্ঞাত হই । আমরা দেখি, যেন তারা
সত্যিই জীবিত। আমরা তাদের চিন্তাধারার অংশগ্রহণকারী হয়ে পড়ি । তাদের সঙ্গে আমরা সমব্যঘী হয়ে
যাই।

১৫

 

অনুবাদ : নিজের দেশকে ভালোবাসাই স্বদেশপ্রেম। এটি এক প্রবল ভাবাবেগ, যা স্বার্থহীন ও মহৎ।
স্বদেশের কল্যাণ কামনায় একজন দেশপ্রেমিক নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে পারেন। এটি একটি
আদর্শ, যা দেয় সাহস ও শত্তি। কিন্তু মেকি স্বদেশপ্রেম মানুষকে সংকীর্ণমনা ও স্বার্থপর করে তোলে ।

১৬

 

অনুবাদ : সততা মহৎ গুণ। যদি অপরকে প্রতারণা না কর, মিথ্যা না বল, অন্যের সঙ্তো যথার্থ ও
ন্যায়সংগত আচরণ কর, তবে তুমি সৎ ব্যন্তি। সততাই শ্রেষ্ঠ পন্থা । সৎ ব্যন্তিকে সকলেই সম্মান করে।
সততা ব্যতীত কেউ জীবনে উন্নতি করতে পারে না।

১৭.

 

 

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অনুবাদ : জীবনে সুখের জন্য নিঃসন্দেহে ধনসম্পদ প্রয়োজন । কিন্তু এই ধনসম্পদ মুফিমেয় ব্যন্তির হাতে
কেন্দ্রীভূত হওয়ার একটা প্রবণতা থাকে । এর ফলে ধনী হয়ে ওঠে আরও ধনী, আর দরিদ্র হয়ে ওঠে আরও
দরিদ্র। এটা অবশ্যই ধনের অপব্যবহার। সমাজের বৃহত্তম অংশের সুখস্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির জন্য ধনসম্পদের
ন্যায্য বণ্টন প্রয়োজন ।

১৮

 

অনুবাদ : আমরা বিজ্ঞানের যুগে বাস করি। বিজ্ঞানের দ্বারা অনেক জিনিস আবিষ্কৃত ও উদ্ভাবিত হয়েছে।
আমরা দৈনন্দিন জীবনে সেগুলি সুখ-সুবিধার জন্য ব্যবহার করছি। বিদ্যুৎ মানুষের কাছে বিজ্ঞানের অন্যতম
শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্পূর্ণ উপহার । বিদ্যুৎ আমাদের জীবনধারাকে অনেকখানি বদলে দিয়েছে।

১৯

 

অনুবাদ : ছাত্রজীবন ভবিষ্যতের প্রস্তুতিপর্ব। এ সময়টি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আজ যে ছাত্র
তরুণ, আগামী দিনে সেই হয়ে উঠবে পরিণত মানুষ । তার নানা কর্তব্য আছে। সেগুলি তাকে সুষ্ঠুভাবে পালন
করতে হবে । ছাত্রজীবনে তার প্রাথমিক কর্তব্য হচ্ছে অধ্যয়ন ও শিক্ষালাভ। পড়াশুনায় তার যত্ুশীল হওয়া
উচিত।

 

অনুবাদ : কম্পিউটার বিজ্ঞানের এক নতুন বিস্ময়। তা মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার হিসেব কষতে পারে,
লক্ষ লক্ষ তথ্য ও সংখ্যা স্বৃতিপটে ধরে রাখতে পারে এবং অনায়াসেই তা স্মরণ করতে পারে । আমাদের
দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। বর্তমানে ব্যাংক, দোকান, বিমান, অফিস, গ্রন্থাগার
সর্বত্র কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। মনে হয়, ভবিষ্যতের মানবসভ্যতায় কম্পিউটারের ভূমিকা প্রাধান্য লাভ
করতে চলেছে।

৮৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

 

অনুবাদ : শুভ হোক তোমার জন্মদিন’_-এ গানটি কে লিখেছিলেন? ১৮৯৩ সালে মিলড্রেড ও প্যান্টরিহিল
নামে দুই বোন “তোমাকে জানাই সুপ্রভাত’ নামে একটি গান রচনা করেছিল। কেউ-একজন এক পার্টিতে
গানের কথাগুলিকে বদলে অধুনা-পরিচিত কথার রূপ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এ গানকে কেউ তেমন গুরু
দেয়নি। বর্তমানে গোটা বিশ্ব জুড়ে সারাবছর গানটি গাওয়া হয়।

২২

1015 ৮০1 69 [0 80001161020 1810165, 5001) 25 92116 (00 10870 ৪9915 01 1009 11001) 10900 01
0111010106 100 [00101] 11001 01 21% 10110, 01 917010116. 11006 18অনুবাদ : বদ অভ্যাস আয়ত্ত করা খুব সহজ, যেমন অনেক অনেক মিষি খাওয়া বা অনেক বেশি পরিমাণ
খাওয়া কিংবা কোনোরকম তরল দ্রব্য বেশি পান করা বা ধূমপান করা । আমরা যতই কিছু-একটা করি ততই
সেটা আরও বেশি করা পছন্দ করি। যদি তা করে যেতে না পারি তাহলে অসুখী বোধ করি। একে বলা হয়
অভ্যাসের জোর। এই অভ্যাসের জোরের বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত।

হত

01027 0810 1001 1156 210116. ড/17611 ৮76 816 011110761 006 গি0115 [01016019 05. ৬1121) ৬৮০ পা0জ্/ 2],
০ 1990 (179 11011) 0£ 811 (110 79901019 8108110 15. [1 ৮/9 (9 (0 11৮০ 81079, 00] 11595 810 00 01110
[181] 00050 01 817117915. 00101 19101018110 10010701, 0111 168011015, 01 £0%011017011 ৪1] (11950 (811 05
69 00 0ম গো],

অনুবাদ : মানুষ একা বাচতে পারে না। আমরা যখন শিশু, পরিবার আমাদেরকে রক্ষা করে । আমরা যখন
বেড়ে উঠি, চারপাশের লোকজনের সাহায্য আমাদের দরকার হয় । যদি আমরা একাকী জীবনযাপনের চেষ্টা
করি, তাহলে আমাদের জীবন পশুর জীবনের চেয়ে আলাদা কিছু হবে না। পিতা-মাতা, শিক্ষকমণ্ডলী,
সরকার–সবাই আমাদের কর্তব্য পালনের শিক্ষা দেয়।

২৪

06 1116 01 ৪9110611115 ৪ ]ি 01 [01010981811017, [16108181101] 101 018 511718516 01116. 10 11916 11)
৮০1] 10160 107 106 9105816, ০000০811011 19 106095501%. 900061019০0 1008 চ71]] 1620. 1106 1181101
(01010710/- 130 11 1161 90009811011 15 110 001001)19660, ৮010 11865 06 2016 10 16980 1106 00100 (0
[098০০ ৪110 [010011?

৮৮

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অনুবাদ : ছাত্রজীবন জীবন-সংগ্রামের প্রস্তুতির সময় । সেই সংগ্রামের জন্য তাকে যথাযোগ্য করে তুলতে
শিক্ষা দরকার। আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনে জাতির নেতৃত় দেবে । কিন্তু তাদের শিক্ষা পূর্ণাঙ্ঞা না হলে
তারা কি দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারবেঃ

২৫

ঢা 10 10569 1115 000100% 19 ৪. 08111001116 [08101019 1059 11761 001]0গ [1076 06211 07811 11091]
11595. 10765 ৪16 1680 10 1985 00এা) [1001 11569 101 (106 ৮610816 01 011617 008110115. [7৮015000%
110110015 01017. 17767 1150 55211 8162 11161 05801),

অনুবাদ : ঘিনি তার দেশকে ভালোবাসেন, তিনিই দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমিকেরা দেশকে তাদের জীবনের
চেয়েও বেশি ভালোবাসেন । দেশের মক্তালের জন্য তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত । সবাই তাদের
সম্মান করে। এমনকি তারা মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকেন ।

২৬

06 10957508109] 15 & ৮07 19901] (11715. £৯ [0195001 5/6 0110 11097119 116555109810915 0া। 1381151905911.
1০575021901 11011)5 016 [)101695 01 2.1781101. 7601016 ৪০ 68561 00 1000য/ 51181 15 £0111 01) 11 006
0110. 11065 ০21) 10107 01019 210 00081 105 1920118 0116 10979080901, 1 81559 09 2]1 ৪0113 01165 07
0 0%7া) 19110 23 ছ/76]] 89 10161817 191)09.

অনুবাদ : খবরের কাগজ খুবই উপকারী । বর্তমানে বাংলাদেশে আমরা অনেক খবরের কাগজ দেখতে পাই।
খবরের কাগজ জাতির উন্নয়নে সহায়তা করে। পৃথিবী জুড়ে কী ঘটছে, মানুষ তা জানতে আগ্রহী । খবরের
কাগজ পড়ে নানা বিষয়ে তারা জানতে পারে । এটা দেশের এবং দেশের বাইরের সব ধরনের খবর আমাদের
দিয়ে থাকে।

২৭

4৯00৮ 1189 12 ৮91 1980 8 919]5019 11165119019, 29021810177 ৪100 61) [21151191). 70176 119 706
9] 0161 ৮৮10] 1715 1191105; 116 1185 1706 2019 60 1012156 9:0911917 1700615 0 89101918176 01 01
08175. [1 90, 176 [01511 0500179 ৪ 109610]1 16201167 8 ৬/000 ৮/0115 [81116711191] ঘা 00111181070 01901 11
ঞা। 01009,

অনুবাদ : কোনো বালক ইতিহাস, ভূগোল এমনকি ইংরেজির মতো বিষয়ে ভালো নাও হতে পারে। কিন্তু সে
বিভিন্নরকম হাতের কাজে দক্ষ হতে পারে; সে হয়তো উড়োজাহাজ কিংবা ট্রেনের চমতকার মডেল তৈরিতে
সক্ষম । যদি তাই হয় তবে তার জন্যে হয়তো অফিসের অসুখী কেরানি হওয়ার চেয়ে কাঠের কাজের শিক্ষক
হওয়া ভালো।

২৮

51060699115 01169111108 15116119]) ০9101001106 6%61-562160. 121181151) 19 ৪1) 10091119110119] 191500886.
[15 995011118]1 11 0011 08%-10-08% 80015106195. ৬০ [711151 1010%/ 177161151) 111 01067 10 550 17) 001 8119
190.710616 79 081015 210 910081101) ৮51)610 0116 61010105965 0817 00 ৮5101)00112051191).

৮৯
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মী-১২
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অনুবাদ : ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যায় না। ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা।
আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোতে এটি দরকারি । যে-কোনো চাকরির জন্য আমাদেরকে অবশ্যই ইংরেজি
জানতে হবে । এমন জায়গা কমই আছে যেখানে কর্মচারীরা ইংরেজি ছাড়া চলতে পারে ।

২৯
[00090101) 19 1006 10201090179 ০01 ৪ 10901011. 1ঘ0 1008£0999 0) 1706 10591016 %5100)0100 2000811010.
[21019170619 11106 081101695. 90 11)6 1191]. 0 60109101] 19 176095921 101 900191%. 17৮015000ড 711]
11852 (0 81001901816 (1115 17011). 9171061015 19011) 0059 ৪110] 50115 [71819 706 09001501019 01 (1911
16500108111111%. 00101615150 11191091101) ৮11] 10109 21916 (0 908 (110 1161) 011)0100,

অনুবাদ : শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। অজ্ঞতা অন্ধকারের সমতুল্য ।
সমাজের জন্য তাই শিক্ষার আলো দরকার । প্রত্যেককে এই সত্য উপলব্ধি করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রী উভয়কেই
তাদের দায়িতৃ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে । তা না হলে জাতি আশার আলো দেখতে সক্ষম হবে না।

৩০

ড/5 9110010 0০৪ 016 0001866 10 98 005 119110 01176. ৮/6 11650 1101 0681 17617 1101 0819 00] ৮179
0111015 (11171 01 03. 50 10115 ৪8৪ 00] 70011700959 15 110119515 000 ৮111 190 0 0] 5109, 210 ৮৮101 1715
10011), ৩ 5118]] 0০ 010 60 9170001880 0010 5921, 10710015 ৮7০ 81191] 709 81016 10 11811) 10 1116 2170
39810] 105 8091.

অনুবাদ : ঠিক কথা বলার সাহস আমাদের থাকা উচিত। মানুষকে ভয় পাবার কিংবা অন্যরা আমাদের
সম্পর্কে কী ভাবে তা নিয়ে মাথাব্যথার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের উদ্দেশ্য সৎ হলে সৃষ্টিকর্তা
আমাদের পাশে থাকবেন এবং তীর সহায়তায় আমরা দুর্বলদের অনুপ্রাণিত করতে সমর্থ হব। এভাবে আমরা
জীবনে এগিয়ে যেতে এবং জীবনের লক্ষ্য অনুসন্ধানে সক্ষম হব।

৩৯

/2 17859 00163 10 0090, €0 5806 ৪10 10 (75 50016. 00৫ 1195 0198/90 9 ৪110 1018060 05 00 11115
092010001 98100. ০ 816 17091019010 01 500191% (01 1176 591%1999 11101101619 10 05. 00150901651 15
1109 ৪. 10180111106 01 চ711101) ড০ 819 1116 [১9115, ৬/6 17856 10 018% 0] 0%্ভা। [9801 01000617156 (116
30016 ৮711] [101 [0109[961.

অনুবাদ : সৃষ্টিকর্তা, রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি আমাদের দায়িতু রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন
এবং এ সুন্দর পৃথিবীতে স্থান করে দিয়েছেন। সমাজ আমাদের যে সেবা দেয় সেজন্য আমরা সমাজের
কাছে খণী। আমাদের সমাজ একটা যন্ত্রের মতো এবং আমরা এর অংশ । আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ
ভূমিকা পালন করতে হবে। তা না হলে সমাজের উন্নতি হবে না।

৩২

ঘা 0 ০0000 0056 19 ও £620101090100. 806 46 00 1701 আ1106151211] 0191 0119 011811115 0]
0] 01981101]. 1৬109 17000010 00 1001 15 00 1100010%9 (101 00010111010 5101 11810 18000, 1719 001
60765319866 10] (1161 019006599 ৪110 1018116 11161 10 10] 11.

৯০

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অনুবাদ : আমাদের দেশে দারিদ্র্য একটি বড় সমস্যা । কিন্তু এই অবস্থা যে আমাদেরই সৃষ্ট তা আমরা
উপলব্ধি করি না। অধিকাংশ মানুষ কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা তাদের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করে না। তাদের
অসহায়তের জন্য তারা শুধু আফসোসই করে এবং এ জন্য নিজেদের ভাগ্যকে দায়ী করে ।

৩৩

[38176180991) 92000115 100০ 10 1019157 00011110195. [1 0111769 10101) 1010170% (0 1119 00811111781 15
ঘ€1)য 10019 15 081100 01016010011 [10101 01 18116190991). 1119 ৪ 010 1190101 0111175,

অনুবাদ : বাংলাদেশ বিদেশে পাট রপ্তানি করে। তা দেশে প্রচুর অর্থ বয়ে আনে। এ জন্য পাটকে
বাংলাদেশের “সোনালি আঁশ’ বলা হয়। এটি খুবই উপকারী দ্রব্য

৩৪

88115180981) 75 101 ৪ ৮০ 016 ০00]0179, 30116 15 0116 01 106 71051 09119619 [010018090 00011019511) (116
₹/01]0. 11010 0121) 010 11010100৪00 101] 10111101) [60016 116 11 (1019 91191] 00111, 105 [901)0181101) 15
৭101]] 01 016 11001658950. ]1 1116 11656171189 01171016856 00111111165 011100170101190, 1101 [00011181101] 511] 0০
009160 ৮7101011162 1৮%61065 6219.

অনুবাদ : বাংলাদেশ খুব বড় দেশ নয়। তবে এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর একটি । এই ছোট
দেশটিতে চৌদ্দ কোটিরও বেশি লোক বাস করে। এর জনসংখ্যা এখনও ক্রমবর্ধমান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির
বর্তমান হার যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে অব্যাহত থাকে তবে পরবর্তী বিশ বছরে এর জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

৩৫

4 10951900819 19 ৪. 31016-1101136 01 1010%1605. ৬9. 081) 1010 1106 00000161011, 17181111213 800
01900111901 00191 09901101195 01 1106 চ/01]0ু [ি0]া) 11655108061, [119 10] 9০ 0116 90101081701 81]
0011611(10151019. 11 50101091195 11010109110] (0 8৪1] 0185599 01 19901016. “7116 100511195971910 11105 119
00110111017 01116 70110 171711051 8100111 1115 0005 111101151) 11057908100]

অনুবাদ : সংবাদপত্র হচ্ছে জ্ঞানের ভাার। সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অবস্থা,
আচার ও প্রথা সম্পর্কে জানতে পারি । বস্তুত এটি হলো চলমান ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত সার। সর্বশ্রেণির
লোকের কাছে এটি তথ্য সরবরাহ করে থাকে । ব্যবসায়ী তার পণ্য সম্পর্কে বিশ্ববাজারের অবস্থা জেনে নেয়
সংবাদপত্রের মাধ্যমে ।

৩৬

4৯ 0০৫ 9201)01 15 0179 01 1179 11091 17110018176 10901916 11 2য় 001111চ. 138115170951 19903 800৫
658017615. 4৯ 2000 16201)61 1798155 16990119 116616511116. [76 1069109 70010115 2110 511061)19 25210. [76
2150 10121069 11191) 0018006116 2100 11093 11191) 019%21. 5৮910001805 50116111116 ৮2171901016 1)
10117), 4৯ 60001980100] 01900৮915 1176 006881016 11100617 1115106 92.011 50100111.

৯১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অনুবাদ : একজন ভালো শিক্ষক যে-কোনো দেশেই অন্যতম গুরুত্ৃপূর্ণ ব্য্তি । বাংলাদেশে ভালো শিক্ষকের
প্রয়োজন রয়েছে । ভালো শিক্ষক পাঠকে আকর্ষণীয় করে তোলেন। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সজাগ রাখেন।
তিনি তাদের আত্মবিশ্বাসী এবং চালাক-চতুর করে তোলেন। প্রত্যেকের মাঝেই মূল্যবান কিছু থাকে । ভালো
শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রের মধ্যে নিহিত সম্পদকে আবিষ্কার করেন।

৩৭

0111 1018] 910%1101010611 110101610065 0101 116 ৪110 001 985 01 111118. 1776 10181] 61017761105 01 0]
610%1101017161) 216 10015 211110815, [91910695 5011, পা 10 ৮7816. 10116106816 1018610119111009 21001
01956 6191107105. %/1101) (11017 16151015101095 816 01510110605 110 09001099 01000018110 11100951116.
3 109010105 016 91117001716, 9806 17181) 0811 91191019 ৪ 11081111107 8100 11981010107 116.

অনুবাদ : আমাদের সমগ্র পরিবেশ আমাদের জীবন এবং জীবন-পদ্ধতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আমাদের
পরিবেশের প্রধান উপাদানগুলো হল মানুষ, প্রাণী, গাছপালা, মাটি, বাতাস এবং পানি। এসব উপাদানের মধ্যে
পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে । যখন এদের মধ্যকার সম্পর্ক বিদ্বিত হয়, তখন জীবন কষ্টসাধ্য ও অসম্ভব হয়ে
পড়ে । পরিবেশকে নিরাপদ রাখার মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যকর ও সুখী জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

4৯ [761010917 %7110 1190 01166 02118116515 5 9900178 006 1100] ৪ 1001106%, 0% 09016 176 ৮৮০12 106
84060 680) 08081)16] ড/1001 610 106 91701110 10111610111]. 0116 91095 ₹/151060 [01 [968119, 1116
58001101011 1955615, 1১01 (012 101110 5210, 10621 08611617 11115 116 21058+. ও, 1 23110 629% (851.
[9 0010 10561061016 1116 1010016 01 চ/111101. ৭6 85 9116 ৮785 0116 [811950 0811801621 8100 চ€া [010 07
11050195100] ছি01161 5810 106 ৮0010 [৮1081 116 00010 00.

অনুবাদ : ভ্রমণে যাবার প্রাক্কালে একজন বণিক তার তিন কন্যার কাছে জানতে চাইলেন কার জন্য কী
আনবেন । বড়মেয়ে মুক্তা, মেজোমেয়ে জহরত আনতে বলল। কিন্তু তৃতীয় জন বলল, “বাবা আমার জন্য
একটি গোলাপ এনো।” এখন মধ্যশীতে গোলাপ পাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। তবু তৃতীয় জন সবচেয়ে
সুন্দরী কন্যা এবং গোলাপপ্রেমী বলে তার বাবা তাকে বললেন যে, তিনি তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন।

৩৯

40081010619 2 1081] 710 1009 1019 0011111%5 ৬/0115 0] 11, 2100 15 51111715 10 06177 8100 015 00111.
13591 8010161 19 0011110 (0 00 1015 001%, 1000 116 0930 90101615 00 17016 (01911 01015. 1176% 1151 0791
11553 199081156 11)6% 10৬6 116 ০001111%. [1069 816 006 10651 [191109 01 (116 10601)19.

অনুবাদ : যিনি নিজের দেশকে ভালোবাসেন, দেশের জন্য কাজ করেন এবং দেশের জন্য যুদ্ধ করতে ও
জীবন দিতে ইচ্ছুক তিনিই দেশপ্রেমিক প্রত্যেক সৈন্য তার দায়িতৃ পালনে বাধ্য, কিন্তু শ্রেষ্ঠ সৈনিকেরা এর
চেয়ে বেশি কিছু করে থাকেন। দেশকে ভালোবাসেন বলেই তারা জীবনের ঝুঁকি নেন। তারা জনগণের
সর্বোত্তম বন্ধু।

৯২

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
৪০

[119 17000551016 10 065501105 1176 06৪ 91 1176119] 17591191 1) 50105. [11199 17096] 081150 ৪. 10162]
1 77911618100 8 191 01010 00 0106 001011680 01011001006 01199917691 001178569 9911 (0 00 10196106 (0
079 50100855176 01686011 01 81. 0115 14) 19118] 19 10951 56610 0৮ 11100111161] 71191] 1019 08220175
%511169 01 11)6 1701616 15 7121105/90 1060 2. 01981) 5011955. 11116 10051 01121711116 ছ16%/১ [961119]5,
15 000911160 টি) 012 7091906 08 1106 010005116 08171 01107011501.

অনুবাদ : তাজমহলের সৌন্দর্য ভাষায় বর্ণনা করা অসম্ভব । এটাকে বলা হয়ে থাকে “মার্বেল পাথরের মধ্যে
স্বপ্র” এবং ‘কালের কপোলে এক ফৌটা অশ্রু”; কিন্তু এ চমত্কার শব্দগুচ্ছও এ অনন্য শিল্প সৃষ্টির যথাযথ
মর্যাদা নিরুপণে ব্যর্থ জ্যোতম্রারাতে যখন মার্বেল পাথরের চোখ-ধাধানো শুন্রতা স্বপ্রময় কোমলতায় আবিষ্ট
হয় তখনই সবচেয়ে ভালোভাবে তাজমহল অবলোকন করা যায়। সম্ভবত সবচেয়ে চমতকার শোভা দেখতে
পাওয়া যায় নদীর বিপরীত তীরের প্রাসাদ থেকে।

অনুশীলনী
নিচের অনুচ্ছেদগুলি বাংলায় অনুবাদ কর :

1. 45 22106015110 & 500০০ (উৎস) ০01 06৪০ 011. 1179 8190 2 5001০6 01 1000119 (আয়) (০
11010. 101 001 01011 £1581 1056 01 00975 06001269 01017 11011595 ৮৮101 1110 0] 0090851011
(অনুষ্ঠান), 1০ 10৬6 01065, টিটো [065 ৪16 016 35710019 (প্রতীক) ০0 09৪0৮ লা0 0010৮, £&
ড৮1118809 110100 11100 প্রাড £81061] 10019 10216 8100 [90901.

2. 9917511971000 7192109 ৫6100110106 011 01615 0%%]0 561 [15 2. 262 52016. 9611 1161] 15 016 0691
161). 000] 116115 (0959 ড7170 17611) 00617991555. ০১ 6৮1000% 10091 11 011 1019 0)
801111155 10 09 96171911810. 4৯ 59111611017, 10081) 1095 001100708 111 1015 0৯5) 21511111695, [76
(8169 10691 10 116 19০6 01011701169.

3.4 10905 5120) 79 0006 £798169111989016 সেম্পদ). [70616 15 100 £6801 10131010106 (দুর্ভাগ্য) ?0।
116 00818 10117011955. 4৯ 01170 109150]) ০210100 599 1116 092111165 01 1)81716. [16 ০2101101 01500%81
015 09291176 01100]7917 0110015101 151175 1 00015. 116 0970 চ/া016 (0 60555 115 0110118171.

& [01 500] 17161009]1 176811) চটে] 17959 10 00101701 900] 61010010105. ৬/111100 00100011178 90]
171001015 500] 0811110 611]05 £0900 100611691 116216). 0] 11856 10 1196 [00191)06 2110 1691990%
101 00167 [090101515 16611115. ড/111101)111951116 7081015706 500 081 1101 701 01010611.

5. 49 10051 11815 016 0991 096 01 00] 811171919. 13217190651) 15 21) 81100160181 ০0110. [11516
19 81770950700 17790118016] ০0010158010], 41] 006 ৮৮015 06 0016৮981100 090610 01) 81017791
ঢ00৬7০1.110091 19 71), ৮/01101105 811110815 8216 08015 1799090.

৯৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

6.

10,

11.

12.

13.

4৯ ঠা] 200৮6 1191) 21589 11105 11106 001 9591%011115, 176 15 10661 1) ৪1071792100 10901
109101)0 179170. 91101) 2. 107911 170501 90)01109 ৪. 81119106 17101701110] 110111117. [76 1656] 16855 ৪
1901617 01817556160. 176 0065 100 59% 1015 119170 10 19179 (117165 8 & 11106 0] চ1)61) 176 0009
01706718106 10 00 ৪ 02176 176 0099 10011769011 1115 54611 117151)60.

0০ 21621, ৪0৮81708006 (সুবিধা) 01 98115 1151175 15 016 6000 51816 1 81565 11 0৮1 ৫853 01]
116 6817 10150] 1799 00076 10155 00800101119 ৮011 09016 01101 [7161] 186 806 0 01
090. [1 9811 [0017117 (110 70110 15 [6911 (সতেজ) ৪70 01019 216 097০1 01501811065. ১০, 1176
ছ/0]1 00179 8 11181 0109 15 6611618]]% ₹/1]] 09 00116. 95 10901171176 50 98:15, 106 1010৬79 [1181 116
185 01601 ০0৫ 0076 10 0০ 811 116 ৮/০11. 11001008115, [7615 1100 1105150016, 151010/190 (প্রবৃত্ত
হওয়া) 00 এ

7917191 0106190 001. 91] 90106190100119 (কুসংস্কার) 8100 ০10117175 2110 10006 01116 91101110105

£%011 00. [76 10900 101০ 501021110৮৩ ম9 (161: 6115 (ঘোমটা), ৮৪1 ৪১০৪ 0 01:68019
শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া) 2991৮ 17 016 981776. ৮7৪৮ 89 1091. 176 77806 90009811071 769 ৪10
90111001901 বোধ্যতামুলক) [01 ৪1] 011107617. 76 10100816 957০9017% (ব্যাপক) 10019105010011
(উন্নতি) 10 1006 0001015. 176 01190 710] [018 10915701819] 2110 ৮1900] 01 8. 50£6.

[17০ 100 8170 070 90) 1780 ৪ 0018170] 89 10 5110 85 1100 50001101. 0091 00017 ৪ [12 08109
ড/2110116 21018 0176 10989.10716 901) 5810, “10 00 960 1116 10181? [,9 09996 11101) 01 09 0811
112106 1110) (8106 06 1019 ০091. 176 ৬/1)0 31100960 19 1116 911017561.1

17016 15 [119 991 50100] 11019 10010 01110 1991719 1115 9151. 1955017. 1710 5995, 17109152100
098005 10 162] 8 1101716. 1119 076 1)0116 0081001105 115 01181850161. ]) & 5090৫ 110116 11017651
27011621107 [0017 26 107906. 730 101001201109 2 1)0179 900115 ৪ 01110.

15000211011 1085 10 900. 50 ৮00. 91100101991) 711) 9001 18901116. 1%1810% 00118 1091) 01099 11061
00015 7116] 0765 10856 08101] 07617 0951595 8100 16811 110 17101. 11116161016, 1116% 90011
10126 ৪11 1105% 17856 9561 1681160. 1 00. ছ/ঞাঠ 0 001101009 900] 9000081101, 900 10056 000
0100 [01 99110115 1980115.

[105 061151) 86 00060 01 0791] 1059 01 8817199 2100 90015.11195 21610150 এ] 10 1 টি
(01711011000. 0810105, 5001) ৪৪000110211, 1100150%5 200 9101091 ৪10 [18৮00 11 ৪11 901709019 81)0
06 0975 [018 0121 ৬101 21981 117061651, 1106 [0185118 01 90101) 81105 1185 0198000 11) (1061) 1110
970101178 9121111.

9990 10811116195 210 8190 1101)011911 1701) 500] 816 ৮৮10) চ0আা 00101109. ৬৮1)01) ৮0 91098] (0
8100119, 910981. 018211% 8170 01511001101 [96150] 10 1182]. 119 81] 11151011110 £. [991501) 10 891
1115 91550101] 2110 00760 90681 50 112 176 0095 1101 11061562110 00. 4১110 10111611161 111৩ 00]
168190109101115 (0 1008106 %0015611 01109151000.

৯৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

147 91006111015 81710 08115110 06 17101] 5106980 0৮০] 11165 090. 4১1] 0010675 197 016 00171111
05010. 478111011 78107011” 0160 08591018009, “%711076 26 $01? 199 [1985০ 0116 [01806 101″
তা 01616 5423 180 1601.

15, 01196 9010 08, ৪ হারা) ৮588 011 1115 ৮/8% 110109 [1011] 1115 %/011. [76000070017 1176 1080 ৪ 9118106
1781 ৮185 179170580 51) 0010. 071 01 [715 116 10700500165 5119105 1101708৪010 11011560 1017
0801010 116ি, 0 95 5000 89 106 5/85 5611, 0115 57916 [190 00 0106 (176 1181013 01015 01110. 4
(1015, 110 (00. 0) 81685 20 2170 59০ 8001) & 010%% 01 016 517910515 18680 10211060160 01.
1115 5001.

16. 170179515 15 1175 106501790110%, 4১] 11010958100) 19 1991060190 (সম্মানিত) 0% ৪11. 7675000% (71515
(বিশ্বাস) 10]. 0 01৩ ০৪ [00920 উন্নতি করা) 10116 1116 19000110795. 4১ 17011951 91701-
1961321 15 11050 ৮615 11001) 0% 1115 0856011615 (ক্রেতাগণ). 41] £0 10 1015 9101) 210 0 0711105
টি0]) 1010. 00765% 09511 10 00151 11171- 715 95010 (সুনাম) £0%%9 8100 1015 1005111999 10011191169

(প্রসার লাভ).
খ. প্রবন্ধ রচনা

রচনা বলতে প্রবন্ধ রচনাকে বোঝায় ।

রচনা” শব্দের অর্থ কোনোকিছু নির্মাণ বা সৃষ্টি করা । কোনো বিশেষ ভাব বা তন্তুকে ভাষার মাধ্যমে পরিস্ফুট
করে তোলার নামই রচনা । রচনাকে সাধারণত সৃষ্টিশীল কর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে বিষয়ের
উপস্থাপনা, চিন্তার ধারাবাহিকতা, সংযত বর্ণনা, ভাষার প্রার্জলতা ও যুক্তির সুশৃঙ্খল প্রয়োগ থাকে।
লেখকের চিন্তা, কল্পনা ও বুদ্ধির মিলিত প্রয়াসে রচনা উৎকৃষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রবন্ধ শব্দের প্রকৃত অর্থ প্রকৃষ্ট রূপে বন্ধন। প্রকৃষ্ট বন্ধন” বলতে বিষয়বস্তু ও চিন্তার ধারাবাহিক
বন্ধনকে বোঝায় । নাতিদীর্ঘ, সুবিন্যস্ত গদ্য রচনাকেই প্রবন্ধ বলে। প্রবন্ধ রচনায় বিষয়, ভাব, ভাষা
সমানভাবে গুরুত্ৃপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের বেলায় রচনা ও প্রবন্ধ কথাটি সমার্থক। শিক্ষার্থীদের রচনায় নতুন কোনো ভাব বা তন্তু থাকে
না। একটা নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা মনের ভাব বা বক্তব্যকে প্রকাশ করে। রচনা বা প্রবন্ধ লেখার
মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে স্পট ধারণা ব্যক্ত করতে পারে । এতে তার বন্তব্যকে গুছিয়ে বলার দক্ষতা
জন্মে । কোনো বিষয় সম্পর্কে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রচনা লেখার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীর
ভাষা ব্যবহারেরও দক্ষতা জন্মে। বত্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য যথার্থ শব্দ প্রয়োগ এবং উপমা, অলংকার
ইত্যাদি ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থী সচেতন হয়ে ওঠে। প্রকাশের জড়তা কাটিয়ে ওঠা ও ভাষাগত দক্ষতা
অর্জনের জন্য প্রবন্ধ-রচনার অনুশীলন প্রয়োজন । এ ছাড়া শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা,
ব্যক্তিতের স্বাধীন প্রকাশের জন্য প্রবন্ধ-রচনা অনুশীলনের বিকল্প কিছু নেই।

৯৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
রচনার বিভিন্ন অংশ
রচনার প্রধান অংশ তিনটি __ ক. ভূমিকা, খ. বিষয়বস্তু, গ. উপসংহার ।

ক. ভূমিকা : এটি রচনার প্রবেশপথ । একে সূচনা, প্রারম্তিকা বা প্রাক-কথনও বলা চলে । এতে যে বিষয়ে
রচনা লেখা হবে, তার আভাস এবং সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভূমিকা সংক্ষিপ্ত হওয়াই
উচিত।

খ. বিষয়বস্তু বা মূল বন্তব্য : বিষয়বস্তু বা মূল বন্তব্যই হচ্ছে রচনার প্রধান অংশ । এ অংশে রচনার মূল
বিষয়বস্তুর সামগ্রিক পরিচয় স্পট করতে হয়। বিষয় বা ভাবকে পরিস্ফুট করার জন্য প্রয়োজনে ছোট
ছোট অনুচ্ছেদ ব্যবহার করা যেতে পারে । তবে লক্ষ রাখতে হবে, অনুচ্ছেদগুলোর ধারাবাহিকতা যেন
বজায় থাকে। বন্তব্যকে স্পট করার জন্ম এ অংশে প্রয়োজনে উদাহরণ, উপমা, উদ্ধৃতি ইত্যাদি
ব্যবহার করা যায় ।

গ, উপসংহার : বিষয়বস্তু আলোচনার পর এ অংশে একটা সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন হয় বলে এটাকে
“উপসংহার” নামে অভিহিত করা হয়। এখানে বর্ণিত বিষয়ে লেখকের নিজস্ব মতামত বা অভিজ্ঞতার
সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

রচনার শ্রেণিবিভাগ
বিষয়বস্তু অনুসারে রচনাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় : ক. বর্ণনামূলক রচনা, খ. চিন্তামূলক রচনা ।

বর্ণনামূলক রচনা সাধারণত স্থান, কাল, বস্তু, ব্যন্তিগত স্মৃতি-অনুভূতি ইত্যাদি বিষয়ে হয়ে থাকে। ধান,
পাট, শরৎকাল, কাগজ, টেলিভিশন, বনভোজন, শৈশবস্মৃতি ইত্যাদি রচনা এই শ্রেণির অন্তর্ভত্ত। চিন্তামূলক
রচনায় থাকে সাধারণত তত্ব, তথ্য, ধ্যান-ধারণা, চেতনা ইত্যাদি । শ্রমের মর্যাদা, বাংলাদেশের বন্যা ও তার
প্রতিকার, পরিবেশদুষণ, অধ্যবসায়, সত্যবাদিতা, চরিত্রগঠন প্রভৃতি এই শ্রেণির রচনার মধ্যে পড়ে।

প্রবন্ধ-রচনার কৌশল
১. বর্ণনার মধ্য দিয়ে দৃষ্টি, রং, ধ্বনি, স্বাদ, গনধ, অনুভূতি ব্যবহার করে বিষয়বস্তুকে ছবির মতো ফুটিয়ে
তুলতে হয়।

২. বর্ণনামূলক রচনা লেখার সময় সময়সীমা এবং পরিসরের কথা মনে রেখে বিশেষ কিছু দিক বেছে নিতে
হয়। সেগুলির সাহায্যে মূল বিষয়বস্তুকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করতে হয়।

৩. ব্লচনা লেখার সময় পরম্পরা বা ধারাবাহিকতার দিকে লক্ষ রাখতে হবে। চিন্তাগুলো যেন এলোমেলো না
হতে পারে । বিষয়ের ধারণাগুলো একটির পর একটি এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে ভাবের কোনো
অসংগতি না থাকে ।

৯৬

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

৪. শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে রচনার আকার সাধারণত নির্দিষ্ট পরিসরের হয়ে থাকে। পরিমিত পরিসরে তাই
রচনার সামগ্রিক বিষয়কে তুলে ধরতে হয়। অযথা বিষয়কে প্রলপ্থিত করা ঠিক নয়। অপ্রয়োজনীয় ও
অপ্রাসঙ্গিক বাক্য লেখা থেকে বিরত থাকতে হয়। এক কথায় রচনা খুব ছোট বা খুব বড় হওয়া উচিত
নয়।

€. প্রবন্ধের ভাষা সহজ এবং প্রাঞ্জল হওয়া বাঞ্ছনীয়। সন্ধি, সমাসবদ্ধ পদ, অপরিচিত বা অপ্রচলিত শব্দ
যথাসম্ভব পরিহার করা ভালো । বাগাড়ম্বর বা অলংকারবহূল শব্দ ব্যবহার করা হলে অনেক সময়
বিষয়টি জটিল ও দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে। সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষারীতির মাধ্যমে রচনাকে যথাসম্ভব
রসমডডিত ও হৃদয়গ্রাহী করার চেষ্টা করতে হয়।

প্রবন্ধ রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়

প্রবনধ রচনায় রাতারাতি দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এর জন্য নিয়মিত অনুশীলন দরকার । এ ক্ষেত্রে

নিম্নলিখিত দিকগুলো সহায়ক হতে পারে :

১. প্রবন্ধ লেখার দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রচুর প্রবন্ধ বা রচনা পড়তে হবে । পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ,
সংবাদ, প্রতিবেদন, ফিচার ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা বিষয়ে ধারণা জন্মায় এবং শব্দভাগডার
বৃদ্ধি পায়। এতে লেখা সহজ হয়ে ওঠে ।

২. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার । প্রবন্ধের মর্মবস্তু, যুক্তি, তথ্য, তন্ত্, বিচার-
বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ানুগ, প্রাসঙ্গিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই। একই বন্তৃব্যের পুনরাবৃত্তি যেন না
ঘটে, সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার |

৩. ভাষারীতিতে সাধু ও চলিত যেন মিশে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে । অযথা অপ্রাসঙ্গিক
তথ্য, উদ্ধৃতি ব্যবহার করা উচিত নয়।

৪. প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়াও নিজের বত্তব্যকে আরো জোরালো করার জন্য প্রবাদ-প্রবচন, কবিতার
পড়ুক্তি, উদ্ধৃতি ইত্যাদি সন্নিবেশ করা চলে।

€. নিজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, চিস্তাশক্তি, পঠন-পাঠন, ভাষাগত দক্ষতা ও উপস্থাপনা কৌশল ইত্যাদি প্রয়োগ
করে প্রবনধকে যথাসম্ভব হৃদয়গ্রাহী করার চেষ্টা করা উচিত।

বাংলাদেশের খাতুবৈচিত্র্য

ভূমিকা : বড়খতুর দেশ বাংলাদেশ । গ্রীষ্ম, বর্ধা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এ ছয় খতুর আবর্তন
বাংলাদেশকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। প্রত্যেকটি খতুরই রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। এক এক খতু আমাদের
জীবনে আসে এক এক রকম ফুল, ফল আর ফসলের সম্ভার নিয়ে। বাংলার প্রকৃতিতে ঘড়খতুর
পালাবদল আলপনা আঁকে অফুরন্ত সৌন্দর্যের । তাতে আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায়, আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে
হুদয়। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার সজল মেঘের বৃষ্টি, শরতের আলো-ঝলমল প্লিগধ আকাশ, হেমন্তের ফসলভরা

৯৭
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-১৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

মাঠ, শীতের শিশিরভেজা সকাল আর বসন্তের পুষ্ণা সৌরভ বাংলার প্রকৃতি ও জীবনে আনে বৈচিত্র্যের
হৌয়া। খতুচক্রের আবর্তনে প্রকৃতির এ সাজবদল বাংলাদেশকে রূপের রানীতে পরিণত করেছে।

খতুচক্রের আবর্তন : বাংলাদেশের খাতু পরিবর্তনের মূলে রয়েছে জলবায়ুর প্রভাব ও ভৌগোলিক অবস্থান।
এ দেশের উত্তরে সুবিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালা, দক্ষিণে প্রবাহিত বঙ্গোপসাগর । সেখানে মিলিত হয়েছে
হাজার নদীর স্রোতধারা। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হয় বৃষ্টি । বৃষ্টির ধারা এ দেশের মাটিকে করে উর্বর, ফুল ও
ফসলে করে সুশোভিত। নদীর স্রোত বয়ে আনে পলিমাটি । সে মাটির প্রাণরসে প্রাণ পায় সবুজ বন-বনানী,
শ্যামল শস্যলতা। তার সৌন্দর্যে এ দেশের প্রকৃতি হয়ে ওঠে অপরুপ । নব নব সাজে সজ্জিত হয়ে এ দেশে
পরপর আসে ছয়টি খতু । এমন বৈচিত্র্যময় খতুর দেশ হয়তো পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

খাতু পরিচয় : বর্ষপঞ্জির হিসেবে বছরের বারো মাসের প্রতি দুই মাসে এক এক খাতু। বৈশাখ-জ্ৈষ্ঠ দুই মাস
এবং ফাল্গুন-চৈত্র বসন্তকাল । তবে খতুর পালাবদল সবসময় মাসের হিসেব মেনে চলে না। তা ছাড়া খতুর
পরিবর্তন রাতারাতি বা দিনে দিনেও হয় না। অলক্ষে বিদায় নেয় একখতু, আগমন ঘটে নিঃশব্দে নতুন
কোনো খাতুর। প্রকৃতির এক অদৃশ্য নিয়মে যেন বাঁধা খতুচক্রের এই আসা-যাওয়া।

্রন্ম : খতু-পরিক্রমায় প্রথম খতু গ্রীষ্মকাল । গ্রীম্মে বাংলাদেশের রূপ হয়ে ওঠে রুক্ষ ও শুষ্ক প্রচ খরতাপ
আর খা খা রোদুরে মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির হয়। নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে যায়। কখনো তপ্ত বাতাসে
যেন আগুনের হলকা ছুটতে থাকে। ক্লান্তি আর তৃষ্ায় বুক শুকিয়ে আসে পথিকের | কখনো উত্তর-পশ্চিম
আকাশের কোণে কালো হয়ে মেঘ জমে । হঠাৎ ধেয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়। বছরের পুরোনো সব
আবর্জনা ধুয়ে মুছে যায়। জ্যৈষ্ঠ আসে ফলের সম্ভার নিয়ে। আম, জাম, কাঠাল, আনারস, লিচু ইত্যাদি
নানারকম মৌসুমি ফলের সমারোহ গ্রীম্মধতুকে করে তোলে রসময়।

বর্ষা : শ্রীম্মের প্রচন্ড তাপদাহের পর আসে বর্ধা। আকাশে দেখা দেয় সজল-কাজল মেঘ । অঝোর ধারায় নামে
বৃষ্টি। পৃথিবীতে প্রাণের সাড়া জাগে | আষাঢ়-শ্রাবণের বর্ষণে জেগে ওঠে বৃক্ষলতা। কখনো একটানা
বৃষ্টিতে খাল-বিল, পুকুর-নদী সব কানায় কানায় ভরে ওঠে । বর্ষার পল্লিপ্রকৃতি তখন এক অপরুপ সৌন্দর্যে
উদ্ভাসিত হয় । সে রূপ ধরা পড়েছে রবীন্দ্রনাথের কবিতায় :

নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাই আর নাহি রে
ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে ।
কালি-মাখা মেঘে ওপারে আধার ঘনিয়েছে দেখ চাহি রে।

বর্ষায় বাংলাদেশের নিচু এলাকাগুলো পানিতে ডুবে যায়। নদীতে দেখা দেয় ভাঙন। বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা
দেয় বন্যা । এমনকি শহ্রাঞ্চলও জলমগ্র হয়ে পড়ে। বর্ষায় গরিব মানুষের দুঃখ-কষ্ট বেড়ে যায়। মানুষের
স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।

শরৎ : শরৎ বাংলাদেশের এক ঝলমলে খতু। বর্ষার বৃঞ্টি-ধোয়া আকাশ শরতে হয়ে ওঠে নির্মল। তাই
শরতের আকাশ থাকে নীল। শিমুল তুলোর মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায় আকাশে । এ সময় শিউলি ফুল

৯৮

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

ফোটে, নদীর তীরে ফোটে সাদা কাশফুল । নির্মল আকাশে শরতের জ্যোতম না হয় অপরূপ ও মনোলোভা ।
ঘাসের বুকে শিশিরের মৃদু ছোয়ায় স্লি্ধ হয়ে ওঠে শরতের সকাল ।

হেমন্ত : হেমন্ত বাংলাদেশের ফসল-সমৃদ্ধ খতু। তখন সোনালি ফসলে সারা মাঠ ভরে থাকে । কৃষকের মুখে
থাকে হাসি। কাস্তে হাতে পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত থাকে কৃষক। নতুন ফসল ওঠায় ঘরে ঘরে শুরু হয়
নবান্নের উৎসব । পাকা ধানের সোনালি দৃশ্য সত্যি মনোমুগ্ধকর । সন্ধ্যা ও সকালে চারদিকে ঘন হয়ে কুয়াশা
নামে । এসময় থেকে শীতের আমেজ পাওয়া যায় ।

শীত : শীত বাংলাদেশের এক হিমশীতল খতু । শীত আসে কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে। শীতে বিবর্ণ হয়ে
গাছের পাতা ঝরে পড়ে । সকাল হলেও অনেক সময় সূর্যের মুখ দেখা যায় না। শীতে জড়সড় হয়ে যায় মানুষ ও
প্রাণিকুল। শীতের প্রচন্ডতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবাই গরম কাপড় পরে। দেশের উত্তরাঞ্চলের
জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ থাকে বেশি। শীতে বেশি কৰ্ট পায় আশ্রয়হীন, শীতবস্বরহীন দরিদ্র মানুষ । শীত
কেবল হিমশীতল বিবর্ণ খতু নয়। শীতকালের প্রকৃতি নানারকম শাকসবজির সম্ভার নিয়ে আসে | গ্রামবাংলায় এ
সময় খেজুর রস ও পিঠা-পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।

বসন্ত : বসন্তকে বল হয় খতুরাজ। শীতের রুক্ষ, বিবর্ণ দিন পেরিয়ে বসন্ত আসে বর্ণিল ফুলের সম্চার নিয়ে।
বাংলার নিসর্গঁলোক এ সময় এক নতুন সাজে সজ্জিত হয়। পুষ্প ও পন্নবে ছেয়ে যায় বৃক্ষশাখা, গাছে গাছে
আমের মুকুল আর ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন শোনা যায়। মৃদুমন্দ দখিনা বাতাস আর কোকিলের কুহুতান
বসন্তের এক অপরুপ মাধুর্য সৃষ্টি করে।

উপসংহার : বাংলাদেশ বিচিত্র সৌন্দর্যের লীলাভূমি । খাতু পরিক্রমায় এখানে দেখা যায় বৈচিত্র্যময় রুপ ।
সকাল আর বসন্তের পুষ্প-পল্লব ষড়খতুর ভিন্ন ভিন্ন রূপ বাংলাদেশকে করেছে বিচিত্রবূপিণী । প্রকৃতির এমন
বৈচিত্র্যময় রুপ পৃথিবীর আর কোথাও কি আছে?

গ্রীষ্মের দুপুর

ভূমিকা : গ্রীষ্মের দুপুর মানেই সূর্যের প্রচন্ড তাপদাহ। খা খা রোদ্দুর, তপ্ত বাতাসে আগুনের হলকা। সবুজ
প্রকৃতি । ঘামে দরদর তৃষ্কার্ত পথিক। কবির ভাষায় :

খাল বিল চৌচির জল নেই পুকুরে ।
মাঠে ঘাটে লোক নেই খা খা রোদ্দুর
পিপাসায় পথিকের ছাতি কাপে দুদ্দুর।

শ্রীষ্মের দুপুরের অত্যন্ত পরিচিত দৃশ্য এটি । রুক্ষ, শুষ্ক বৈচিত্র্রহীন, নিপাট দিনের স্থিরচিত্র । গ্রামের কোনো
স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

৯৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

্রীব্দের দুপুরে প্রকৃতির অবস্থা : চৈত্রের কাঠফাটা রোদে গ্রীষ্মের পদধ্বনি শোনা যায়। বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ এলে
সেই তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পায়। সূর্যের প্রখর তাশে সমস্ত প্রকৃতি যেন নিজীব হয়ে ওঠে। সবজির নধর পাতা
খরতাপে নুয়ে পড়ে । মাঝে মাঝে ঘুর্ণি হাওয়ায় ধুলো ওড়ে, ঝরে পড়ে গাছের হলুদ পাতা । দূর আকাশে পাখনা
মেলে চিল যেন বৃষ্টিকে আহ্বান জানায়। পাতার আড়ালে ঘুঘুপাখির উদাস-করা ডাক শোনা যায়। প্রকৃতি যেন
পরিশ্রান্ত হয়ে নিঝুম মুহূর্তগুলো কাটাতে থাকে। পুকুরঘাটে তৃষ্কার্ত কাক, গাছের ছায়ায় পশৃ-পাখির নিঃশব্দ
অবস্থান গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের পরিচিত দৃশ্য ।

্রীব্মের দুপুরে জনজীবন : শ্রীন্মের দুপুর মানবজীবনেও নিয়ে আসে নিশ্চলতার আমেজ। কর্মব্যস্ত জীবনে
আসে অবসাদ। মাঠে-ঘাটে জীবনের সাড়া যায় কমে। প্রচ রোদের মধ্যে যারা কাজ করে, তাদের মাথায়
থাকে মাথাল। কর্মমুখর দিনে গ্রীষ্মের দুপুরে সময় কিছুটা যেন ধীরগতিতে অগ্রসর হয় । রাখাল ছেলে গাছের
ছায়ায় আশ্রয় নেয়। পথিকজন পথের ক্লান্তি ঘোচাতে বিশ্রামের প্রহর গোনে। নিঃশব্দ প্রকৃতি আর নীরব
মানুষের কাছে গ্রীন্মের দুপুর যেন স্থির । বৃষ্টিবিহীন বৈশাখী দিন, কোথাও যেন স্বস্তি নেই, শান্তি নেই। মাঠ-
ঘাট চৌচির, নদী-জলাশয় জলশূন্য ৷ মাঠে মাঠে ধুলোওড়া বাতাস। আগুনঢালা সূর্য, ঘমক্তি দেহ, ক্লান্তি আর
অবসাদে গ্রীম্মের দুপুর যেন অসহনীয় হয়ে ওঠে। মুহূর্তের জন্যে প্রাণ সিন্ত হতে চায়, একটু ঠান্ডা বাতাসের
স্পর্শ পেতে চায় মন।

গ্রীষ্মের দুপুর গ্রামজীবনে নিয়ে আসে বিশ্রামের সুযোগ ৷ কেউ কেউ নির্জন দুপুরে দিবানিদ্রায় ঢলে পড়ে ।
গৃহিণীরা সংসারের কাজের একটু অবসরে বিশ্রামের সুযোগ খোজে । তালপাখার বাতাসে একটু প্রাণ জুড়ায়।
শীতল পাটিতে ক্রান্ত শরীর এলিয়ে দিতে ইচ্ছে হয়। আমবাগানে দুটু ছেলেদের আনাগোনা হয়তো বেড়ে
যায়।

গ্রীষ্মের দুপুরে শহরের দৃশ্য অবশ্য অন্যরকম। প্রচ রোদে রাস্তার পিচ গলতে থাকে। রাস্তায় যানবাহনের
চলাচল কমে আসে। গলির ঝীপখোলা দৌকানপাটে ঝিমধরা ভাব। ঘরে বাইরে কর্মের জগৎ হঠাৎ যেন
ঝিমিয়ে আসে । অফিস পাড়ার কর্মব্যস্ততাও এ সময় একটু শিথিল হয়ে আসে । ক্রান্তি ও শ্রান্তি ঘিরে ধরে
কর্মচঞ্ল জীবনপ্রবাহকে। গ্রীন্মের শান্ত দুপুর মনে করিয়ে দেয় ধরিত্রীর সঙ্গো মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের
সম্পর্কের কথা । অন্য এক উপলব্তির জগতে নিয়ে যায় মানুষকে ।

উপসংহার : গ্রীষ্মের দুপুরের প্রখর তাপ প্রকৃতি ও জনজীবনের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে এই প্রভাব
কেবল বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণও | রহস্যময় প্রকৃতির এ যেন এক গোপন আয়োজন। গ্রীষ্মের তপ্ত আকাশে
এক সময় দেখা যায় সজল-কাজল মেঘ। নেমে আসে স্বস্তির বৃষ্টি গ্রীম্মের দুপুরের ঝিমধরা প্রকৃতি আর
নিশ্চল স্থবির জনজীবন, শস্যহীন মাঠ, নদীর ঘাটে বীধা নৌকা, রোদ ঝলসানো তপ্ত বাতাসের এই পরিচিত
দৃশ্যের কথা এ সময় ভুলে যায় মানুষ।

বর্ষায় বাংলাদেশ

ভূমিকা : বর্ধা বাংলাদেশের আনন্দ-বেদনার এক খতু। ্রীন্মের প্রচণ্ড দহন শেষে বর্ধা আসে প্রকৃতির
আশীর্বাদ হয়ে। একটানা বর্ষণের পর পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠে। বাংলার নিসর্গলোক সজীব হয়ে
ওঠে। বর্ষার আগমনে তাই বাংলার প্রকৃতির রূপও পালটে যায়। বৃষ্টির ছোয়া পেয়ে শ্রীব্মের বিবর্ণ প্রকৃতি হয়ে

১০০

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

ওঠে কোমল আর সজীব । এ সময় আকাশে সারাক্ষণ চলে ঘনকালো মেঘের আনাগোনা । এমন দিনে কোনো
কাজে মন বসে না। বর্ষাখতুকে নিয়ে কবি লিখেছেন-__

এ আসে এ অতি ভৈরব হরষে
জল সিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভ রভসে
ঘন-গৌরবে নব যৌবনা বরষা
শ্যাম-গম্ভীর সরসা।

বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষাকাল : ঝতুর গণনা হিসেবে আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল । কিন্তু বর্ষার বৃষ্ধি শুরু হয়
বৈশাখ থেকে, চলে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত । সেই হিসেবে বর্ষা বাংলাদেশের দীর্ঘতম খতু । অনেক সময় দেখা
যায় শরৎকালকে স্পর্শ করেও বৃষ্টির কোনো বিরাম নেই। বর্ষার আগমনে তৃষিত পৃথিবী সিন্ত-শীতল হয়ে যায়|
মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা, পশুপাখি সব যেন হাপ ছেড়ে বাচে। নদীনালা, খালবিল, মাঠঘাট পানিতে ভরপুর
হয়ে যায়। ফোটে কেয়া, কদম ফুল। বর্ষা বাংলাদেশের মানুষের জীবনে সুখ ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ।
গাছপালা নতুন পত্রপল্পবে ভরে যায়, উর্বর হয়ে ওঠে ফসলের খেত। সুখী গৃহবাসী মানুষের কাছে বর্ধার এই
ভরভরন্ত দৃশ্য খুবই আনন্দের। ছোট ছেলেমেয়েরা কলার ভেলা বা কেয়াপাতার নৌকা ভাসিয়ে আনন্দ করে।
বৃদ্ধরা ঘরে বসে পান-তামাক খায় | কেউবা খোশ গল্পে মেতে ওঠে ।

বর্ধাঝতু সাধারণ দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য খুবই দুঃখের । কারণ, অনেক সময় টানা বর্ষণে খেটে
খাওয়া মানুষ কাজে যেতে পারে না। তাদের আয়-রোজগার বন্ধ থাকে, ঘরবাড়ি বৃষ্টির পানিতে ভেসে যায়।
ফলে তাদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। অতিবৃষ্টির ফলে নদীভাঙনে হাজার হাজীর মানুষ গৃহহীন হয়ে
পড়ে। কৃষকের ফসলের জমি ভেসে যায়, খেতের ফসল নষ্ট হয়। বানভাসি মানুষের এসব অবর্ণনীয় কষ্ট
দেখলে মনে হয়, বর্ধা এসব মানুষের জীবনে দুর্যোগ ও দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে।

বর্ষার রুপ : বর্ষায় বাংলাদেশের প্রকৃতির রুপ অন্যরকম হয়ে যায়। আকাশে ঘনকালো মেঘের আনাগোনা
চলতে থাকে । কখনো-বা আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নামে । দুতিন দিন হয়তো সূর্যের দেখাই মেলে না।
কখনো কখনো শোনা যায় মেঘের গর্জন। একটানা বৃষ্টিতে কোথাও হঠাৎ বাজ পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে
ছেলে-বুড়ো। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন__
নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাই আর নাহিরে
ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে ।”

বর্ধায় পল্লির ৰূপ : বর্ষায় পল্লির মাঠ-ঘাট বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। নদীর দুকুল ছাপিয়ে বর্ধার পানি
গ্রামে প্রবেশ করে। রাস্তাঘাট কর্দমান্ত হয়ে যায়। নৌকা ছাড়া অনেক জায়গায় চলাফেরা করা যায় না।
তখন গ্রামগুলোকে মনে হয় নদীর বুকে জেগে ওঠা এক-একটা দ্বীপ । বর্ষায় পল্লির দৃশ্য সত্যি অপূর্ব!

বর্ষার অবদীন : বর্ধাকালে আমাদের দেশে কেয়া, কামিনী, কদম, জুঁই, টগর, বেলি, চাপা প্রভৃতি ফুলের
সুগনেধ চারপাশ সুরভিত হয়ে ওঠে। অর্থকরী ফসল পাট তখন কৃষকের ঘরে আসে । আউশ ধানের মৌসুম
তখন । পেয়ারা, কলা, চালকুমড়া, বিঙা, করল্পা, টেড়স, বরবটি ইত্যাদি ফল ও তরকারি বর্ধারই অবদান ।
বর্ষাকালে আমরা প্রচুর মাছ পেয়ে থাকি। এ সময় নৌকাযোগে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং একস্থান থেকে
অন্যস্থানে যাতায়াত খুব সহজ হয়।

১০১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

উপসংহার : বর্ধাখতুর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের একটা নিবিড় আত্মীয়তার যোগ আছে। সে যোগ কেবল
ব্যবহারিক নয়, অন্তরেরও । বর্ষায় বাংলার মানুষের অন্তরও সি্ত-গ্লিগ্ধ হয়ে ওঠে। প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য
মানুষের মনেও গভীর প্রভাব ফেলে যায়।

বর্ষণমুখর একটি দিন

আজ সকালে ঘুম থেকে জেগেই দেখি সমস্ত আকাশ কালো মেঘে ভরে গিয়েছে । চারদিকে ঘোলাটে
অন্ধকার । সারাটা দিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। যতদূর দৃষ্টি কেবল সজল-কাজল মেঘের আনোগোনা।
দুপুর না গড়াতেই টাইপরাইটারের শব্দের মতো ঝাঁজালো বৃষ্টি নামল আমাদের টিনের চালে । বেলা বাড়ার
সঙ্জে সঙ্জো বৃষ্টির ধারাও যেন বেড়েই চলছে, থামাথামি নেই। ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে দেখি, আজ
শ্রাবণ মাসের দুই তারিখ । বর্ষার মাঝামাঝি, এ সময় তো বৃষ্টি হবেই।

বিকেলের দিকে বৃষ্টির ধারা একটু হালকা হলেও সন্ধ্যার আগমুহূর্তে ঝুম ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো । এই বর্ষণমুখর
শ্রাবণসন্ধ্যায় অলস ভাবনায় কেটে যায় সময়। সামনে পরীক্ষা, টেবিলে বই, কিন্তু পড়ায় মন বসছে না।
অবিরল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। টিনের চালে যেন বর্ষাকন্যা নৃত্য করে চলছে। সেই একটানা বৃষ্টির নৃপুর-নিকৃণ
আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। কবি রবীন্দ্রনাথ যেন এমন বর্ষণমুখর সন্ধ্যার কথা স্মরণ করেই
লিখেছেন_

“আষাটু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল, গেল রে দিন বয়ে
বীধন হারা বৃষ্িধারা ঝরছে রয়ে রয়ে।
একলা বসে ঘরের কোণে, কী ভাবি যে আপন মনে
সজল হাওয়া ঘুখীর বনে কী কথা যায় কয়ে ।”

সব কাজ ফেলে আপন মনে প্রকৃতিকে দেখা আর কী এক আকুলতায় নিজেকে আচ্ছন্্র রাখা। হয়তো কবি
না হলে বর্ধার দিনের এমন মুহুর্ত অন্তর দিয়ে অনুভব করা যায় না। এ সন্ধ্যায় মনটা যেন উতলা হয়ে
উঠেছে। আমাকে অন্যমনস্ক করে তুলছে বৃষ্টির একটানা সুর। মনের ভেতর নানারকম ভাবনা ঢেউ খেলে
যাচ্ছে। সে অনুভূতির কোনো স্পট রূপ নেই, নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই।

রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টির একটানা শব্দ আজ মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। জানালার পাশে বসে বৃষ্টির শব্দ
শুনছি। মাঝে মাঝে মেঘের গুরুগুরু গর্জন, গাছের ডালে বাতাসের ঝাপটা কানে বাজে। হঠাৎ বাজ পড়ার
প্রচন্ড শব্দে চমকে উঠি। আজ নিশ্চয় রাস্তায় জনমানব নেই। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম । বিদ্যুৎ
চমকাচ্ছে, অন্ধকারে ভালো করে কিছু দেখতে গেলাম না। হারিকেনের আলো একটু বাড়িয়ে দিলাম।
তখনো ঝর ঝর করে অবিরল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। একবার ভেবেছি একাগ্রচিত্তে পরীক্ষার পড়া পড়ব কিন্তু
বইয়ের পাতায় কিছুতেই মন বসছে না। মনের মধ্যে তন্তৃকথা উকি দেয় । জীবনটাকে সফল করার দুর্বার
সাধনায় নামতে হবে । জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তাও ভাবনায় আসে ।

ও ঘর থেকে মা ডাকছেন-“আয়, খোকা, নাশতা খেয়ে যা। ঘরে মোমবাতি নেই, এই-ই সম্বল।’ অগত্যা
উঠতে হলো। বাবা, আমি, টুম্পা, আর ছোটমামা মোমের আলোতে গরম গরম চা আর ঝালমুড়ি খেতে
বসেছি। টুম্পা বলল, “মামা এই অন্ধকারে বৃষ্টির দিনে ভূতের গল্প ভালো জমবে । ভাত খেয়ে চল ভূতের

১০২

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

গল্প শুনি ।” আমিও বললাম, হ্যা মামা ভূতের গল্প বল।’ ছোটমামা গল্প শুরু করলেন । কখনো ভূতের মতো
নাকি সুরে, কখনো ফিসফিসে গলায়, কখনো জলদগস্ভীর কণ্ঠস্বরে পরিবেশ বেশ ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
ভৌতিক ঘটনার বর্ণনা শুনে আমাদের গা ছমছম করে উঠল । টুম্পা ইতোমধ্যে কাথার আড়ালে মুখ লুকিয়ে
ফেলেছে। গল্পের এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তে হঠাৎ ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে ওঠে । বাইরে তখনো তুমুল
বৃষ্ি। নরম বিছানায় অলস ঘুমের মায়া কাটিয়ে আর কতক্ষণ দূরে থাকা যায়।

বর্ষণমুখর সন্ধ্যা কেটে যায়। শ্রাবণের বৃষ্টির ধারা তখনো থামে না। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আমি
একসময় ঘুমের আয়োজন করি । বর্ষার জলতাগ্ডব তখনো কানে বাজে । ঘুমের ঘোরে ষপ্রু দেখি, জলপরীরা
নৃত্য করছে সারা আকাশ জুড়ে।

শরৎকাল

শরৎ বাংলাদেশের কোমল, ঘ্লিগ্ধ এক খতু। শরৎ্খতুর রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য । বাংলাদেশের ছয়টি
খতু ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন রূপের পসরা নিয়ে হাজির হয়। এক-এক খতুতে ভিন্ন ভিন্ন ফুলে ও ফলে, ফসলে ও
সৌন্দর্যে সেজে ওঠে বাংলাদেশ । বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর আর কোনো দেশের প্রকৃতিতে খতুবৈচিত্র্যর
এমন রূপ বোধ হয় নেই।

বর্ষাকন্যা অশ্রুসজল চোখে বিদায় নেয় শ্রাবণে। ভাদ্রের ভোরের সূর্য মিষ্টি আলোর স্পর্শ দিয়ে প্রকৃতির কানে
কানে ঘোষণা করে শরতের আগমন বার্তা। থেমে যায় বর্ষামেয়ের বুকের ভেতর দুঃখ মেঘের গুরুগুরু।
ঝক্ঝকে নীল আকাশে শুত্র মেঘ, ফুলের শোভা আর শস্যের শ্যামলতায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে শরৎ। প্রকৃতির
কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে কবি তখন গেয়ে ওঠেন__

লুকোচুরির খেলা
নীল আকাশে কে ভাসালে
সাদা মেঘের ভেলা ?*

ভাদ্র-আশ্বিন এ দুই মাস বাংলাদেশে শরৎকাল। শরতের সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিকে করে তোলে রুপময়।
গাছপালার পত্রপল্নবে গুচ্ছ গুচ্ছ অন্ধকার ফিকে হয়ে আসতেই পাখপাখালির দল মহাঁকলরবে ডানা মেলে
উড়ে যায় নীল আকাশে । আকাশের উজ্জ্বল নীলিমার প্রান্ত ছুঁয়ে মালার মতো উড়ে যায় পাখির বীক। শিমুল
তুলোর মতো ভেসে চলে সাদা মেঘের খেয়া। চারদিকে সজীব গাছপালার ওপর বয়ে যায় শেফালিফুলের
মদির গন্ধতরা ফুরফুরে মিষ্টি হাওয়া । শিউলি তলায় হালকা শিশিরে ভেজা দুর্বাঘাসের ওপর চাদরের মতো
বিছিয়ে থাকে সাদা আর জাফরান রং মেশানো রাশি রাশি শিউলিফুল। শরতের ভোরের এই সুরভিত বাতাস
মনে জাগায় আনন্দের বন্যা । তাই খুব ভোরে কিশোর-কিশোরীরা ছুটে যায় শিউলি তলায় ।

সূর্য ওঠে সোনার বরন রূপ নিয়ে। নির্মল আলোয় ভরে যায় চারদিক। আমন ধানের সবুজ চারার ওপর ঢেউ
খেলে যায় উদাসী হাওয়া। আদিগন্ত সবুজের সমারোহ ফসলের মাঠের একপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর
বুপালি ধারায় সূর্যের আলো ঝলমল করে । নদীর তীরে কাশবনের সাদা কাশফুল কখনো হাতছানি দিয়ে ডাকে ।
মনে পড়ে কবির লেখা চরণ-__

১০৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

পুচ্ছ তোলা পাখির মতো
কাশবনে এক কন্যে,

তুলছে কাশের ময়ুর-চুড়া
কালো খোপার জন্যে ।

কাশফুলের মনোরম দৃশ্য থেকে সত্যিই চোখ ফেরানো যায় না। ভরা নদীর বুকে পাল তুলে মালবোঝাই
নৌকা চলে যায় । ডিঙি নাও বাইতে বাইতে কোনো মাঝি হয়তো-বা গেয়ে ওঠে ভাটিয়ালি গান। পুকুরপাড়ে
আমগাছের ডালে মাছরাঙা ধ্যান করে। স্বচ্ছ জলে পুঁটি, চান্দা বা খলসে মাছের রুপালি শরীর ভেসে উঠলে
সে ছো মেরে তুলে নেবে তার লম্বা ঠোটে । নদীর চরে চখাচখি, পানকৌড়ি, বালিহাস বা খঞ্জনা পাখির ডাক।
কলসি কীখে মেঠো পথে হেঁটে চলে গীয়ের বধূ । ফসলের খেতে অমিত সম্ভাবনা কৃষকের চোখে স্বপ্ন এনে
দেয়। তৃপ্তির চোখে ভবিষ্যৎ আর স্বপ্রে ছাওয়া সবুজ ধানখেতটা একবার চেয়ে দেখে কৃষক ।

বিলের জলে নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকে সাদা ও লাল শাপলা । সকালের হালকা কুয়াশায় সেই শাপলা এক
স্বপ্রিল দৃশ্যের আভাস আনে । আলো চিকচিক বিলের জলে ফুটে ওঠে প্রকৃতির অপার লীলা ।

শরতের এই ক্সিগ্ধ মনোরম প্রকৃতি মানবজীবনেও এক প্রশান্তির আমেজ বুলিয়ে দেয়। কৃষকদের হাতে এ
সময় তেমন কোনো কাজ থাকে না। অফুরন্ত অবসর তাদের । মাঠভরা সোনার ধান দেখে কৃষকের মনে দানা
রেঁধে ওঠে আসন্ন সুখের স্বপ্ন । শহরের মানুষও অবকাশ পেলে শরতের মনোরম প্রকৃতিকে উপভোগ করার
জন্য গ্রামের বাড়িতে ছুটে যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজার মহাধুম পড়ে যায় এ সময়ে । শরতে
প্রকৃতি থাকে উজ্জ্বল রৌদ্রালোকিত।

শরৎ, বর্ধার অব্যবহিত পরবর্তী খাতু । তাই শরতের আগমনে বাংলার প্রকৃতি থাকে নির্মল, স্লিগ্ধ। শরতের
মতো নীল আকাশ আর কোনো খতুতে দেখা যায় না। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীতীরে সাদা
কাশফুল, ভোরে হালকা শিশিরভেজা শিউলিফুল সব মিলিয়ে শরৎ যেন শুত্রতার খতু । শরৎকালে রাতের

বেলার জ্যোৎ্স্রার রুপ অপরূপ । মেঘমুত্তর আকাশ থেকে যেন জ্যোত্স্লার ফুল ঝরে । চাদের আলোর শুভ্রতায়
চোখে না দেখলে বোঝা যায় না। বলা যায়, শরৎ বাংলার খতু-পরিক্রমায় সবচেয়ে মোহনীয় খতু।

শীতের একটি সকাল

আজ পৌষের ষোল তারিখ । জানুয়ারির এই সময়টায় খুব শীত পড়ে । পৌষমাসের শীতে ঠক্ঠক্‌ করে কীপার
কথা । কিন্তু আমার গায়ে পাতলা একটা জামা । তেমন শীত লাগছে না। কারণ, আমি শহরের একটি
আবাসিক এলাকায় বাসার বারান্দায় দীড়িয়ে । গ্রামের মতো শীত এখানে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করতে
শীতের প্রকোপ তেমন বোঝা যায় না। “পৌষের শীত তুষের গায়/মাঘের শীতে বাঘ পালায়’_এ প্রবাদের
শীত এখানে নেই। সোয়েটার, জ্যাকেট, কোট-টাইয়ের ভিড়ে এখানে শীত যেন ম্রিয়মাণ। শীত-সকালের
আমেজ এখানে নতুন শাকসবজি আর হালফ্যাশনের গরম কাপড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ।

১০৪

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

গত শীতে আমি নানার বাড়ি দেবরামপুরে গিয়েছিলাম । বাস, রিকশা তারপর হাঁটাপথে যেতে যেতে বিকেলে
নানার বাড়ি পৌছলাম। পরদিন ভোরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে মামা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন ।
লেপের ভেতর থেকে চোখ ডলতে ডলতে উঠে দেখি, চাদর গায়ে দেওয়া মামা আমার ঠক্ঠক্‌ করে কাঁপছেন।
মামা বললেন, “চল্‌ মন্টু, গাছ থেকে খেজুর-রস নামাব ৷” আমি মহানন্দে লাফিয়ে উঠলাম ।

উঠোনে নামতেই দেখি, নানিজান মাটির চুলায় ভাপা পিঠা বানাচ্ছেন। চারদিকে খেজুর-রসের মৌ মৌ
গনধ। আমার জিভে প্রায় পানি এসে গেল। মামার সাথে সাথে বাড়ির বাইরের দিকে গেলাম । কুয়াশার
চাদরে ঢেকে আছে সব। পুকুরের হিমশীতল জলে মুখ ধুলাম | তারপর গেলাম মামার সাথে খেজুর-রস
নামাতে ।

বাড়ির সীমানা ঘেঁষে বেশ কয়েকটা খেজুর গাছ। তাতে এ সময় প্রচুর রস হয়। মামা খুব সাবধানে কোমরে
বাধা টোকাতে ঝুলিয়ে রসভর্তি মাটির কলসিগুলো একে একে নামালেন। ছাকনি দিয়ে ছেকে রসগুলো
ঢাললেন একটা বড় গামলায়। গ্লাসে ভরে আমাকে দিলেন একপ্লাস কাচা রস। দাত অবশ হয়ে যাওয়ার
মতো শীতল, কিন্তু অপূর্ব স্বাদ। খেজুর রস খেয়ে আমার শীত যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল। আমি ঠক্ঠক্‌ করে
কাপতে লাগলাম । মামা আমার অবস্থা দেখে হেসে উঠলেন। গ্রামের পথ-ঘাট কুয়াশার চাদরে ঢাকা ।
আলপথে কৃষক লাঙল কীধে গরু নিয়ে যাচ্ছে হাল চাষে । কুয়াশার মধ্যে তাদের আবছা ছায়ামূর্তি দেখা যায় ।
যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আকা এক সুন্দর মনোরম ছবি।

লাগছে। খালিপায়ে শিশিরসিত্ত সবুজ ঘাসে হাটতে গিয়ে আমার পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ভিজে গেল। কিন্তু
হিমশীতল শিশিরের স্পর্শ পেয়ে আমার মন আনন্দে নেচে উঠল।

বাড়ি ফেরার সময় দেখলাম পুকুরের পানি থেকে ধোয়া উঠছে। উঠোনের একপাশে তখন রোদ এসেছে।
সেখানে পাটি বিছিয়ে নানিজান ভাপা পিঠা আর কীচা রসের পায়েস খেতে দিলেন। অপূর্ব তার স্বাদ। শীত-
সকালের এমন সুখকর অনুভূতি আমি এর আগে আর কখনো পাইনি। আবহমান বাংলার সংস্কৃতির এঁতিহ্যে
লালিত এই গ্রামীণ জীবনের শীতের সকাল উপভোগ করে আমি ধন্য ।

শহরের বাসায় ডায়নিং টেবিলে বসে ডিম মামলেট, রুটির টোস্ট কিংবা পরোটা-ভাজির নাশতায় সেই স্বাদ
কোথায়? আমাদের আবাসিক এলাকায় বাসার বারান্দায় দাড়িয়ে ভোরের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে আমি
আনমনা হয়ে যাই। বাইরে তখন প্রাণের সাড়া পড়েছে। ছোট্ট ছেলেমেয়েরা স্কুলড্রেস পরে, পিঠে ব্যাগ
ঝুলিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। শহরের শীতের সকালের মধ্যে সেই প্রাণম্পন্দন কোথায়? আমার বুক থেকে একটা
দীর্ঘনিঃশ্বাস বেরিয়ে এল । মনে হলো, আজকের এই শীতের সকালে যদি আমার নানিবাড়িতে থাকতে
পারতাম!

বসন্তের প্রকৃতি
(সংকেত)

ভূমিকা : ফাল্গুন-চৈত্র এ দুই মাস বসস্তকাল। খাতুরাজ বসন্তের আগমনে বাংলাদেশের প্রকৃতি সম্পূর্ণ পালটে
যায়। পাতাঝরা শীতের বৈরাগ্য আর থাকে না। গাছের ডালে কচি কিশলয় উকি দেয়। পত্রপল্লবে ভরে যায়
বৃক্ষের শাখা । মুকুলিত বৃক্ষের শাখায় মৌমাছিদের গুঞ্জন, কোকিলের কুহু তানে ভরে যায় হৃদয় । মনে পড়ে
রবীন্দ্রনাথের সেই গান-_

১০৫
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-১৪
মাধামিক বাংলা রচনা

“আহা, আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে
এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায় ।’

বসম্তের রুপবৈচিত্র্য : বসন্তের প্রকৃতি খুবই মনোরম । পত্রপুষ্ষে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তখন সবুজ বন-বনানী।
নানা বর্ণের ফুলের নৌরভে বাতাস আমোদিত হয়। শিমুলের লাল থোকা থোকা ফুলের আড়ালে নেচে ওঠে
শালিক পাখি, ময়না, টিয়ে। ঘন বনের আড়ালে লুকিয়ে কু-উ করে ডেকে ওঠে কোকিল। প্রকৃতির এই
সাজবদল মানুষের মনেও নতুন এক বার্তা বয়ে আনে । “বৌ কথা কও” পাখির গানে মানুষের মনও প্রকৃতির
সঙ্গে আত্মলীন হয়ে যায়। অজানা আনন্দে হৃদয় ভরে যায় । ধান-কাউনের মাঠে মটরশুঁটির লতানো গাছ,
সরষে ফুলের হলুদ বনে প্রজাপতির লুটোপুটি এসব মনোরম শোভা সত্যি আনন্দের । আমের শাখায় দেখা
যায় নতুন মর্জরি। মৌমাছির গুঞ্জন, মৃদুমন্দ দখিনা বাতাসে শরীর জুড়িয়ে যায়। আবহাওয়া থাকে
নাতিশীতোষণ।

উপসংহার : বসন্ত বাংলার সুরভিত এক খতু । এ খতুতে প্রকৃতি যেমন আপন সাজে নিজেকে সজ্জিত করে,
তেমনি মানুষের মনেও এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। বসন্ত তাই সবার কাছে কাজ্জিত খাতু | কবি-
সাহিত্যিকরা নানাভাবে বসন্তের বন্দনা করেছেন । “ঝতুরাজ’ বলে অভিহিত করে বসন্তের প্রশংসা করেছেন।

নদীতীরে সূর্যাস্ত
গোধূলির আবিরে রাঙা অস্তায়মান লাল সূর্য। দিনের শেষে থেমে আসে চারপাশের কর্মকোলাহল। প্রকৃতিতে
নেমে আসে অন্যরকম এক প্রশান্তি । পশু-পাখি নীড়ে ফিরে যেতে থাকে । সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর শুরু

হয় শ্রান্ত মানুষের ঘরে ফেরার পালা । চরাচরে সর্বত্রই বিরাজ করে এক নৈসর্গিক নীরবতা । সূর্যের রক্তিম
আলোর ছটায় প্রকৃতি যেন অন্যরকম রঙে নিজেকে সাজায়।

নদীর তীরে দীড়ালে সূর্যাস্তের এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বিস্তৃত নদীতীর, সামনে
কল্লোলিত নদী, স্বর্গীয় আভায় রঞ্জিত আকাশ-_ এই শোভা, এই অপরুপ রূপের মাধুরী দেখে দু চোখের তৃষ্ণা
যেন মেটে না। বিশুস্ুষ্টা যেন নিজেকে আড়ালে রেখে মোহময় সৌন্দর্যের মধ্যে মানুষকে ডুবিয়ে রেখেছেন।
রহস্যময় এক মায়ার জগৎ সৃষ্টি করে খেলছেন আড়ালে বসে। সূর্যাস্তের সময় নির্জন নদীতীরে দীড়ালে
এমন অধ্যাত্ব-ভাবনা ভেসে আসে মনে । নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখে মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার

কিছু চরণ :
আধারে মলিন হল, যেন খাপে ঢাকা
বাকা তলোয়ার ।”

দিবসের অবসান আর রাত্রির আগমনের এই মাহেন্দ্রক্ষণটিতে পৃথিবী যেন মিলন-বিরহের খেলায় মেতে
ওঠে । আকাশ আর মাটি যেন মুখোমুখি মৌনমুখর। সে অপার্থিব মৌনতা ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ চরাচরে
নদীবক্ষে, পর্বতে, অরণ্যে। ছায়াঢাকা গ্রামের নিবিড় প্রেক্ষাপটে সূর্যাস্তের দৃশ্য ঘোমটা-টানা লাজুক বধুর
কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ।

নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখতে গেলে বহুমাত্রিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে । সামনে বিশাল জলরাশি, ওপরে রক্তিম

১০৬

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

উদার আকাশ, গোধুলি লগ্নে উনুত্ত নদীতীরে দীড়ালে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
আকাশের রক্তিম রঙে নদীর পানি রঙিন হয়ে ওঠে। এ সময় দিগন্তে দ্রুত রং বদলাতে থাকে । অস্তগামী
সূর্যের লাল টিপ কপালে পরে পৃথিবী যেন নববধূর মতো সাজে । ঝিলিমিলি ঢেউখেলানো সোনারঙের পানিতে
পালতোলা নৌকা ভেসে চলার দৃশ্য অপূর্ব লাগে । নদীর তীর ধেঁষে বাতাসের স্রোত সাতরে উড়ে চলে সাদা
বক, গাঙচিল, বালিহাসের বঝাঁক। রক্তিম সূর্য তার উষ্ণতা বিলিয়ে লাল হতে হতে নিচে নামতে থাকে । এক
বিষাদের সুর।

তারপর সেই অগ্নিগোলক যেন নদীর বুকে টুপ করে ডুবে গেল। আধারে কালো চাদর আচ্ছন্ন করল
চারদিক। চরাচরে বিঝির শব্দ, জোনাকির টিপটিপ আলো, ঝিরিঝিরি বাতাসে সৃষ্টি হয় নতুন এক আবেশ ।
আছে নদীতীরে । পর মুহূর্তেই মনে হয়, এ তো নিছক কল্পনা মাত্র ।

অস্তায়মান সন্ধ্যার আবছা আধারে নদীর ছোট ছোট ঢেউয়ের ওপর বিচূর্ণ আলোর কারুকাজ সত্যিই বিস্ময়-
জাগানিয়া । ইচ্ছে হয়, সেই ঢেউয়ের কারুকাজে একটু হাত রাখি। ছুঁয়ে দেখি আলোছায়ার বিচিত্র লুকোচুরি ।
ঘনায়মান সন্ধ্যার অপরুপ রূপের মাধূর্য ধরে রাখি হৃদয়ে। কিন্তু বাস্তবে তা যে হবার নয়। রক্তিম আকাশ

হয়ে থাকে । এক শাশৃত অনুভূতিতে হৃদয় মন ভরে ওঠে।
ঝড়ের রাত

আমি গা-শিউরে ওঠা এক ঝড়ের রাতের কথা বলব। সে এক বিভীষিকাময় ঝড়ের রাত । সে রাতে প্রায়
মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়েছিল আমার শিয়রে।

আমি তখন ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বৈশাখ মাস সবে শুরু হয়েছে। মা-বাবাসহ বেড়াতে গেছি গ্রামে, নানার
বাড়িতে। প্রচ গরম পড়ছে। আমার নানি বলেন-“কীঠাল পাকানো গরম। চারদিকে বুক্ষ-শুদ্কতা। মাটি
ফেটে চৌচির। একদিন বিকেলে হঠাৎ উত্তর-পশ্চিম আকাশে কালো হয়ে মেঘ জমল | ঘনঘন বিদ্যুৎ
চমকাতে লাগল । মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ার ধাক্কা । সন্ধ্যা হতে না-হতেই সমস্ত আকাশ কালো মেঘে
ছেয়ে গেল। অজানা আশঙ্কায় সবাই তখন উদ্বিগ্ন । বাতাসের ঝাপটা উত্তরোত্তর বেড়েই চলল।

মামা আবহাওয়ার খবর শোনার জন্য রেডিও অন করলেন। রেডিওর আওয়াজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। মামা
তৰু রেডিওর সাথে কান লাগিয়ে শব্দ শোনার চেষ্টা করছেন। আমি মামার কাছেই বসেছিলাম । হঠাৎ প্রচণ্ড
একটা ঝাপটা এল | আর বিকট শব্দে বাড়ির দরজার আমগাছের বড় ভালটি ভেঙে পড়ল । পাশে কোথাও
যেন তীব্র শব্দে বাজ পড়ল। ভয়ে আর আতঙ্কে আমার বুক দুরুদুরু।

নানিবাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। হারিকেনের আলোয় সবাই তাড়াতাড়ি খেয়ে নিলাম। সবার বিছানা তৈরি হল ।
কিন্তু কেউ আর ঘুমুতে পারল না। রাত প্রায় দশটা হবে। প্রচ ঝড় আর শিলাবৃষ্ষি শুরু হলো । বাতাসের
ঝাপটায় এক-একবার মনে হতে লাগল এই বুঝি পুরো ঘরটি উড়িয়ে নিয়ে যাবে । পশ্চিম কোণের ঘরের চাল
হঠাৎ খুঁটি থেকে আলগা হয়ে গেল। ঝড়ো বাতাসে সেটা দাপাদাপি করতে লাগল । নানা কোথেকে একটা
মোটা রশি নিয়ে খুঁটিটা বাধতে লেগে গেলেন। মামা ও বাবা দৌড়ে গেলেন সেখানে । অনধকারে ভালো করে

১০৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কিছু দেখা যাচ্ছে না। ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় দেখলাম মামা আর বাবা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন
ঘরের চালের সঙ্জো খুঁটিটাকে বাধার জন্য, কিন্তু পারছেন না। খাটের ওপর আমার মা, ছোটবোন ফারহানা,
নানি সবাই “আল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌ করতে লাগলেন ।

এমন সময় প্রচণ্ড শব্দে আমাদের মাথার ওপর থেকে ঘরের টিন উড়ে গেল। আমার নানি চিৎকার করে কেঁদে
উঠলেন। নানির কান্নার শব্দে আমার বোন ফারহানা এবং আমার মা হাউমাউ করে কাদতে লাগলেন।
গোয়ালঘরে গরুর হাস্বা ডাক, মানুষের আর্ত চিৎকার, বাতাসের ঝাপটা-_-সব মিলিয়ে মনে হলো ঘেন কেয়ামত
শুরু হয়ে গেছে। নানা জোরে জোরে শব্দ করে আজান দিতে লাগলেন। মামা চিৎকার করে বললেন, “সবাই
খাটের তলে আশ্রয় নাও। না হয় ঝড়ের তাবে কোনো কিছুতে শরীরে চোট লাগতে পারে ।’ আমরা সবাই
খাটের তলে আশ্রয় নিলাম । এভাবে কতক্ষণ ঝড় চলেছে বুঝতে পারিনি । সকালে যখন আমার হুঁশ হলো
তখনও আমি খাটের নিচে। চারদিকে কাদাজল। আমি যেন কাদতেও ভূলে গেছি। আম্মা কোথায়, নানি-বা
কোথায় গেল, কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।

খাটের নিচ থেকে আমি উঠে দেখলাম, ঘর কোথায়ঃ ঘর নেই। একটা নারকেল গাছ পড়ে আছে ঘরের
ওপর । টিনের একটা চালা উড়ে গেছে কোথাও । বরই গাছে ঝুলছে একটা টিন। একটা ঘুঘুপাখি মরে পড়ে
আছে উঠোনে । দৌড়ে গেলাম বাড়ির দরজার দিকে । দেখি কলাগাছ, সুপারিগাছ, কড়ই গাছের ডাল ভেঙে
পড়ে আছে পথের ওপর । বাবা-মা, নানা-নানি, মামা সবাই সেগুলো পরিষ্কার করছে।

কালবৈশাখী ঝড়ের কথা এর আগে শুনেছিলাম । কিন্তু আমার নিজের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না । কিন্তু এবার
সেই অভিজ্ঞতা হলো । ভাবলাম, এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যেন কারও না হয়। এর মধ্যে চার বছর চলে গেছে।
কিন্তু আমার স্মৃতিতে আজও গেঁথে আছে সেই রাতের ভয়াবহতা । সে রাতের কথা মনে হলে এখনও গা
শিউরে ওঠে। ঝড়ের প্রলয় তাওব, ভয়ংকর রূপ সে রাতে সবকিছু লণ্ডভ করে দিয়েছিল । সেদিন ঝড়ের
রাতে আমি বুঝেছি প্রকৃতির কোলে মানুষ কত অসহায়, কত নিঃস্ব ।

জ্যোতম্না রাতে
(সংকেত)

ভূমিকা : চন্দ্রালোকিত রাতের অপরুপ শোভা দেখা ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা । ঘটনাচক্রে এক রাতে জ্যোত্মার
রূপ-মাধুরী অবলোকন করে আমি বিস্মিত। জ্যোত্ম্লার সৌন্দর্যের এমন অপূর্ব রুপ আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনে
আর কখনো অনুভব করিনি ।

জ্যোঘস্্রা রাতের অপরুপ সৌন্দর্য : ঝিরিঝিরি বাতাস, নির্জন সন্ধ্যা। গ্রামের পথঘাটে কোথাও প্রাণের আভাস
মাত্র নেই। বৌদ্ধপূর্ণিমার রাত। টাদ যেন তার অপূর্ব শুত্র আলো ঢেলে দিচ্ছে পৃথিবীর বুকে । সমস্ত নিসর্গ
যেন জ্যোতম্নার শুত্রতায় আত্মলীন হয়ে গেছে। টাদের স্রিগ্ধ আলোয় প্রকৃতির এই শোভা দেখে আমি
অভিভূত । মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের সেই গানের কলি-_“আজ জ্যোতম্না রাতে সবাই গেছে বনে/বসন্তেরই
মাতাল সমীরণে ।” বনের ভেতরে দীড়িয়ে জ্যোতল্ার প্রকৃতি অনুভব করা ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা

জ্যোঘ্স্না ও মানুষের মন : ‘আয় আয় চাদ মামা” বলে ছোটবেলা থেকে আমাদের সঙ্গে চাঁদের নিবিড়
১০৮

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। চাদ যেন জীবনে ক্সিগতার আলো ছড়ায় । কবি-সাহিত্যিকরা ঠাদকে
নিয়ে লিখেছেন অরণীয় কত কবিতার পত্তক্তি। এভাবে টাদ আর জ্ঞযোথম্না মানবজীবনে অমলিন হয়ে আছে।

উপসংহার : জ্যোতম্না রাতে প্রকৃতিকে খুব মায়াবী দেখায়। চারদিকে জ্যোত্ম্নার শুন্রতা, নদীতীরে
দিগন্তজোড়া প্রান্তরে দীড়ালে যে-কোনো মানুষের মনে প্িগ্ধতার বোধ জনো। আনন্দে ভরে যায় সারা মন।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
সৈংকেত)

ভুমিকা : অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশ । প্রকৃতি যেন আপন হাতে এ দেশকে মনের মতো
করে সাজিয়েছেন। বছরের ছয়টি খতু পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকে নব নব সৌন্দর্যে বিভৃষিত করে। নদীমাতৃক
এ দেশের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ, সবুজ গাছপালা, পাখপাখালি বূপের মাধূর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রকৃতিক সৌন্দর্যের রূপ : সাগর-মেখলা, বন-কুন্তলা, শস্য-শ্যামলা এদেশের উত্তরে ভাওয়াল, মধুপুরগড়,
গেরুয়া রঙ্র মাটিতে মাথা উচু করে দীড়িয়ে আছে সারি সারি গাছ। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, বিস্তৃত
সুন্দরবন। পূর্বদিকে শ্রেণীবদ্ধ পাহাড়ের সারি যেন দেহরক্ষীর মতো দীড়িয়ে আছে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে
সাজানো চা-বাগান, বিশাল ছায়াবৃক্ষ। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি নদী । খাল-বিল, নদ-নদী, মাঠ-ঘাট
সব মিলে এ দেশকে বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের অধিকারী করেছে।

খতুবৈচিত্র্য : ষড়খতুর দেশ বাংলাদেশ । একেক খতু একেক রকম ফল-ফসলের বার্তা নিয়ে আসে
আমাদের দ্বারে । প্রত্যেকটি খতুই আপন বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল । গ্রীচ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত আর বসন্ত-_
খতু-পরিক্রমার এই রূপ মাধুর্য আমাদের মুগ্ধ করে।

মানুষ ও প্রকৃতি : বাংলাদেশের সবুজ নিসর্গ আর বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি এ দেশের মানুষের জীবনে গভীর
প্রভাব ফেলেছে। ধর্ম-বর্ণের বিভিন্নতা সত্তেও এদেশের মানুষ এক অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে পাশাপাশি
বাস করে। সহজ সরল অথচ প্রকৃতির বিরূপ বাস্তবতার সঙ্জো লড়াই করার অসীম সাহস ও শক্তি আছে এ
দেশের মানুষের মনে।

উপসংহার : প্রকৃতির বিচিত্র লীলাভূমি বাংলাদেশকে “রূপসী বাংলাদেশ’ নামে অভিহিত করা হয়।

নৌকায় ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা

ভূমিকা : আমি শহরেই জন্মেছি। বড় হয়েছি এই শহরেই । যদিও আমাদের গ্রামের বাড়ি আড়িয়াল খাঁ নদীর
তীরে। ছোটবেলায় মা আমাকে নিয়ে একবার নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেটা আমার স্ৃতিতে
থাকার কথা নয়। বাসে, ট্রেনে ভ্রমণের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার, কিন্তু নৌকাভ্রমণের কোনো
অভিজ্ঞতা হয়নি। সেই সুযোগও একদিন এসে গেল। আমার ছোটমামার বিয়ে উপলক্ষে নৌকাযোগে গ্রামের
বাড়িতে গেলাম । সপরিবারে যাচ্ছি বলে বড়মামা একটা বালাম নৌকা ঠিক করে রেখেছিলেন আগের দিন।

১০৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

যাত্রার বিবরণ : খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি মা সবকিছু ঠিকঠাক করে রেখেছেন। ছোটবোন ফারহানাও
তার লাল জামাটা পরে প্রস্তৃত। বড়মামা কাপড়ের ব্যাগ, টিফিন কেরিয়ার ইত্যাদি গুছিয়ে ফেলেছেন। বাবা
অফিস থেকে ছুটি পাননি বলে আমাদের সাথে যেতে পারছেন না।

সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ আমরা নৌকায় গিয়ে উঠলাম । প্রথমদিকে মায়ের কড়া শাসনে আমি চুপচাপ
ছইয়ের মধ্যে বসে থাকলাম । কারণ আমি তো সাঁতার জানি না। কিছুটা ভয়ও লাগছে। তবে শরতের নদী
বলে বেশ শান্ত। ছোট ছোট ঢেউয়ে নৌকা দুলছিল। শুয়ে শুয়ে ছইয়ের ফাক দিয়ে নীল আকাশ দেখতে
থাকলাম । শরতের আকাশ যে এত নীল হয়, তা আজই আমি প্রথম অনুভব করলাম । সাদা সাদা তুলোর
মতো হালকা মেঘ ভেসে যাচ্ছে। দূরে উড়ে যাচ্ছে গাঙচিল, মাছরাঙা, বকের সারি। মাঝে মাঝে ভট ভট
শব্দ করে ঢেউ তুলে ছুটে যাচ্ছে পাশ দিয়ে লঞ্চ, স্পিডবোট । বড়মামা টু-ইন-ওয়ানে সতীনাথ
মুখোপাধ্যায়ের গান শুনছেন- ‘“মরমিয়া তুমি চলে গেলে, দরদিয়া আমার… ।* বড়ই দরদ দিয়ে গাওয়া
গানের সুর আমাকেও ক্ষণিকের জন্য তন্ময় করে ফেলেছে।

নদীর পানিতে হাত ডুবিয়ে খেলা করতে। কিন্তু মাকে বলতেই মা প্রচণ্ড এক ধমক দিলেন। আমাকে ধমক
দিতে দেখে মামা মহাকৌতুকে হেসে উঠলেন। আমি ভীষণ লঙ্জা পেলাম। মা মনে করে আমি এখনো
ছোট্রটি রয়ে গেছি।

নৌকার মাঝি চারজন। বেশ দক্ষ মাঝি বোঝা যায়। খালি গা, কোমরে গামছা বাঁধা । মাথায় একটা পুরনো
কাপড় পেঁচানো । নৌকাখানাও বেশ দশাসই। দুইপাশে চ্যাপটা গলুই। মাঝখানে ছবির মতো ছই উঠানো ।
কাঠের পাটাতনের ওপর হোগলা বিছানো, তার ওপর একটা পাতলা কীথা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে
একাধিক বালিশ পাতা আছে। একপাশে একটা মাটির চুলা । সম্ভবত মাঝিরা এখানে রান্না করে খায়। নৌকা
তখন মাঝনদীতে । কুলুকুলু ঢেউ, ছলাৎ ছলাৎ শব্দে গলা মিলিয়ে গান ধরল মাঝি__

আমি গহিন গাগের নাইয়া, আমি গহিন গাঙের নাইয়া
আমি এপার হতে ওপারে যাই বাইয়া রে আমি,…

আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন ছায়াছবির কোনো দৃশ্য দেখছি। ততক্ষণে পালে হাওয়া লেগেছে। দূরে ছোট
ছোট দোকানপাট, হাট-বাজার, দালান-ঘর, বাড়ি, গাছপালা দেখতে পেলাম | পেছনে আবছা ছায়ার মতো
দিগন্ত। নদীর ঘাটে কেউ কাপড় ধুচ্ছে, মেয়েরা ঘোমটা মাথায় থালাবাসন মাজছে, কেউ-বা শিশুকে গোসল
করাচ্ছে, ভরা কলসি কীখে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে গ্রাম্য বধু। কিশোর দামাল ছেলেরা নদীর ঘোলা জলে
লাফালাফি করছে, কেউ-বা সীতার কাটছে। জেলেরা জাল বাইছে। কেউ গরু গোসল করাচ্ছে নদীর জলে ।
এক জায়গায় দেখলাম একসাথে অনেকগুলো সারিবাধা নৌকা । কোনো কোনো নৌকা থেকে ধোয়া উড়ছে।
ছইয়ের ওপর রোদে দেওয়া শাড়ি। বড়মামা বললেন, ওগুলো বেদের নৌকার বহর ।

বেলা তিনটার দিকে আমরা তালতলির ঘাটে গিয়ে পৌছলাম। তালতলির বাজারটা ঘ্বুরে দেখা আমার খুব
শখ । তালতলির বাজারে একটা ভাঙাচোরা চায়ের স্টলে চা খেলাম। গরুর খাঁটি দুধের চা। আমার কাছে
অমৃতের মতো লেগেছে।

৯১০

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
এখান থেকে আমাদের নৌকা ধলেশ্বরী হয়ে একটা ছোট খালে প্রবেশ করল। দুপাশে শান্ত সুন্দর বাড়িঘর ।
বাংলার অপরুপ রুপ দেখে আমি মুগ্ধ । মনে মনে বললাম “সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে ।* সার্থক
আমার নৌকা ভ্রমণ |

রেলভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা

(সংকেত)

ভূমিকা : বাসদ্রমণের অনেক অভিজ্ঞতা থাকলেও রেলভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। ছোটবেলা থেকেই রেলে
ভ্রমণের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা আছে। এই দুর্বলতা জন্মেছে কবি শামসুর রাহমানের সেই ছড়াটি পড়ে_

‘ঝক্‌ ঝক্‌ ঝক্‌ ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে অই।
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে, ট্রেনের বাড়ি কই?

কল্পনার কান পাতলেই যেন শুনতে পেতাম তীর হুইসেল বাজিয়ে বিকঝিক্‌ শব্দ তুলে চলে যাচ্ছে ট্রেন।
একদিন সেই স্বপ্রের রেলভ্রমণের সুযোগও এসে গেল। বড়মামার বিয়ে। ঢাকায় বিয়ে হচ্ছে। বড় মামার
বিয়ে উপলক্ষে আমরা সপরিবারে ঢাকায় যাব ট্রেনে।

যাত্রার বিবরণ : সকাল সাড়ে সাতটায় “উর্মি অরুণা” করে আমরা চট্টগ্রাম থেকে রওনা হলাম। নির্দিষ্ট সময়
হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন হেলেদুলে চলতে শুরু করল। বাবা বললেন, “একটু ধৈর্য ধর» পাহাড়তলি স্টেশন
পেরুলেই গতি বাড়বে। সত্যি তাই, আমি অবাক হয়ে দেখলাম, মাঠ-ঘাট, গাছপালা, গ্রাম, বাড়িঘর বন
কেমন সীই সীই করে ছুটে যাচ্ছে। ইলেকট্রিকের থাম, টেলিফোন খাম্বা দ্রুত যেন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। আমার
খুব মজা লাগছে।

রেলপথের নানা দৃশ্য : ট্রেনের যাত্রীরা কেউ ঝিমোচ্ছে, কেউ কথা বলছে, কেউ আড্ডা দিচ্ছে, হাসছে। এর
মধ্যে বাদামওয়ালা “বা-দা-ম, বা-দা-ম’ বলে হেঁকে গেল। একটা চা-ওয়ালা বিশেষ ভঙ্গিতে বলছে “চা-
গরম্‌, চা-গরম” | আর ট্রেন চলছে ছন্দ তুলে ।

উপসংহার : বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে এসে ট্রেন থামলে আমার রেলভ্রমণ
শেষ হয়। পথে ভিক্ষুক, ফেরিওয়ালার হাঁক-ডাক, যাত্রীদের নানা ক্রিয়াকাণ্ড দেখতে দেখতে আমার
রেলভ্রমণের সময়টা বেশ আনন্দে কেটেছে।

আমার জীবনের লক্ষ্য

ভূমিকা : মহাকালের তুলনায় মানবজীবন খুবই ছোট । এই ছোট মানবজীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে গড়ে
তোলার জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য । লক্ষ্যহীন জীবন হালবিহীন নৌকার মতো । হালবিহীন জীবন সময়ের
ঘূর্ণাবর্তে পড়ে দিশেহারা হয়ে যায়। তাই জীবনের শুরুতে একটা লক্ষ্য স্থির করে নেওয়া উচিত। লক্ষ্য ঠিক
রেখে শ্রম, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও একাগ্রতা নিয়ে অগ্রসর হলে জীবনের সে লক্ষ্যে পৌছা সম্ভব ।

১১১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

লক্ষ্য স্থির করার প্রয়োজনীয়তা : আমি খুব ছোটবেলা থেকেই জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভেবেছি। তখন
আমার বয়স ছিল কম। মন ছিল চঞ্চল। চারদিকে তাকিয়ে যা দেখতাম, তাতেই রোমাঞ্চিত হতাম ।
আকাশে গর্জন করে বিমান উড়ে যেতে দেখে ভাবতাম, আমি পাইলট হব। স্কুলের বইতে বিজ্ঞানী নিউটন,
আলভা এডিসন বা গ্যালিলিওর চমকপ্রদ আবিষ্কারের কাহিনী পড়ে ভাবতাম, আমি একদিন বিজ্ঞানী হব।
ব্বীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুলের কবিতা পড়ে ভেবেছি, আমি একদিন তাদের মতো জগত্বিখ্যাত লেখক হব।
একটু বড় হওয়ার পর যখন জ্ঞান-বুদ্ধি একটু বেড়েছে, তখন বুঝতে পেরেছি, ইচ্ছে করলেই যা-কিছু হওয়া
যায় না। তাই আমি অনেক ভেবেচিন্তে আমার জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছি- বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার
হব। আমার এ লক্ষ্য নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানবসেবা ।

ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিদ্যা শেখার কারণ : আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবা এখন সীমিত ও ব্যয়বহুল হয়ে
পড়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। গ্রামের কৃষক ও সাধারণ
মানুষ এখন ভালো চিকিৎসাসেবা পায় না। বড় বড় অনেক চিকিৎসকের মধ্যে এখন ব্যবসায়িক মানসিকতা
ঢুকে পড়েছে। এ অবস্থা বদলানো দরকার। এ জন্য চাই নিবেদিত-প্রাণ চিকিত্সক । তাই আমি ভালো
ভাক্তার হতে চাই।

জীবনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা : আমি আমার লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য এখনই তৈরি হচিছি। অঙ্ক ও
বিজ্ঞানের প্রতি আমার বরাবরই আকর্ষণ বেশি । স্কুলের নির্ধারিত পড়া ছাড়াও অবসর পেলে আমি বিজ্ঞানের
বই পড়ি, অভ্ক কষি। প্রকৃতির রহস্যে আমি বিস্মিত হই। নানা আবিষ্কারের কাহিনী পড়ে আমি খুব মজা
পাই। তাই নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগই বেছে নিয়েছি। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে কলেজে গিয়েও
আমি বিজ্ঞান পড়ব । তখন জীববিদ্যা আমার অন্যতম বিষয় থাকবে । আশা করি, নিয়মিত লেখাপড়া করতে
পারলে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পাব। মেডিকেল কলেজের ভর্তি
পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে পারব বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমি চিকিৎসা-বিজ্ঞানের যে-কোনো একটি শাখায়
বিশেষজ্ঞ হওয়ার আশা পোষণ করি ।

জনসেবা ও কর্মজীবন : একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে আমি কর্মজীবন শুরু করতে চাই । সরকারি চাকরি
গ্রহণ না করে স্বাধীনভাবে রোগী দেখব। এ জন্য আমি গ্রামের অর্থাৎ উপজেলা পর্যায়ের স্থানকে বেছে
নেব। অধিক অর্থোপার্জনের জন্য শহরই উপযুক্ত স্থান, কিন্তু আমার অর্থের প্রতি কোনো লোভ নেই।
শহরের ভালো ডাক্তার গ্রামে থাকতে চায় না। ফলে জটিল রোগের জন্য গ্রামের মানুষদের শহরে আসতে
হয়। অথচ গরিব গ্রামের লোকদের সেই আর্থিক সংগতি থাকে না। আর্থিক অসুবিধার কারণে কত লোক
বিনা-চিকিৎসায় মারা যায় । আমি গ্রামের সেইসব হতদরিদ্র জনগণের সেবা করতে চাই। তাদের জন্য বিনা-
ফিতে চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকবে । ধনীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি আদায় করব । আমার ইচ্ছা, গ্রামের
মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার একটি পদ্ধতিগত মডেল তৈরি করা। যাতে চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত গ্রামের
মানুষরা উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা পায়।

উপসংহার : ডাত্তারি শুধু একটি পেশা নয়, একই সঙ্তো মানবসেবার মহৎ সুযোগও আছে এ পেশায়।
উকিল, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনীতিবিদ, ম্যাজিস্ট্রেট-_-এসব বর্ণাঢ্য পেশার চাইতে ডাত্তারি পেশা সম্পূর্ণ আলাদা ।
ডাক্তারি পেশায় অর্থোপার্জন হয় আবার মানবসেবার প্রত্যক্ষ সুযোগও এ পেশাতে রয়েছে। তাই আমি
সবদিক বিবেচনা করে একজন ডাক্তারই হতে চাই । এটাই আমার জীবনের লক্ষ্য ।

১১২

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আমার শৈশবস্থৃতি
“দিনগুলি মোর সোনার খাচায় রইল না
সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি ।

জীবন যে এত মধুর, পৃথিবী যে এত সুন্দর তা একমাত্র শৈশবের চোখ দিয়ে না দেখলে বোঝা যায় না।
জীবনে যা কিছু সুন্দর, সুখকর, তা আমি দেখেছি শৈশবের জানালায় উকি দিয়ে । মুগ্ধ হওয়ার এক সহজাত
প্রবৃত্তি নিয়ে আমি জন্নোছি বলেই হয়তো যা-কিছু দেখতাম, তাতেই ছিল বিস্ময়। জোনাক-জুলা রাত্রি,
সুয়োরানী-দুয়োরানী, পাতালপুরীর রাজকন্যার দুঃখ সবই শৈশবের স্মৃতির পাতায় রঙিন হয়ে আছে। জীবন
এগিয়ে চলছে, আমি বড় হচ্ছি, কিন্তু শৈশবের সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে হলে আমি থমকে
দাঁড়াই । আমার হৃদয় ভেঙে কান্না আসে । আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না শৈশবের খেলার মাঠে ফেলে আসা
রঙিন বেলুনের কথা । ঘুড়ি ওড়ানো বিকেলবেলার স্বৃতি।

আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামে । বাবা চাকরিসূত্রে থাকতেন শহরে । বাড়িতে দাদি, চাচা, ফুফু
ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের কলকাকলিতে মুখর ছিল আমাদের বাড়ি। আম, জাম, কীঠাল, নারকেল, সুপারি
গাছে ছায়াসুনিবিড় ছিল গ্রামের বাড়িটি । আমি ছিলাম পরিবারের সকলের আদরের । বিশেষত, আমার দাদি
আমাকে খুবই আদর করতেন। প্রতি রাতে তিনি আমাকে রূপকথার গল্প বলে ঘুম পাড়াতেন। আর সেই
গল্পকে বাস্তব মনে করে আমি কল্পনায় পাখা মেলে ঘুমের মধ্যে হয়ে যেতাম দিগ্বিজয়ী রাজপুতুর ।
পঙ়্থিরাজের ঘোড়ায় চড়ে, কোমরে বীধা তলোয়ার নিয়ে স্বপ্নে আমি ছুটে চলছি সেই অপরুপ দেশে । আমার
দাদি ছিলেন অত্যন্ত ম্নেহপরায়ণ, মিষ্টিভাষী এবং আমার খুব প্রিয় ।

চার বছর বয়স পর্যন্ত আমার কিছুই মনে পড়ে না। পাঁচ বছর বয়সে আমাকে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করানো
হয়। মা আমাকে বর্ণমালা লেখা শেখাতেন। শহর থেকে আব্বা বাড়ি আসার সময় আমার জন্য আনতেন
ছোট্ট উপহার । কলমের বাক্স, স্কুলের ব্যাগ, রঙিন পেলসিল। সেইসব উপহার পেয়ে আমি যে কী খুশি
হতাম! সেই আনন্দের কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

বাড়ির কাছেই ছিল আমাদের স্কুল। পাড়ার সমবয়সী আমরা একসঙ্গে স্কুলে যেতাম । বাড়ি থেকে স্কুল খুব
দূরে ছিল না। হেঁটেই স্কুলে যেতে হতো । গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে স্কুলে যাওয়ার পথটি বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠত । স্কুলের
দীর্ঘ বারান্দায় ঝুলানো পেতলের ঘণ্টায় বুড়ো দণ্তরিকাকা যখন ঘণ্টা বাজাতো, সেই দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো।

স্কুলের পাশ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন । দুপুরবেলা তীব্র হুইসেল বাজিয়ে চলে যেত দুরন্ত ট্রেন। ট্রেনের
জানালায় দেখা যেত কত উৎসুক অপরিচিত মুখ । ঝিক্ঝাক্‌ ট্রেনের সেই শব্দ আজো আমার কানে বাজে।
কখনো বিকেলে আমরা রেললাইনে বেড়াতে যেতাম । রেললাইনের দুপাশে প্রচুর বরই গাছ। আমরা পাকা
পাকা বরই পেড়ে খেতাম । বিকেলে স্কুলের মাঠে পাড়ার ছেলেরা ফুটবল খেলত | কখনো মাঠের পাশে বসে
ফুটবল খেলা উপভোগ করতাম । বিভূতিভূষণের “পথের পাঁচালী” উপন্যাসের দুর্গা, অপুর মতো কাশবনে
লুকোচুরি খেলতাম। খালের পানিতে ভেসে থাকা কচুরিপানার বেগুনি ফুলকে মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে
সুন্দর ফুল। ঝাড়বাতির মতো এক-একটা ফুল আমাকে কী যে আকর্ষণ করত । কত তুচছ, নগণ্য জিনিস
আমার কাছে মহামূল্যবান মনে হতো।

মায়ের কাছ থেকে আবদার করে একটা টিনের বাক্স নিয়েছিলাম । তাতে পরম ঘত্বে লুকিয়ে রাখা আছে
আমার নানা সংগ্রহ । আমাদের পুরোনো রেডিও, বাবার পুরোনো ঘড়ি, একটা সুন্দর পাইলট কলম, একটা

১১৩
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-১৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

রেকর্ডপ্রেয়ার। এখন আর এসবের চল নেই। কিন্তু বাক্স খুলে ওগুলো বের করলেই পুরোনো দিনের স্মৃতি
ভেসে ওঠে।

শৈশবকে আমি খেলার মাঠে গ্রামের বাড়িতে আর গ্রামের স্কুলঘরে ফেলে এসেছি। সেই স্বগ্রময়, সুখকর
ম্ৃতি, মধুর দিনগুলি মনের পাতায় বারবার অনুরণন তোলে । যতই বড় হচ্ছি ততই রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি
হচ্ছি। ততই মনে হচ্ছে, আহ্‌ শৈশবে কত আনন্দেই না ছিলাম! কে আমায় ফিরিয়ে দেবে সেই দিনগুলি!

আমার প্রিয় কৰি
ভূমিকা : যার কবিতা আমাকে অভিভূত করে, ধার কবিতা পড়ে আমি আপ্ুত হই, তিনি কাজী নজরুল
ইসলাম। বাংলা সাহিত্যে ধূমকেতুর মতো তাঁর আবির্ভাব । অন্যায়-অবিচার, জুলুম ও শোষণের বিরুদ্ধে তার
কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে প্রচণ্ড বিদ্রোহ । তিনিই শুনিয়ে ছিলেন সংগ্রাম ও বিপ্লবের কথা। জাতিকে দেখিয়ে
ছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্র। এই বিদ্রোহী কৰি কাজী নজরুল ইসলামই আমার প্রিয় কবি। এ কবির সঙ্গে আমার
প্রথম পরিচয় ঘটে কৈশোরে পড়া একটি কবিতার মাধ্যমে _

“আমি হব সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি ডাকি ।

কেন প্রিয় কবি : ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হবার পর দেখলাম, আমাদের স্কুলে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালিত
হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে এক আবৃত্তিকারের উচ্চারণে তীর “বিদ্রোহী” কবিতার আবৃত্তি শুনে আমি মুগ্ধ,
অভিভূত । “বিদ্বোহী’ কবিতার সব কথা তখন বুঝিনি । কিন্তু যে কথাগুলো তখন বুঝেছিলাম তার সবগুলো
কথাই যেন আমার মনের কথা । কিছু বুঝে কিছু না-বুঝে এর প্রতিটি শব্দ এবং পঙ্ুত্তির সাথে সেদিন আমি
যেন একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম ।

গ্রীষ্মের ছুটিতে মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দেখলাম, আমার ছোটমামার সংগ্রহে “নজরুল রচনাবলি’ রয়েছে।
ছোটমামারও প্রিয় কবি নজরুল । ছোটমামা আমাকে নজরুলের জীবনের অনেক কথা শোনালেন। আবৃত্তি
করে শোনালেন নজরুলের কবিতা । ‘খুকু ও কাঠবিড়ালী’, “লিচু চোর, “খোকার সাধ”, “কুলি ও মজুর”,
‘সাম্যবাদী’ প্রভৃতি কবিতা । এভাবে আমার মনের মণিকোঠায় নজরুল হয়ে ওঠেন প্রিয় কবি। আরো একটু
বড় হয়ে আমি নজরুলের আরো কবিতা ও গান শুনেছি । “সংকল্প” কবিতায় তিনি লিখেছেন :

“থাকব না ক বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগণটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ
যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে।

এ যেন আমার কিশোরমনের কথা । আমারো মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় এই সীমাবদ্ধ গঞ্ডিটা থেকে বেরিয়ে
জগৎ্টাকে ঘুরেফিরে একটু দেখি। তাই আমি নজরুলকেই প্রিয় কবির আসনে বসিয়ে, তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন
করি । নজরুল ঘ্ৃণেধরা সমাজটাকে ভেঙ্চেরে নতুন সমাজ গড়ার কথা বলেছেন । নজরুল আমার কাছে তাই,

“বাবরি দোলানো মহান পুরুষ
সৃ্চি সুখের উল্লাসে কীপা,।

১১৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা
নজরুলের জীবনালেখ্য : কবি নজরুলের ব্যক্তিঘত জীবন ছিল খুবই বৈচিত্র্যময়। তার জন্ম ১৮৯৯ সালে
পশ্চিমবঙ্তোর বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম ছিল ফকির আহমদ এবং মাতার নাম
জায়েদা খাতুন। গ্রামের মন্তবেই তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। বাল্যকাল থেকে নজরুল কিছুটা খেয়ালি,
বেপরোয়া, দুরত্ত ছিলেন। লেখাপড়া বাদ দিয়ে একসময় যোগ দেন গ্রামের লেটোর দলে। মাসিক পাঁচ টাকা
বেতনে আসানসোলের এক রুটির দোকানে কাজ করেন। আসানসোলের তৎকালীন পুলিশের দারোগা
রফিজউদ্দিন বালক নজরুলের প্রতিভার পরিচয় পেয়ে ময়মনসিংহে এনে তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।
তিন বছর পর নজরুল সেখান থেকে পালিয়ে যান। শিয়ারশোল স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম
বিশ্বযুদ্ধ শূরু হয়। নজরুল পড়ালেখা অসমাপ্ত রেখে বাঙালি পল্টনে গিয়ে সৈনিকের খাতায় নাম লেখান।
কর্মদক্ষতার গুণে অল্পদিনের মধ্যে তিনি হাবিলদার পদে উন্নীত হন।

সৈনিক থাকা অবস্থায় করাচি থেকে তিনি কলকাতার পত্রিকায় লেখা পাঠাতেন। ১৯১৯ সালে প্রথম
বিশ্বযুদ্ধ শেষে তিনি কলকাতায় ফিরে এসে পত্রিকা সম্পাদনা ও সাংবাদিকতার সঙ্তো যুক্ত হন। ইতোমধ্যে
প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত কবিতা “বিদ্রোহী’। এই কবিতাই নজরুলকে রাতারাতি খ্যাতির চূড়ায় পৌছে
দেয়। তিনি হয়ে ওঠেন বিদ্রোহী কবি। তারপর একে একে প্রকাশিত হয় তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ, গীতিগ্রন্থ,
গল্পথন্থ, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধথন্থ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: ‘অগ্নিবীণা”, “বিষের বীশি”,
“সাম্যবাদী”, “দোলন চাপা’, “সিনধু হিন্দোল’, “সর্বহারা’। তিনি ছোটদের জন্যও অনেক লিখেছেন।
‘ঝিলিমিলি’, আলেয়া, ‘পুতুলের বিয়ে” তীর শিশুতোষ রচনা ।

নজরুল ছিলেন উপনিবেশিক আমলের কবি। তাই ওঁপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে তিনি কবিতা
লিখেছেন। তার কবিতা বাজেয়াপ্ত হয়েছে । কবিতা লেখার অপরাধে তিনি জেলে গেছেন। তবু তিনি পিছপা
হননি, সত্য-সুন্দর-ন্যায়ের কথা বলেছেন, জাতিকে শুনিয়েছেন মুক্তির গান_

যেন লেখা হয় আমার রক্ত লেখায় তাদের সর্বনাশ ।

নজরুল এভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। হিন্দু-মুসলমানের এঁক্যের মাধ্যমে তিনি সাম্রাজ্যবাদী
ব্িটিশ শত্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সদা সোচ্চার।
জাতিকে দেখান তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন। ১৯৪২ সালে নজরুল হঠাৎ এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে
নির্বাক হয়ে পড়েন। তারপর দীর্ঘ তেত্রিশ বছর নজরুল নির্বাকই ছিলেন। ১৯৭৬ সালে ঢাকায় তিনি
মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

উপসংহার £ নজরুল সাম্যের কবি, সুন্দরের কবি। “মম এক হাতে বাকা বাশের বাশরি, আর হাতে
রণতূর্য’_ এ কেবল নজরুলের পক্ষেই বলা সম্ভব৷ কারণ, তিনি নিপীড়িত-লাঞ্িত মানুষের কথা ভেবেছেন।
পরাধীন জাতির মুক্তির কথা বলেছেন। উপমহাদেশের ইতিহাসে একমাত্র নজরুলই কবিতা লেখার অপরাধে
জেল খেটেছেন। নজরুল ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা । তাই বাংলাদেশ সরকার তাকে দিয়েছে
আমাদের “জাতীয় কবি’র মর্যাদা । মহান এই কবিই আমার প্রিয় কবি।

৯১৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

একটি কলমের আত্মকথা

আমি একটি ছোট্ট কলম। এতকাল আমি অন্যের কথা বলেছি। লিখেছি তাদের সুখের কথা, দুঃখের
কাহিনী । উত্তর লিখেছি ছাত্রের পরীক্ষার খাতায় । ডাক্তার, উকিল, মাস্টার, কেরানি, জজ-ব্যারিস্টার আমাকে
দিয়ে লিখিয়েছেন কত বিচিত্র বিষয়ে । গল্প, কবিতা লিখিয়েছেন কেউ বা আমাকে দিয়ে । আমি সারাটা জীবন
মানুষের মনের কথা লিখলাম কিন্তু কেউ আমার কথা লিখল না। আমি নিতান্তই ভাষাহীন। তবু আমারও
তো জীবন বলে একটা কিছু আছে।

কলম হলেও আমার জন্মের একটি ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাস খুব গৌরবের নয়। কিন্তু শিক্ষা ও সভ্যতা
বিকাশে আমার বংশের অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। প্রবাদে আছে, “জন্ম হোক যথা তথা কর্ম
হোক ভালো’। আমার কর্মের গুণেই আজ আমি মানুষের নিত্যসঙ্গী । আমাকে ছাড়া শিক্ষিত, সভ্য মানুষের
একমুহুূর্তও চলে না। আমার এই অনিবার্য ভূমিকার কথা বলছি বলে, কেউ মনে করবেন না যে, আমি
নিজের মূল্য ও মর্ধাদার কথা বাড়িয়ে বলছি। এতদিন মানুষ আমাকে দিয়ে নিজের মনের কথা লিখেছে।
আমার কথা ভুলেও কেউ মনে করেনি। গান শেষে বীণা যেমন পড়ে থাকে মাটিতে অনাদরে, তেমনি
অবস্থার শিকার আমিও। সবাই আমাকে কাজেই লাগিয়েছে কেউ আমাকে নিয়ে ভাবেনি । আমার কথা
কারো মুখে আসেনি । তাই আজ আমি নিজেই আমার কথা বলব । মন খুলে বলব। হৃদয় উজাড় করে বলব
আমার জীবনকথা ।

আমি ছিলাম একটা দোকানের শৌ-কেসের ভেতরে । লাল একটা সুন্দর প্রাস্টিকের বাক্সে । অনেকদিন
পড়েছিলাম এ অবস্থায়। একদিন সুবেশধারী এক ভদ্বলোক আমাকে তুলে নিলেন। পছন্দ হতেই কিনে
নিলেন। আমাকে বাক্সসহ রেখে দিলেন ব্যাগে । বাড়িতে এসে তিনি বড়ছেলেকে উপহার হিসেবে দিলেন।
ছেলেটি আমাকে পেয়ে খুব খুশি হলো। পার্কার কলম, অনেক দামি। দেখতেও খুব সুন্দর । ভদ্রলোক হেসে
বললেন, “খোকা, সামনে তোমার পরীক্ষা । ভালো কলম দিয়ে লিখলে তোমার পরীক্ষা ভালো হবে ।’ এভাবে
আমি ছেলেটির ভবিষ্যতের সঙ্গো যুত্ত হয়ে গেলাম ।

পরদিন খোকা আমাকে স্কুলে নিয়ে গিয়ে তার বন্ধূদের দেখালো। সবাই আমাকে নেড়েচেড়ে দেখল।
বলল, “বেশ দামি কলম, দেখতেও কী সুন্দর! খোকা আমাকে খুব যত্তে বুকপকেটে আটকে রেখে রোজ
স্কুলে যায়। কতরকম লেখা লেখে । গদ্য-পদ্য প্রশ্নের উত্তর। ইতরেজি, বাংলা, কখনো অঙ্ক বা জ্যামিতি।
এভাবে লিখতে লিখতে আমার প্রতি খোকার বেশ মায়া জন্মে গেল৷ একদিন ক্লাসের এক শিক্ষকও আমাকে
ধরে নেড়েচেড়ে লিখে দেখে বেশ প্রশংসা করলেন। খোকাকে বললেন, “সাবধানে রেখো, যেন হারিয়ে না
যায়)?

ইতোমধ্যে আমার প্রতি অনেকের নজর পড়ল। একদিন টিফিন পিরিয়ডে খোকা আমাকে ভুলে টেবিলে
রেখে পানি খেতে গেছে। এমন সময় একটি দুষ্ট ছেলে আমাকে নিয়ে গেল। লুকিয়ে ফেলল তার প্যান্টের
পকেটে । আমাকে হারিয়ে খোকার মন খারাপ হয়ে গেল। অস্থির হয়ে সে ক্লাসের আনাচে কানাচে,
বন্ধুদের কাছে অনেক খোজাখুঁজি করল । তারপর তার কলম হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটা স্যারকে জানালো ।
স্যার ক্লাসে কলম হারানোর ঘটনায় বেশ রেগে গেলেন। এতে দুষ্ট ছেলেটি খুব ভয় পেয়ে গেল। সবার
অজান্তে সে আমাকে নিচে ফেলে পা দিয়ে আস্তে ঠেলে দিল খোকার পায়ের দিকে । আমি খোকার পায়ের
কাছে গড়িয়ে গিয়ে পড়ে থাকলাম । মনে মনে বললাম, “খোকা, এই তো আমি, আমাকে কুড়িয়ে তুলে নাও ।’

১১৬

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কিন্তু আমার কথা তো খোকার কানে যায় না। একসময় খোকার পায়ের সাথে লাগতেই সে নিচু হয়ে
আমাকে তুলে নিল। আনন্দে সে বলে উঠল, “স্যার, এই তো আমার কলম ।” দুষ্ট ছেলেটি সাথে সাথে বলে
উঠল, “স্যার, খোকা নিজেই কলম লুকিয়ে শুধু শুধু আমাদের বকা শুনিয়েছে। খোকা তখন থতমত খেয়ে,
আমতা আমতা করতে লাগল । খোকার অবস্থা দেখে আমার খুব কষ্ট হলো।

খোকার কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে খোকার মা বাজারের লিস্ট লেখেন আমাকে দিয়ে । বড়বোন রুমানা কখনো
আমাকে দিয়ে বন্ধুর কাছে চিঠি লেখে । এভাবে বছর গড়িয়ে খোকার এসএসসি পরীক্ষা এলো । খোকা
আমাকে দিয়ে একে একে তার সমস্ত পরীক্ষার উত্তর লিখল । তারপর আমি বেশ কিছুদিন খোকার টেবিলে
অলস পড়ে থাকলাম । খোকার পড়ালেখা নেই, আমার ব্যবহারও তাই বন্ধ ।

এসএসসি পরীক্ষায় খোকা খুব ভালো ফল করল। পুরো স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছে খোকা । সবাই
আনন্দে আত্মহারা । রুমানা বলল “খোকা, এটা তোর লাকি পেন। তোর সাফল্যের কিছু কৃতিত্ব এই
কলমটাকে দেওয়া উচিত।” শুনে আমার কী যে আনন্দ হল।

একদিন বিকেলে খোকার মা চিঠি লেখার জন্য আমাকে চেয়ে নিয়ে গেলেন। চিঠি লেখার পর তিনি আমাকে
রেখে দিলেন টেবিলের ওপর | খোকার তিন বছরের ছোটবোন আমাকে হাতড়ে নিয়ে প্রথমে মুখে দিল।
ঢাকনাটা খুলে ফেলে দিল একদিকে । তারপর ঘরের পাকা মেঝেতে ইচ্ছেমতো ঘষল । আমার লেখার নিব
ভোৌতা হয়ে দুমড়ে মুচড়ে গেল। শুধু তাই নয়, একসময় সে মুখে পুরে শত্তু দাতে কামড় দিয়ে ভেঙে ফেলল
আমার দেহখানি। আমি খুব ব্যথা পেয়েছি । আমাকে এভাবে ভেঙে ফেলতে খোকার বুক যেন চুরমার হয়ে
গেল । আমার এরকম পরিণতিতে খোকা কেঁদে ফেলল।

এখন আমি খোকাদের ময়লা ফেলার ঝুড়িতে পড়ে আছি। আমার শরীরের বিভিন্ন অংশ টুকরো টুকরো
অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ঢাকনাটা অবশ্য এখনো খাটের পায়ার কাছে। কিছুক্ষণ পর হয়তো কাজের
মেয়েটা অন্য ময়লার সাথে আমাকেও ফেলে আসবে রাস্তার পাশে ডাস্টবিনে । এভাবে আমার মুল্যবান
জীবনের অবসান হবে। তবু, বলতে পারি আমার জীবন ব্যর্থ হয়নি। তিন বছরের বেশি সময় ধরে আমি
মানুষের ভালোবাসা, মায়া-মমতা পেয়েছি। পেয়েছি “লাকি পেন’ হওয়ার সম্মান। আমি খোকার বুকপকেটে
নিত্যসঙ্গী হয়ে ছিলাম । আমার দুঃখে একটি মানুষ যে চোখের জল ফেলেছে এতেই আমি ধন্য।

একজন ফেরিওয়ালার আত্মকথা

আমি একজন ফেরিওয়ালা । মা-বাবার দেওয়া একটা নাম অবশ্য আছে। কিন্তু সে নামে আমাকে এখন কেউ
ডাকে না। ডাকে “ও ফেরিওয়ালা ।’ বাড়ি-ঘর, জোত-জমি একদিন সবই আমার ছিল। কিন্তু আজ সবই
গ্রাস করেছে সর্বনাশা পদ্মানদী। ঘরবাড়ি পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার পর পেটের দায়ে ঢাকা শহরে এসে হয়ে
গেছি ফেরিওয়ালা । ঢাকা শহরের অলিগলি, বস্তি, আবাসিক এলাকা, পাকাসড়ক, ফুটপাতে আমাকে
দেখতে পাবেন। আমি আজমত আলী, হয়ে গেছি ঢাকা শহরের এক অপরিহার্য চরিত্র_ ফেরিওয়ালা ।

প্রথমদিকে আমি তরিতরকারি বেচতাম। শেষরাতে কাওরানবাজার পাইকারি সবজি আড়তে গিয়ে দুই খাঁচি
নানা পদের সবজি নিতাম । দুইপাশে দুই খাঁচি ঝুলিয়ে কাধে করে হাটতে হাটতে ডাকতাম__’হেই লালশাক,
কলমিশাক, মিষ্টি কুমড়া, আলু, পটল লাগব…নি-বে-ন।’ আমার ডাক শুনে গৃহিণীরা ছুটে এসে ভিড় করত
আমার খাঁচির পাশে । নেড়েচেড়ে দেখত, দরদাম করত । পছন্দ হলে আড়াইশ গ্রাম, আধাকেজি, এককেজি

১১৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সবজি অথবা একমুঠি পাটশাক কিংবা দুই টাকার কীচামরিচ কিনত। এক পাড়া থেকে অন্য পাড়া, এক
বস্তি থেকে অন্য বস্তি, আবাসিক এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে দুপুর নাগাদ আমার খাচির সব সবজি বেচা শেষ
হয়ে যেত। বেচা-কেনা খারাপ ছিল না কিন্তু লাভ হতো কম। মালের পড়তা সবদিন ঠিক পড়ত না । তা ছাড়া
কীচামালে বাগড়া যেত বেশি । তাই দুই বছর সবজির কারবার করার পর ছেড়ে দিলাম ।

আমাদের বস্তির মনির বাপ বলল, কাপড়ের ব্যবসায় পড়তা ভালো । বুঝে-শুনে একসময় কাপড়ের ব্যবসায়
নেমে পড়লাম । বেডশিট, বালিশের কভার, ব্লাউজের কাপড়, ওড়না, সেলোয়ার-কামিজের পিস ইত্যাদি
নানারকম কাপড়ের বিরাট একটা গাঁটরি কীধে ঝুলিয়ে হাটতে হাটতে বাজরখাঁই গলায় ডাকতাম “লাগব…
বেডশিট, বালিশের কভার, থি পিস, ব্লাউজের কাপড় আছে… ।, আমার ডাকশুনে বৌ-ঝি, কিশোরী-তরুণী
ঘিরে ফেলত। তারপর হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে কাপড়ের রং, প্রিন্ট, কাপড়ের গুণাগুণ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন
করত । হাসি হাসি মুখে আমি তাদের প্রশ্নের জবাব দিতাম । বিরক্ত হলে এ ব্যবসা করা যায় না। ফেরি করে
কাপড় বিক্রির ব্যবসা খারাপ ছিল না। কিন্তু কাধে করে এত বড় বোঝা নিয়ে বয়ে বেড়ানো বেশিদিন সহ্য
করতে পারিনি ।

এখন আমি ঠেলাগাড়ি করে হরেকরকম জিনিসের ফেরি করি। থাকি মিরপুর বস্তিতে । আমার বৌ বাসায়
বাসায় ছুটা কাজ করে । দুই বছরের একটা ছেলে আছে। মা’র সঙ্তকোই থাকে । আমি সারাদিন গলি থেকে
গলি, রাস্তা থেকে রাজপথ পেরিয়ে নানা পদের জিনিস বিক্রি করি।

আমার স্বল্প পুঁজির স্বাধীন ব্যবসা ৷ আমাকে খেয়াল রাখতে হয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের
প্রতি। মানুষের প্রয়োজন নিয়েই আমার ব্যবসা । আমার কাছে পাওয়া যায় হাড়িপাতিল, বাসনকোসন,
তৈজসপত্র, প্রসাধনী, মাথার তেল, হরেক রকম খেলনা, চুলের ফিতা, ক্লিপ, নেলপালিশ, জুতার কালি,
টুথবাশ, ছাইদানি সংসারের টুকিটাকি সবকিছু ।

গলির মুখে, বাসার পাশে গিয়ে হাক দিলেই বেরিয়ে আসে ঘরের বৌ, শিশু, কিশোরী, তরুণী । নিজের চোখে
দেখে তারা জিনিস নির্বাচন করে। তারপর দরদাম করে | আমি কাস্টমারের মন বুঝে দাম বলি। পছন্দ হলে
মানুষ দুই টাকা বেশি দিয়ে হলেও জিনিস কেনে । সংসারের দরকারি জিনিসপত্র পুরুষদের চেয়ে গৃহিণীরাই
ভালো চেনে । আমার কাছ থেকে সহজে পছন্দের জিনিসটি কিনে নেয়। সারাদিন কাটে রাস্তায় । মিরপুর,
কল্যাণপুর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, মহাখালী, নাখালপাড়া, ফার্মগেট_-কত রাস্তায় রোদেপুড়ে, বৃষ্টিতে
ভিজে, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে আমি হাটি।

ঢাকা শহরের রাস্তা দিয়ে হাটার কি উপায় আছে? মানুষে গিজগিজ করছে। তা ছাড়া বিভিন্ন জায়গায়
বখরা দিয়ে আমাদের মতো ফেরিওয়ালাদের ব্যবসা করা দিন দিন খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। সারাদিন
দশ দুয়ারে ঘুরে এক জায়গায় জিনিস বিক্রি করতে পারি। এ ছাড়া লাভও খুব সামান্য ৷ বাজারের মতো
চড়াদামে আমি জিনিস বিক্রি করতে পারি না। আমাদের লাভ দিনকে-দিন কমছে। অথচ চাল-ডাল-তেল
নুনের দাম দিনকে দিন বাড়ছে। তাই এখন আমাদের বাঁচাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

ঢাকা শহরে আমার মতো ফেরিওয়ালার জীবন এখন হয়ে পড়েছে খুবই কষ্টের । অবহেলা আর দারিদ্র্যের
মধ্যেই আমার বসবাস। ফেরিওয়ালা বলে কেউ আমাকে ঘৃণার চোখে দেখে, কেউ রাস্তার মানুষ বলে দূরে
ঠেলে দেয়। পথই আমার জীবন, ঝুড়িভর্তি মালই আমার জীবিকা । ফেরি করতে করতে একদিন পথেই
আমার জীবন নিঃশেষ হয়ে যাবে । পুরোনো ভাঙা শিশি-বোতলের মতো একসময় হয়তো পড়ে থাকব পথের

ধুলায়।

১১৮

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

একটি নদীর আত্মকথা
(সৈংকেত)

ভূমিকা : আমি শ্যামল বাংলার মায়াবী জীচলে বয়ে চলা এক নদী । হিমালয়ের হিমবাহর বিশাল বরফের
স্তর গলে সরল-তরল হয়ে সমতল সুন্দরী বঙ্ঞাভূমিতে আমি নেমে এসেছি।

নদীর আপন বৈশিষ্ট্য : নিরন্তর বয়ে চলাই আমার বৈশিষ্ট্য । আমি দুই তীরকে জল ও পলি দিয়ে সজীব ও
উর্বর করে তুলি। আমার ওপর দিয়ে কত মালবাহী নৌকা, লঞ্চ, জাহাজ, পালতোলা নৌকায় যাতায়াত করে
মানুষ । আমার তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কত হাট-বাজার, গঞ্জ-গ্রাম, শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র। সাদা বক,
মাছরাণী, গাওচিল আমার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে । কখনো বুদ্ররুপ
ধারণ করে আমি গ্রাস করি গ্রাম-জনপদ, ঘরবাড়ি, ফসলের জমি । বর্ষায় আমার রূপ দেখে কেউ রাক্ষসী
বলে । আবার খ্রীম্মে আমার বুকে হাটু জল দেখে কেউ-বা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে । এভাবে কখনো সোহাগী,
কখনো রাক্ষসী হয়ে বয়ে যাই আমি অবিরাম । আমার নেই কোনো অবসর । আমাকে নিয়ে কত গল্প-
উপন্যাস, কবিতা, গান রচিত হয়েছে। কেউ আমাকে দেখে সর্বনাশা হিসেবে, কেউ দেখে সজীব, সুন্দর
রসদের উত্স হিসেবে । আমি লাজ-নম্্র পল্পিবধূর মতো ছন্দ তুলে এঁকেবেঁকে চলি।

উপসংহার : নদীমাতৃক বাংলাদেশের আমি এক শ্যামল-কাজল নদী । পাহাড়-পর্বত, জনপদ, গ্রামের ওপর
দিয়ে বয়ে যাই আমি। আমার রূপ দেখে মাঝি-মাল্লা, জেলে কবি হয়ে যায়। গান গেয়ে দীড় টানে মাঝি ।
আমার এক পারে সুখ, অন্য পারে দুঃখ, মাঝখানে একবুক তৃষ্ত্রা নিয়ে আমি বয়ে যাই সাগরে ।

বাংলাদেশের কৃষক

ভূমিকা : নদীমাতৃক ও নদীবিধৌত বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মানুষের জীবিকার প্রধান উপায়ও
কৃষি। এই প্রেক্ষাপটেই কৃষককে বলা হয় “জাতির মেরুদণ্ড | অক্রান্ত পরিশ্রমে কৃষক ফলায় সোনার ফসল,
দেশবাসী পায় ক্ষুধার অন্ন। কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয় দেশের অর্থনীতি,
দেশ এগিয়ে যায় শিল্পায়নের পথে । তাই দেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষকের ভুমিকা : জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষকের ভূমিকা অপরিসীম । জনসংখ্যাবহুল
আমাদের দেশে খাদ্য-সমস্যা মোকাবেলা কৃষি-উৎপাদনের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল | কৃষি-উৎপাদন ত্বাস
পেলে দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে চলে যায়। কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদনে সংকট দেখা
দেয়। পক্ষান্তরে কৃষি-উৎপাদন ভালো হলে অর্থনীতি হয়ে ওঠে চাঙা ।
জাতীয় আয় সৃষ্টিতে কৃষকের ভূমিকা : জাতীয় আয় সৃষ্টিতে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা ইতিবাচক । আমাদের
দেশে খাদ্যদ্রব্য, নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষিদ্রব্য ও শিল্পের কাচামাল জোগায় কৃষি । তা সম্ভব হয় কৃষকের ঘাম-
নিড়ানো শ্রমে । কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এভাবে
কৃষক জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে ।
খাদ্য উৎপাদনে কৃষকের ভূমিকা : খাদ্য উৎপাদনে কৃষকের রয়েছে মুখ্য ভূমিকা । আমাদের দৈনন্দিন
অপরিহার্য খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস, ভাল, আলু, তরকারি, শাকসবজি সবই উৎপাদন করে কৃষক। কৃষকের
উৎপাদিত খাদ্যই আমাদের জীবন বাচায়। চাষযোগ্য জমির স্বল্পতা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির অভাব ও
প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব ইত্যাদি কারণে খাদ্য-উৎপাদনে এ দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তবুও বাংলাদেশের
৮০ শতাংশ খাদ্যশস্য কৃষকই জোগান দিয়ে থাকে।

১১৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

শিল্পায়নে কৃষকের অবদান : শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও কৃষকের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। এ দেশের অনেক
শিল্প কৃষি-নির্ভর ও কৃষিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত । বাংলাদেশের কৃষকরা এসব শিল্পের প্রধান কিংবা একমাত্র
জোগানদার ৷ পাট ও বস্ত্রশিল্পের প্রধান উপকরণ আসে কৃষি থেকে । চিনিশিল্পের অন্যতম উপকরণ আখ
কৃষকেরই উৎপাদিত পণ্য । দেশে এরকম অনেক শিল্প রয়েছে যেগুলোর কীচামালের জোগানদাতা এ দেশের
কৃষক । কৃষকরাই জোগান দেয় শিল্প-শ্রমিকের খাদ্য ।
রপ্তানি আয়ে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা : বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বিশেষ ভুমিকা রাখার জন্যে একসময় পাটকে
বাংলাদেশের “সোনালি আশ” বলা হতো। এই পাট কৃষকের উৎপাদিত পণ্য । এখনও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি
করে দেশ যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। পাটের পরে আছে চা। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে চা-এর গুরুত্বও কম নয়।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা : কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষকের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ । কৃষক
যখন কৃষিকাজ করে তখন বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে কৃষিশ্রমিক নিয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি কৃষি থেকে
উৎপন্ন কাচামাল দিয়ে প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কারখানায়ও নতুন নতুন কর্মের সংস্থান হচ্ছে। বাংলাদেশে কৃষিতে
নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ ।
কৃষকের সমস্যা : ফসল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট গুরুতুপূর্ণ
ভূমিকা পালন করলেও কৃষক প্রতিনিয়ত বিভিন্নমুখী সমস্যার সম্মুখীন । যেমন :
(ক) প্রশিক্ষণের অভাব : কৃষিফলন বাড়ানোর জন্যে চাই লাগসই উন্নততর প্রযুক্তির ব্যবহার। এ ক্ষেত্রে কৃষকের
দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে চাই উপযুস্ত প্রশিক্ষণ । কিন্তু কৃষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
(খে) মূলধনের অভাব : মূলধনের অভাব এ দেশের কৃষকদের চিরায়ত সংকট । সহজ শর্তে সময়মতো
প্রয়োজনীয় খণ পেলে কৃষকরা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে ।
(গ) সেচ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা : শুকনো মৌসুমে ইরি চাষের জন্যে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ থাকে না। গভীর
নলকৃপ ক্রয়ের সামর্থ্য অধিকাংশ কৃষকের নেই।
ঘে) কৃষি উপকরণের অভাব : উন্নতমানের বীজ, সার, কীটনাশকসহ কৃষির বিভিন্ন উপকরণের অভাবেও
কৃষকদের চাষাবাদ ব্যাহত হয়।
€ও) ঝুটিপূর্ণ বাজার : মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রীধান্যমূলক ত্রুটিপূর্ণ বাজার ব্যবস্থার কারণে কৃষক শস্যের
ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।
কৃষকের বর্তমান অবস্থা : বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন। অন্যের জমিতে তারা বর্ণাচাষ করে।
আবার অনেকের নিজস্ব হালের বলদসহ পুঁজির সমস্যা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার ও
বৈদেশিক চাপে পড়ে সরকার দিন দিন কৃষির ওপর ভর্তুকি কমিয়ে আনছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষিবাজার
নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অনেক সময়ে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপসংহার : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা অপরিহার্য । কৃষকের শ্রম ও কার্যকর ভূমিকার
ওপরেই বহুলাংশে নির্ভর করে এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অথচ বাংলাদেশের কৃষকের অথনৈতিক
অবস্থা এখনও নাজুক। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি থেকে এখনও কৃষক যুক্ত হতে পারেনি।
কৃষিজাত পণ্যের ব্যাপক চোরাচালানও কৃষকের সামনে ক্রমশ হুমকি হয়ে দীড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে
বাংলাদেশের কৃষিকে যুগোপযোগী আধুনিকায়ন এবং কৃষকের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে
সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। তাহলেই বাংলাদেশের অবহেলিত দরিদ্র কৃষকদের ভাগ্য ফিরবে।
আর কৃষকদের ভাগ্য ফিরলে বাংলাদেশও অর্থনৈতিক দৃঢ় ভিত্তির ওপর দীড়াতে পারবে।

১৯২০

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বাংলাদেশের শ্রমিক

(সংকেত)

ভূমিকা : কায়িক শ্রমের মাধ্যমে যারা জীবিকা নির্বাহ করে তারাই শ্রমিক। দেশের অর্থনীতিতে এদের বিরাট
অবদান।

নানা ধরনের শ্রমিক : শহরের কলকারখানার শ্রমিক। গ্রামের কৃষক, খেতমজুর ও মৌসুমি কৃষিশ্রমিক। এ
ছাড়া রয়েছে কামার, কুমার, জেলে, মাঝি, তাতি, ছুতার, মুচি, কুলি, পরিবহণ শ্রমিক ইত্যাদি ।

কৃষিশ্রমিক : এ দেশের শ্রমিকদের বিপুল অংশ কৃষিতে নিয়োজিত রয়েছে। এরা দারিদ্র্য ও বঞ্চনার শিকার।

শিল্পশ্রমিক : এ দেশের শ্রমিকরা নানা শিল্পে নিয়োজিত। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারীশ্রমিক পোশাকশিল্লে
কর্মরত | এরাও দারিন্র্য ও বঞ্চনার শিকার ।

অন্যান্য শ্রমিক : মৃত্শিল্প, তাতশিল্প এবং বিভিন্ন কুটিরশিল্পের শ্রমিকরাও আজ নানা সমস্যার মুখোমুখি ।
উপসংহার : দেশের অগ্রগতির স্বার্থে শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার দিতে হবে । তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
ভূমিকা : বাঙালির আবহমান কালের ইতিহাসে এক মাইলফলক ১৯৭১। এক মহিমান্িত ইতিহাস রচিত
হয়েছে এই ১৯৭১ সালে। রক্ত, অশ্রু আর অপরিসীম আত্মত্যাগের ভেতর দিয়ে একাত্তরে আমরা অর্জন
করেছি স্বাধীনতা । আর বীরতৃপূর্ণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অভ্যুদয় হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম
বাংলাদেশের । মুস্তিযুদ্ধ তাই আমাদের জাতীয় জীবনে এক অহংকার, গৌরবের এক মহান বিজয়গাথা ।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি : ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের সময় পূর্ববাংলাকে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল কৃত্রিম ও
সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্ভো। পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশেরই বাস ছিল পূর্ববাং্লা তথা
পূর্ব পাকিস্তানে । কিন্তু তবু শাসনক্ষমতার চাবিকাঠি কুক্ষিগত ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ক্রমেই পশ্চিম
পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর শাসন-শোষণের স্বরুপ পূর্ববাংলার জনগণের সামনে স্পষ্ট হতে থাকে । পাকিস্তান
প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই শতকরা ৫৬ জনের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানি শাসকরা
শতকরা ৭ ভাগ লোকের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে । প্রতিবাদের ঝড় ওঠে পূর্ববাংলার
মাটিতে । ১৯৫২ সালে ভাষা-আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ববাংলার প্রতিবাদী জনতা দেশের মুক্তিমন্ত্রে দীক্ষা নেন।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলক সামরিক শাসন জারি করে। তারা শিক্ষা-সংকোচন ও
দমন-নীতি চালাতে থাকে । ফলে পূর্ববাংলায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধিকার আদায়ের
লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পাকিস্তানি
সরকার আবারও কঠোর দমননীতির আশ্রয় নেয় । রাষ্ট্ত্রোহিতার অভিযোগে বষ্ভাবম্ধুকে গ্রেফতার করা হয়
এবংতার বিরুদ্ধে এ্রতিহাসিক আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়।১৯৬৯ সালে প্রবল গণ-আন্দোলন ফুঁসে উঠলে
সরকার আগরতলা মামলা তুলে নিতে ও রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭০ সালে জাতীয় ও
প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে
নিরজ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে । তারা ক্ষমতা হস্তান্তরে

১২১
রচনা সম্ভার ৯-১০, কর্মা-১৬
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

গড়িমসি করে বড়যন্ত্র শুরু করে। ফলে পূর্ববাংলায় গণ-অসন্তোষ তীব্র হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে বঙ্ঞাবনধ্‌
অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ই মার্চ ঢাকায় এক এঁতিহাসিক সমাবেশে এক উদ্দীপ্ত
ভাষণে তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা দেন_ “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির
সংগ্রাম । এবারের সং্াম স্বাধীনতার সং্াম।”

অসহযোগ আন্দোলন তুঙ্গে উঠলে পাকিস্তান সরকার নির্মম হয়ে ওঠে । ২৫শে মার্চ রাতে তদানীস্তন
ওপর । রাতের আঁধারে নির্মম ও বর্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটে । গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ।

২৫ এ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ এ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ
ঘোষণার পরেই বজ্ঞাবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিক্ষেপ করা হয় কারাগারে ।

বিবরণ : পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের মধ্যে হত্যা ও ধ্বংসের রাজত্ব কায়েম করে।
বাঙালি পুলিশ ও সেনারা স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেয় । রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রায় ১ কোটি শরণার্থী সীমান্ত
পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত
করা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। ১৯৭১-এর ১০ই এপ্রিল ভারতে গঠিত হয় অস্থায়ী প্রবাসী সরকার।
বঙ্গাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয়। “তার অবর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি
সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর
দায়িতৃ। মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি হন কর্নেল (অব.) আতাউল গনি ওসমানী ।’ বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে
ভাগ করে মুক্তিবাহিনী মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করে তোলে ।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও রাজনৈতিক
কর্মীরা মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করে। তারা যুদ্ধকৌশল, অসন্রচালনা ও বিস্ফোরক ব্যবহার সম্পর্কে
দেশের ভেতরে এবং প্রতিবেশী ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এভাবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ দেশের মুষ্টিমেয় ব্যক্তি রাজাকার, আলবদর ও আলশামস্‌ বাহিনী গঠন

করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দালাল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে।

পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন,
সৌদি আরবসহ কিছু দেশ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিলেও ভারত ও সোভিয়েত
ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোগীয় দেশগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানায়। সারা বিশ্বে
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়। মুক্তিবাহিনী ক্রমে শত্তি অর্জন করে। তাদের
চোরা-গোপ্তা গেরিলা তৎপরতা ও দুঃসাহসিক লড়াইয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা
দিশেহারা হয়ে পড়ে। ভারত মুত্তিযুদ্ধকে সমর্থন করায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
ঘোষণা করে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয়
বরণ করে। তারা ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দি উদ্যান)
আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। সারাদেশে জনতার দৃপ্ত
উল্লাসের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে ।

১২৯

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

উপসহহার : বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। সে স্বাধীনতা এমনি আসেনি । এর জন্য শহিদ হয়েছে ৩০ লক্ষ
মানুষ । উদ্বাস্তু হয়েছে এক কোটি মানুষ । যে স্বপ্লসাধ বুকে নিয়ে অজস্র ত্যাণ্রের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা
পেয়েছি সে স্বপ্ন আজও পুরণ হয়নি। সেই লক্ষ্যে আমরা আজও এগিয়ে চলেছি। আমাদের অনেক দূর
যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্রুসাধ বাস্তবায়ন করেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে
তুলতে হবে।

হযরত মুহম্মদ (স.)

ভুমিকা : যেসব মহাপুরুষ মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে আছেন, তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ
হচ্ছেন হযরত মুহম্মদ(স.)। সত্য, ন্যায় ও আদর্শে মহান করে শর্ট তাঁকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন।
“আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অন্ধকার যুগে তিনি আলোকবর্তিকা হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। তার
আদর্শ পথভ্রষ্ট মানুষকে মুক্তিমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল । হযরত মুহম্মদ(স.)-এর উদারতা, মানবিকতা, সত্য
ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল আস্থা, তার ব্যক্তিত্ব ও কর্মতৎপরতা দেশ-কাল-সম্প্রদায় ও জাতি-ধর্মকে অতিক্রম
করে বিশ্বমানবিকতার স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি যেমন আরব জাতিকে যুক্তি দিয়েছেন আল্লাহ্‌র নির্দেশিত
পথে, তেমনি সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য নির্বিরোধ শান্তির এক জ্যোতির্ময় পথ প্রদর্শন করে গেছেন।

জন্ম ও বংশ পরিচয় : হযরত মুহম্মদ(স.) আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ রাসুল। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক।
আরবের সন্তান্ত কুরাইশ বংশে, পবিত্র নগরী মন্ধায় ৫৭০ খিষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল তিনি জন্গ্রহণ
করেন। তার পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মাতার নাম বিবি আমেনা । আমাদের প্রিয় নবী জন্মের পূর্বেই পিতাকে
হারান এবং ছয় বছর বয়সে তার মাতা ইন্তেকাল করেন। এরপর শিশু মুহম্মদ(স.)-কে তার দাদা আব্দুল
মোত্তালিব পরম স্েহে লালন পালন করেন। কিন্তু আট বছর বয়সে দাদা আব্দুল মোত্তালিবও মারা যান।
পিতৃব্য আবু তালিব এরপর তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই মহানবী ছিলেন সহজ
সরল ও কোমল স্বভাবের অধিকারী । সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মবোধ প্রভৃতি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের
অধিকারী ছিলেন তিনি। সত্যবাদিতার জন্য শৈশবেই তিনি “আল আমিন” বা “বিশ্বাসী” উপাধিতে ভূষিত হন।

বিবাহ ও নবুয়ত প্রাপ্তি : হযরত মুহম্মদসৈ.)-এর সততা, ন্যায়পরায়ণতার কথা সৌরভের মতো মন্ধা
নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। কারণ সেই যুগে এ ধরনের অকৃত্রিম চরিত্রের অধিকারী কেউ ছিলেন না। মন্ধার
ধনবতী বিধবা মহিলা বিবি খাদিজা তার সুখ্যাতি শুনে তাকে তার ব্যবসার দায়িতৃভার দেন। বিশ্বস্ততার
সঙ্ঞে হযরত ব্যবসা পরিচালনা করে বিবি খাদিজার ব্যবসায় সমৃদ্ধি আনয়ন করেন। হযরত মুহম্মদ(স.)-
এর দক্ষতা, সততা ও অভুলনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে মুগ্ধ হয়ে বিবি খাদিজা তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
তখন হযরত মুহম্মদসে.)-এর বয়স পঁচিশ বছর আর বিবি খাদিজার বয়স চণ্লিশ। উভয়ে পরিণয়সূত্রে
আবদ্ধ হন।

সে যুগে আরবের অবস্থা ছিল দন্দববিক্ষুব্ধ। গোত্রে গোত্রে হানাহানি, মারামারি, পারস্পরিক যুদ্ধ ও
লড়াইয়ের ফলে নিয়ত রত্তাত্ত ছিল আরবভূমি । একদিকে অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অন্যদিকে ধর্মের নামে প্রচলিত
ছিল নানা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গৌড়ামি ও অর্থহীন আচার-অনুষ্ঠান। কন্যাশিশুকে জীবন্ত পুঁতে ফেলার
মতো জঘন্য অপরাধ ছিল সেই সময়ের নিত্য ঘটনা ।

মন্কার কাবা ঘরেই ছিল অসংখ্য মূর্তি মূর্তিপূজার নানা স্বতন্ত্র রীতি ছিল। গোত্রে গোত্রে বিরোধ ছিল।
জাতির জীবনে অনাচার, অবিচার ও অন্ধকার অমানিশা হযরত মুহম্মদ(স.)-কে বিচলিত করত। তিনি
সবসময় এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য চিন্তাভাবনা করতেন । মন্ধার অদূরে “হেরা’ পর্বতে গিয়ে একাগচিত্তে

১২৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

আল্লাহ্র ধ্যানে আত্মনিয়োগ করেন। সুদীর্ঘ পনেরো বছর ধ্যান করার পর আল্লাহ্‌র দূত জিরাইল (আ)
ফেরেশ্তা এঁশী বাণী নিয়ে তার কাছে আসেন এবং তীকে আল্লাহ্র বাণী পাঠ করে শোনান। এভাবে ওহি
নাজেল হয় এবং তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন।

ইসলাম প্রচার : নবুয়ত প্রাপ্তির পর হযরত মুহন্মদ(স.) আল্লাহর আদেশে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। প্রথমে
সন্রী বিবি খাদিজা ইমান এনে মুসলমান হলেন। তারপর ইসলাম গ্রহণ করেন হযরত আবু বকর (র.),
হযরত আলি (র.), যায়েদ বিন হারেস প্রমুখ । ক্রমেই মক্কায় মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে
কুরাইশগণ তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাকে হত্যার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে।

মদিনায় হিজরত : কুরাইশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে হযরত মুহন্মদ(স.) আল্লাহর আদেশে মন্ধা
থেকে ৬২২ খিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন। যেসব মন্কাবাসী হযরতের সঙ্গো মদিনায় গিয়েছিলেন তাদের
মুহাজির (শরণার্থী) এবং যারা তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন তাদের আনসার (সাহায্যকারী) বলা হয়।

মন্কা বিজয় ও মদিনা সনদ : মদিনায় ইসলামধর্মের প্রতিষ্ঠা ও হযরত মুহম্মদসৈ.)-এর প্রভাব-প্রতিপত্তি
বৃদ্ধিতে মন্কার কুরাইশগণ শডিকত ও উর্ষান্িত হয়ে ওঠেন। মহানবী শুধু একজন ধর্মপ্রচারকই ছিলেন না,
তিনি একজন শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক, দূরদর্শী রাজনীতিবিদও ছিলেন। তার দূরদর্শিতার কারণে মন্কার ইত্রুদিদের
সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়। তা “হুদাইবিয়ার সনিধ’ নামে পরিচিত। অবশেষে তিনি ৬২৯ খিকটাব্দে মন্ধা
বিজয় করেন এবং সাহাবিদের নিয়ে পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেন । হযরত মুহম্মদ(স.) মুসলমান, ইহ্দি ও
অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গো এঁক্য সমঝোতার জন্য কতিপয় শর্তযুক্ত সনদে স্বাক্ষর করেন। তা “মদিনা সনদ’
নামে অভিহিত । এই সনদকেই প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

হযরত মুহন্মদ(স.)-এর ওফাত £ ৬৩ বছর বয়সে, হিজরি একাদশ বৎসরে, ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখ
(৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই জুন) সোমবার দ্িপ্রহরে নামাযরত অবস্থায় হযরত মুহম্মদ(স.)-এর ওফাত হয়।

উপসংহার : হযরত মুহম্মদ(স.) নবীদের মধ্যে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ । তিনি ‘রাহমাতুন্লিল আলামিন” অর্থাৎ
জগতের জন্য আশীর্বাদিস্বরূপ। তিনি ছিলেন ফুলের মতো সৌরভময় মহাপুরুষ ৷ শিশুর মতো সরল । সত্য ন্যায়ের
প্রতি ছিল তার অনড় বিশ্বাস। তার জীবনাদর্শ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের জন্যে অনুসরণীয় ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা : বাঙালি মনীষার এক আশ্চর্য প্রকাশ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিচিত্র ও বহুমুখী সাহিত্য-প্রতিভার
জন্য শুধু নয়, তার ভাব, ভাষা, বিষয়বস্তুর গভীরতার জন্যও তিনি অনন্য। সত্য, সুন্দর, কল্যাণ এই তিন
বিশ্বজনীন বোধের ওপরই তীর সমগ্ সৃষ্িকর্ম প্রতিষ্ঠিত। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে
তার জাদুকরী প্রতিভার স্পর্শ লাগেনি। সুদীর্ঘ জীবনে সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি তিনি সমাজকর্ম ও
জমিদারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন । কৰি হয়েও তিনি মানুষকে কর্মে অনুপাণিত করেছেন। বাংলা সাহিত্যে
তিনিই একমাত্র নোবেল বিজয়ী কবি।

রবীন্ধ্নাথের জন্ম ও পরিবারিক এঁতিহ্য : রবীন্দ্রনাথের জন্ম ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বাংলা,৭ই মে ১৮৬১
খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসীকোর ঠাকুর পরিবারে । তার পিতার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং
মাতার নাম সারদা দেবী । রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পিতামাতার চতুর্দশ সন্তান। পারিবারিক রীতি অনুযায়ী চার-
পাচ বছর বয়সে গৃহশিক্ষকের কাছেই তার পড়াশুনা শুরু হয়। বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃত, বিজ্ঞান, অস্থিবিদ্যা
ইত্যাদি বিষয়ে তিনি শৈশবে পাঠ গ্রহণ করেন। ছয় বছর বয়সে ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে ভর্তি হন।

১২৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বছরখানেক পর নর্মাল স্কুলে, তারপর বেঙ্গল একাডেমিতে তিনি পড়ালেখা করেন। কলকাতার বিখ্যাত
সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলেও রবীন্দ্রনাথ কিছুদিন পড়াশুনা করেন। কিন্তু স্কুলের বাঁধা-ধরা পড়ালেখা তাঁর ভালো
লাগত না। অভিভাবকরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে ব্যারিস্টারি পড়ানোর
জন্যে লন্ডনে পাঠানো হয়। প্রথমে ব্রাইটনে ও পরে ল্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় বছর পড়াশুনার পর তিনি দেশে
ফিরে আসেন। ইতোমধ্যে তার সাহিত্যপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়।

জোড়াসীকোর ঠাকুর পরিবারে সর্বদা সাহিত্যের অনুকূল হাওয়া বইত। রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ভ্রাতা ছিজেন্দ্রনাথ
ঠাকুরের সম্পাদনায় ১৮৭৭ সালে মাসিক “ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। দাদার অনুপ্রেরণায় চৌদ্দ বছর
বয়সে তিনি ‘বনফুল’ নামে একটি কাব্য রচনা করেন। এরপর “কবিকাহিনী’; ‘সন্ধ্যাসংগীত’ প্রভৃতি কাব্য
একের পর এক প্রকাশিত হয় ।

আরো পড়ুনঃ বাংলাতে বায়োডাটা লেখার নিয়ম

পিজি হাসপাতালে অনলাইন টিকিট বুকিং করার নিয়ম

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির দোয়া

সাহিত্য সাধনা ও কর্মময় জীবন : ১৮৮২ সালে কলকাতা ১০ নং সদর স্ট্রিটে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ” কবিতাটি রচনা করেন। এটি তার সমগ্র সৃষ্টিকর্মের ইঞ্জিতবাহী কবিতা । ১৮৮৩ সালের
দিকে তিনি পিতার আদেশে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ এবং পাবনার শাহজাদপুরে ঠাকুর পরিবারের জমিদারি
দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসেন । কলকাতার বাইরে পল্লিপ্রকৃতি ও তৃণমূল সংলগ্ন মানুষের মাঝে
এসে তীর সৃষ্ঠিকর্ম নতুন সমৃদ্ধি লাভ করে। “মানসী’ “সোনারতরী”, ‘চিত্রা’ প্রভৃতি বিখ্যাত কাব্যগুলো তিনি
এ সময়েই রচনা করেন। তার লেখা চলতে থাকে বিরামহীন । রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছের মধ্যে গ্রামবাংলার
সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের জীবন মূর্ত হয়ে উঠেছে। মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ অজন্র কবিতা, গল্প,
উপন্যাস, নাটক, গান, প্রবন্ধ, পরত্রসাহিত্য, অনুবাদ, ভাষা ও সাহিত্য, নন্দনতন্ত, চিত্রকর্মসহ বনুমাত্রিক
রচনাসস্তার দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন আমাদের সাহিত্যকে ।

১৯১১ সালের ৭ই মে রবীন্দ্রনাথের বয়স ৫০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে “বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ” কর্তৃক কবিকে
দেশবাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নিজের অনুবাদ করা এবং ইংরেজ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস-এর
ভূমিকা লেখা “গীতাষ্জলি’ প্রকাশিত হলে ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এ বছরই
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক “ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯১৯ সালে
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে রবীন্দ্রনাথ ইংরেজদের দেওয়া “নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যসাধনার পাশাপাশি শিক্ষাবিস্তার ও সমাজকল্যাণমূলক অনেক কাজ করে গেছেন। তিনি
১৯২১ সালে “বিশ্বভারতী” ও ১৯২২ সালে ‘শান্তিনিকেতন’ প্রতিষ্ঠা করে গতানুগতিক শিক্ষার জায়গায়
ব্যতিক্রমী শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া সমবায় আন্দোলন, কৃষির উন্নয়ন, রাজনীতি, সংস্কৃতি
নানা ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ আজীবন অবদান রেখে গেছেন। ২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বাংলা, ৭ই আগস্ট ১৯৪১
খ্রিষ্টাব্দে আশি বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতায় পরলোকগমন করেন।

উপসংহার : রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা বিচিত্র ও বহুমুখী হলেও তীর প্রধান পরিচয় তিনি কবি। সত্য, সুন্দর,
কল্যাণই তার আদর্শ । তিনি মানবতার কবি, প্রকৃতির কবি। পৃথিবীর রুপ-মাধুর্যকে তিনি আকণ্ঠ পান
করেছেন। সীমার মাঝে অসীমের সন্ধান করেছেন। অরুপ আলোয় আলোকিত এক জীবনের দিকেই ধাবিত
তার সমগ্র সৃষ্টিকর্ম। তাঁর অজস্র সৃষ্টি আমাদের শিল্প-সাহিত্যের অপরিমেয় সম্পদ হয়ে আছে।

১২৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম
ভূমিকা £ বিদ্বোহ ও তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম । বাংলাকাব্যে ধূমকেতুর মতোই তার আবির্ভাব।
পচনধরা প্রথাগত সমাজকে ভেঙ্েরে স্বাস্থ্যকর নতুন এক সমাজ নির্মাণ করাই তীর স্বপ্ন ছিল। তাই তিনি
বিদ্রোহ করেছিলেন সকল অন্যায়, অসত্য, শোষণ-নির্যাতন আর দুঃখ-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে । ওঁপনিবেশিক
শাসন-শোষণ এবং পরাধীনতার গ্লানি থেকে জাতিকে মুক্ত করতে তিনি কলম ধরেছিলেন । কবিতা লেখার
অপরাধে তিনি কারারুদ্ধ হন। বন্দি করেও থামানো যায়নি তার লেখা । দুঃখ, দারিদ্র্য এবং সংগ্রামের মধ্য
দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে তার জীবন।

জন্ম ও শৈশব-কৈশোর : ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে, ২৪শে মে ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের বর্ধমান জেলার
চুরুলিয়া গ্রামে তার জন্ম। পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন। শৈশবে, মাত্র আট
বছর বয়সে তার পিতা মারা যান। চরম আর্থিক অনটন আর দুঃখ-দারিন্যের মধ্যেই তার বাল্যকাল কাটে। গ্রামের
মন্তবে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর তিনি কিছুদিন স্থানীয় মাজারে খাদেম, মসজিদে ইমামতি ও মোল্লাগিরি করেন।

নজরুলের জন্মের পূর্বে তার একাধিক ভাইবোন অকালে মারা যায়। এজন্য ছোটবেলায় নজরুলকে তার
পিতামাতা “দুখু মিয়া’ বলে ভাকতেন। খুব অল্প বয়সে তার কবিতৃশত্তির প্রকাশ পায়। তিনি মুখে মুখে ছন্দ
মিলিয়ে পদ্য রচনা করতে পারতেন। গ্রামের লেটোর দলে যোগ দিয়ে নজরুল গান গেয়েছেন, অনেক পালাগান
রচনা করেছেন। ছোটবেলা থেকেই নজরুল ছিলেন মুক্তমনা । স্কুলের বাধাধরা জীবন তার ভালো লাগত না।
কাজের ফাকে নজরুল সুর করে গান গাইতেন, পুথি পড়তেন। প্রতিভাবান বালক হিসেবে তার গানে মুগ্ধ হয়ে
আসানসোলের দারোগা কাজী রফিজউল্লাহ নিজ বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার দরিরামপুরে এনে স্কুলে ভর্তি করিয়ে
দেন। এখানে কিছুদিন পড়ালেখার পর নজরুল আবার গ্রামে ফিরে যান। ভর্তি হন শিয়ারশোল রাজ হাইস্কুলে।

১৯১৪ সাল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে সমগ্র ইউরোপে । নজরুল তখন দশম শ্রেণির ছাত্র ।
যুদ্ধের আহ্বান শুনে স্কুল থেকে পালিয়ে তিনি ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়ে চলে
যান করাচি। নিজ দক্ষতার গুণে অল্পদিনের মধ্যে নজরুল হাবিলদার পদে উন্নীত হন। সেনাশিবিরে
ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান। করাচি থেকেই তিনি কলকাতার বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা
পাঠান । তীর প্রথম লেখা “বাউপ্রেলের আত্মকাহিনী” নামে একটি গল্প এবং প্রথম কবিতা “মুক্তি” ।
নজরুলের সাহিত্যিক জীবন : প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর কলকাতায় ফিরে এসে নজরুল পুরোপুরি
সাহিত্যে মনোনিবেশ করেন। এ সময় ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন চলছিল। করাচি থেকে পাঠানো
কয়েকটি লেখা পূর্বেই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশের কারণে নজরুল কলকাতার কবি-সাহিত্যিক মহলে সমাদৃত
হন। তার বিখ্যাত কবিতা “বিদ্রোহী* প্রকাশিত হলে নজরুলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তীর প্রথম গল্পগ্রন্থ
“ব্যথার দান’ এবং প্রথম কাব্যগ্রন্থ “অগ্নিবীণা” ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক,
প্রবন্ধ, গানসহ প্রায় পঞ্চশটি গ্রন্থ রচনা করেন। এ ছাড়া নজরুল “নবযুগ’ “ধূমকেতু” “লাঙুল’ “গণবাণী’
ইত্যাদি পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্তো যুক্ত ছিলেন।
নজরুলের লেখায় নিপীড়িত মানুষের মুক্তির কথা ধ্বনিত হয়েছে। তিনি লিখেছেন :

মহা বিদ্রোহী রণ-্রান্ত

আমি সেই দিন হব শান্ত

১৬

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খভ্গ-কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না।
বিদ্রোহী রণর্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত ।
নজরুলের শেষ জীবন : ১৯৪২ সালে এক দুরারোগ্য মস্তিষ্কের রোগে নজরুল সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
অনেক চিকিৎসার পরও তিনি আর সুস্থ হননি। ১৯৭২ সালের ২৪শে মে কবিকে কলকাতা থেকে
বাংলাদেশ সরকার এ দেশে নিয়ে আসেন এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিন্ত করেন।
১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্টে ঢাকা পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়) নজরুলের মৃত্যু হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
গণমানুষের এই কবি চিরকাল আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

জাতির পিতা বঙ্াবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

ভূমিকা : হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির শ্রেষ্ঠতম অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা । আর এই স্বাধীনতা
সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্তো যার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তিনি জাতির পিতা বঙ্তাবন্ধূ শেখ মুজিবুর
রহমান। তিনি বাঙীলি জাতির অবিসংবাদিত নেতা । পাকিস্তান সৃষ্টির অল্প কিছুকাল পরেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে
বৈষম্য আর পরাধীনতার গ্নানি। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্রে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে এ দেশের
জনগণের দ্বন্দ আরো সুস্পষ্ট হয়। নিপীড়িত জাতির ভাগ্যাকাশে যখন দুর্যোগের কালোমেঘ, তখনই শেখ
মুজিবুর রহমানের গৌরবময় আবির্ভাব । অসাধারণ দেশপ্রেম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সমথ জাতিকে
এক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি তাই ভালোবেসে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে
‘বঙ্গবন্ধৃ” উপাধিতে ভূষিত করে। স্বাধীনতার পর তাকে “জাতির পিতা” মর্যাদায় অভিষিন্ত করা হয়।

জীবনকথা : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গীবন্ধ্ব শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই
মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শেখ লুৎফর রহমান, মাতা সায়েরা খাতুন ।
দুই ভাই, চার বোনের মধ্যে শেখ মুজিব ছিলেন পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান। পারিবারিক আনন্দঘন পরিবেশে
টুঙ্ভিপাড়ায় তার শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কাটে । গিমাভাঙ্ঞা প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার
পর তিনি গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং এই স্কুল থেকে ১৯৪১ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস
করেন। এই সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ
সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে এক সংবর্ধনা সভা শেষে ফিরে যাচ্ছিলেন, পথরোধ করে দীড়ালেন
শেখ মুজিব । স্কুলের ছাত্রাবাস জরাজীর্ণ । ছাত্রাবাস মেরামতের জন্য অর্থ চাই। শেরে বাংলা প্রথমে কিশোর
মুজিবের সাহস ও স্পষ্ট বন্তব্য আর জনহিতৈবী মনোভাবের পরিচয় পেয়ে অবাক হন। তারপর সহাস্যে
জিজ্ঞেস করেন, ছাত্রাবাস মেরামত করতে কত টাকা দরকার? স্পট কণ্ঠে কিশোর শেখ মুজিব বললেন-বারো*শ টাকা ।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক সাথে সাথে টাকার ব্যবস্থা করলেন। বাল্যকাল থেকেই শেখ মুজিবুর
রহমান একটু অন্যরকম ছিলেন। একবার নিজের বাড়ির গোলার ধান গ্রামের গরিব চাবিদের মাঝে বিলিয়ে
দেন। পিতা শেখ লুৎফর রহমান এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, “এবার চাষিদের জমির
ধান সব বন্যায় ন্ট হয়ে গেছে। আকালে পড়েছে কৃষক। আমাদের মতো ওদের পেটেও ক্ষুধা আছে। ওরাও
আমাদের মতো বাচতে চায়।” বাবা ছেলের এই সৎ সাহস ও মহানুভবতা দেখে বেশ খুশি হলেন। এভাবে
শেখ মুজিবুর রহমান গরিবের বন্ধু আর নিপীড়িত মানুষের হৃদয় জয় করেন।

১২৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে আইএ এবং ১৯৪৭ সালে বিএ পাস করেন তিনি। ১৯৪৬ সালে
ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান ক্রমেই নেতা মুজিবে
বিকশিত হতে থাকেন। ১৯৪৭-এ দেশ বিভাগের পর তিনি আইন পড়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৮
সালে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের তিনি ছিলেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা । ১৯৪৮ সালে “সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হলে এর সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। এ বছর ১১ই মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে হরতাল পালনের
সময় তিনি গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন। “বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপারিশ
করে পূর্ববঙ্গ পরিষদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে’_এ মর্মে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের নাজিমুদ্দিন
সরকার চুক্তিবদ্ধ হলে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে তিনি যুগ্ম সম্পাদকের
পদ লাভ করেন এবং ১৯৫৩ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে যুক্ুফন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক
আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং যুক্তুফন্ট মন্ত্রিসভার মন্ত্রিত্ব লাভ করেন। এ দেশের মানুষের অধিকার
আদায় এবং শোষণ বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বহুবার থ্প্তার ও কারারুদ্ধ হন।

১৯৬৬ সালে তিনি পেশ করেন বাঙালি জাতির এঁতিহাসিক মুক্তির সনদ ছয়-দফা। এ সময় নিরাপত্তা আইনে তিনি বার
বার গ্রেপ্তার হতে থাকেন। আজ গ্রেপ্তার হয়ে আগামীকাল জামিনে মুক্ত হলে সন্ধ্যায় তিনি আবার গ্েপ্তার হন। এরকমই
চলে পর্যায় ক্রমিক গ্রেপ্তার। তিনি কারারুদ্ধ জীবনযাপন করতে থাকেন। তকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা হয়
এতিহাসিক আগরতলা মামলা । ১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেবুয়ারি ছাত্র সং্াম পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত রেসকোর্স ময়দানের লক্ষ
মানুষের এক নাগরিক সংবর্ধনায় তাকে ‘বঙ্ঞবন্ধূ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে
তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাত করে। উল্লেখ্য যে, এই নির্বাচনে পাকিস্তানের সর্বমোট
সংসদীয় আসন সংখ্যা ছিল ৩০০টি । জনসংখ্যার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আসন বরাদ্দ হয় ১৬৯টি। তার মধ্যে
বঙ্গবন্ধু এবং তীর দল ১৬৭টি আসনে জয় লাভ করে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় পরিষদে নির্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন
এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে জয় লাভ করে তিনি তৎকালীন পূর্ব
পাকিস্তানের গণমানুষের ম্যান্ডেট লাভ করেন। কিন্তু সরকার গঠনের সুযোগ না দিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া
খান ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এর প্রতিবাদে বঙ্ঞাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ওরা মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ৭ই মার্চ এতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
অরণকালের বৃহত্তম জনসভায় বঙ্গাবন্ধু ঘোষণা করেন-

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ।’

২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঘুমন্ত নিরসত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে
ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড । ২৫ এ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ এ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গকণ্ধু বাংলাদেশের
স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পরেই বঙ্ঞাকণধুকে গ্রেফতার করে নিক্ষেপ করা হয় কারাগারে। শূরু হয় মুক্তিযুদ্ধ ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১০ই এপ্রিল বঙ্গীবন্ধূর অবর্তমানে তীকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় স্বাধীন বাং

সরকার । দীর্ঘ নয় মাস বত্তক্ষরী যুদ্ধশেষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়। ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালির
বিজয় সূচিত হয়। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে ঢাকায়
প্রত্যাবর্তন করেন। ১২ই জানুয়ারি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত
দেশ গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু পরাজিত হায়েনার দল তার সাফল্য ও বাঙালির উত্থানকে
মেনে নিতে পারেনি । তাই আবার শুরু হয় ষড়যন্ত্র। দেশ যখন সকল বাধা দূর করে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি

১৯৮

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী ও আন্তর্জাতিক চক্রের শিকারে পরিণত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সামরিক বাহিনীর
তণকালীন কিছু উচ্চাভিলাষী ও বিপথগামী সৈনিকদের হাতে বঙ্গাবন্ধরু সপরিবারে নিহত হন। শারীরিকভাবে শেখ
মুজিবের মৃত্যু হলেও তিনি অমর, অক্ষয়। ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বৈচিত্র্যময় জীবনের অসাধারণ
এক খণ্ডাংশ অসমাপ্ত আত্মজীবনী । কারাগারে বসে রচিত আত্মচরিতমূলক এই গ্রন্থে তার রাজনৈতিক জীবনের
প্রেক্ষিতে পরিপূর্ণ এক বাংলাদেশের চিত্র ফুটে উঠেছে। এই গ্রন্থে আমরা অন্য এক মাহাত্যে সমুজ্্বল বঙ্গবন্ধুর
সন্ধান পাই। দেশপ্রেমিক প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে রয়েছে একটি নাম- শেখ মুজিবুর রহমান।

কৰি অন্নদাশংকরের ভাষায় বলতে হয়_

যতদিন রবে পদ্মা যমুনা
গৌরী মেঘনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার

শেখ মুজিবুর রহমান ।

অবদান : দিধাবিভন্ত পরাধীন জাতিকে সুসংগঠিত করে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করা এবং সঠিক নেতৃত দেওয়া
সহজ কাজ নয়। অথচ এই কঠিন কাজটি বঙ্গাবন্ধূ খুব সহজেই করতে পেরেছিলেন। স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার
সংগ্রাম সবই পরিচালনা করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান অসীম দক্ষতা ও যোগ্যতায় । তাঁর ছিল মানুষকে উদ্ৃদ্ধ
করার মতো অসাধারণ বন্ত্রকপ্ঠ। অনলবর্ধী বক্তা হিসেবে তার ছিল বিপুল খ্যাতি । এর প্রমাণ পাওয়া যায়
এঁতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে । অকৃত্রিম দেশপ্রেম, সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা, অমায়িক
ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি তাকে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছে। স্বাধীনতার পর তিনি খুঁব
বেশিদিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পাননি । যতটুকু সময় ক্ষমতায় ছিলেন, তিনি যুদ্ধবিধবস্ত দেশকে পুনর্গঠনের
উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি ক্ষমতা লাভের পর কিছুদিনের মধ্যে ভারতীয় বাহিনীর
দেশত্যাগ করা এবং মুক্তিবাহিনীর অস্ত্রসমর্পণ করার ঘোষণা দেন। বিশ্বের ১০৪টি দেশ স্বাধীন বাংলাদেশকে
স্বীকৃতি প্রদান করে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদ
লাভ করে বঙ্গবন্ধুর আমলে। ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের নতুন সংবিধান কার্যকর হয়। তীর
সরকারের সময় ব্যাংক, বিমাসহ শিল্পকারখানা জাতীয়করণ করা হয় । ১৯৭৪ সালে তিনি জাতিসংঘের
সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলায় বক্তৃতা করেন। তার নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছিল বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন
স্বাধীনতা । এই স্বাধীনতা বাঙালি জাতির জীবনে সূচনা করেছে এক নবদিগন্ত। আত্মপরিচয়হীন জাতি খুঁজে পেয়েছে
তার অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা।

উপসংহার : বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে যার নাম উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্যমান তিনি বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান। তার দূরদর্শী, বিচক্ষণ এবং সঠিক নেতৃত্ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তিনি
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা । তিনি নিজের স্বার্থকে কখনোই প্রাধান্য
দেননি, জাতির কল্যাণের কথাই তিনি সবসময় তেবেছেন। জেল জুলুম ও নির্যাতনের কাছে তিনি কখনো
মাথা নত করেননি । সমস্ত জাতিকে তিনি মুক্তি ও স্বাধীনতার চেতনায় এক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন । তার
আত্মত্যাগ জাতিকে মহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। বক্তাবন্ধুকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া
বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল। “বঙ্গাবনধু’ ও “বাংলাদেশ’ আজ সমথ বাঙালি জাতির
কাছে এক ও অভিন্ন নাম।

১২৯
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-১৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দেশগঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

সূচনা: জ্ঞানশত্তি ও তারুণ্যশত্তি এই দুই শ্তির সমন্বয় করে ছাত্রসমাজ দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
রাখতে পারে। আজকের ছাত্ররাই জাতির সম্ভাবনাময় প্রজন্মা। জাতির স্বপ্রময় ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। সততা,
নিষ্ঠা, সাহস ও ত্যাগী মনোভাব এসব গুণাবলির সঙ্তো জ্ঞানের আলো থাকলে দেশের উন্নতি এবং জাতির
নতুন অভ্যুদয় ঘটাতে পারে ছাত্রসমাজ। কিন্তু এই সৎ গুণাবলি অর্জন করা খুব সহজ নয়। এর জন্য দরকার
নিয়মিত অনুশীলন ও মানসিক পরিচর্যা ।

ছাত্রসমাজ তারুণ্যের উজ্জ্বল দীপ্তি : ছাত্রসমাজ চিরকালই নবশক্তির উদ্বোধক হিসেবে কাজ করেছে। তাদের
দেশ ও সমাজের দিকে তাকায় । তাদের দেশগঠনমূলক ভূমিকা এঁতিহাসিক তাৎপর্যমপ্তিত। ছাত্রসমাজ রচনা
করেছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলনে এ দেশের ছাব্রসমাজের রয়েছে অবিস্মরণীয়
অবদান । উনসত্তরের গণ-অজ্যুথান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে ছাত্রসমাজই পালন
করেছে মুখ্য ভূমিকা । রত্তক্ষয়ী সংঘামের সিঁড়ি বেয়ে এ দেশের ছাত্রসমাজ জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা
করেছে। বুকের রক্ত দিয়ে রফিক, শফিক, সালাম, বরকত যে বাংলাভাষার নাম লিখেছিল, তা আজ
স্বমহিমায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত।

দেশ ও জাতির সমস্যা ও ছাত্রসমাজের ভূমিকা : ছাত্ররা সাধারণত অর্থনৈতিক বা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে
সরাসরি জড়িত থাকে না। বন্ধনহীন মুক্তজীবন আর খোলা চোখ নিয়ে তাকায় বলে, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের
ত্রুটিগুলো সহজে দেখতে পায়। চিহ্নিত করতে পারে সমস্যার কারণ এবং সমাধানের উপায়ও তারা খুঁজে বের
করতে পারে । লোভ বা স্বার্থপরতার কাছে পরাজিত না হয়ে দেশের বৃহত্তর কল্যাণে তারা কাজ করতে পারে।
ছাত্রসমাজ মানেই সংঘবদ্ধ একটা শত্তি। এই সংঘবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশগঠনে ইতিবাচক ভূমিকা
করছে। কলুষিত করছে ছাত্রসমাজকে । ছাত্রসমাজের গৌরবময় এঁতিহ্য রক্ষা করার স্বার্থেই ওই নষ্ট
রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । ছাত্রসমাজকে কাজ করতে হবে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে,
অপরিসীম দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ৷ মনে রাখতে হবে, এ দেশের প্রত্যেকটি ছাত্র এক-একজন সূর্যসন্তান।
দেশমাতৃকার সেবা-শক্তির প্রতীক।

দেশ গড়ার বিভিন্ন দিক : অশিক্ষা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ বাংলাদেশের প্রধান
সমস্যা। এর পাশাপাশি আদর্শহীনতা, দুর্নীতি ইত্যাদি বাংলাদেশের এখন মৌলিক সমস্যা হিসেবে দেখা
দিয়েছে। এসব সমস্যার কারণে বাংলাদেশ স্বাধীনতার এত বছর পরেও রাম্জ্রীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো
অগ্গতি লাভ করতে পারেনি । এখনো এদেশের ষাট শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে । অন্ন, বসত্র,
বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারগুলো অধিকাংশ মানুষের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি ।
ছাত্রসমাজকে এ দিকগুলোর প্রতি নজর দিতে হবে । সততা ও নৈতিকতার অনুশীলন এবং আদর্শ
চরিত্রের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। সততাই মানবজীবনের মৌলিক শত্তি। দার্শনিকেরা বলেছেন, ‘দ্বর্ণ বা
তেলের খনি নয়, আদর্শ মানুষই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ ।” ছাত্রসমাজ সত্যিকার দেশপ্রেমে উদ্ুদ্ধ হয়ে
শিক্ষা বিস্তার, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, পল্লি উন্নয়ন ইত্যাদি কাজে যুক্ত হলে দেশ এগিয়ে যাবে ।
উপসংহার : ছাত্রসমাজ হচ্ছে সংঘবদ্ধ শক্তিতে বলীয়ান। সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম থাকলে তারা দেশের

১৩০

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে। দেশের অগ্চগতি ও জাতির প্রত্যাশিত
আকাজ্কা পুরণে ছাত্রসমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।

সাক্ষরতা প্রসারে ছাব্রসমাজ
(সংকেত)

ভূমিকা : শিক্ষা জাতির উন্নতি ও অগ্চগতির চাবিকাঠি । শিক্ষা অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর করে। মানুষকে
যুক্তিনিষ্ঠ, কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলে । অথচ আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিরক্ষর ।
নিরক্ষরতার অভিশাপ : নিরক্ষরতা জাতিকে রুগ্ণ, নিরুদ্যম ও গতিহীন করে তোলে । নিরক্ষর মানুষ জীবনে
দুর্দশা ও বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি পায় না। তারা সমাজের অপশক্তির হাতে শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার
শিকার হয়। দুর্বিষহ, বিপন্ন ও মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের ।
সাক্ষরতা-আন্দোলন : নিরক্ষরতা নামক সামাজিক ব্যাধি ও পশ্চাৎপদতা থেকে দেশকে মুক্ত করতে দেশে
সাক্ষরতা আন্দোলন শুরু হয়েছে। সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সবার জন্য শিক্ষা, উপ-
আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ।
ছাত্রসমাজের ভূমিকা : ছাত্রছাত্রীরা দেশের ভবিষ্যৎ । তারা ছড়িয়ে আছে সারা দেশে । তাদের আশেপাশেই
অবস্থান করছে নিরক্ষরতা। তাদের কাজ নিরক্ষরদের শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলা । অশিক্ষার
কুফল সম্পর্কে তাদের জানানো । পাশাপাশি বয়স্ক ও নিরক্ষরদের হাতে-কলমে শেখার ব্যাপারেও তাদের
সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
উপসংহার : দেশের আগামী দিনের কর্ণধার হিসেবে ছাত্রদের এখন থেকে দেশগড়ার দায়িত্ব নিতে হবে।
তাদের সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে সাক্ষরতা আন্দোলনে ।

চরিত্র

ভূমিকা : চরিত্র মানবজীবনের মহিমা । মানুষের সমস্ত মানবিক গুণাবলির প্রতিফলন ঘটে চরিত্রে । তা তাকে
পাশবিক আচরণ ও বৈশিষ্ট্য থেকে পৃথক করে। চরিত্র অনুযায়ী গড়ে ওঠে মানুষের ব্যক্তিজীবন। তার প্রভাব
পড়ে তার চিন্তা ও কর্মে। ফলত তা প্রভাবিত করে তার চারপাশের পরিবেশ ও সমাজজীবনকে।

চরিত্র কী : ব্যক্তির আচরণ ও আদর্শগত বৈশিষ্ট্যের নাম চরিত্র । সুন্্মভাবে দেখলে মানুষের চরিত্রের রয়েছে দুই
বিপরীত বৈশিষ্ট্য কেউ সচ্চরিত্র, কেউ দুশ্চরিত্র। যে মানুষের চরিত্র নানা মহৎ ও সৎগুণের আধার, তিনি
সচ্চরিত্র। আর কারও চরিত্র লুকানো পশুত্বের আধার হলে সেই চরিত্রই দুশ্চরিত্র। যিনি সৎ চরিত্রের অধিকারী
তিনি সমাজের শ্রেষ্ঠ অলংকার । চরিত্রকে জীবনের মুকুট বলা হয়। মুকুট যেমন সম্রাটের শোভা বর্ধন করে,
তেমনি চরিত্রও মানবজীবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। সততা, নীতিনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, সহৃদয়তা,
সংবেদনশীলতা, ক্ষমা, উদারতা, ধৈর্য, কর্তব্যপরায়ণতা, গুরুজনে ভত্তি, মানবিকতা ও আত্মসতযম ইত্যাদি
সচ্চরিত্রের লক্ষণ । যিনি চরিত্রবান তিনি কখনও ন্যায়, নীতি, আদর্শ ও সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হন না, দুর্নীতি ও
অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। তিনি সযত্রে ক্রোধ, অহংকার, রুঢুতা ইত্যাদিকে পরিহার করেন। তিনি হন সত্যবাদী,
সংযমী ও ন্যায়পরায়ণ। যাবতীয় মানবিক গুণীবলির বিকাশ ঘটে বলে চরিত্রবান মানুষ জাতির সম্পদ ।

চরিত্র গঠনের গুরুত্ব : মানুষের জীবনে চরিত্রের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম | কেবল চরিত্রের শক্তিতে মানুষ
হয়ে উঠতে পারেন বিশ্ববরেণ্য ও চিরম্মরণীয়। কেবল চরিত্রের গুণে মানুষ অমর হতে পারে । মানবজীবনে

১৩১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
চরিত্রের মহিমা সম্পর্কে ধারণা করা যায় একটি ইংরেজি সুভাষিত থেকে :

1061) [0016৮ 15 19911011111 15 105,
/1101) 11068160115 1091 90779111716 15 1051
1061 01781780101 19 19591 9৬071001010 19 105.

তাই চরিত্রের বিকাশ সাধনই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
চরিত্র-গঠনমূলক শিক্ষার লক্ষ্য : শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য চরিত্র গঠন। তাই ব্যক্তির চারিত্রিক গুণাবলি বিকাশের
লক্ষ্যে নিয়লিখিত দিকগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন :
১। ন্যায়-নীতি, ধৈর্য, সাহস, সততা, সৌজন্য, কৃতজ্ঞতাবোধ ইত্যাদি সৎ ও মহৎ গুণাবলির বিকাশ ও লালন;
২। শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, শিষ্টাচার ইত্যাদি আচার-আচরণ-অভ্যাস গঠনঃ
৩। দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবপ্রেম ইত্যাদি সংগঠিত ভাবাবেশের পরিচর্যা;
৪ | হিংসা, বিদ্বেষ, কুটিলতা ইত্যাদি মন্দ প্রবৃত্তি দমন;
€&। ন্যায়বিচার, সম্প্রীতি-চেতনা, মানবকল্যাণ ইত্যাদি মানবিক গুণাবলিকে জীবনের চালিকাশক্তি
হিসেবে গ্রহণ ।
চরিত্র গঠনে বাবা-মা, পাড়া-প্রতিবেশীর ভূমিকা ছাড়াও বয় স্কাউট, গার্লস্‌ গাইড, রেডক্রস ইত্যাদি
সংগঠনের সঙ্ভো সংশ্লিষ্টতা গুরুতৃপূর্ণ। স্বেচ্ছা সংগঠনের মাধ্যমে মানুষ যৌথ কাজের গুরুত্ব ও আনন্দ
অনুভব করতে পারে।
চরিত্র গঠনের সাধনা : চরিত্র গঠনের জন্যে প্রত্যেকের নিজস্ প্রচেষ্টা ও সাধনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । চরিত্রবান
হতে হলে লোভ-লালসা ও অসৎ প্রবৃত্তির নানা কুপ্রলোভন পরিহার করার শক্তি অর্জন করতে হয় । চরিত্রবান
মানুষের জীবনাদর্শের আলোয় সুচরিত্র গঠনে এগিয়ে যেতে হয়।

মহৎ চরিত্রের দৃষ্টান্ত : পৃথিবীতে যীরা সরণীয়-বরণীয় হয়ে রয়েছেন তারা ছিলেন সুন্দর, নির্মল ও পরিচ্ছন্ন
চরিত্রের শক্তিতে বলীয়ান। কোনো প্রলোভনই তাদের ন্যায় ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
এমনই চরিত্রের এক উজ্ভবল দৃষ্টান্ত মহানবী হযরত মুহম্মদ (স)। তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন অন্যায়,
অসত্য ও পাপের বিরুদ্ধে। যুগে যুগে ইতিহাসের পাতায় যীশুখিষ, বুদ্ধ, নানকের মতো আরও যেসব
মহৎ ব্যক্তিত্ব আপন মহিমায় ভাস্বর তারা সকলেই ছিলেন মানব্ব্রতী, ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী ।
বিদ্যাসাগর, রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, শেরে বাংলা, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মওলানা ভাসানী ও
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মানবব্রতী, সমাজব্রতী, দেশ্বৃতী মহাপ্রাণ মানুষ তাদের উন্নত ও মহৎ
চরিত্রশক্তির গুণেই অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে পেরেছিলেন

উপসংহার : পরিভোগপ্রবণ বিশ্বে আজ চারপাশে বাড়ছে মূল্যবোধের অবক্ষয় । সততা, ন্যায়নীতি হচ্ছে
বিপর্যস্ত। চরিত্রের মহিমাকে উপেক্ষা করতে বসেছে মানুষ । লোভ-লালসা, ঈর্ধা-হিংসা, অন্যায়-দুর্নীতি
ক্রমেই আচ্ছন্ন করছে ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে । হীনস্থার্থ হাসিলের অনৈতিক পন্থায় চালিত হচ্ছে একশ্রেণির
লোক। এ অবস্থায় জাতীয় জীবনে চাই চরিত্রশত্তির নবজাগরণ। চরিত্র হারানো প্রজন্মকে শোধরানো
কঠিন। তাই নতুন প্রজন্মকে বেড়ে উঠতে হবে চরিত্রের মহান শক্তি অর্জন করে। তাহলেই আমাদের ভবিষ্যৎ
হবে মানবিক মহিমায় ভাস্বর ।

১৩২

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অধ্যবসায়

ভূমিকা : যে-কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্যে নিরবচ্ছিন্ন ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার নাম অধ্যবসায় । অবিচল সংকল্প
নিয়ে, সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে, অপরিসীম ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সাফল্য লাভ করা চরিত্রের
এই গুণটিই অধ্যবসায়। সেইসঙ্গে উদ্যম, উদ্যোগ, নিরন্তর কর্মপ্রচেষ্টা আর আন্তরিক কঠোর পরিশ্রম
অধ্যবসায়কে দেয় পূর্ণতা ।

অধ্যবসায়ের গুরুত্ভ মানবসভ্যতার বিকাশের অন্যতম চালিকাশত্তি অধ্যবসায় । আদিম মানুষ মাটিতে,
পানিতে, আকাশে বৈরীশত্তিকে মোকাবেলা করে নিজের অস্তিত রক্ষায় সফল হয়েছে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ।
বুপান্তর-_ সবই অধ্যবসায়ের দান। আদিম গুহাচারী মানুষ আজ মহাশূন্যে পাড়ি জমিয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান,
সাহিত্য-দর্শন, চিকিৎসা-শিল্পকলা ইত্যাদি প্রতিটি শাখায় মানুষের যে অভাবনীয় অগ্রগতি তার মূলে রয়েছে
নিরন্তর সাধনা, উদ্যম, উদ্যোগ আর নিরবচ্ছিন্ন কর্মপ্রচেষ্টা। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থেও অধ্যবসায়কে একটি
চারিত্রিক গুণের মর্ষাদা দেওয়া হয়েছে।

ব্যন্তিজীবনে অধ্যবসায় : জীবনের পথ পরিক্রমায় নানা সমস্যা মোকাবেলার উপায় অধ্যবসায় ৷ অধ্যবসায়ী
ব্যক্তির পক্ষেই জীবনসংগ্রামে জয়ী হওয়া সম্ভব৷ যে অধ্যবসায়ী নয়, তার দ্বারা কোনো মহৎ কাজ সম্ভব নয়।
মানবজীবনে অধ্যবসায়ের এ গুণটি চমত্কারভাবে প্রকাশিত হয়েছে নিয়লিখিত কাব্যপঞ্জক্তিতে :

“কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ£
এ উদ্যম অধ্যবসায়েরই নামান্তর মাত্র।

প্রতিভা ও অধ্যবসায় : কেউ কেউ মনে করেন, প্রতিভাই সফলতার মূল নিয়ামক। এ ধারণা পুরোপুরি
গ্রহণযোগ্য নয়। অধ্যবসায় ছাড়া সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয় না। প্রতিভাবানদের জীবনেও আত্মপ্রতিষ্ঠা
আসে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ।

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায় : ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবন রচনার অনুশীলনক্ষেত্র । তাই অধ্যবসায় ছাত্রজীবনের
সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । অধ্যয়ন এবং অধ্যবসায়ের মধ্যে রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সংযোগ । বারবার
পাঠ অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে জ্ঞান আহরণ করতে হয়। ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়কে সর্বাধিক গুরুত্ব
দিলে রচিত হয় জীবনের সাফল্যের বুনিয়াদ ৷ অধ্যবসায় না থাকলে কেবল মেধা কাজে লাগে না। অনেক
মেধাবী বিদ্যার্থী যথেষ্ট প্রয়াসের অভাবে জীবনে সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়।

প্রত্যেকেই ছিলেন অধ্যবসায়ী। মহাকবি ফেরদৌসীর অমর মহাকাব্য “শাহানামা” দীর্ঘ তিরিশ বছরের
কাব্যপ্রয়াস। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাশ বিশ বছরের সাধনায় রচনা করেন “বাংলা ভাষার অভিধান’ । কোনো
প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই একক প্রচেষ্টায় প্রায় দু হাজার প্রাচীন পুথি সংগ্রহ করেন খ্যাতনামা সংগ্রাহক
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট বুস পরপর ছয়বার ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে
পরাজিত হয়েও হাল ছাড়েননি । শেষপর্যন্ত তিনি জয়ী হয়েছিলেন। বিশ্ববিশ্ুত বিজ্ঞানী নিউটনের অকুষ্ঠ
স্বীকৃতি : বিজ্ঞানে তার অবদানের মূলে আছে বহু বছরের একনিষ্ঠ সাধনা ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম

১৩৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

জাতীয় জীবনে অধ্যবসায় £ সামগ্রিকভাবে জাতির সগৌরব প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রত্যেক নাগরিকেরই অধ্যবসায়ী
হওয়া প্রয়োজন জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যন্তিজীবনে তার অনুশীলন প্রয়োজন ।
এদিক থেকে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে অধ্যবসারী ব্যক্তির গুরুত্ব অনেকখানি ।

উপসংহার : জীবনে সাফল্য লাভ করে জাতিকে গৌরবান্বিত করার ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। লক্ষ্যে
পৌছানোর উদ্যমী নিরন্তর প্রচেষ্টা থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই জাতিকে নিরস্ত করতে পারে না।
অধ্যবসারী মানুষ ধৈর্য ও অবিচলতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একসময়-না-একসময় সাফল্য ছিনিয়ে আনে।
প্রতিটি সফল জীবন এক অর্থে অধ্যবসায়েরই চালচিত্র । তাই ছোটবেলা থেকে প্রত্যেকের উচিত এই বিশেষ
গুণের অধিকারী হওয়া ।

শৃঙ্খলাবোধ

ভূমিকা : মানবজীবনে এক ধরনের কল্যাণমুখী বন্ধনের নাম শৃঙ্খলা । প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের
বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শৃঙ্খলার নানা বন্ধন তৈরি করেই মানুষ অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠত্ব, নির্মাণ করেছে
সভ্যতা । এভাবেই ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মজীবনে শৃঙ্খলার পাঠ নিয়েছে মানুষ । সে
অভিজ্ঞতায় দেখেছে, তার প্রতিটি কর্মের জন্যে প্রয়োজন হয় সুষম সমন্বয়ের তার জন্য দরকার শৃঙ্খলা ।
সুশৃঙ্খল জাতিই নিশ্চিত করতে পারে জাতীয় জীবনে ব্যাপক উন্নতি ও অগ্রগতি ।

প্রকৃতির রাজতে শৃঙ্খলা : বিশ্বপ্রকৃতির সর্বত্র রয়েছে নিয়মের রাজত্ব। সেখানে কোথাও শৃঙ্খলার অভাব নেই।
তার সবকিছুই সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিত। প্রকৃতির সুশৃঙ্খল নিয়মে সকালে সূর্য ওঠে, সন্ধ্যায় অস্ত যায়। রাতের
আকাশে উকি দেয় চাদ ও তারা । দিবারাত্রির এই পরিক্রমার পথ বেয়ে প্রকৃতিতে চলে ষড়খতুর আবর্তন ।
প্রকৃতির এই নিয়মের বন্ধনে বাঁধা মানুষের জীবন ও অস্তিত্ব। তাই প্রকৃতির মতোই মানুষের জীবনে
অনিবার্ভাবে এসে পড়ে শৃঙ্খলার দায়।

ব্ন্তি ও জাতীয় জীবনে শৃঙ্খলা : মানুষের ব্যক্তিজীবনের বিকাশ ও পরিচালনার সঙ্গে রয়েছে শৃঙ্খলার যোগ।
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের ব্যন্তিজীবন নানা নিয়ম-শৃঙ্খলার বনধনে বাঁধা । এই শৃঙ্খলা যেন মানুষের
জীবনে চলার ছন্দ। সে ছন্দ ব্যক্তিজীবনকে শান্ত, সুস্থির, ফলপ্রসূ করার অবলম্বন । তা যেন সমাজ ও জাতীয়
জীবনে অগ্রগতি নিশ্চিত করার চালিকাশস্তি। তাই মানুষের উন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার স্বার্থেই অনেক নিয়ম
গড়ে তুলেছে সমাজ। সেসব নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয় মানুষের ব্যক্তিত্ব, মনুষ্যত ও প্রতিভা ।

ছাত্রজীবনে শৃঙ্খলা : শিক্ষিত মানুষের সুশৃঙ্খল জীবনের ভিত্তি রচিত হয় ছাত্রজীবনে । যতটুকু মেধা নিয়েই
মানুষ জন্মাক না কেন, সুশৃঙ্খল জীবনছন্দের অভাবে প্রায় ক্ষেত্রেই সেসব মেধা ও শক্তির অপচয় হয়।

সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতার মেলবন্ধনে ছাত্রজীবনে অর্জিত হয় শৃঙ্খলার ছন্দ। এ ক্ষেত্রে ছন্দপতন
ঘটলে জীবনে বিপর্যয় ঘটতে পারে। বস্তৃত, জীবনের গঠন-পর্বে শৃঙ্খলাবোধের বীজ আবাদ করলেই
মানবজীবনে একসময় সোনা ফলে।

শৃঙ্খলাবোধ অর্জনের উপায় : শৃঙ্খলাবোধ আত্মস্থ করার জন্যে অবশ্যই কতিপয় রীতিনীতি অনুসরণ করা
জরুরি । প্রথমত প্রয়োজন সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলা । দ্বিতীয়ত প্রয়োজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল
হওয়া । মর্যাদা অনুসারে মানুষের সঙ্জো শ্রদ্ধা, গ্রীতি ও স্নেহের সম্পর্ক অনুসরণ করতে শেখা সামাজিক
শৃঙ্খলার প্রাথমিক পদক্ষেপ । শৃঙ্খলাবোধ অর্জনের ক্ষেত্রে উত্তম নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের অনুশীলন
দরকার । জ্ঞান ও চিন্তার প্রসারতাও শৃঙ্খলাবোধ অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে ।

১৩৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

শৃঙ্খলাবোধের গুরুতু : আমাদের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে বিশৃঙ্খলা | আর তাই স্বাস্থ্যের প্রতি
যত্ববান হওয়া ও মাদকমুক্ত জীবনযাপন অবশ্যই শৃঙ্খলাবোধের পর্যায়ভূত্ত। কায়িক পরিশ্রম কখনো মানুষকে
ছোট করে না বরং স্বাস্থ্যের জন্যে তা জরুরি। এভাবে শারীরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশৃঙ্খলা
সদ্যবহার হয়। মহান ব্যক্তিদের জীবনে তা দেখা যায়। চিন্তা ও কর্মে শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে মানুষ মহৎ
এবং কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। দায়িত্ে প্রতি সৎ ও একাগ্ব থাকাটাও
শৃঙ্খলার এক মৌলিক অংশ। নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্যে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন
অপরিহার্য ।

শৃঙ্খলাবোধ ও যাস্ত্রিকতা : শৃঙ্খলা কাম্য হলেও কখনো কখনো শৃঙ্খলার বাড়াবাড়ি জীবনের স্বাভাবিক
গতিচ্ছন্দের পথে বাধা হয়ে দীড়ায়। নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের আতিশয্য যদি শৃঙ্খলা না হয়ে শৃঙ্খল হয়ে পড়ে
তবে জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে বাধ্য । মানুষের জীবন তখন যন্ত্রের জীবনে পরিণত হয়। এ
সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। মনে রাখতে হবে, জীবন-অনুগামী শৃঙ্খলার স্বাভাবিক ধারাতেই জীবন স্বচ্ছন্দে
বিকশিত হয়।

উপসংহার : শৃঙ্খলাই হচ্ছে ব্যক্তি ও জাতির জীবনের সুষমাময় সৌন্দর্য । অশরিষ্ট আচরণ, অন্যায়
জবরদস্তি, অবৈধ পেশিশক্তি মানুষের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যকে তছনছ করে দেয়। এসব জাতীয় অগ্রগতির
পথেও মারাত্মক বাধা হয়ে দীড়ায়। পক্ষান্তরে, জাতির উন্নতি আর সার্বিক অগ্রগতির ভিত্তি হচ্ছে ব্যক্তির
শৃঙখলাবোধ। প্রতিটি ব্যন্তির সুশৃঙ্খল চিন্তা, কর্ম ও আচরণের শত্তিতেই জাতি বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাড়াতে
পারে।

শিষ্টাচার

ভূমিকা :£ আচরণে বিনয় ও পরিশীলিত রুচিবোধের সমন্বিত অভিব্যক্তির নাম শিষ্টাচার । শিষ্টাচার সুন্দর
মনের মাধুর্যময় আচরণিক প্রকাশ । মানুষের মাঝে লালিত সুন্দরের প্রকাশ তার চরিত্র। শিষ্টতা সেই
সুন্দরের প্রতিমূর্ত বুপ। শিষ্টতা মানুষের চরিত্রকে করে আকর্ষণীয় । যে মানুষ যত বেশি শিট, অন্যের কাছে
তার গ্রহণযোগ্যতাও তত বেশি।

শিবীচার কী : সাধারণভাবে আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় বিনয়, নপ্রতা আর সৌজন্যের পরিচয়ের নাম
শিষ্টাচার। আচরণে মার্জিত না হলে, ব্যবহারে উপ্তা পরিহার না করলে মানুষ শিষ্টাচারী হতে পারে না।
স্বভাবে দান্তিকতা ও কর্কশতা পরিহার করতে না পারলে মন মাধুর্যময় হয় না। মানবিক সন্তা যতই চরিত্রের
মাধুর্য অর্জন করে ততই সে হয়ে ওঠে স্বভাবে শিট । শিষ্টতা ব্যক্তির আচরণকে করে মার্জিত, বাচনকে করে
সৎ ও সুললিত। শিষ্টাচারহীন মানুষ সবসময় উদ্ধত থাকে । তার আচরণে প্রাধান্য পায় অবজ্ঞা, ওঁদ্ধত্য,
দুর্ব্যবহার ও দুর্মুখতা | অহংকার অন্যকে ছোট ভাবতে প্ররোচিত করে। কিন্তু শিষ্টতা মানুষকে সম্মান করতে
প্রণোদনা দেয়।

শিষ্টীচারের গুরুত্ব : শিষ্টাচার ব্যক্তিস্বভাবে দেয় আলোর দীণ্তি। সে আলো ব্যক্তির পরিমগ্ডল থেকে ছড়িয়ে
পড়ে গোটা সমাজে, রাস্ট্রে। এর আলোতে উজ্জ্বল ব্যক্তির আত্মিক মুক্তির সাথে যোগ হয় মানবিক সৌহার্দ্য ও
সম্প্রীতি। শিষ্উজন তার সৌজন্য আর বিনয়ের মাধ্যমে সকলের প্রিয়তা অর্জন করেন, অর্জন করেন অন্যের
আস্থা । অন্যের সহানুভূতি, গ্রীতি ও সম্মান লাভ করার জন্যে শিষ্টজনই উত্তম । তাই সামাজিক সুসম্পর্ক

১৩৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

প্রতিষ্ঠা করার জন্যে শিষ্টাচারের বিকল্প নেই। এতে করে আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে সকলের আন্তরিকতা প্রকাশ
পায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে সমাজ হয় শান্তি ও সম্প্রীতির আকর।

ছাত্রজীবনে শিষ্টাচার : জ্ঞানার্জন নিষ্ঠা, অভিনিবেশ আর শৃঙ্খলাবোধের পাশাপাশি ছাত্রজীবনে শিষ্টাচার
অনুশীলন খুবই জরুরি । সৌজন্য ও শিষ্টাচারের ছোয়াতেই ছাত্র হয় বিনীত ও জদ্র। কোনো ছাত্রের কাছে
অমার্জিত, রূঢ় ও দুর্বিনীত আচরণ কখনো কাম্য নয়। শিষ্টাচার ও সৌজন্য ছাত্রজীবনে মনুষ্যত্‌ অর্জনের
সোপান। সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অভাব ঘটলে ছাত্রের জীবন থেকে ভালোবাসা, মমতা, সহানুভূতি, বিনয়
ইত্যাদি সুকুমার বৃত্তি হারিয়ে যায়। সে হয়ে ওঠে দাস্তিক, স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর নৈতিক চরিত্রের উত্কর্ষের জন্যে
তাই ছাত্রজীবনেই ব্যবহারে ভব্যতা আর শিষতার সম্মিলন ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই।

শিষ্টাচার ও সমাজজীবন : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা
অনস্বীকার্য । তা না হলে সমাজে দেখা দেয় অসহিষ্জুতা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও নিষ্ঠুরতা । শিব্টাচারের অভাব ঘটলে
সমাজ হয়ে ওঠে শ্রীতিহীন। সমাজ আচ্ছন্্ হয় বিদ্বেষ, হিংসা, হানাহানি আর অশান্তিতে ৷ তা সমাজজীবনে
চরম বিপর্যয় ডেকে আনে । শিষ্টাচারহীন সমাজ হয়ে ওঠে অন্তঃসারশুন্য, বিবেকহীন। সমাজে সৌন্দর্য আর
সুকুমার প্রবৃত্তিগুলো হারিয়ে যেতে বসে। প্রেম, প্রীতি ও মমতার অভাবে মানুষ হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন, হয়ে পড়ে
স্বার্থান্বেষী ও আত্মকেন্দ্রিক।

শিফীচার অর্জনের উপায় : শিষ্টাচার আপনা-আপনি মানবহৃদয়ে জন্ম নেয় না। একে অর্জন করে নিতে হয়।
এ জন্য শিষ্টাচারের চর্চা শুরু করতে হয় শিশুকাল থেকেই । শৈশবে সৌজন্যবোধের পাঠ নিলে ভবিষ্যতে শিশু
মার্জিত স্বতাবের অধিকারী হয়। তাই শিশু কোন পরিবেশে, কার সাহচর্ষে, কীভাবে বেড়ে উঠছে সেটা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । শিশু পরিবার-পরিজন, সঙ্ভী-সাথি কি€বা প্রতিবেশী যাদের সাহচর্ষে থাকে তাদের কাছ
থেকেই আচরণ শেখে । তাই সৎসঙ্তা শিষ্টাচারী হতে সাহায্য করে। স্কুল-কলেজেও শিক্ষার্থীরা শিষ্টাচারের
আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়। সংস্কৃতি চর্চা ও রুচিবান মানুষের সংসর্গও শিষ্টাচার শিক্ষার অনুকূল ভালো বইও
একজন সৎ অভিভাবকের মতোই শিষ্টাচার শেখাতে পারে ।

উপসংহার : শিষ্টাচার হচ্ছে সৎ চরিত্র গড়ার অন্যতম বুনিয়াদ । মার্জিত, রুচিশীল ও সৎ চরিত্রবান ব্যক্তি
সমাজ ও জাতীয় জীবনে রাখতে পারেন বিশেষ অবদান। পক্ষান্তরে অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতি
শিষ্টাচারের অন্তরায় । তা প্রতিনিয়ত মানবিক মূল্যবোধগুলো ধ্বংস করে ব্যত্তির চরিত্রকে কলুষিত করতে
পারে। মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ে জাতি হয়ে পড়তে পারে দুর্বল ও ক্ষীণপ্রাণ। সাম্প্রতিককালে তরুণ ও
যুবসমাজের মধ্যে যে অশোভনতা, উদ্ধত্য ও উচ্ছ্ঙখলতার প্রকাশ ঘটছে তা পরিভোগপ্রবণ পণ্যসংস্কৃতি
বিস্তারের ফল। এটা জাতির লাবণ্যহীন হওয়ারই লক্ষণ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ব্যন্তি, সমাজ ও
জাতীয় জীবনে সুস্থতা ও সমৃদ্ধি অর্জনে তাই আমাদের শিষ্টাচারের চর্চা করা উচিত।

শ্রমের মর্যাদা

ভূমিকা : শ্রম প্রতিটি মানুষের মধ্যেকার আশ্চর্য নিহিত শত্তি। এই শ্রমের শক্তিতেই মানুষ রচনা করেছে
হাতিয়ার । তারপর সুদীর্ঘকাল ধরে মানুষ তিল তিল শ্রমে গড়ে তুলেছে সভ্যতার বিরাট সৌধ । শ্রমের
কল্যাণেই মানুষ পশুজগৎ থেকে নিজেকে করেছে পৃথক। মানুষ যে আধুনিক যন্ত্র চালায়, সূক্ষ্ম ছবি আকে,
কিংবা অপরুপ সুরের ঝংকার তোলে-_-তার মূলে রয়েছে শ্রমের অবদান ।

১৩৬

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

এঁতিহাসিক প্রেক্ষাপট : মানবসভ্যতা শ্রমেরই অবদান। কিন্তু শ্রমের প্রতি মনোভাব সবসময় একরকম ছিল
না। আদিম সমজে যৌথশ্রমের মূল্য ছিল। কিন্তু সমাজে শ্রেণিবিভেদ দেখা দিলে শ্রম মর্ধাদা হারাতে থাকে ।
প্রাচীন রোম ও মিশরে শ্রমজীবীদের সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তাদের গণ্য করা হতো ক্রীতদাস হিসেবে ।
সামন্তযুগে কৃষকরাই শ্রমজীবীর ভূমিকা পালন করেছে। তারাও ছিল মর্যাদাহীন, শোষিত ও বঞ্চিত।
শিল্পবিগ্রবের পর পুঁজিবাদী দুনিয়ার শ্রমিকরা শোষিত হলেও তারা গণতান্ত্রিক অধিকার লাভ করে।
বুশবিপ্লবের পর শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হলে শ্রমিকরা মর্যাদা পায় সবচেয়ে বেশি।
শ্রমের মহিমা : শ্রম কেবল সমৃদ্ধির উত্স নয়। তা মানুষকে দেয় সৃজন ও নির্মাণের আনন্দ। মানুষ যে
প্রতিভা নিয়ে জন্মায় তার বিকাশের জন্যও দরকার শ্রম। পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ গড়ে তোলে নিজের
ভাগ্যকে । পৃথিবীতে যা-কিছু মহান সৃষ্টি তা মূলত শ্রমেরই অবদান।

দৈহিক ও মানসিক শ্রম : মানব-ইতিহাসে দেখা যায়, পরজীবী শ্রেণি সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রমের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়
সামাজিক অসাম্য | মজুর-চাষি-মুটে-কুলি, যারা কায়িক শ্রম করে তাদের অবস্থান হয় সমাজের নিচের
তলায়। অন্ুহীন, বসব্রহীন, শিক্ষাহীন মানবেতর জীবন হয় তাদের নিত্যসঙ্গী। অন্যদিকে পরজীবী শ্রেণি
ডুবে থাকে বিলাসিতায়। সমাজে শ্রমজীবী মানুষের নিদারুণ দুরবস্থাই মানুষের মনে শ্রমবিমুখতার জন্ম
দিয়েছে। কারিক শ্রমের প্রতি সৃষ্টি হয়েছে একধরনের অবজ্ঞা ও ঘৃণার মনোভাব । এর ফল কল্যাণকর হতে
পারে না। প্রত্যেক মানুষই নিজ নিজ যোগ্যতা ও শত্তি অনুসারে সমাজের সেবা করছে। কোনোটা দৈহিক
শ্রম, কোনোটা মানসিক শ্রম । তাই কোনোটিকেই অবহেলা করা বা ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।

শ্রমের গুরুত্ব : দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্যে, সমাজ ও জাতির অগ্রগতির জন্যে শ্রম এক অপরিহার্য উপাদান ।
অজন্ত্র মানুষের দেখা-অদেখা শ্রমের সমাহারের ওপর নির্ভরশীল আমাদের সবার জীবন ও কর্ম। তা দৈহিক ও
মানসিক দু ধরনের শ্রমের অদৃশ্য যোগসূত্রে বাধা। এ কথা স্বীকার না করে আমাদের উপায় নেই যে, মজুর
এবং ম্যানেজার, কৃষক এবং কৃষি অফিসার, কুলি এবং কেরানি, শিক্ষক এবং শিল্লী_কারো কাজই সমাজে
উপেক্ষার নয়। প্রত্যেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করলেই সমাজের অগ্রগতি সাধিত হয়। একথা
মনে রেখে সবাইকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।

উপসংহার : শত শত শতাব্দীর পর বিশ শতকের পৃথিবীতে শ্রমজীবী মানুষের সামনে এক নবযুগ আসে ।
মেহনতি মানুষের মর্যাদা দিতে বাধ্য হয় সমাজের ওপরতলার মানুষ । সোভিয়েত ইউনিয়নে, চিনে,
ভিয়েতনামে এবং আরো অনেক দেশের রাষ্ট্ক্ষমতায় মেহনতি মানুষ পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা । বিজ্ঞানের
কল্যাণে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার প্রেক্ষাপটে সমাজে শ্রমের গুরুত্ব এখন অনেক স্বীকৃত। শ্রমশক্তিই যে
সমাজ-সভ্যতার নির্মাণ ও সাফল্যের চাবিকাঠি, বিশ্ব আজ তা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে। উন্নত
দেশগুলিতে শ্রমজীবী মানুষের বহু অধিকার ও মর্ধাদা ক্রমেই স্বীকৃতি লাভ করছে। আমরাও যদি সবার
শ্রমকেই সমান মর্যাদা দিই তবে দেশ ও জাতি দত অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে, যথার্থ কল্যাণ সাধিত হবে ।

মাতাপিতার প্রতি কর্তব্য

ভূমিকা : জন্মের জন্যে আমরা মাতাপিতার কাছে খণী। এই খণ অপরিশোধ্য। এ জন্য প্রত্যেক ধর্মেই
পিতামাতাকে বিশেষ মর্ধাদা দেওয়া হয়েছে। “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত” । “জননী স্বর্গ অপেক্ষা
গরীয়সী” | “পিতা ধর্ম, পিতা কর্ম, পিতাই পরম তপস্যার ব্যক্তি’ | পিতামাতা যেমন আমাদের স্েহ-ভালোবাসা
দিয়ে ছোট থেকে বড় করেছেন, তেমনি পিতামাতার প্রতিও আমাদের অনেক দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে।

১৩৭
রচনা সম্ভার ৯-১০, কর্যা-১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সন্তানের জীবনে মা-বাবার অবদান : প্রত্যেক মা-বাবাই সীমাহীন আত্মত্যাগ করে পরম ম্নেহে সন্তানকে বড়
করে তোলেন। সন্তানকে লালন-পালন করা, তার লেখাপড়া, সুখ-স্থাচ্ছন্দ্য নিয়ে মা-বাবা সারাজীবনই উদ্বিগ্ন
থাকেন। মা-বাবা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান, নিজে না পরে ভালো পোশাকটি সন্তানের গায়ে তুলে
দেন। সন্তানের জন্য উৎকণ্ঠায় মা-বাবা বিনিদ্র রজনী কাটান । সন্তানের যে-কোনো অমঙ্গল মা-বাবার জন্য
বেদনার কারণ হয়। কঠোর পরিশ্রম আর সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে মা-বাবা যা আয়-রোজগার করেন,
তা নিঃস্বার্থভাবে সন্তানের জন্যই ব্যয় করেন। বটবৃক্ষের মতো মা-বাবার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে সন্তান বড় হয়,
বিকশিত হয়। সন্তানের প্রতি মা-বাবার এই যে মায়া-মমতা, তা স্বর্গীয়। সন্তানের জীবনে মা-বাবা
আশীর্বাদস্বূপ। তাই কোনো অবস্থাতেই মাতাপিতাকে অবহেলা করা সন্তানের জন্য গর্হিত কাজ।
মাতাপিতার মনে কষ্ট জাগে, এমন আচরণ ও কথা কখনো বলা উচিত নয়।

মাতাপিতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য : সন্তানের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মাতাপিতাকে শ্রদ্ধা করা ।
তাদের শ্রেষ্ঠ সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করা । তাদের প্রতি সবসময় বিনম্র আচরণ করা । মনে রাখতে হবে,
মাতাপিতার শাসনের আড়ালে থাকে ভালোবাসা, মঙ্গল কামনা । তাদের মতো অকৃত্রিম স্বজন পৃথিবীতে
দ্বিতীয় আর কেউ নেই।

মাতাপিতা যেমনই হোক না কেন, সন্তানের কাছে তারা সব সময় শ্রেষ্ঠ ব্যন্তি। তাই তাদের অবাধ্য হওয়া
কোনো ক্রমেই উচিত নয়। অবাধ্য সন্তান মাতাপিতার কষ্টের কারণ হয়ে দীড়ায়। কৃতী সন্তান পিতামাতার
কাছে মাথার মুকুটস্বরুপ। যে সন্তান মাতাপিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত, তারা জীবনে সাফল্য লাভ
করে। হযরত আব্দুল কাদির জিলানি (রা) ডাকাত কর্তৃক আক্রান্ত হয়েও মাতৃ-আজ্ঞা পালন করেছেন
মিথ্যাকথা না বলে। এতে ডাকাত সর্দার অভিভূত হয়ে সৎপথ অবলম্বন করেছিল। হযরত বায়েজিদ
বোস্তামির রো) অসুস্থ মাতার শিয়রে সারারাত পানির গ্লাস হাতে দীড়িয়ে থাকার ঘটনা এবং ঈশ্বরচন্দ্র
বিদ্যাসাগরের মায়ের ডাকে দুর্যোগপূর্ণ রাতে সীতার দিয়ে দামোদর নদী পার হওয়ার কাহিনী কে না জানে।
এঁরা সকলেই জীবনে সফল হয়েছেন এবং মহান ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন।
কাজেই মাতাপিতার কথা মেনে চলা এবং তাদের প্রতি কর্তব্য পালন করা আমাদের জীবনে সফলতার
সোপানও বটে ।

অনেক মাতাপিতা আছেন, ত্রারা নিজে অশিক্ষিত হয়েও সন্তানকে উচ্চশিক্ষা দান করেন। সেই সন্তান
না। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দূরে থাক, ন্যুনতম দায়িত্ব ও কর্তব্যও পালন করেন না। এটা সবচেয়ে
দুঃখের ও পরিতাপের বিষয় । কোনো সুসন্তান কখনো মা-বাবার প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে
না। বৃদ্ধ অবস্থায় মা-বাবা সন্তানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাদের অসুখ ও
স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক নজর দিতে হবে । তাঁদের সেবা-শুশুষার প্রতি যত্বুশীল হওয়া সন্তানের একান্ত কর্তব্য ।

উপসংহার : পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন সুসন্তান হওয়ার আবশ্যিক শর্ত। বাস্তব ও
ব্যবহারিক জীবনে মা-বাবার সেবা ও তাদের প্রতি যথার্থ কর্তব্য পালন করে সন্তান হিসেবে নিজের জন্মুখণ
শোধ করা উচিত। যদিও মা-বাবার খণ অপরিশোধ্য, তবু তাঁদের যেন অযতু, অবহেলা না হয়, সে দিকে
খেয়াল রাখতে হবে । তাদের মনে কষ্ট হয়, এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে । বিশেষত, বৃদ্ধ বয়সে
মা-বাবা যদি সন্তানের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা না পান, এর চেয়ে দুঃখের আর পরিতাপের কিছু নেই। এ
অমানবিক ও হীন কাজ কেউ যেন না করে।

১৩৮

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

স্বদেশপ্রেম

ভূমিকা : স্বদেশপ্রেম জন্মভূমির জন্যে মানুষের একধরনের অনুরাগময় ভাবাবেগ । স্বদেশপ্রেম বলতে বোঝায়
নিজের জন্মভূমিকে ভালোবাসা । জন্মসূত্রে জন্মভূমির সঙ্ভোই গড়ে ওঠে মানুষের নাড়ির যোগ । স্বদেশের
জন্যে তার মনে জন্ম নেয় নিবিড় ভালোবাসা । এই অনন্য ভালোবাসাই হচ্ছে স্বদেশপ্েম।

স্বদেশপ্রেমের স্বরুপ : জন্মভূমির মাটি, আলো-বাতাস, অন্ন-জলের প্রতি মানুষের মমত অপরিসীম । জন্মভূমির
ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিবেশের প্রতি থাকে তার একধরনের আবেগময় অনুরাগ । জন্মভূমির ভাষা,
সাহিত্য, সংস্কৃতি, এঁতিহ্যের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার শেকড়ের বন্ধন। স্বদেশের প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি এই
অনুরাগ ও বন্ধনের নাম স্বদেশপ্রেম। মা, মাতৃভূমি আর মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসার আবেগময়
প্রকাশ ঘটে স্বদেশপ্রেমের মধ্যে । সেই তীব্র আবেগের পরিচয় আমরা পাই রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ-বন্দনায় :

“সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে ।
সার্থক জনম মা গো, তোমায় ভালোবেসে ।’

স্বদেশপ্রেম মানুষের অন্তরে সদা বহমান থাকে । বিশেষ সময়ে, বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে তা আবেগ-
উদ্বেল হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ শাসনামলে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তের দেশাত্মবোধক গানে-কবিতায়
স্বদেশপ্রেমের আবেগময় প্রকাশ দেখা যায়। ১৯৩০-এ মাস্টারদা-র নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব-বিদ্রোহ
স্বদেশপ্রেমেরই বলিষ্ঠ প্রকাশ। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সমথ জাতির এক্যবদ্ধ সবামে স্বদেশপ্রেমের
চূড়ান্ত অভিব্যন্তি ঘটেছে। স্বদেশপ্রেম দেশ ও জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে জ্বলন্ত প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একপ্রাণ হয়ে মহৎ লক্ষ্য সাধনে ব্রতী করে।

স্বদেশধেমের ভিন্নতর বহিঃপ্রকাশ কেবল স্বাধীনতা অর্জন কিংবা স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামেই দেশপ্রেম
সীমাবদ্ধ থাকে না, দেশকে সমৃদ্ধিশালী করাতেও স্বদেশপ্রেমের অভিব্যন্তি ঘটে । শিল্প-সাহিত্য চর্চায় কিংবা
জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনায় স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে । দেশের কল্যাণ ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে, বিশ্ব-
সভ্যতায় অবদান রেখে বিশ্বসভায় দেশের গৌরব বাড়ানো যায়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জগদীশচন্দ্র বসু,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এফ আর খান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রমুখের অবদানে বিশ্বে আমাদের দেশের
ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

স্বদেশপ্রেমের বিকৃত রুপ : স্বদেশপ্রেম পবিব্র। তা দেশ ও জাতির জন্যে গৌরবের । কিন্তু উ্ধ ও অন্ধ
স্বদেশপ্রেম কল্যাণের পরিবর্তে রচনা করে ধ্বংসের পথ। অন্ধ স্বদেশপ্রেম উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয় ।
তা জাতিতে জাতিতে সংঘাত ও সংকটের কারণ হয়ে দীড়ায়। জার্মানিতে হিটলার ও ইতালিতে মুসোলিনি
উত্ব জাতীয়তা ও অন্ধ দেশপ্রেমের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল। তার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লাখ
লাখ লোকের মৃত্যু ঘটেছিল। বিপন্ন হয়েছিল বিশ্বমানবতা ।

স্বদেশধেম ও বিশ্বপেম : স্বদেশপ্রেম বিশ্বপ্রেমেরই একটি অংশ। দেশকে ভালোবেসে মানুষ বিশ্বকে
ভালোবাসতে পারে। তাই প্রকৃত স্বদেশপ্রেম কখনো বিশ্বপ্রেমের পথে বাধা হতে পারে না। বস্তুত,
বিশ্বমায়ের বুকের আঁচলের ওপর দেশজননীর ঠাই । রবীন্দ্রনাথ তার অমর বাণীতে বলে গেছেন সে কথা-_

“ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা
তোমাতে বিশ্বময়ীর, তোমাতে বিশ্বমায়ের আচল পাতা ।”

১৩৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দেশধেমের উজ্জ্বল প্রতিভ্‌ : অনন্য দেশপ্রেমের অনেক উজ্ভবল দৃষ্টান্ত রয়েছে দেশে দেশে । সারা বিশ্বের
মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত তারা। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংঘামে অসামান্য অবদান রেখেছেন
অনেক বাঙালি । তাদের মধ্যে নেতাজি সুভাষ বসু, চিত্তরঞ্জন দাস, এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী,
প্রমুখ চিরদিন আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবেন। বিশ্বের দেশে দেশে বহু রাষ্ট্রনায়ক দেশ ও জাতিকে
নবচেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইতালির গ্যার্িবান্ডি, আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন, রাশিয়ার লেনিন,
চিনের মাও সে তুং, ভিয়েতনামের হো চি মিন, তুরস্কের মোস্তফা কামাল পাশা, ভারতের মহাত্মা গান্ধী
এবং বাংলাদেশের বজ্ঞাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ রচনা করেছেন দেশধেমের অমরগাথা ।

উপসংহার : স্বদেশপ্রেম এক জবলত্ত মহৎ প্রেরণা । সে প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থচেতনার
উধের্বে উঠি। যুক্ত হই সমফ্টির কল্যাণচেতনায়। দেশের সংকটে এক্যবদ্ধ হই। সর্ব অমঙ্গল থেকে দেশ ও
দেশবাসীকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হই। দেশের উন্নতি ও অগ্রগতিতে সাধ্যমতো অবদান রাখি । স্বদেশপ্রেমের
ভেতর দিয়েই আমরা বিশ্বপ্েমের সেতুবন্ধ রচনা করতে পারি।

কর্তব্যনিষ্ঠা
(সৈংকেত)

ভূমিকা : কর্তব্যনিষ্ঠা মানবজীবনে সাফল্য লাভের অন্যতম উপায়। জীবন ও সমাজের অগ্রগতির জন্য
কর্তব্যনিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম ।

কর্তব্যের ধরন : কর্মজীবনে মানুষকে নানারকম কর্তব্য পালন করতে হয়। পারিবারিক, পেশাগত, সামাজিক
ইত্যাদি কর্তব্য এর মধ্যে পড়ে।

কর্তব্যনিষ্ঠার গুরুত্ব : দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রে কর্তব্যনিষ্ঠার গুরুত্ব অনেক। কর্তব্যে শৈথিল্য
দেখালে দায়িত্ব সুচারুভাবে পালিত হয় না। কাজের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা থাকে না। এতে সমাজে অমঙ্গাল দেখা
দেয়।

কর্তব্যনিষ্ঠার ভিত্তি : ভালোভাবে দায়িত্‌ পালনের জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ । অনেক কর্তব্য পালনের জন্য
দীর্ঘদিনের শ্রম, অধ্যবসায় ও সহিষ্কুতার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় একাগ্রতার। বস্তৃতপক্ষে, নিষ্ঠা ছাড়া
জীবনে সাফল্য আসে না।

কর্তব্যনিষ্ঠার পুরস্কার : জীবনে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনই কর্তব্যনিষ্ঠার বড় পুরস্কার।

উপসংহার : বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কর্তব্যনিষ্ঠ লোকের উপযুক্ত মূল্যায়ন হয়ে থাকে। বিশ্বায়নের
এ যুগে সাফল্য ও অগ্রগতির বহুলাংশ নির্ভর করে কর্তব্যনিষ্ঠার ওপর |

সত্যবাদিতা
(সংকেত)

ভূমিকা : সত্যবাদিতা ব্যন্তিমানুষের আচরণগত একটি মূল্যবোধ । এটি মানুষের অন্যতম একটি মহৎ গুণ ও
আদর্শ । এই গুণ অন্যের পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের সহায়ক ।

১৪০

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সত্যবাদিতার গুরুতৃ : সত্যবাদী লোক সমাজে সম্মান ও মর্ধাদার অধিকারী হন। বিভিন্ন ধর্মে সত্যবাদিতাকে
বিশেষ গুরুত্‌ দেওয়া হয়েছে। সমাজজীবনেও সত্যবাদিতার পরিণতি সবসময় মঙ্জালজনক হয়ে থাকে।

সত্যবাদিতার সুফল : সত্য অনুসন্ধান করেই মানুষ জীবন ও জগতের রহস্য উন্মোচন করেছে। সত্যের
ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে বিজ্ঞান ও সভ্যতা । মানুষ মানুষে আস্থা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তি সত্যবাদিতা ।
মিথ্যার কুফল : সমাজের অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজের সঙ্তো মিথ্যার সম্পর্ক। সাময়িকভাবে কখনো

উপসংহার : মানবসমাজের অগ্রগতি ও কল্যাণের ভিত্তি সত্যবাদিতা। তাই শৈশব থেকেই সবার আদর্শ
হওয়া উচিত “সত্য কথা বলা ও সত্য পথে চলা+।

জনসেবা

(সংকেত)
ভূমিকা : সেবা মানবচরিত্রের এক মহৎ গুণ। আর্তজনের সেবার মধ্য দিয়ে মুষ্টীকে পাওয়া যায়। অন্যের
কল্যাণে আত্মত্যাগের মহান ব্রতের নামই জনসেবা । পৃথিবীর প্রত্যেকটি ধর্মেই মানবসেবার কথা বলা
হয়েছে। যীশুশ্রিষট, গৌতমবুদ্ধ, হযরত মুহম্মদ (সি) প্রমুখ মনীধী জীবনে জনসেবার অজস্র উদাহরণ রেখে
গেছেন ।
জনসেবার স্বরুপ : নানাভাবে জনসেবা করা যায়। অর্থ দিয়ে, খাদ্য দিয়ে, শুশুষা করে, দুর্বলের পাশে সবল
হয়ে দীড়িয়ে, বসত্রহীনকে বস্ত্র দিয়ে, জনকল্যাণে পথ, ঘাট, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেও জনসেবা করা যায়। তবে
জনসেবার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিঃস্বার্থ । কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য জনসেবা করা উচিত নয়।
সমাজজীবনে চলতে গেলে একে অপরকে সাহায্য করতে হয়। পারস্পরিক সাহায্য ছাড়া কেউ চলতে পারে
না। বিপদে-আপদে, প্রয়োজনে পাশে এসে দীড়ানোই হচ্ছে মনুষ্যত্বের মহান দায়িত্ব। এজন্য কবি বলেছেন_

প্রত্যেকে আমরা পরের তরে ।
কোনো নাম-যশের আশায় নয়, নিঃসবার্থভাবে মানুষের উপকার করাই প্রকৃত জনসেবা ।
জনসেবার মহিমা : জনসেবা একটি মহৎ কাজ। মহৎ হৃদয়ের মানুষই কেবল জনসেবা করতে পারে । কোনো
প্রতিদানের আশায় নয়, অপরের প্রয়োজনে যে আত্মোৎসর্গ করতে পারে সে-ই মহৎ মানুষ পৃথিবীর

ইতিহাসে এমন অনেক মহৎ হৃদয়ের মানুষ আছেন, যারা মানবকল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে অমর
হয়ে রয়েছেন।

উপসংহার : জনসেবা মানুষের এক মহৎ হুদয়বৃত্তি, অনন্য মানবধর্ম। উদার মনের মানুষ জনসেবার মাধ্যমে
অনাবিল সুখ ও শান্তি খুঁজে পায়। কথায় বলে-_“অন্যের জীবন বাচাবার জন্য যে জীবন দিতে পারে, বাচার
অধিকার একমাত্র তারই আছে।’

১৪১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

ভূমিকা : ত্রীড়া বা খেলাধুলা শরীরচর্চা ও আনন্দ লাভের সঙ্গো সম্পৃক্ত ক্রিয়াকলাপ । সুন্দর ও সুস্থ জীবন
গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্পূর্ণ। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, এমনকি জাতীয় জীবনের সফলতা
লাভের পেছনে কাজ করে সুস্থ ও সুঠাম দেহ। আর এই সুস্থ দেহ গঠনের জন্যে খেলাধুলা অপরিহার্য ।

খেলাধুলার উদ্ভব : সুপ্রাচীন কাল থেকেই মানুষকে সুস্থদেহী, সবল ও কর্মক্ষম করে রাখার জন্যে বিভিন্ন
খেলার প্রচলন ছিল। কুস্তি খেলার প্রথম সূচনা হয় ইরাকে, ৪০০০ বছরেরও বেশি আগে। ব্রিষপূর্ব ২০৫০
বছর আগে মিশরে শুরু হয় হকি খেলা । এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ, অসিযুদ্ধ, দৌড়-বঝাঁপ ইত্যাদির ইতিহাসের
সূচনাও প্রায় ৪০০০ বছর আগে। প্রাচীন গ্রিসে অলিম্পিক খেলার সূত্রপাত । সেই বিশাল প্রতিযোগিতায়
গ্রিসের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াকুশলীরা দৌড়, ঝাঁপ, মন্তযুদ্ধ, চাকতি নিক্ষেপ, বর্শা ছোড়া, মুফিযুদ্ধ ইত্যাদি
প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। এভাবে অতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা
স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে।

ব্যক্তিত্ব অর্জনে খেলাধুলা : ব্যত্তিত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুতৃপূর্ণ। ইংরেজি প্রবাদে বলা হয় :
£]] ০90 200 00 [0185 10806 1801 & 0011 ০৮. বস্তুত, মনের সতেজতা ও প্রাণময়তা বৃদ্ধিতে
খেলাধুলার ভূমিকা যথেষ্ট । খেলাধুলায় রয়েছে সুস্থ প্রতিযোধিতা। তা অনুশীলনের মাধ্যমে মনে
আত্মবিশ্বাস ও সবলতার জন্ম দেয়। খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব অর্জনের মাধ্যমে জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত
মোকাবেলা সহজ হয়ে ওঠে। খেলাধুলা অনেক ক্ষেত্রে মানসিক দুশ্চিন্তা লাঘবের উপায়। তা ছাড়া দাবা,
তাস ইত্যাদি চিন্তামূলক খেলা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে বিকশিত করে । আত্মশক্তি অর্জনে খেলাধুলার ভূমিকা
অসামান্য ৷ ছোটবেলায় যিনি নানা রোগে ভুগে মরতে বসেছিলেন সেই জনি ওয়াইজমুলারই অলিম্পিক
সীতারে সোনা জয় করেন। ১৯৬০-এর অলিম্পিক দৌড়ে তিনটি সোনা বিজয়ী “হিউম্যান লোকোমোটিভ’
নামে পরিচিত চেকোস্ট্রোভাকিয়ার এমিল জটোপেক ছোটবেলায় খুঁড়িয়ে চলতেন।

শিক্ষায় খেলাধুলা : জীবন গঠনের সূচনায় সব প্রাণীর ক্ষেত্রেই খেলাধুলা শিক্ষার উপায়। উন্নত বিশ্বে
বিদ্যাশিক্ষাকে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করতে শিক্ষাব্যবস্থায় এখন খেলাধুলা যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইত্যাদি খেলার ব্যবস্থা থাকে । আজকাল ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলায় উৎসাহী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক
ক্রীড়া অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়ে থাকে ।

ইতিবাচক ভূমিকা রাখে । খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শান্তি ও মৈত্রী স্থাপনের সবচেয়ে বড় সম্মেলন অলিম্পিক
গেমস্। এই বিশাল ক্রীড়া সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় সব দেশের হাজার হাজার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।
২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকের অনুপম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিটি বিশ্ববাসী অনুভব করেছে, দেশভেদ
জাতিভেদ সত্ত্বেও মানুষ এক ও অভিন্ন সন্তা। অলিম্পিক ছাড়াও এমনিভাবে ক্রিকেট ও ফুটবল বিশ্বকাপ,
ইউরোপিয়ান গেমস, এশিয়ান গেমস ইত্যাদি বহু খেলার আসর আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি রক্ষায় সহায়তা
করে। এভাবে বিশ্বে সাম্য, মৈত্রী ও সৌন্রাতৃত্ের জয়গান ধ্বনিত হয়।

১৪২

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

স্বাস্থ্যোন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধে খেলাধুলা : স্বাস্থ্য বজায় রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। শরীরের
কোষগুলোর পুষ্টিসাধন, সহজ ও স্বাভাবিক রক্তচালনা, পরিপাকযন্ত্রকে কর্মক্ষম রাখা প্রভৃতির জন্যে
প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিনই কোনো-না-কোনো শারীরিক খেলায় অংশ নেওয়া বা শরীরচর্চা করা । শুধু স্বাস্থ্য
উন্নয়নেই নয়, বিভিন্ন প্রকার ব্যাধি থেকে স্বাস্থ্যকে রক্ষা করতেও খেলাধুলা প্রয়োজনীয় । হৃৎপিপ্ডের ও
ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধেও প্রয়োজন খেলাধুলা । খেলাধুলা মানুষের মনের দুশ্চিন্তা লাঘব করে,
সহনশীলতা বাড়ায় এবং দৈহিক পরিশ্রমের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সাঁতারের মতো খেলাধুলা মানুষের ফুসফুসের
কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে। মেদ চর্বি ইত্যাদি দূর করে সুন্দর ও সুঠাম শরীর গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

চরিত্র গঠনে খেলাধুলা : খেলাধুলা মানুষের চরিত্র গঠনেও সাহায্য করে। খেলাধুলার নিয়মকানুন মেনে চলতে
গিয়ে মানুষ শেখে নিয়মানুবর্তিতা। খেলাধুলা মানুষকে করে সুশ্ঙখল। কোচ ও রেফারির কথা মান্য করে
দলপতি । দলপতির অধীনে দলবদ্ধ হয়ে খেলতে গিয়ে খেলোয়াড়রা সকলে মিলেমিশে কাজ করার শিক্ষা
পায়। এভাবে যৌথ পরিকল্পনা, যৌথ কাজ ও যৌথ শ্রমের মধ্য দিয়ে মানুষ নৈতিকভাবে সবল হয়ে ওঠে।

অত্যধিক খেলাধুলার অপকারিতা : খেলাধুলা অনেক উপকার করলেও এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে।
স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ বিকাশের অন্তরায় হয়ে দীড়ায়। অনেক সময় কোনো প্রতিযোগিতায় পরাজিত দল ও
তাদের অন্ধ সমর্থকরা জয়ী দলের বা তাদের সমর্থকদের সাথে মারামারি বাধিয়ে দেয়। খেলাধুলার ক্ষেত্রে
এ ধরনের উগ্রপন্থি মনোভাব কখনও কাম্য হতে পারে না।

উপসংহার : খেলাধুলা যেমন শরীর-গঠনের সহায়ক তেমনি আনন্দদায়ক প্রতিটি খেলায় থাকে একধরনের
কর্তব্যবোধ । খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষ দায়িতৃশীল হয় কর্তব্য সম্পাদনে, একই সঙ্গে পায় মর্ধাদা অর্জনের
শিক্ষা। ক্রিকেটে সাম্প্রতিককালে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের অর্জন জাগরণ ঘটিয়েছে জাতির
মর্যাদাোবোধের ৷ জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রসার ঘটলে জাতি সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করতে শেখে,
এঁক্যচেতনা গড়ে ওঠে । জাতি এগিয়ে যেতে পারে নিত্যনতুন অর্জনের পথে।

বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশ

ক্রিকেটকে নিয়ে এখন সারা বিশ্বে কৌতৃহলের অন্ত নেই। এই কৌতুহল চূড়ায় পৌছায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে
কেন্দ্র করে। উপমহাদেশে শুরু হয় ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি । এখন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের
অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ক্রিকেট-জ্বর।

ক্রিকেটের জন্ম সুদূর ব্রিটেনে । ব্রিটেনে ক্রিকেট খেলার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত
রাজা প্রথম এডওয়ার্ডের আমলের একটি গ্রন্থে । একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেট খেলত শুধুই ব্রিটিশরা, পরে
ব্রিটিশদের বিশাল সাম্রাজ্যে (উপনিবেশে) এই খেলা ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটিশদের হাত ধরেই ।

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন আমলেই প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ লাভ করে ক্রিকেট খেলা । অবিভক্ত বাংলায়
১৭৯২ সালে ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি
মাইলফলক ।

১৪৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বাংলাদেশে অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ববাংলায় ক্রিকেটের প্রচলন ঘটিয়েছিল ব্রিটিশরাই। তখন অবশ্য ধনী ও
অভিজাত ব্যক্তিরাই কেবল ক্রিকেট খেলতেন। পাকিস্তান আমলেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। মূলত
বাংলাদেশে ক্রিকেটচর্চা পরিপূর্ণভাবে শুরু হয় সত্তরের দশকের শেষার্ধে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বিশ্বকাপ জয়
করার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট গতিশীলতা লাভ করে। এরপর সময়ের সাথে সাথে পরিপকৃতা লাভ করে
বর্তমান পর্যায়ে এসে পৌছেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ।

বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৭০-এর দশকের শেষদিকে । আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাহ,
প্রথম সাংগঠনিক স্বীকৃতি লাভ করে ১৯৭৭ সালের ২৬শে জুলাই। এই সময় বাংলাদেশ আইসিসি-র
সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম আইসিসি ট্রফিতে অংশ নেয়। তাতে
বাংলাদেশ ফিজি ও মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল ।

আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য না হয়েও বিশ্বক্রিকেট অজ্ঞানে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল আশির দশকের
মাঝামাঝি সময়ে । ১৯৮৬ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হয় এ যাত্রা । সময়ের সাথে সাথে
বাংলাদেশের ক্রিকেট যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল তার প্রথম সফল প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৯৭ সালের আইসিসি
ট্রফি জয়ের মাধ্যমে ৷ এ ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের ধৈর্য ও পরিশ্রমের অভাবনীয়
ফসল। তা একদিনের ক্রিকেট মর্যাদা লাভের পথ প্রশস্ত করে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের
ইতিহাসে নতুন ঘটনা ঘটে ক্রিকেটের ওয়ানডে পরিবারে অন্তর্ভুক্তি অর্থাৎ ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভের মাধ্যমে ।

টেস্ট-ক্রিকেটে বাংলাদেশ : বিশ্বক্রীকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সকে প্রধানত দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়: ১.
টেস্ট স্ট্যাটাস পূর্ববর্তী; ২. টেস্ট স্ট্যাটাস পরবর্তী । এ হিসাবে দেখা যায় বাংলাদেশ ২০০১ সালের মধ্যে
কেনিয়া, স্কটল্যান্ড এবং পাকিস্তানকে একবার করে হারিয়েছে। অপরদিকে ২০০১ সালের পর থেকে এখন
পর্যন্ত বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে চারবার, ভারতকে একবার, অস্ট্রেলিয়াকে একবার এবং নামিবিয়াকে একবার
হারিয়েছে। এর মাঝে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া-বধের কাহিনী ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে
গিয়েছে শ্রেষ্ঠ অঘটন হিসেবে । এ সবই অবশ্য ওয়ানডে পারফরম্যান্স। টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১-০ তে সিরিজ জেতা। এ ছাড়া বাকি সবই ব্যর্থতার করুণ প্রদর্শনী । বাংলাদেশের
ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে যখন বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছিল, তখন
ইংল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার ২৫০ রান তাড়া করে ৫ উইকেটের জয় সব সমালোচকের মুখ বন্ধ করে
দিয়েছিল। টেস্ট পরিবারের নবীনতম এবং বয়সের গড়ে সবচেয়ে তরুণ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনেকেই
আন্তর্জাতিক অক্তঞানে বিখ্যাত । আফতাব, আশরাফুলের ঝড়ো ব্যাটিং, খালেদ মাসুদের দুর্দান্ত উইকেট কিপিং,
রফিকের স্পিন কিংবা নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি এরা সকলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বমহিমায় উজ্জ্বল |

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ : আইসিসি ক্রিকেট জয়ের ছু বছর পর ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে এবং স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, ৭ম
বিশ্বকাপের ফেভারিট দল পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়ে নতুন চমক ও বিশ্ময়ের সৃষ্টি করে বাংলাদেশ । ৯৯-
এর বিশ্বকাপ দিয়ে সুচিত হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় । ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ
ক্রিকেটে বাংলাদেশ বাজে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে । কিন্তু ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ
ক্রিকেট দল দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠায় সফল হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে তারা ভারত ও দক্ষিণ আফিকা
দলকে হারিয়ে অভাবনীয় চমক সৃষ্টি করে । ফলে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্য ও নৈপুণ্য
বিশ্লেষণের হিড়িক পড়ে যায়।

১৪৪

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

ক্রিকেটের উন্নয়নে পদক্ষেপ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্ঞানে আরো ভালো অবস্থানে
আরোহণ করবে সবাই তাই আশা করে । আর এ জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত
সুবিধা, সর্বোপরি ভালো কোচিং । বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে বিব্রতকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য
পদক্ষেপ নেওয়া জবুরি। এ ক্ষেত্রে ঘরোয়া লিগে টেস্ট ম্যাচ বা চারদিনের ম্যাচ চালু করা দরকার । এ
ছাড়াও দরকার নিবিড়ভাবে অনুশীলন অব্যাহত রাখা এবং বাউন্সিং পিচে ব্যাটিং করা অনুশীলনের জন্য
সেরকম পিচ তৈরি করে খেলার ব্যবস্থা করা। এসব পদক্ষেপ ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের গুণগত মানের
উন্নয়ন ঘটাতে পারে। তা ছাড়া ক্রিকেটে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রশ্বাতীতভাবে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশীয়
কোচদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে । সেইসঙ্গো তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেট খেলায় উৎসাহ সঞ্গ্ার
করতে হবে, যেন নতুন নতুন দক্ষ ক্রিকেটার দেশে জন্ম নেয়।

উপসংহার : বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের দূত হিসেবে পরিগণিত
হচ্ছে। বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশ সামান্য হলেও যে মর্যাদাটুকু লাভ করেছে তা বাড়িয়ে দিয়েছে দায়িতৃ। এ
দায়িত্ব সম্পাদনে সর্বমুখী ও সর্বাত্বক প্রচেষ্টার মধ্যেই নিহিত আছে বিশ্বক্রিকেট অঙ্ঞানে বাংলাদেশের
ভবিষ্যৎ ।

খেলাধুলায় বাংলাদেশ
(সংকেত)

ভূমিকা : খেলাধুলা কেবল বিনোদনের অক্ঞা নয়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বিকাশের ক্ষেত্রেও খেলাধুলার
গুরুত্ত অপরিসীম সারা বিশ্বে নানা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলাধুলা পেয়েছে নতুন মাত্রা ।

বাংলাদেশে খেলাধুলার এঁতিহ্য : বাংলাদেশে খেলাধুলার এঁতিহ্য গড়ে উঠেছে দেশীয় নিজস্ব খেলা ও
বিদেশি খেলার সমন্বয়ে। বাংলার লোকায়ত খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে : লাঠিখেলা, হা-ডু-ু, কুস্তি,
নৌকাবাইচ, ডাংগুলি, এন্ধাদোক্কা, লুকোচুরি, দীড়িয়াবান্ধা, ঘুড়ি ওড়ানো, বউছি, সীতার, গোল্লাছুট
ইত্যাদি । ঘরোয়া খেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবা, তাস, বাঘবন্দি, পাশা ইত্যাদি। বিদেশি খেলার মধ্যে
উল্লেখযোগ্য ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, টেনিস, ব্যাডমিন্টন, মুফ্টিযুদ্ধ, ভলিবল, জুডো, শুটিং ইত্যাদি ।

খেলার জগতে বাংলাদেশ : বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক ত্রীড়াঙ্গনে নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
টেস্ট ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক গেমস-এ অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক
ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ছে । কোনো কোনো প্রতিযোগিতায় পদকও জিতে আনছে
বাংলাদেশ।

উপসংহার : বাংলাদেশে খেলাধুলাকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। খেলাধুলার মান উন্নত করার জন্য
ব্যাপক পরিকল্পনা, প্রচুর চর্চা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার । তাহলেই বাংলাদেশ খেলাধুলার
জগতে গুরুতৃপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে ।

দেশভ্রমণ

ভূমিকা : জন্যসূত্রেই মানুষ কৌতুহলী প্রাণী। তাই অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনার আগ্রহ মানুষের
চিরকালের । পরিচিত গপ্ডির বাইরে তার মনে ভিড় করে দূর অজানার নানা আকর্ষণ, যেখানে গেলে তার

১৪৫
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-১৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
আনন্দ হবে, চিত্তের মুক্তি ঘটবে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাই লিখেছেন-_

‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি
দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী
মানুষের কত কীর্তি, কত নদী-গিরি সিন্ধু মরু
কত না অজানা জীব, কত না অপরিচিত তরু
রয়ে গেল অগোচরে ।’

কোথাও নদী-নির্বর, কোথাও গিরি-পর্বত, সবুজ অরণ্য, মরুভূমির ধূসর বালি, কোথাও বরফে ঢাকা সব __
এ সবই মানুষের জন্য এক অদ্ভুত আকর্ষণ । এ আকর্ষণই মানুষকে টানে দেশভ্রমণে ।

দেশতভ্রমণের ইতিহাস ও শিক্ষা : আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আগে, প্রাচীনকালে ভ্রমণ ছিল শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম |
সেকালে মানুষ জ্ঞান আহরণের প্রয়োজনে দেশভ্রমণে বেরিয়ে পড়তেন। বিখ্যাত পর্যটকদের কথা আমরা
জানি_চীনের পরিবাজক হিউয়েন সাং, আরব পরিব্রাজক ইবনে বতুতা, বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার_এঁরা সবাই
ভারতবর্ষ ভ্রমণে এসেছিলেন। তাদের অনেকেই ভ্রমণবৃত্তান্ত লিখেছেন। সেসব বৃত্তান্তে ইতিহাসের অনেক
তথ্য জানা যায়। প্রাটীনকালে যোগাযোগব্যবস্থা ছিল অনুন্নত । তবু পরিব্রাজকরা হাজার প্রতিকূলতা অতিক্রম
করে দেশত্রমণে বেরিয়েছেন, অজানাকে জানার প্রয়োজনে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে রেখেছেন
তাদের পদচিহৃ। আধুনিক যুগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশতভ্রমণকে একেবারে সহজসাধ্য করে দিয়েছে।
এখন আমরা খুব সহজে, অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ভ্রমণ করতে পারি।

শিক্ষা ও আনন্দের জন্য ভ্রমণ : ভ্রমণ মানুষের মনে নিয়ে আসে নতুন আনন্দের বন্যা । বাইরে প্রসারিত
পৃথিবী, তার বিচিত্র নৈসর্গিক শোভা, মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন দেখে মন একটা ভিন্নতার স্বাদ পায়।
শু”্ক মন সজীব হয়ে ওঠে । সংসারের সীমাবদ্ধ জীবন আর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝে মন হাফিয়ে ওঠে ।
ক্ষুত্রতা, সংকীর্ণতায় মানুষ হারিয়ে ফেলে মনের এঁশবর্য। বিরূপ বাস্তবতার কারণে অনেক সময় মানুষের মন
রুক্ষ, বিতৃষ্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভ্রমণ মানুষকে এসব থেকে মুক্তি দিতে পারে, দিতে পারে প্রয়োজনীয়
শুশুষা । দেশভ্রমণে ক্ষুদ্রের সঙ্ো বৃহতের যোগাযোগ ঘটায় বলে ভ্রমণ শুধু নিছক আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ
থাকে না, জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে । বহির্বিশ্বকে নিজের চোখে দেখে যে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জিত
হয়, প্রাটীরঘেরা বিদ্যায়তনে তা অনেক সময় অর্জন করা সম্ভব হয় না। দেশভ্রমণের মাধ্যমে আমাদের
অধীত বিদ্যা পূর্ণ হয়ে ওঠে। যেমন : ইতিহাস, ভূগোল এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের বইতে এমন অনেক
এঁতিহাসিক স্থানের উল্লেখ আছে, সেগুলি যদি নিজ চোখে দেখি, তখন প্রাটান ইতিহাস আমাদের চোখে
জীবন্ত হয়ে ওঠে। সেজন্য আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষামূলক ভ্রমণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তা ছাড়া
একটা নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘকাল আবদ্ধ থাকলে মানুষের হুদয় ও মন সংকুচিত হয়ে যায়। চিত্তের স্বাভাবিক
প্রসারতা ব্যাহত হয়। দেশভ্রমণের আনন্দই মানুষকে এসব সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। বৃহত্তর
জীবন, সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্জো পরিচয়ের ফলে মুছে যায় মনের সব ক্ষুদ্বতা, তুচ্ছতা । দেশভ্রমণ মনের
বন্ধ দরজাগুলো খুলে দিয়ে চেতনার নতুন আলো ছড়ায় প্রাণে । রবীন্দ্রনাথ তাই বলেছেন_

“আমি চঞ্চল হে
আমি সুদুরের পিয়াসী ।”

১৪৬

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কেউ তীর্থ দর্শনের পূর্ণ বাসনায় । নিছক আনন্দের জন্যেও কেউ কেউ দেশতভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে । আজকাল
শিক্ষা এবং বাণিজ্যের জন্য মানুষ দেশান্তরের অভিযাত্রী হয়। উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, এ কথা
অনস্থীকার্য যে, ভ্রমণ মানুষকে আনন্দ দেয়, অন্তরকে উদার করে, জ্ঞানকে করে প্রসারিত ।

উপসংহার : ভ্রমণ মানুষের স্বভাবসিদ্ধ। সুদূরের আকর্ষণে মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই দেশান্তরের অভিযাত্রী
হয়েছে। অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনার দুর্বার আকর্ষণে ছুটে গেছে বিপুলা পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে
অন্যপ্রান্তে। এ ভ্রমণ মানুষকে যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে মানুষ
দেশভ্রমণের মাধ্যমে । দেশত্রমণের তীব্র বাসনাই প্রকাশ পেয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের “সংকল্প?
কবিতায়-_

‘থাকব না ক বদ্ধ ঘরে

দেখব এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ

যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে ?”

বইপড়ার আনন্দ

ভূমিকা: বইয়ের পৃষ্ঠায় সঞ্চিত থাকে হাজার বছরের সমুদ্র-কল্লোল। বই অতীত আর বর্তমানের
সংযোগসেতু । বই জ্ঞানের আধার । একটা ভালো বই বিশৃস্ত বন্ধুর মতো । যুগে যুগে মানুষ তাই বই পড়ে
নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে, বাড়িয়ে নিয়েছে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জগৎ। পুস্তকপাঠ মানুষের মনের
ভেতর অনেকগুলো আনন্দময় ভুবন তৈরি করতে পারে । সেই আনন্দময় ভুবনে ডুব দিয়ে সংসারের নানা
জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দার্শনিক বার্ট্রীভ রাসেলের এই উত্তি ও উপলব্ধি অত্যন্ত খাঁটি ।

বইপড়ার প্রয়োজনীয়তা : বইপড়ার মাধ্যমে আমরা সত্য, সুন্দর, কল্যাণ, ন্যায়ের শাশ্বত রূপের সাথে
পরিচিত হই। এক ঘণ্টার বইপড়া আমাদের ভ্রমণ করিয়ে আনতে পারে বিশ্বজগৎ। চোখের সামনে
উদ্ঘাটিত করে দিতে পারে মহাকাশের অজানা রহস্য ৷ বইপড়া আমাদের মনের প্রসার ঘটায়। নির্মল
আনন্দ লাভের উৎস হিসেবে বিকল্প কিছু নেই। পারস্যের কবি ওমর খৈয়াম বলেছেন ‘“বুটি মদ ফুরিয়ে
যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা, যদি তেমন বই হয়।*

কবি ওমর খৈয়াম তাই মৃত্যুর পরেও স্বর্গে গিয়ে যাতে তার পাশে একটি বই থাকে, সেই আকাঙ্কা ব্যক্ত
করেছেন। বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকুই বা আমরা জানি । পৃথিবীর বিপুল বৈচিত্র্যের দিকে তাকালে আমাদের
মনে অদম্য কৌতুহল আর অনন্ত জিজ্ঞাসার উদ্বেক হয়। জীবন ও জগতের সান্নিধ্যে এসে মানুষ যে বিপুল
জ্ঞান সঞ্চয় করেছে, তা বিধৃত রয়েছে বইয়ের কালো অক্ষরে । সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান, মানবজাতির
অগ্রগতির ইতিহাস, সভ্যতা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি হব্দয়ে ধারণ করতে হলে আমাদের বইয়ের কাছে যেতে
হবে৷ মননশত্তি অর্জন আর হৃদয়শত্তি বিস্তার করতে হলেও প্রয়োজন বইপড়া।

বইপড়া আনন্দের সেরা উৎস : বিনোদনের হাজার মাধ্যম আছে পৃথিবীতে । কিন্তু সেই বিনোদন অনেক
সময় নির্মল হয় না। ভালো বইয়ের সান্নিধ্য মানুষের অশান্ত মনে এনে দিতে পারে স্বগ্গীয় সুখ, হৃদয়ে বইয়ে
দিতে পারে আনন্দের বন্যা । প্রিয় কোনো কবির অমর কাব্যের রসময় পঙ্ুক্তি অমৃতসুধার মতো লাগে অবসর

১৪৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
কোনো মুহূর্তে । অবসর আর অবকাশের সময়গুলো আমরা ভরিয়ে তুলতে পারি বইপড়ার আনন্দে।

বইপড়ার আনন্দকে আমরা রাজপ্রাসাদে প্রবেশের সঙ্গো তুলনা করতে পারি। ধরা যাক, আমি কোনো
রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করব। যেখানে আমার জন্য স্তরে স্তরে সাজানো প্রিয় ফুলের লাবণ্য আছে। সুস্বর
পাখিরা ডাকছে মধুর কণ্ঠে। রয়েছে উন্সিত ঝরনার চঞ্চলতা ৷ চন্দনসুগনিধ ছড়িয়ে আছে চারদিকে ।
রাজপ্রাসাদের এক এক কক্ষে এক-একরকম আয়োজন। প্রবেশ করলেই সৌন্দর্যস্রোতে অবগাহন করা যায়।
বস্তুত একটি ভালো বই সুসজ্জিত, আনন্দময় রাজপ্রাসাদের মতোই । জ্ঞানান্বেধী পাঠক হলে তো কথাই নেই,
আনন্দ আর জ্ঞানার্জন-_ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুটি কাজ একই সঙ্তো করতে পারবে সে। বিলাসী পাঠক, সিরিয়াস
পাঠক, অসতর্ক পাঠক, এরকম নানাধরনের পাঠক আছে। আবার কেউ বই পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট
করার জন্য, কেউ অস্থায়ী চাকরি স্থায়ী করতে, কেউ বা উচ্চতর পদ বা বেতনের লোভে, কেউ জ্ঞানার্জনের
জন্য পড়ে বই। এসব পড়া কাজের পড়া, আনন্দের পড়া নয় । আমার মতে যারা আনন্দের জন্য বই পড়ে,
তারাই শ্রেষ্ঠ পাঠক। কারণ, পৃথিবীতে অনুপম শ্রেষ্ঠ আনন্দ কেবল বইপাঠেই পাওয়া যায়।

উপসংহার : বইয়ের পাতার কালো অক্ষরে অমর হয়ে আছে মানুষের চিরন্তন আত্মার দুযুতি। বইপড়া
মানুষের মনে সথ্গ্র করে অনাবিল আনন্দ । মনকে সতেজ ও দৃষ্টিকে প্রসারিত করে বই। ফরাসি দার্শনিক
আনাতোল ফ্রীস বলেছেন, বইপড়ার মাধ্যমে আমরা মাছির মতো মাথার চারদিকে অজস্র চোখ ফুটিয়ে
তুলতে পারি। সেই চক্ষুপুঞ্জ দিয়ে একসাথে পৃথিবীর অনেককিছু দেখে নিতে পারি ।

বইপড়ায় যে কত আনন্দ তা গ্রন্থপিপাসু মানুষ মাত্রেই জানেন। সেই আনন্দের স্পর্শ যিনি একবার
পেয়েছেন, তার অন্তর হয়েছে এশ্বর্ধময়, হয়েছে আলোকিত । সৌন্দর্যময় জগতে অবগাহনের শক্তি আছে
একমাত্র তারই । তিনিই কেবল গাইতে পারেন-__

“আলো আমার আলো ওগো
আলোয় ভুবন ভরা ।’

গ্রাম্যমেলা

ভূমিকা : মেলা আবহমান গ্রামবাংলার অন্যতম সাংস্কৃতিক এঁতিহ্য। বাঙালি জীবনের সঙ্গো মেলার যোগ
দীর্ঘকালের। এই সম্পর্ক নিবিড় এবং আত্মিক। লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতির অন্তরঙ্গ পরিচয় মেলাতেই
সার্থকভাবে ফুটে ওঠে । গ্রামীণ মানুষের জীবনে মেলা এক অফুরত্ত আনন্দের উৎস। চৈত্রসংক্রান্তি মেলা,
বৈশাখী মেলা, পৌষমেলা, মহররমের মেলা, বইমেলা, বৃক্ষমেলা ইত্যাদি নানা উপলক্ষে বাংলাদেশে মেলা
বসে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক গদ্যরচনায় মেলা সম্পর্কে লিখেছেন :

“পল্লি মাঝে মাঝে যখন আপনার বাড়ির মধ্যে বাহিরের বৃহৎ জগতের রত্তুচলাচল অনুভব করিবার জন্য
উৎসুক হইয়া ওঠে, তখন মেলাই তাহার প্রধান উপায়। এই মেলাই আমাদের দেশে বাহিরকে ঘরের মধ্যে
আহ্বান করে। এই উত্সবে পরি আপনার সমস্ত সংকীর্ণতা বিস্বৃত হয়-তাহার হুদয় খুলিয়া দান করিবার ও
গ্রহণ করিবার এই প্রধান উপলক্ষ ।’

মেলার উপলক্ষ : সারা বছরই দেশের কোথাও-না-কোথাও মেলা হতে দেখা যায়। এক-এক জায়গায় এক-
একটা উপলক্ষে মেলার আয়োজন হয়। কোনো মেলার আয়োজনের পেছনে থাকে কিংবদন্তি, অলৌকিক

১৪৮

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কোনো লোকগল্প বা পির, ফকির, দরবেশের কথা । কোথাও হিন্দুসম্প্রদায়ের রথযাত্রা, দৌলযাত্রা, পুণ্যস্নান,
দুর্গাপূজা ইত্যাদি উপলক্ষে এবং মুসলমানদের মহররম উপলক্ষে বসে মেলা । সাধারণত গ্রামবাংলার মেলা
বসে নদীতীরে, বিশাল বটের ছায়ায় অথবা উন্ক্ত প্রান্তরে । যে উপলক্ষেই মেলা বসুক না কেন, মেলায়
সাধারণত উৎসব-উৎসব একটা আমেজ থাকে । বর্ণাঢ্য সাজ, চারদিকে কোলাহল, বিচিত্র আওয়াজে মেলার
প্রাঙ্গণ থাকে মুখরিত। এক থেকে সাত, আট, দশ দিন কিংবা মাসব্যাপীও মেলা চলতে দেখা যায়। মেলার
উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে যায় স্থানীয় অঞ্চলের লোকজনের মধ্যে ।

যে উপলক্ষেই মেলার আয়োজন হোক না কেন, হরেক রকম পণ্যের পসার থাকে মেলায় । ঘর-গেরস্থালির
নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী, সাজসজ্জার উপকরণ, শিশু-কিশোরদের আনন্দ-ক্রীড়ার উপকরণ, রসনালোভন
খাবারের সমারোহ থাকে মেলায় ।

গ্রাম্যমেলার বিবরণ : গ্রামীণ মেলায় গ্রামবাংলার রূপ যেন সার্থকভাবে ফুটে ওঠে। মেলায় গ্রামীণ মানুষদের
নতুন আত্মপ্রকাশ ঘটে । এই আত্মপ্রকাশের মধ্যে একটা সার্বজনীন রূপ আছে। মেলা যে মিলনক্ষেত্র, তাই
ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে মানুষের আনাগোনা । মেলায় আগত দর্শকদের মনোরঞ্জনের নানা ব্যবস্থা
থাকে । নাগরদোলা, লাঠিখেলা, কুস্তি, পুভুলনাচ, যাত্রা, কবিগান, বাউল-ফকিরের গান, ম্যাজিক,
বায়স্কোপ, সার্কাস ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে । কখনো সার্কাসের জোকার ও
সঙ্ডের কৌতুকে হেসে লুটিয়ে পড়ে কেউ । কামার, কুমার, ছুতার, কৃষক, কীসারুর সাজানো পসরার
বিকিকিনি চলতে থাকে অবিরাম। মেলায় পণ্যের কারিগরের সাথে ক্রেতার সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়।
নতুন নতুন নকশা ও কারুকাজের চাহিদা বাড়ে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান
পূর্ণতা পায়। স্বল্প পুঁজির অবহেলিত পেশাজীবী, যেমন : কামার, কুমোর, তাতি__তাঁদের তৈরি পণ্য সহজে
বেচা-বিক্রি করতে পারে । এটা গ্রামীণ মেলার একটা তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক দিক।

মেলায় বিচিত্র সামগ্রীর সমাবেশ : মেলায় আসা বৈচিত্র্যময় পণ্যের শেষ নেই। হস্ত ও কুটির শিল্পজাত
দ্রব্যের মধ্যে উলেখযোগ্য : বাঁশ-বেতের তৈরি ডালা, কুলা, হাতপাখা, শীতল পাটি, নকশিকীথা, ডালঘুটনি,
নারকেলকোরা, মাছধরার কৌচ, পলো, ঝাঁকিজাল ইত্যাদি । মৃত্শিল্লের সামগ্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য : মাটির
হাড়ি-পাতিল, পাতিলের ঢাকনা ইত্যাদি । কামারের তৈরি লোহার জিনিসের মধ্যে রয়েছে: দা, কাস্তে, ছুরি,
খুত্তি, কোদাল, শাবল, বঁটি ইত্যাদি। কাঠের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে দেখা যায় : পিঁড়ি, বেলন, জলচৌকি,
চেয়ার, টেবিল, খাট-পালজ্ক, লাল-জোয়াল ইত্যাদি । এ ছাড়া মেলায় আসে নানারকম শিশুখেলনা, যেমন ঃ
পুতুল, বাঁশি, বল, গুলতি, লাটিম, মার্বেল ইত্যাদি । মেয়েদের প্রসাধন উপকরণের আকর্ষণ যথেষ্ট । যেমন :
ফিতা, চুড়ি, কিগ্র, স্লো-পাউডার, হাল্কা প্রসাধনী । খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে : মুড়ি-মুড়কি, খই, খাজা, কদমা,
চিনিবাতাসা, জিলেপি, আমিত্তি, নিমকি, রসগোল্লা, নারিকেলের নাড়ু, পিঠেপুলি ইত্যাদি নানা মুখরোচক
খাবার ক্রেতা-দর্শকদের আকৃষ্ট করে।

উপসংহার : গ্রামীণ মেলা, গ্রামবাংলার চিরায়ত এঁতিহ্য। আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতির অংশ । মেলার
মাধ্যমে এক গায়ের মানুষের সঙ্তো অন্য গায়ের মানুষের পরিচয় ঘটে, পরিচিতজনদের সঙ্তো সাক্ষাৎ হয়,
ভাবের আদান-প্রদান হয়। এতে সম্প্রীতি আরো সুদৃঢ় হয়। সময়ের সঙ্ো সঙ্গে মেলার চিত্র-চরিত্রের
পরিবর্তন এসেছে। বদলে গেছে এখন গ্রামীণ মেলার রূপও । বৈদ্যুতিক বাতি, মাইক, ব্যান্ডসংগীত মেলার
পুরোনো এঁতিহ্যকে অনেকটাই পালটে দিয়েছে। গ্রামে এখন এমন প্রাণোচ্ছল মেলা আর বসে না ।

১৪৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

অবসর যাপন
(সংকেত)

ভূমিকা : মানুষের জীবনে অবসর যাপনের গুরুতু অনেক। অবসর মানুষের ক্লান্তি ঘোচায়, নতুন কর্মের
প্রেরণা দেয়।
অবসর যাপনের বৈচিত্র্য : মানুষ নানাভাবে অবসর বা ছুটি কাটায়। কেউ গান শোনে, কেউ টিভি দেখে,
কেউ বই পড়ে, কেউ বড়শিতে মাছ ধরে । কেউ ছুটে যায় বেড়াতে পাহাড়ে, অরণ্যে, সমুদ্র-সৈকতে । কেউ
নানা জায়গায় নানা পুরাকীর্তি দেখে বেড়ায়
অবসরের প্রয়োজনীয়তা : অবসর ও ছুটি কাজের অবসাদ দূর করে। একঘেয়েমি থেকে আমাদের মুক্তি
দেয়। শরীরে দেয় শক্তি । মনে দেয় আনন্দ । মনকে করে তোলে সজীব ।
উপসহংহার : ছুটি ও অবসর আমাদের জীবনে নিজের ইচ্ছেমতো চলার অবকাশ এনে দেয়। বুটিনমাফিক
কাজের তাড়া থাকে না। থাকে না আদেশ-নির্দেশ পালনের বাধ্যবাধকতা । ছুটি ও অবসর জীবনে এনে দেয়
মুক্তির আনন্দ । আনে খেয়ালখুশির পরিতৃপ্তি। মানুষের জীবনে অবসরের আনন্দের তাই তুলনা হয় না।

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

ভূমিকা : বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের জয়যাত্রার এক যুগান্তকারী যুগ । বিজ্ঞানের বদৌলতে মানুষ আজ ছুটে
চলেছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অভাবনীয় গতি, সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে করেছে দ্বুততর
ও বহুমাত্রিক । বিজ্ঞান ঘুচিয়ে দিয়েছে দূর-দুরাত্তরের ব্যবধান; মানুষকে দিয়েছে অনিঃশেষ সম্ভাবনা ।

মানবসভ্যতায় বিজ্ঞান : প্রাচীনকালে গুহাবাসী মানুষ হিল প্রকৃতির হাতের অসহায় ক্রীড়ুনক। আদিম মানুষ
যখন প্রথম পাথর দিয়ে হাতিয়ার তৈরি করে, পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালায় তখন থেকেই শুরু হয়
মানুষের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। তারপর যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করেই মানুষ সমগ্র পৃথিবীর ওপর
বিস্তার করেছে কর্তৃত্ব ।

মানবজীবনে বিজ্ঞানের বন্ুমাত্রিক অবদান : মানবজীবনের প্রতিটি শাখা আজ বিজ্ঞানের বহুবিধ অবদানে
সমৃদ্ধ । যাতায়াত, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ মানবজীবনের সবক্ষেত্রে বিজ্ঞানের রয়েছে অপরিহার্য
ভূমিকা । বিজ্ঞানকে এখন বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করা হচ্ছে।

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান : বিজ্ঞানের বদৌলতে কৃষিতে মানুষ এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন । মানুষ আবিষ্কার করেছে
ট্রাক্টরসহ নানারকম কৃষি-সরঞ্াম। পাম্প ব্যবহার করে ভূ-অভ্যন্তর থেকে পানি উত্তোলন করে সেচ-কাজ
সম্পন্ন করছে। কীটনাশকের সাহায্যে পোকামাকড় ও পঙ্জাপালের হাত থেকে ফসল রক্ষা করছে। বর্তমানে
ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নত জাতের অধিক উৎপাদনশীল বীজ তৈরি করা হচ্ছে। মরুভূমির মতো উর
জায়গায়ও কৃষিকাজ সম্ভব হচ্ছে।

যাতায়াত ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ; বিজ্ঞানের অবদানে মানুষ আবিষ্কার করেছে দুতগামী যানবাহন,
বুলেট ট্রেন, শব্দাতিগ উড়োজাহাজ । আজ মানুষ পৃথিবীর একপ্রান্তে বসে অপরপ্রান্তের মানুষের সাথে
টেলিফোনে কথা বলতে পারে। টেলিভিশন, ফ্যাক্স, রেডিও, ই-মেইল, মুঠোফোন ইত্যাদির মাধ্যমে সারা
বিশ্বের খবর যে-কোনো মুহূর্তে পেয়ে যেতে পারে । শুধু তাই নয়, রকেটে করে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে

১৫০

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

পাড়ি জমাতে প্রস্তৃত এখন মানুষ । যোগাযোগের ক্ষেত্রে আলোকতন্তু নিয়ে এসেছে নতুন প্রযুক্তি
ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন করা হচ্ছে কম্পিউটারের তথ্যাবলি । এককথায় বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি সারা
বিশ্বকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে।

চিকিৎসা-ক্ষেত্রে বিজ্ঞান : চিকিৎসা-ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সাফল্যগুলোও কম বিময়কর নয়। জন্মপূর্ব রোগ
নির্ণয়ের সাফল্যের ক্ষেত্রে বড় রকমের উত্তরণ ঘটেছে। জিন-প্রতিস্থাপন চিকিৎসা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এক
চিকিৎসা-বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক সাফল্য অভাবনীয় । চিকিৎসা-বিজ্ঞানে আলোকততন্তু বিদ্যা ব্যবহারের ফলে
করে নির্জুলভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে। অতিকম্পনশীল শব্দ ও লেজারকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞান
চিকিৎসাক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করেছে। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের অবস্থা দেখা যেমন সম্ভব
হচ্ছে, তেমনি মূত্রথলি ও পিম্তকোষের পাথর চূর্ণ করার কাজেও এর সফল ব্যবহার হচ্ছে। বহ্ুমুত্র রোগীর
অন্ধত্ব প্রতিরোধে ব্যবস্থত হচ্ছে লেজাররশ্বি। কম্পিউটার প্রযুক্তি চিকিতসা-বিজ্ঞানকে নিয়ে এসেছে
সর্বাধুনিক পর্যায়ে ৷ এর মাধ্যমে ছবি তুলে রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিজ্ঞান : শিক্ষাক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য । শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর প্রায়
সবই বিজ্ঞানের উত্তাবন। বর্তমানে বিজ্ঞান শিক্ষাব্যবস্থাকে করেছে আরও আধুনিক ও উন্নত। এখন বিভিন্ন
শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে রেডিও-টেলিভিশন শিক্ষার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। কম্পিউটার
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করেছে এক নতুন শিক্ষাপন্ধতি।

আবহাওয়ায় বিজ্ঞান : আবহাওয়ার খবরাখবর বের করতে গিয়ে বিজ্ঞান তার প্রচণ্ড ক্ষমতার পরিচয়
দিয়েছে । এখন ৭/৮ দিন আগে থেকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের হাত
থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। তা ছাড়াও কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে খনিজ সম্পদ, তেল ও
গ্যাসের উৎস, মাটির উপাদান ও জলজ সম্পদ সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, পঙ্জাপালের আক্রমণের
আশঙ্কা সম্পর্কে ।

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ : বিজ্ঞান মানবসভ্যতার উন্নতির সর্ববৃহৎ হাতিয়ার । কিন্তু তাই বলে বিজ্ঞান
শুধু মানুষের উপকারই করেনি । স্বয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক যন্ত্র মানুষের কাজ সম্পাদন করতে শুরু করার পরপরই
অসংখ্য মানুষ বেকারে পরিণত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রসংবলিত বড় বড় শিল্প-কারখানা ও মোটরচালিত
গাড়ি ও যন্ত্রপাতি, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ অনেক সময় পরিবেশ ও মানুষের
ক্ষতি করছে। পরিবেশদূষণের ফলে পৃথিবীর উত্তাপ বেড়ে যাচ্ছে ও মেরুদ্বয়ের বরফ গলা শুরু করছে। মানুষ
বিজ্ঞানের অপব্যবহার দেখে চমকে উঠেছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। তখন পারমাণবিক অসত্র ব্যবহার
করে হিরোশিমা-নাগাসাকির মতো শহর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল । তাই প্রশ্ন উঠেছে__বিজ্ঞান আশীর্বাদ
না অভিশাপ?

উপসংহার : বিজ্ঞানের অপপ্রয়োগ হলেও বিজ্ঞানের অবদানকে মানুষ কখনোই অস্বীকার করতে পারবে না।
সচেতন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাজ হলো বিজ্ঞানের সার্থক ও ইতিবাচক প্রয়োগ ঘটানো। বিজ্ঞানের
আলোকে মানবজীবনকে আলোকিত করা । বিজ্ঞানের অপব্যবহার রোধে সচেতন হয়ে বিজ্ঞানকে কাজে
লাগাতে পারলে তা মানবজীবনে আরও ফলপ্রসূ অবদান রাখতে সক্ষম হবে ।

১৫১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কৃষিকাজে বিজ্ঞান
মানবজীবনে কৃষির গুরুত্ : কৃষি মানুষের অস্তিত্বে সাথে সরাসরি সম্পর্কিত । মানবজীবন ও মানবসমাজে
এর গুরুত্ব অপরিসীম । জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে এটি মানুষের আদিমতম জীবিকার উপায় । দেশে দেশে কৃষিই
সমাজের মেরুদণ্ড কৃষিই সমাজের ভিত্তি। স্বভাবতই কৃষির ক্রমোন্নতিতেই সমাজের ও দেশের সর্বাঙ্জীণ
উন্নতি । এই উন্নতিতে অনন্য ও অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছে বিজ্ঞান । আজকের বিশ্বে প্রতিটি ক্ষেত্রের মতো
কৃষিক্ষেত্রেও বিজ্ঞানই আজ বাড়িয়ে দিয়েছে তার সুদূরপ্রসারী কল্যাণী হাত।

কৃষির আধুনিকায়নে বিজ্ঞান : আঠারো শতকের শেষদিকে এবং উনিশ শতকের গোড়ার দিকে শিল্পবিপ্লীবের
মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নের সূচনা ঘটে। এর ফলে কৃষকেরা কৃষিক্ষেত্রে উন্নত ধরনের যন্ত্রপাতি ও
কৃষিপদ্ধতির সাথে পরিচিত হয়। জন্তু আর কাঠের লাঙলের পরিবর্তে কৃষকদের হাতে আসে কলের লাঙল,
ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার । বিজ্ঞানের কল্যাণে উন্নত দেশগুলোতে জমিকর্ষণের পুরোনো পদ্ধতিগুলো লোপ
পেয়েছে।

সেচব্যবস্থাতেও বিজ্ঞান অনেক পরিবর্তন এনেছে। কৃষকদের এখন ফসলের জন্যে প্রকৃতির মুখাপেক্ষী হয়ে
থাকতে হয় না। গভীর ও অগভীর নলকুপের সাহায্যে জমিতে পানিসেচের ব্যবস্থা করতে পারে । এ ক্ষেত্রে
সেচের জন্যে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যুৎশন্তি চালিত পাম্প। অতিবৃষ্তীও আজ কৃষককে
ভীত করছে না। বিজ্ঞানের বদৌলতে জমির অতিরিক্ত জল নিষ্কাশন আজ অত্যন্ত সহজ ব্যাপার হয়ে
দীড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম বৃ্িপাত ঘটিয়ে কৃষিক্ষেত্রে নতুন অকল্পনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছেন।

উন্নতমানের বীজ উৎপাদনে বিজ্ঞান কৃষিক্ষেত্রে যে ভূমিকা রেখেছে তাও অভাবনীয় । বিশেষ করে কৃত্রিম
উপায়ে উচ্চফলনশীল বীজ উৎপাদনে সাফল্য বিস্ময়কর । এসব বীজ সাধারণ বীজের তুলনায় ফসল
উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে সময়ও কম নেয়। সুতরাং বীজ নিয়ে কৃষকদের অতীতের অনিশ্চয়তা দূর
করেছে বিজ্ঞান।

শক্তিশালী রাসায়নিক সার আবিষ্কৃত হওয়ায় ফসল উৎপাদনে এসেছে অভূতপূর্ব সাফল্য । সাম্প্রতিককালে
বিশ্বের বৃ্টিহীন শুষ্ক মরু অঞ্চলে চাষাবাদ শুরু করার প্রচেষ্টা চলছে বিজ্ঞানের সহায়তায়। সেদিন দুরে নয়
যেদিন এ ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীরা সাফল্য অর্জন করবেন।

উন্নত বিশ্বের কৃষি : উন্নত দেশগুলোর কৃষিব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর। জমিতে বীজ বপন থেকে শুরু করে
ঘরে ফসল তোলা পর্যন্ত সমস্ত কাজেই রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছৌয়া। বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক
কৃষিযন্ত্র, যেমন : মোয়ার শৈস্য-ছেদনকারী যন্ত্র), রপার ফেসল কাটার যন্ত্র), বাইন্ডার ফেসল বীধার যন্ত্র),
থ্রেশিং মেশিন (মাড়াই যন্ত্র) ম্যানিউর স্প্রেডার সার বিস্তারণ মন্ত্র) ইত্যাদি উন্নত দেশগুলোর কৃষিক্ষেত্রে
এনেছে বৈপ্রবিক সাফল্য । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের খামারে একদিনে
১০০ একর পর্যন্ত জমি চাষ হচ্ছে কেবল এক-একটি ট্রাক্টরের মাধ্যমে । সেগুলো আবার একসাথে তিন-
চারটি ফসল কাটার যন্ত্রকে একত্রে কাজে লাগাতে সক্ষম। তারা বিভিন্নভাবে কৃষিকাজের এমন অনুকূল
পরিবেশ সৃষ্ি করছে যার ফলে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সত্তেও তারা কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে অগ্রগামী । যেমন
বলা যায় জাপানের কথা । জাপানে জমির উর্বরাশস্তি বাংলাদেশের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ । কিন্তু বৈজ্ঞানিক
পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে তারা এ দেশের তুলনায় ৬ গুণ বেশি ফসল উৎপাদন করছে।

১৫২

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কৃষি ও বাংলাদেশ : বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু বিশ্বের অন্য দেশগুলোর
তুলনায় কৃষির অনুকূলে । কিন্তু উন্নত দেশগুলো যখন প্রতিকূল অবস্থা ঘুচিয়ে ফসল উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক
নেশায় মেতেছে, সেখানে বাংলাদেশের কৃষকেরা তার কাঠের লাঙল আর একজোড়া জীর্ণ-শীর্ণ বলদ নিয়ে
চেয়ে আছে আকাশের পানে বৃষ্টির প্রতীক্ষায়। তবে ধীরে ধীরে এ অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে
বাংলাদেশে জমি চাষের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ইঞ্জিন চালিত চাষযন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়াও কৃষিকাজে ট্রাক্টর,
সিডড্রিল (গর্তখনক), ধান-বুনন যন্ত্র, বিরিদ্রাম সিডার, স্প্েয়ার, উন্নত সেচ-পাম্প, ড্রায়াফ্রাম পাম্প, ট্রেডল
পাম্প, রোয়ার পাম্প, শস্যকাটা যন্ত্র, ঘাসকাটা যন্ত্র, মাড়াই যন্ত্র ইত্যাদির ব্যবহার বাড়ছে। এ কথা অবশ্য
সত্যি যে বাংলাদেশেও কৃষি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষণায় সফলতা এসেছে। কিন্তু
বাংলাদেশের শতকরা আশিভাগ কৃষক এখনও সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে চলেছে। শিক্ষা,
সচেতনতা, মূলধন, পুঁজি ইত্যাদির অভাবে তারা কৃষিকাজে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তারা শ্রম দিচ্ছে কিন্তু
উপযুক্ত ফসল পাচ্ছে না। কেননা তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতে পারছে না।

উপসংহার ঃ বিজ্ঞান আজ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। উন্নত দেশগুলোতে বিজ্ঞানের সাহায্যে পাহাড় কেটে
জঙ্ঞাল পরিষ্কার করে বিভিন্নভাবে কৃষিজমি তৈরি করা হচ্ছে। ফসল আবাদের প্রতিটি পদক্ষেপে তারা
বিজ্ঞানকে কাজে লাগাচ্ছে। এর ফলস্বরূপ তারা কৃষিক্ষেত্রে লাভ করছে বিরাট সাফল্য । কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক
পন্থা অবলম্বনের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। সুজলা-সুফলা আমাদের এই দেশে বিজ্ঞানের জাদুর
ছোয়া আমরা যত বেশি কাজে লাগাতে পারব ততই কৃষি আমাদের দেবে সোনালি ফসলসহ নানা ফসলের
সম্ভার। কৃষকদের সচেতনতা, সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের সাহায্য প্রদান এবং বাংলাদেশে কৃষি নিয়ে
বৈজ্ঞানিক গবেষণাই পারে আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে বাংলাদেশকে একটি সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা
দেশ হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে ।

কম্পিউটার

ভুমিকা : আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে কম্পিউটার । “কম্পিউটার’ শব্দটি ইংরেজি । এর অর্থ
হলো মন্ত্রণণক। কম্পিউটার যোগ-বিয়োগ, গৃণ-ভাগ ইত্যাদি সবধরনের অজ্ক কষতে পারদর্শী । কিন্তু এর
কাজ শুধু গণনা কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। তথ্য-উপান্তের বিশ্লেষণ ও তুলনা করা এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার
বিত্বয়কর ক্ষমতা আছে এ যন্ত্রটির। কাজের গতি, বিশুদ্ধতা ও নির্ভরশীলতার দিক থেকে কম্পিউটারের
ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ও অনেক উন্নত। তাই বিশ শতকের শেষপ্রান্তে কম্পিউটার ঘরে,
অফিসে, ব্যাংকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিমানে, পত্রিকায়, কারখানায় ইত্যাদি প্রায় সর্বত্র বিশেষ জায়গা করে
নিয়েছে।

কম্পিউটারের আবিষ্কার : আধুনিক কম্পিউটারের জনক ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ। পাচটি অংশে
বিভক্ত আধুনিক কম্পিউটারের গঠনকৌশল আবিষ্কারের কৃতিতৃও তার। ১৯৫২ সালে আমেরিকার বিজ্ঞানী
জন ডন নিউম্যানের পরিকল্পনা মতে ইলেক্ট্রনিক অটোমেটিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কৃত হয়। ১৯৫৪ সাল
থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কম্পিউটার তৈরির কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে ।

গঠন ও শ্রেণিবিভাগ : কম্পিউটারের গঠনরীতির প্রতি লক্ষ করলে এর প্রধান দুটি দিক আমাদের নজরে
পড়ে । একটি হলো এর যান্ত্রিক সরঞ্জাম এবং অপরটি হলো প্রোগাম সরঞ্জাম । কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির সাধারণ

১৫৩
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-২০
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

নাম হার্ডওয়্যার । যান্ত্রিক সরঞ্জামের আওতায় আসে তথ্য সংরক্ষণের স্মৃতি, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার
জন্য ব্যবহৃত বহির্মুখ অংশ । কম্পিউটারকে প্রদেয় নির্দেশাবলির নাম ‘প্রোগ্রাম”। প্রোগ্রাম ইত্যাদিকে বলা হয়
“সফটওয়্যার । কাজের ধরন বা পদ্ধতি অনুসারে কম্পিউটার দু ধরনের : ডিজিটাল ও এনালগ । কাজের
গতি এবং গঠন-প্রকৃতি অনুসারে কম্পিউটারকে কয়েকটি ভাগে বিভত্ত করা যায়। যেমন : সুপার
কম্পিউটার, মেইনফেম কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার ও মাইক্রো কম্পিউটার ।

ব্যবহার : কম্পিউটার মানবজীবনের নানা ক্ষেত্রে দিনদিন খুলে দিচ্ছে নিত্যনতুন দিগন্ত। কম্পিউটার শুধু
ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশই কষে না, নানা কাজে কম্পিউটারের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার । বহু মানুষের
কাজ সে একাই করে; করে নির্ভলভাবে এবং বলতে গেলে চোখের পলকে । কম্পিউটারের সাহায্যে জটিল
হিসাব সহজেই নিরূপণ করা হচ্ছে। সর্বাধুনিক কল-কারখানা ও পারমাণবিক চুল্লি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে
কম্পিউটারের সাহায্যে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটার সূচনা করেছে নতুন যুগের। এর সাহায্যে রোগ
নির্পণে খুলে গেছে বিম্ময়কর ও অভাবনীয় দিক-দিগত্ত। তা ছাড়া বহুতল ভবন, বিমান, ডুবোজাহাজসহ
বড় বড় কাজের জটিল নকশা কম্পিউটারের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে।

বড় বড় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে কম্পিউটার । বিমান ও রেলের যোগাযোগব্যবস্থা সংরক্ষণ
ও টিকিট বিক্লিতেও তা তৎপর কম্পিউটারের সাহায্যে বর্তমানে বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা ইত্যাদির
কম্পোজ ও যুদ্রণের কাজ নির্ভুল এবং দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন,
নৈব্যক্তিক উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল তৈরির কাজে কম্পিউটার পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।
কম্পিউটার খেলার জগতেও অসামান্য চৌকস। কম্পিউটারে দাবাসহ নানারকম খেলা খেলা যায়। তার
মধ্যে রয়েছে নানারকম ভিডিও গেমস। সেগুলো ইতোমধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এসবের
মধ্যে রয়েছে : কার গেমস, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, ভিনগ্রহীদের মোকাবেলা, জলে-জঙ্গালে শিকার এবং এমনি
আরও কত কী । রয়েছে শিক্ষামূলক নানা তাক-লাগানো খেলা । খেলার মাধ্যমে টাইপ শেখার সুযোগও এনে
দিয়েছে কম্পিউটার ।

কম্পিউটারে চলচ্চিত্র দেখা যায়, গান শোনা যায়, ছবি স্ক্যানিং করে সংরক্ষণ করা যায়। কম্পিউটারের
সাহায্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে যোগাযোগ করা যায় ই-মেইলের মাধ্যমে; পড়া যায় দেশবিদেশের
পত্রপত্রিকা; সংগ্রহ করা যায় যে-কোনো বিষয়ের তথ্য । সেখানে নানা তথ্য সংরক্ষণও করা যায়।
শিক্ষাক্ষেত্রেও কম্পিউটারের অবদান অনেক । কম্পিউটারের মাধ্যমে বর্ণপরিচয় থেকে শুরু করে ইতিহাস,
ভূগোল, বিজ্ঞান, গণিত সবই শেখা যায়।

কম্পিউটার ও বেকার সমস্যা : কম্পিউটার মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে অনেক কাজ । বহু লোকের
কাজ একা করার ফলে কলকারখানাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বসানো হয়েছে কম্পিউটার-চালিত স্বয়ংক্রিয় বা
অটোমেটিক ব্যবস্থা । এর ফলে নিয়োগ কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে। তাই আমাদের দেশের মতো জনবহুল ও
পরিকল্পনা নেওয়া দরকার । বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে যে এই
সমস্যা সমাধান করা যায় সেই বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার ।

উপসংহার : কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন। তা মানুষকে বেকার করলেও তার
বিয়কর কার্যক্ষমতা মানুষের মনকে জয় করেছে । আমাদের দেশও তাই কম্পিউটারকে স্বাগত জানিয়েছে ।

১৫৪

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন অধিকাংশ মানুষ কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে । আমাদের
দেশেও কম্পিউটারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিনদিন বেড়ে চলেছে। মানুষ ক্রমেই হয়ে পড়ছে
কম্পিউটারনির্ভর।

প্রাত্যহিক জীবনে বিদ্যুৎ
(সংকেত)

ভূমিকা : একুশ শতক সর্বতোভাবে বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগ। এ যুগে বিজ্ঞানের সর্বমুখী যে
অগ্রাভিযান চলছে তার মূলে রয়েছে বিদ্যুতের অবদান ।
আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ : বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবন বলতে গেলে অচল । কল-কারখানায়, কৃষিকাজে,
চিকিৎসা কেন্দ্রে, অফিস-আদালতে, ঘরে-বাইরে সর্বত্র বিদ্যুৎ এখন অপরিহার্য ।
আবাসিক জীবনে বিদ্যুৎ : বহুতল ভবনে ওঠানামায় লিফট এবং পানীয় জল সরবরাহ বিদ্যুৎ ছাড়া চলে না।
ক্যাসেটপ্রেয়ার চালাতে বিদ্যুতের দরকার । বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার অচল। বাতি জ্বালাতে কিংবা পাখা
চালাতেও বিদ্যুৎ অপরিহার্য ।
চিকিতসাক্ষেত্রে বিদ্যুৎ : বিদ্যুতের সাহায্যে নিখুঁতভাবে রোগ নিরূপণ সম্ভব হচ্ছে। ইলেকট্রো থেরাপি নামে
একটি শাখাও রয়েছে চিকিৎসা-বিজ্ঞানে ।
যোগাযোগ-ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ: বিদ্যুৎ পৃথিবীর দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুতের কল্যাণে রাতারাতি সংবাদপত্র
মুদ্রিত হয়। টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের সাহায্যে মুহূর্তে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে
যোগাযোগ করা যায়, তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
উপসংহার : জীবনের সর্বক্ষেত্রে দিনদিন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। শিল্প বিকাশেও বিদ্যুতের ভূমিকা
বিস্ময়কর | অথচ দেশে বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক পরিকল্পনা
গ্রহণ করা দরকার।

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান
(সংকেত)
ভূমিকা : বিজ্ঞানের অগ্রগতি বহুমুখী। তা চিকিৎসা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। রোগ নির্ণয়, রোগ
প্রতিরোধ ও রোগ নিরাময়ে এক কথায় মানুষের স্বাস্থ্য সংরক্ষণে বিজ্ঞান আজ পরম আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।
রোগ নির্ণয়ে বিজ্ঞান : রোগ নির্ণয়ে বিজ্ঞানের ভূমিকা অভাবনীয় । এক্স-রে, ইসিজি, এন্ডোসকপি, সিটি

স্ক্যান, আল্ন্রাসনোগ্রাফি, এম আর আই ইত্যাদি আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিজ্ঞান রোগ নির্পণে
অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।

রোগ প্রতিরোধে বিজ্ঞান : বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলে রোগ প্রতিরোধে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এখন
হাম, যক্ষা, কাশি, ধনুষ্টংকার, বসন্ত, ডিপথেরিয়া ইত্যাদি জটিল রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে।

১৫৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

রোগ নিরাময়ে বিজ্ঞান : রোগ নিরাময়ে আশ্চর্য ও জাদুকরী ক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন ওষুধ আবিষ্কার করেছে
বিজ্ঞান। এসব ওষুধের কল্যাণে দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি ক্যান্সার, এইডস
ইত্যাদি চিকিৎসায়ও ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানের কল্যাণে মানবদেহে চক্ষু, হৃ্পিণ্ু, কিডনি ইত্যাদি
সংস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। কোনো অঙ্ঞা হানি হলে কৃত্রিম অগ্জা সংযোজন সম্ভব হচ্ছে।

উপসংহার : চিকিৎসা-বিজ্ঞান মানুষকে কঠিন রোগের হাত থেকে বীচাচ্ছে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা অবধারিত
অকালমৃত্যুর হাত থেকে অনেক রোগীকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনছে।

পরিবেশদুষণ ও তার প্রতিকার
ভূমিকা : সারা পৃথিবী জুড়ে ঘনিয়ে আসছে পরিবেশ-সংকট। মানুষের সৃষ্ট যন্ত্রসভ্যতার গোড়াপত্তন থেকেই
চলেছে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মানুষের নির্মম কুঠারাঘাত। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মারাত্মক
পানিদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ে পরিবেশ-বিজ্ঞানীরা আজ উদ্বিগ্ন । এ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে চলছে নানা গবেষণা ।
এ ব্যাপারে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ৫ই জুনকে ঘোষণা করেছে “বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ ।

পরিবেশ দূষণের কারণ : পরিবেশ দূষণের কারণ অগণিত। তবে মূল কারণগুলি হচ্ছে: অপরিকল্পিত
নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধি এবং বৃক্ষ ও বনভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহার । পরিবেশ
দূষণের আর একটি কারণ পৃথিবীর বুকে জনবসতি বৃদ্ধি। এর ফলে সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর
চাহিদার চাপ পড়েছে প্রচণ্ডভাবে। ভূমিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে চাষের তীব্রতা, ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃত্রিম সার ও
কীটনাশকের । এতে বিন হচ্ছে চাষযোগ্য ভূমির সন্ত্রীবনী শক্তি, অন্যদিকে নতুন নতুন বসতি আর
কলকারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে ক্রমে হাস পাচ্ছে চাষযোগ্য ভূমি ও বনভূমি | কারখানার কালো ধোয়া
বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত বর্জযদ্রব্য ৷ মাটি, পানি, বাতাস এবং আমাদের চারপাশের উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের
ওপর বিক্রিয়ার প্রভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়ে উঠছে ভারসাম্যহীন, দুষিত ও বসবাস-অযোগ্য ।
পরিবেশ-বিপর্যয় সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছেন, পরিবেশ দূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তর সাগরের বরফ গলে উচু হয়ে উঠছে সাগরের পানি। ফলে আমাদের দেশের মতো নিম্নাঞ্চল অদূর
ভবিষ্যতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্ঠি হচ্ছে।

পরিবেশ দূষণের জন্যে মূলত পাশ্চাত্যের শিল্লোন্নত দেশগুলোই দায়ী। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না
যে, পরিবেশের বিপর্যয় এককভাবে কোনো দেশ বা ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের জন্যে নির্দিষ্ট নয়। এটা সমগ্র
মানবজাতির অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে দেবে।

পরিবেশদূষণ সমস্যা ও বাংলাদেশ : সীমিত ভূ-খণ্ড ও সম্পদ এবং তুলনামূলকভাবে অতি ঘন জনবসতি ও
দুর্যোগপ্রবণ ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের মানুষকে পরিণত করেছে পরিবেশ দূষণের শিকারে।
বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন কারণের মধ্যে রয়েছে :

১. জনবিস্ফোরণ : জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে বাংলাদেশে মুস্তাঞ্চল ও বনভূমির পরিমাণ কমছে। জলাভূমি

ভরাট করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২. সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিন্ত ব্যবহার : জমিতে ব্যাপক হারে সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হওয়ায়

১৫৬

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

মাটির দূষণ ঘটছে এবং জমির গুণ নষ্ট হচ্ছে। এইসব রাসায়নিক উপাদান নদী ও জলাশয়ের পানিতে
মিশে গিয়ে জলজ উত্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।

৩. শিল্পদূষণ : কলকারখানা থেকে নিঃসৃত তরল রাসায়নিক বর্জ্য পানিকে দুষিত করছে, তা মাছের
বিলুপ্তির কারণ হয়ে দীঁড়াচ্ছে। কলকারখানার নির্গত ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলকে দুষিত করে জনস্বাস্থ্যের
জন্যেও হুমকি হয়ে দীড়াচ্ছে।

8. বন উজাড়করণ : জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে প্রতিবছর উজাড় হচ্ছে ১.৪ শতাংশ বন। ফলে ভূমিক্ষয়ের
মাত্রা বাড়ছে, বন্যা প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং দেশের গড় তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।

৫. ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন : ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন ও ব্যবহারের ফলে ভূগর্তস্থ পানির স্তর আরও
নিচে চলে যাচ্ছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট বাড়ছে। প্রকট হচ্ছে পানিতে
আর্সেনিক দূষণের সমস্যা ।

৬. আবর্জনা সমস্যা : শহ্রাঞ্চলের ময়লা আবর্জনার পচা গ্যাস বায়ুদূষণ সৃষ্টি করছে।

৭. ভূমির অপর্যাপ্ততা : পাহাড় কেটে বসতবাড়ি তৈরি করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। শহরের
ভাসমান মানুষ ও বিপুল বস্তিবাসীর চাপেও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

প্রতিকার : আমাদের দেশে পরিবেশ দূষণ রোধে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে সেগুলো হলো : পরিবেশ
দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে । দেশের মোট আয়তনের ন্যুনতম ৫০% এলাকায়
বনায়ন করতে হবে। বর্তমান জ্বালানি পরিবর্তন করে বাতাস, সৌর ও পানি বিদ্যুতের মতো পুনর্বযবহারযোগ্য
জ্বালানির প্রচলন করতে হবে। বন উজাড়করণ ও ভূমিক্ষয় রোধ করতে হবে । শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালির
বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। বর্জ্য থেকে সংগৃহীত গ্যাস জ্বালানি হিসেবে এবং
ব্যবহার বাড়াতে হবে । কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হবে। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের কাজকে সামাজিক
আন্দোলনে রুপ দিতে হবে। শিল্প-কারখানাগুলো আবাসিক এলাকা থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে । শিল্পে
এবং যানবাহনে কুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ ব্যবহার রোধ করতে হবে এবং অল্প জালানিতে অধিক কার্যকর যন্ত্র আবিষ্কার
করতে হবে। এ ছাড়াও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধ ও শিক্ষার হার বাড়ানো, যে-কোনো পরিকল্পনার পূর্বে তার
পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা, উপকূলীয় বাধ নির্মাণ এবং বাধের পাশে বনায়ন করা দরকার ।
উপসংহার : পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব কেবল সরকার বা কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি-বিশেষের নয়; দায়িত্ব
সকল বিশ্ববাসীর, প্রতিটি ব্যক্তির । যারা অজ্ঞতাবশত পরিবেশ দূষণে যুক্ত হচ্ছেন তাদের যেমন সচেতন করা
শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে । সেইসঙ্গে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও পরিকল্পনার নীতি-কর্মসূচির মধ্যে থাকতে
হবে বিরল সম্পদ রক্ষার জন্যে বিকল্প উপায় উত্ভীবন এবং পরিবেশের সঙ্তো সংগতিপূর্ণ নতুন প্রযুক্তি উত্তাবন
ও ব্যবহার । আমাদের অস্তিত্বের জন্যই পরিবেশ দূষণ রোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে ।

বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন

ভূমিকা : বৃক্ষ কেবল নিসর্গ-প্রকৃতির শোভা নয়, তা মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত
মানুষের জীবনে বৃক্ষের ভূমিকা এত অপরিহার্য যে বৃক্ষহীন পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না।

১৫৭
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দেশের অর্থনীতিতে যেমন বনাঞ্চলের ভূমিকা আছে, তেমনি আবহাওয়া ও জলবায়ুসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের
ভারসাম্য রক্ষায় বনজ সম্পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্পূর্ণ। তাই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশকে রক্ষা
করতে জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করে দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

পরিবেশ ও বনায়ন : বিশেষজ্ঞ গবেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের বনভূমি উজাড় হতে হতে অর্ধেকে এসে
দীড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্ব-পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ মানুষের বসবাসের উপযোগী ভারসাম্যপূর্ণ
পৃথিবীর জন্যে দরকার গাছপালা । গাছপালা কেবল অক্সিজেন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করে না, প্রাকৃতিক
ভারসাম্য রক্ষায়ও পালন করে অপরিহার্য ভূমিকা। প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ও বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বৃক্ষ
শীতল। বৃক্ষ বৃষ্টি ঝরিয়ে ভূমিতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে, বাড়িয়ে দেয় মাটির জলধারণ ক্ষমতা । এ
ছাড়াও গাছপালা মাটির উর্বরতা বাড়ায়, মাটির ক্ষয় রোধ করে। ঝড়-ঝঞ্জা-বন্যা রোধেও পালন করে
সহায়ক ভূমিকা । মাটির ওপর শীতল ছায়া বিছিয়ে দিয়ে ঠেকায় মরুকরণের প্রক্রিয়াকে।

বাংলাদেশে বৃক্ষনিধন ও তার প্রতিক্রিয়া : ভারসাম্যমূলক প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্যে দেশের মোট ভূমির
অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা দরকার । সে ক্ষেত্রে সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ ১৭
শতাংশ । ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে এ বনভূমির পরিমাণও -্রাস পাচ্ছে। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে ব্যাপক হারে
নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্থলের বনভূমির পরিমাণ নেমে
এসেছে ৩.৫ শতাংশে । তারই বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর আবহাওয়ায় । দিনের
বেলা দুঃসহ গরম আর রাতে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এ লক্ষণ মরুকরণ
প্রক্রিয়ার আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস ।

প্রয়োজন বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন : ভু-বিজ্ঞানীদের মতে অনাবৃষ্টির কারণে দেশের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর
দিনের পর দিন দূত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ বিপর্যয়ও পর্যাপ্ত বনভূমি না থাকারই ফলাফল।

দেশে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে বহু এলাকা বৃক্ষহীন হয়ে পড়েছে। দেশের প্রধান প্রধান শহর বলতে
গেলে পরিণত হয়েছে বৃক্ষহীন ইটের স্তুপে। নাগরিক জীবনে যন্ত্রযান ও কলকারখানার উৎসারিত কালো
ধোয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও ধুলাবালির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর | তা থেকে পরিত্রাণের
উপযোগী বৃক্ষের ছায়া-শীতল খ্রিগ্ধতা নগরজীবনে কোথায়? তাই নগরের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ
রক্ষাকল্পেও বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন। আমাদের পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষার জন্যে তাই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে
বাড়ির আঙিনায়, আনাচে-কানাচে, সড়ক ও মহাসড়কের দু-পাশে, অনাবাদী ভূমিতে এবং খাল, পুকুর ও নদীর
পাড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে গাছ লাগিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপর্যয় রক্ষা করা প্রয়োজন।

বনায়নের উপায় : বাংলাদেশে বনায়নের সম্ভাবনা বিপুল । নানাভাবে এ বনায়ন সম্ভব । একটি পন্থা হলো :
সামাজিক বন উন্নয়ন কর্মসূচি। এর লক্ষ্য হলো: রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণে জনসাধারণকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত
করা। এ কাজে জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার

তা ছাড়া দরকার নানা জাতের বৃক্ষ মিশ্রণ করে রোপণ করা যাতে গ্রামবাসী খাদ্য, ফল, জ্বালানি ইত্যাদি
আহরণ করতে পারে। ওয়ার্ড মেম্বারের নেতৃত্বে এবং শিক্ষক, সমাজকর্মী, মসজিদের ইমাম প্রমুখের সমন্বয়ে
গঠিত গ্রাম সংস্থা এই বনায়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। এ সংস্থার কাজ হবে সরকারি-
বেসরকারি দপ্তরের সাথে সামাজিক বনায়ন-বৃক্ষায়ণ সম্পর্কিত সকল বিষয় তদারক করা এবং গ্রামের

১৫৮

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

জনসাধারণকে পরিবারভিত্তিতে বনায়নের কাজে সম্পৃত্ত করা। যেমন-_বীধ, সড়ক, রেলপথ, রাজপথ, খালের
বরাদ্দ দেওয়া । তারা বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার ভার গ্রহণ করবে এবং এ থেকে যে আয় হবে, নির্ধারিত নিয়ম
অনুযায়ী সে আয়ের অংশ তারা পাবে। এভাবে যেসব পরিবার খালি জায়গা বা পাহাড়-পর্বতের আশেপাশে
থাকে তাদের সেখানে বনায়নে সম্পৃত্ত করা হবে। সাধারণ জনগণকে যদি বিপন্ন পরিবেশের ভয়াবহতা
সম্পর্কে অবহিত করা এবং বৃক্ষরোপণে উদ্দুদ্ধ করা যায় তাহলে অনেকেই বনায়নের কাজে এগিয়ে
আসবেন । এ জন্যে শুরু হয়েছে নতুন এক আন্দোলন: “গাছ লাগাও পরিবেশ বাচাও ।”

বনায়নে গৃহীত পদক্ষেপ : গত একশো বছরে বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে উজাড় হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ যে
ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি তা পূরণের প্রচেষ্টা এখন চলছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি
গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে “কমিউনিটি বনায়ন” কর্মসূচির আওতায় বারো হাজার একর জ্বালানি কাঠের
বাগান, তিনশো একর বন-বাগান, তিন হাজার একর স্ট্রিপ-বাগান স্থাপন উল্লেখযোগ্য । ৭ হাজার গ্রামকে
এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। বনায়ন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যে ৮০ হাজার ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ
প্রদান করা হয় এবং জনসাধারণের মধ্যে ৬ কোটি চারা বিতরণ করা হয়। এভাবে ব্যাপক জনগণের
অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উপকূলীয় চরাঞ্চলে, সবকটি
মহাসড়কের দুপাশে, রেলসড়কের উভয় ধারে এবং বাধ এলাকায় বনায়নে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

উপসংহার : বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি শুধু প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার একমাত্র উপায়
নয়, এটি গরিব জনসাধারণের অনেক চাহিদাই পূরণ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার ভূমিকাও
পালন করে। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রামীণ লোকদের জ্বালানি, খাদ্য, পশুচারণ ভূমি ও পশুখাদ্য, শস্য ও
পশুসম্পদ উৎপাদনের উপায়, গৃহস্থালি ও গৃহনির্মাণ সামথ্রী, আয় ও কর্মসংস্থান ইত্যাদির চাহিদা পূরণ
করে। বনায়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তা যেন গরিব জনসাধারণের সহায়ক হয়। এটি সরকারি
পৃষ্ঠপোষকতায় পুষ্ট হলে এর সুফল সরাসরি সাধারণ জনগণের নিকট পৌছাবে। সর্বোপরি বনভূমি বৃদ্ধির
ফলে প্রকৃতি আবারো সবৃজ ও সজীব হয়ে উঠবে ।

মাদকাসত্তি ও তার প্রতিকার

ভূমিকা : আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ আজ এক সর্বনাশা মরণনেশার শিকার । সে
নেশা মাদকের । যে তরুণের এঁতিহ্য রয়েছে সংগ্রামের, প্রতিবাদের, যুদ্ধজয়ের__আজ তারা নিঃস্ব হচ্ছে
মরণনেশার করাল ছোবলে । মাদকনেশার যন্ত্রণায় ধুঁকছে শত-সহস্র প্রাণ। ঘরে ঘরে সৃষ্টি হচ্ছে উদ্বেগ ।
ভাবিত হচ্ছে সমাজ । এ পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।

সর্বনাশা নেশার উৎস : নেশার ইতিহাস বেশ প্রাটীন। মদ, গাজা, ভাং আফিম, চরস, তামাকের নেশার
কথা মানুষের অজানা নয়। কিন্তু সেকালে তা ছিল অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে। উনিশ শতকের মধ্যভাগে
বেদনানাশক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত মাদক ‘ড্রাগ’ নামে পরিচিত হয়। দ্বিত্তীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নেশার
উপকরণ হিসেবে ড্রাগের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। পরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কলখিয়া, বলিভিয়া, ব্রাজিল,
ইকুয়েডর ইত্যাদি এলাকায় ড্রাগ তৈরির বিশাল বিশাল চক্র গড়ে ওঠে । ক্রমে বেদনানাশক দ্রাগ পাশ্চাত্যের
ধনাঢ্য সমাজে নেশার উপকরণ হয়ে দীঁড়ায়। বর্তমানে বিশ্বের দেশে দেশে মাদক মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে
যন্ত্রণা ও মৃত্যুর দিকে।

১৫৯
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ ও তাদের ব্যবহার : সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক ড্রাগ ব্যবসায়ীরা নানাধরনের মাদকের
ব্যবসা ফেঁদেছে। এসব মাদকের ব্যবহারের পদ্ধতিও নানারকম । ধূমপানের পদ্ধতি, নাকে শৌকার পদ্ধতি,
ইনজেকশনের মাধ্যমে ত্বকের নিচে গ্রহণের পদ্ধতি এবং সরাসরি রক্তপ্রবাহে অনুপ্রবেশকরণ পদ্ধতি । বিভিন্ন
রকম ড্রাগের মধ্যে হেরোইন আজ সব নেশাকেই ছাড়িয়ে গেছে। এর মাদকাসক্তিও অত্যন্ত তীব্র। নিছক
কৌতুহলবশত যদি কেউ হেরোইন সেবন করে তবে এই নেশা সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো তার ঘাড়ে চেপে বসে ।

মাদকাসন্তির পরিণাম : কোনোভাবে একবার কেউ মাদকাসন্ত হলে অচিরেই নেশা তাকে পেয়ে বসে। সে
হয়ে পড়ে নেশার কারাগারে বন্দি। মাদকাসন্তির ফলে তার আচার-আচরণে দেখা যায় অস্বাভাবিকতা | তার
চেহারার লাবণ্য হারিয়ে যায়। আসত্ত ব্যন্তি ছাত্র হলে তার বইপত্র হারিয়ে ফেলা, পড়াশোনায় মনোযোগ
কমে যাওয়া, মাদকের খরচ জোগাতে চুরি করা ইত্যাদি নতুন নতুন উপসর্গ দেখা দেয়। নেশার জন্য
প্রয়োজনীয় ড্রাগ না পেলে মাদকাসস্তুরা প্রায়ই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। লোকের সঙ্গো এরা দুর্যবহার করে।
মাদকের প্রভাবে রোগীর শারীরিক প্রতিক্রিয়াও হয় নেতিবাচক । তার মননশস্তি দুর্বল হতে থাকে । তার শরীর
ভেঙে পড়ে । ক্রমে স্ত্রায়ু শিথিল ও অসাড় হয়ে আসে । এভাবে সে মারাত্বক পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় ।

মাদকের নেশা দ্রুত প্রসারের কারণ : সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ক্ষেত্রে হতাশা ও দুঃখবোধ থেকে সাময়িক
স্বস্তিলাভের আশা থেকেই এই মারাত্মক নেশা ক্রমবিস্তার লাভ করছে। পাশাপাশি এ কথাও সত্য যে,
অনেক দেশে বিপথগামী মানুষ ও বহুজাতিক সংস্থা উৎ্কট অর্থলালসায় বেছে নিয়েছে রমরমা মাদক
ব্যবসার পথ। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে বিভিন্ন দেশের মাফিয়া চক্র। মাদকের এঁ কারবারিরা সারা বিশ্বে
তাদের ব্যবসায়িক ও হীনস্বার্থ রক্ষায় এই নেশা পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

মাদকাসন্তি প্রতিরোধ : বিশ্বজুড়ে যে মাদকবিষ ছড়িয়ে পড়ছে তার থাবা থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে । এ
নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন। সমাজসেবীরা উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন । দেশে দেশে নানা সংস্থা ও
সংগঠন মাদকবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে। আমাদের দেশেও মাদকবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে।
বেতার, টিভি, সংবাদপত্র ইত্যাদি গণমাধ্যম মাদকবিরোধী জনমত গঠনে সব্কিয় হয়েছে। মাদকাসন্তির
বিরুদ্ধে সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এসব
তৎপরতার লক্ষ্য হচ্ছে :

১. মাদকাসত্তুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভেষজ ও মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ

২. সুস্থ বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে তরুণদের সম্পৃত্ত করে নেশার হাতছানি থেকে তাদের দূরে রাখা
৩. ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে মাদকাসস্তির মর্মীস্তিক পরিণতি সম্পর্কে সকলকে সচেতন করা

৪. মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা

৫. বেকার যুবকদের জন্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ।

উপসহহার : মাদকাসক্তির মতো সর্বনাশা নেশার করাল গ্রাসে পড়ে তরুণ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ
যেভাবে জীবনশত্তি হারিয়ে ফেলতে বসেছে তাতে সমাজ আজ শভিকত ও উদ্ধিগ্ন। এ মারাত্মক সমস্যা
লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য ব্যবহার রোধ করার বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কঠোর হাতে দমন করা
দরকার মাদকচক্রের হোতাদের ৷ মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্তির করাল গ্রাস থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা
করার দায়িত্ব দল-মত নির্বিশেষে সবার ।

১৬০

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা
বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষা

ভূমিকা : বৈজ্ঞানিক ও কৃৎকৌশলগত নিত্যনতুন আবিষ্কার এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক
অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্থানের ধারণী ক্রমেই পালটে যাচ্ছে। উন্মোচিত হচ্ছে নিত্যনতুন কাজের
দিগন্ত। বংশানুক্রমিক পেশাগত বৃত্তি অবলম্বন করে নিশ্চিত জীবনযাপনের দিন এখন নেই বললেই চলে ।
এখন এমন সব কর্মদিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে যার সঙ্গো বিশেষায়িত শিক্ষার যোগ হয়ে পড়েছে অপরিহার্য ।
ফলে সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখ্বী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা ক্রমেই অধিকতর গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংজ্ঞা ও গুরুত্ব : যে শিক্ষা গ্রহণ করলে শিক্ষার্থী ঘরে-বাইরে, খেতে-খামারে, কলে-কারখানায় যে-কোনো
কাজে বা পেশায় অংশ নিতে পারে তা-ই কর্মমুখী শিক্ষা । কর্মমুখী শিক্ষা একধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা । তা
শিক্ষার্থীর কর্মদক্ষতা সৃষ্টি করে এবং তাকে সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী কাজ করতে সাহায্য করে।

এককালে মানুষের ছিল অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ । মানুব তখন সুখে জীবন কাটিয়েছে। কিন্তু এখন
জনসংখ্যা বেড়েছে বিপুলভাবে। তার প্রচণ্ড চাপ পড়েছে সীমিত সম্পদের ওপর । কম্পিউটার ইত্যাদির মতো
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ব্যবহারের ফলে কল-কারখানা, অফিস-আদীালতে কর্মসংস্থানের সুযোগ যাচ্ছে কমে।
অন্যদিকে নবতর আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নব নব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
এগুলোকে কাজে লাগানো না হলে বেকারত্ব অসহনীয় হয়ে উঠবে। কিন্তু দেশে এখনও ইরেজ প্রবর্তিত
চাকরিজীবী তৈরির সাধারণ শিক্ষার প্রাধান্যই রয়ে গেছে। ফলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণদের
ব্যাপক অংশই বেকার থেকে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে কর্মমুখী শিক্ষা জীবন ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করছে বেশি ।
তাই যতই দিন যাচ্ছে কর্মমুখী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব সবাই উপলব্ধি করছেন। কারণ এতে রয়েছে
সকর্ম-সংস্থানের নানা সুযোগ । তা দারিদ্য দূরীকরণেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম । কর্মমুখী শিক্ষা
স্বাধীন পেশা গ্রহণে ব্যক্তির আস্থা গড়ে তোলে এবং তাকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। তা বেকারত্বের
সমস্যা উত্তরণেও সহায়ক।

কর্মমুদ্ধী শিক্ষার হ্বরূপ : কর্মমুখী শিক্ষা যান্ত্রিক শিক্ষা নয়। এর লক্ষ্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক জনশস্তি সৃষ্টি
করা। কর্মমুখী শিক্ষার ভূমিকা ত্রিমুখী :

১. জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্তো শিক্ষার্থীর পরিচয় ঘটানো এবং তার সুপ্ত গুণাবলির বিকাশ ঘটানো ।

২. নৈতিক, সামাজিক এবং মানবিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে শিক্ষার্থীকে সম্ভীবিত করা এবং

গণতন্ত্রমনা, যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক নাগরিক হিসেবে তাকে গড়ে তোলা ।

৩. কর্মদক্ষতা সৃষ্টি করে বৃত্তিমূলক, কর্মমুখী, উপার্জনমূলক জনশত্তি গড়ে তোলা ।
কর্মমুখী শিক্ষা প্রসারের প্রয়াস : বাংলাদেশে কর্মমুখী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্র ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দেশে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল
কলেজের মাধ্যমে চিকিৎসাবিদ্যা সম্প্রসারিত হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকৌশল, পলিটেকনিক, গ্রাফিক আর্ট ও
ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং লেদার ও টেক্সটাইল টেকনোলজি কলেজ, ভেটেরিনারি কলেজ
ইত্যাদির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত ছোটখাটো কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে ও হচ্ছে। এ ছাড়া হোটেল-ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, উদ্যান পরিচর্যা, বিজ্ঞাপন ব্যবসা,
সূচিশিল্প, মুদ্রণ, মৎস্য চাষ, গবাদি পশু ও হাস-মুরগি পালন, ফলমূল চাষ, কম্পিউটার চালনা, কুটির শিল্প
ইত্যাদি পেশা ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তবে সব মিলিয়ে এরপরও বৃতিমূলক শিক্ষার বিদ্যমান সুযোগ
এখনও বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় নগণ্য ।

১৬১
রচনা সম্পার ৯-১০, ফর্মা-২১
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

কর্মমুখী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সমস্যা : কর্মমুখী বা বৃতিমূলক শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা
ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক, অন্যান্য লোকবল সংস্থান,
শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, আর্থিক ব্যয় সংকুলানের ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও প্রকট সমস্যা বিদ্যমান ।
শিক্ষকদের গুণগত মান উন্নয়নের জন্যে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও অনস্থীকার্য। এসব সমস্যা মোকাবেলার
জন্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ।

উপসংহার : ক্রমবর্ধমান বৃত্তিমূলক শিক্ষা এ দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকার
সংস্থানে গুরুতৃপূর্ণ ও প্রচুর সম্ভাবনাময় ভূমিকা পালন করতে পারে । তাই তরুণ সমাজকে উপযুক্ত গঠনমূলক
ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান করা দরকার। এ কাজে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি এবং তা বাস্তবায়নের জন্যে দরকার
উপযুক্ত বাস্তব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তাহলেই এ মহৎ প্রয়াস জাতীয় জীবনে ইতিবাচক সুফল বয়ে

আনতে সক্ষম হবে।
নারীশিক্ষা

ভূমিকা : একুশ শতকে পদার্পণ করে বর্তমান বিশ্ব যে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক
পালাবদলে অংশ নিচ্ছে, নারী সেখানে এক অপরিহার্য অংশীদার । কিন্তু অজ্ঞানতার অন্ধকারে পিছিয়ে পড়া
নারীর পক্ষে সেই প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করা সম্ভব নয়। তাই আজ দাবি উঠেছে ব্যাপক নারীশিক্ষার।

নারীশিক্ষার এতিহাসিক প্রেক্ষাপট : এককালে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর ছিল প্রাধান্য। তাই প্রাচীন হিন্দু-
বৌদ্ধ সাহিত্যে শিক্ষিত নারীর দেখা মেলে । পরবর্তীকালে সমাজজীবনে পুরুষের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলে নারী
হয়ে পড়ে অন্তঃপুরবাসী ৷ আধুনিককালে নারীর অধিকার ও স্বতন্ত্র ভূমিকা স্বীকৃত হয় পাশ্চাত্যে। পাশ্চাত্য
শিক্ষা-সংস্কৃতির বাহক ইংরেজদের মাধ্যমে এ দেশে নারীরাও শিক্ষার অঙ্ঞানে আসার সুযোগ পায়। অবিভক্ত
বাংলায় নারীশিক্ষা ও নারী-প্রগতির বুদ্ধ দুয়ার যায় খুলে । কিন্তু তখনও বাংলাদেশে মুসলমান নারীসমাজের
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পথে বাধা দূর হয়নি। ধর্মীয় কুসংস্কার সেখানে অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। সে বাধা
কাটিয়ে মুসলমান নারীকে শিক্ষার অঙ্ঞানে আনার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন বেগম রোকেয়া । ক্রমে
বাঙালি মুসলিম নারীরা আধুনিক শিক্ষার পথে পা বাড়াতে থাকেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে নারীশিক্ষা : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয় জীবনে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় এবং
গণতান্ত্রিক চেতনার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে । সমাজে নারী-পুরুষের সমান মৌলিক অধিকার স্বীকৃতি পায়।
দেশে নারী-আন্দোলন বিস্তার লাভ করে । বিশ্বপরিসরে নারীমুস্তি আন্দোলনের সঙ্গৌ আমাদের যোগসৃত্রের
প্রেক্ষাপটে জীবন ও জীবিকার নানা স্তরে নারীরা এগিয়ে আসতে থাকে । ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে
প্রতিযোগিতায় নারীসমাজে সৃষ্টি হয় নতুন উদ্দীপনা । এখন বাংলাদেশে এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে
কোনো শিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত নারীর দেখা পাওয়া যাবে না।

নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা : নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্বেও আমাদের দেশে
শিক্ষিত নারীর সংখ্যা মাত্র ২৬ শতাংশ । ব্যাপক সংখ্যক নারী এখনও কুসংস্কার ও অজ্ঞতার অন্ধকার
কাটিয়ে এগিয়ে আসতে পারেনি । ধর্মীয় কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতা আমাদের দেশে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান
অন্তরায়। বিশেষ করে পর্দার কড়াকড়ি এখনও একটা বড় বাধা। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির
অবনতি, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব ও চরম দারিদ্র্য নারীশিক্ষার পথে বাধা হিসেবে রয়েছে । সবচেয়ে বড়
কথা, বিপুল সংখ্যক নারীকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জগতে নিয়ে আসার জন্যে যে বিশাল উদ্যোগ, আয়োজন
ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো দরকার তা আমাদের নেই।

১৬২

চে
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

নারীশিক্ষা প্রসারের উপায় : প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারীসমাজ যাতে শিক্ষার সুযোগ পায় সে জন্যে প্রয়োজন
প্রচলিত ধারার পাশাপাশি বিশেষ ধরনের শিক্ষা পরিকল্পনা। সে ক্ষেত্রে রেডিও, টিভি ইত্যাদি মাধ্যম,
লোকরঞ্জনমূলক ও কর্মমুখী শিক্ষা-কর্মসূচি ইত্যাদি নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার । নিরক্ষর নারীর প্রায়
৮০ শতাংশ গ্রামে বসবাস করে । তাই এসব কর্মসূচিকে গ্রামীণ সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্তো
সম্পৃক্ত ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন । এসব দিক বিবেচনায় রেখে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে
নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে :
১. সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন স্কুলগামী ছাত্রী তাদের প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে।
২. প্রতিটি নারীর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্যে গ্রামপর্যায়ে ছোট ছোট স্কুল স্থাপন, যেন বাড়ি
থেকে স্কুলের দূরতৃ খুব বেশি না হয়।
৩. শিক্ষাগ্রহণে নারীকে উদ্যোগী ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকারি উপবৃত্তি যথাযথভাবে কাজে লাগানো ।
৪. শিক্ষাথাতে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে বেশি করে
কাজে লাগানো এবং সে ক্ষেত্রে জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব প্রদান ।
৫. সারা দেশে নারীশিক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলা । এই আন্দোলনে শিক্ষানুরাগী সম্প্রদায়কে
কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা । অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকদের এ কাজে বিশেষভাবে নিয়োগ প্রদান।
৬. ধর্মীয় বাধা, সামাজিক কুসংস্কার, আর্থিক দারিদ্ধ্য ইত্যাদি অন্তরায় কাটিয়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে
আনার জন্যে সামাজিক প্রণোদনা সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন সামাজিক-
সাংস্কৃতিক সংগঠনকে বিশেষভাবে কাজে লাগানো ।

উপসংহার : মানবাধিকার, অগ্রগতি ও প্রগতির একুশ শতকে ধর্মীয় বাধা, সামাজিক কুসংস্কার কাটিয়ে
নারীকে এগিয়ে আসতে হবে মানুষের ভূমিকায় । আলোকিত মানুষ হিসেবে তাকে গড়ে উঠতে হবে। যুগ যুগ
ধরে যে নারী চোখের জলের কোনো মুল্য পায়নি, আধুনিক সমাজে সে নারীকে দীড়াতে হবে শিক্ষিত,
মার্জিত, আলোকিত মানুষ হিসেবে । তাহলেই সমাজে ফিরে আসবে নারীর মর্যাদা । এ ক্ষেত্রে নারীশিক্ষার
কোনো বিকল্প নেই।

গ্রন্থাগার

ভূমিকা : গ্রন্থাগার হচ্ছে নানাধরনের বইয়ের সংগ্রহশালা । এখানে বইপত্র সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানের
ব্যবস্থা থাকে। গ্রন্থাগারে সঞ্চিত থাকে মানুষের যুগযুগান্তরের চিন্তা ও জ্ঞানের অমূল্য সম্পদ । গ্রন্থাগারের
সঞ্চিত সম্পদ একদিকে বহন করে কালের সাক্ষ্য, অন্যদিকে মুছে দেয় অতীত আর বর্তমানের সীমারেখা ।

গ্রন্থাগারের উদ্ভব : গ্রন্থাগারের ইতিহাস সুপ্রাটীন। বই উদ্ভাবনের অনেক আগেই গ্রন্থাগারের জন্ম ।
প্রাচীনকালে বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ মৃত্ফলকে লিখে রাখা হতো। আড়াই হাজার বছরেরও আগে
আযাসিরিয়ার রাজা আশুরবানিপাল মৃৎ্ফলকের গ্রন্থাগার করেছিলেন। তাতে প্রায় ৩০ হাজার মৃৎ্ফলক ছিল।
প্রাটীনকালের সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থাগার হচ্ছে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার । সাধারণ পাঠাগার প্রথম গড়ে
ওঠে রোমে। খ্রিফীয় দ্বিতীয় শতকের মধ্যে রোমে ২৫টিরও বেশি পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। বাদশাহ হারুন-
অর-রশিদের পাঠাগারের বেশ নাম ছিল। এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে কনফুসিয়াস ও বুদ্ধের ধর্মাদর্শে প্রভাবিত
সমাজ গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারকে বিশেষ মর্ধাদা দিয়ে এসেছে। মুসলিম বিশ্বে কর্দোভা, দামেস্ক ও বাগদাদেও
বেশকিছু গ্রন্থাগার ছিল।

১৬৩
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

বিশ্বের বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থাগার : বর্তমানে পৃথিবীর বিখ্যাত গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের ব্রিটিশ
কংঘেস, কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি উল্লেখযোগ্য । বাংলাদেশে ১৯৫৩ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়
কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি ।

গ্রন্থাগারের শ্রেণিবিভগ : গ্রন্থাগার ব্যক্তিগত হতে পারে, হতে পারে রাষ্্রীয়। সাধারণ গ্রন্থাগার সবার
জন্যে উন্মত্ত । পাঠকদের রুচি ও চাহিদার ভিন্নতা অনুযায়ী বিচিত্র গ্রন্থের সমাবেশ ঘটে সাধারণ পাঠাগারে।
এখানে গ্রন্থের সংখ্যাও হয় প্রচুর । অন্যদিকে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে ব্যক্তির অভিরুচিই প্রধান। এর কারণ,
বিশেষ ধরনের বইয়ের প্রতি সংগ্রাহকের আগ্রহ ৷ পঞ্চদশ শতাব্দীতে ছাপাখানা আবিষ্কার হলে বই ছাপানোর
কাজ সহজতর হয়। তখন থেকে পারিবারিক গ্রন্থাগার গড়ে উঠতে থাকে। গ্রন্থাগার বেসরকারি উদ্যোগে
অর্থাৎ ক্লাব বা গোষ্ঠীর উদ্যোগেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে । স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও গ্রন্থাগার থাকে ।
অনেক অফিস-আদালতেও নিজস্ব গ্রন্থাগার রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রকৃতি অনুসারে
গ্রন্থাগারের নামেও ভিন্নতা দেখা দেয়। যেমন : জাতীয় গ্রন্থাগার, সাধারণ গ্রন্থাগার, বিদ্যালয় গ্রন্থাগার,
গণগ্রন্থাগার, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার ইত্যাদি।

ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা : গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়ে চলেছে। কখনো
বিশেষ প্রয়োজনে, কখনোবা শুধুই মনের খোরাক জোগাতে মানুষ ছুটে যায় গ্রন্থাগারে । একঘেয়ে, ক্লান্ত
জীবনে বই এনে দিতে পারে সজীব প্রাণস্পন্দন। গ্রন্থাগারের বিচিত্র সংরক্ষণ থেকে পাঠক সহজেই খুঁজে
নিতে পারেন পছন্দের বইটি । ছাত্ররা প্রধানত গ্রন্থাগার ব্যবহার করে পাঠ্যবিষয়ের বই পেতে কিতবা কোনো
বিষয়ের উত্তর খুঁজতে । গবেষক গ্রন্থাগারে আসেন নানা তথ্যের সন্ধানে । শখের পড়ুয়ারা গ্রন্থাগারে
আসেন খেয়ালখুশি মাফিক বই পড়ে আনন্দ পেতে । ভালো বই ভালো মানুষ গড়তে বিশেষ অবদান রাখে।
বই হতে পারে মানুষের নিঃসঙ্গাতা কাটানোর বিশেষ কথ্ধু। নৈতিক অধঃপতন থেকে মানুষকে টেনে তুলে
আনতে পারে ভালো বই, ভালো গ্রন্থাগার । বই ছাড়া প্রকৃত মনুষ্যত্ব লাভ এক দুরুহ ব্যাপার। একটি
জাতিকে উন্নত, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
যে জাতির সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার নেই, সে জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাসও নেই।

আধুনিক গ্রন্ধীগার : আধুনিককালে গ্রন্থাগার বলতে কেবল বই-এর সংঘহ বোঝায় না। তা মুদ্রিত,
চিত্রসংবলিত, ধারণকৃত, ইলেকট্রনিক কৌশলে সংরক্ষিত সবধরনের যোগাযোগ মাধ্যমের সংগ্রহশালাকে
বোঝায়। তাই গ্রন্থাগারে এখন বই ছাড়াও ফিল্ম, ভিডিও স্ট্রিপ, অডিও ক্যাসেট, ভিডিও ক্যাসেট,
মাইক্রোফিলু ইত্যাদি সংঘরহ ও সংরক্ষণ শুরু হয়েছে । আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বায়নের ফলে ঘরে
বসেই আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত সব গ্রন্থাগারের বই, পত্রিকা ইত্যাদি
ব্যবহার করতে পারি ।

গ্রন্ধাগারের কাজ : প্রত্যেক গ্রন্থাগারে দক্ষ শিক্ষিত ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী নিয়োজিত থাকেন। এঁদের
কাজ গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীদের সহায়তা করা । গ্রন্থাগারের কর্মীরা প্রধানত যেসব কাজ সম্পাদন করে
থাকেন সেগুলি হলো : বই নির্বাচন ও ক্রয়, বই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় (আক্ষরিক ও বিষয়ভিত্তিক) সাজানো,
গ্রন্থাগার থেকে বই ইস্যু করার ব্যবস্থা, সুনির্দিষ্ট আগ্রহের ক্ষেত্রে পাঠককে পরামর্শ দান প্রভৃতি ।

বাংলাদেশে গ্রন্থাগার : আমাদের দেশে সরকারি গ্রন্থাগার রয়েছে ৬৮টি, বেসরকারি গ্রন্থাগারের সংখ্যা
প্রায় ৯০০। সরকারের বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত গ্রন্থাগারগুলো উল্লেখযোগ্য কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি ও পুরস্কার প্রদান, গণ-উন্নয়ন পাঠাগারের পরিচালনায় ২৭টি

১৬৪

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

গ্রন্থাগারসহ অন্যান্য গ্রন্থাগার পাঠাগার আন্দোলনে অবদান রেখে চলেছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভ্রাম্যমাণ
গ্রন্থাগার প্রকল্পও চালু করেছে।

উপসংহার : বর্তমান বিশ্বে গ্রন্থাগার শিক্ষাপ্রসারের অপরিহার্য অঙ্গ । গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে
গ্রন্থাগার অনবদ্য ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রামের স্বল্পশিক্ষিতরা প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি পরবর্তী
উচ্চশিক্ষার জ্ঞান আহরণ করতে পারে গ্রন্থাগারে এসে । তাই গ্রামে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা ও এর প্রসার ঘটানো
উচিত। প্রতিটি স্কুল-কলেজে উন্নতমানের গ্রন্থাগার গড়ে তোলা দরকার । স্কুলে বইপড়ার অভ্যাস গড়ে
তোলা গেলে পাড়ায় পাড়ায় গ্রন্থাগার স্থাপন করা সহজ হবে। এতে সামাজিক অবক্ষয় রোধের পথ
অনেকখানি প্রসারিত হবে ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ভূমিকা : মানুষের জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিমেয়। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পরিচয়ের সেরা
কফিপাথর মাতৃভাষা । মাতৃভাষা অবলম্বন করেই গড়ে উঠেছে বিশ্বের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর এঁতিহ্য ও
সংস্কৃতি। মাতৃভাষা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের এক মৌলিক সম্পদ । বাঙালির
মাতৃভাষা বাংলা । ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে বাঙালি বিশ্ব-ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের অনন্য
দৃষীন্ত স্থাপন করেছে। তারই স্বীকৃতি পেয়েছি আমরা শতাব্দীর শেষপ্রান্তে এসে। বিশ্ব এই দিনটিকে
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদার স্বীকৃতি এই আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি : ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্ুয়ারিতে পূর্ববাংলার জনগণ রক্তের
বিনিময়ে অর্জন করেছিল মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা । তদানীন্তন পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা ছিল
বাংলা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার জনগণের ওপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তার করার পথ
বেছে নেয়। তারা ঘোষণা করে-_বাংলা রাষ্ট্রভাষা হবে না, রাষ্ট্রভাষার মর্ধাদা পাবে উর্দু, যা কিনা ছিল মাত্র
৭ শতাংশ লোকের মাতৃভাষা। এই অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এঁক্যবদ্ধ হয় সমগ্র
পূর্ববাংলা । বাঙালি ঘোষণা করেছিল, সকল মাতৃভাবাই সমান মর্ষাদা লাভের অধিকারী । তাই উর্দুর সঙ্গো
সঙ্গে বাংলাকেও দিতে হবে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ন্যায্য দাবি নস্যাৎ
করার জন্যে আন্দোলনরত ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালায়। এতে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক,
জব্বারসহ আরও অনেকে । আন্দোলন আরও প্রচণ্ড হয়, গর্জে ওঠে সারা বাংলা । আতঙ্কিত সরকার বাধ্য
হয়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে শহিদের আরণে প্রতি বছর ২১শে
ফেবুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারির চেতনাই বাঙালিকে স্বাধিকার আন্দোলনে
উদ্বুদ্ধ করে। এই সংগ্ামের পথ ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা,
বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাধারণ অধিবেশনে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর
সর্বসম্মতভাবে গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয়, “১৯৫২ সালের একুশে ফেবুয়ারি বাংলাদেশে মাতৃভাষার জন্যে
অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং সেদিন যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে দিনটিকে
“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাব করা হচ্ছে।” আজ ভাষা দিবস কেবল আমাদের একার নয়,
বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হয় এই দিন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ : কানাডার প্রবাসী বহুভাষী জনের সংগঠন “মাদার ল্যাংগুয়েজ

১৬৫
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ড” প্রথম ২১শে ফেব্রুয়ারির ঘটনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর
পেছনে যে দুজন প্রবাসী বাঙালির অবদান রয়েছে তীরা হচ্ছেন আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম । বহুভাষী
ভাষাপ্রেমিক এ সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৯৮ সালের ৯ই জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানকে
একটি চিঠি লেখা হয়। কফি আনান ইউনেস্কোর সঙ্গো যোগাযোগ করার পরামর্শ জানালে ইউনেস্কোতে
একটি আবেদনপত্র পাঠানো হয়। ইউনেস্কোর শিক্ষা বিভাগের প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ বেসরকারি উদ্যোগে
কোনো প্রস্তাব গ্রহণের অপরাগতার কথা জানান। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বিষয়টি
জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়। ২৭টি দেশ এ প্রস্তাবকে সমর্থন জানায়। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর
ইউনেস্কোর ৩১তম সম্মেলনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের স্বীকৃতি পায়।
যে দিবসটি কেবল “ভাষা শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হত আজ তা “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য : ভাষা একটি দেশের সাংস্কৃতিক এতিহ্যের ধারক ও বাহক।
ইউনেস্কোর সম্মেলনে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” পালনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলা হয়:
সাংস্কৃতিক এঁতিহ্য সংরক্ষণে ভাষা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। মাতৃভাষার প্রচলন কেবল ভাষাগত
বৈচিত্র্য, বহ্ভাষাতিত্তিক শিক্ষাকেই উৎসাহিত করবে না, তা সাংস্কৃতিক এতিহ্যের অনুধাবন ও উন্নয়নের
ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে । আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য হলো প্রতিটি মাতৃভাষাকে যথাযোগ্য
মর্যাদা দেওয়া, বিশেষ করে দুর্বল ও জীর্ণ মাতৃভাষাগুলিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা, দুর্বল বলে
কোনো ভাষার ওপর প্রভূত্ব আরোপের অপচেষ্টা না করা। এ দিবসে প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষ নিজের
মাতৃভাষাকে যেমন ভালোবাসবে তেমনি অন্য জাতির মাতৃভাষাকেও মর্যাদা দেবে । এভাবে একুশকে ধারণ
করে মাতৃভাষাকে ভালোবাসার প্রেরণা পাবে মানুষ ।

উপসংহার £ আমাদের মহান একুশ আজ স্বদেশের আঙিনা পেরিয়ে পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে
মাতৃভাষার প্রেরণা । এখন আমাদের করণীয় হলো, জ্ঞানের সব ক্ষেত্রে বাংলাভাষার প্রয়োগ বৃদ্ধিতে
সাধ্যমতো প্রয়াস চালানো । মাতৃভাষার শস্তি বাড়িয়ে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শিক্ষায়-সংস্কৃতিতে নতুন শতকের
জন্যে নিজেদের প্রস্তৃত করা । বিশ্বের জ্ঞানভাপ্তারকে মাতৃভাষায় চর্চার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের
কাছে পৌছে দেওয়া। মাতৃভাষার সেবা করার পাশাপাশি বিশ্বের তাবৎ মানুষের মাতৃভাষার প্রতি যথাযথ
সম্মান দেখানো। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই চেতনাকে সবার মধ্যে সম্জীবিত করার মধ্যেই নিহিত
আছে এই মহান দিবসের সার্থকতা ।

বিজয় দিবস

সূচনা : ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস।এটি আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরতৃপূর্ণ দিন। এই দিনটি আমাদের
জাতীয় জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ১৯৭১ সালের ২৬এ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ । দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১-এর এই দিনে
অর্জিত হয় মু্তিযুদ্ধের গৌরবময় বিজয় । এই দিনে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে
বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় নতুন রাস্ট্ী বাংলাদেশ । তাই “বিজয় দিবস’ আমাদের আত্মমর্যাদার ও আমাদের
সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

পটভূমি : বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পটভূমিতে রয়েছে বিপুল ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস। সে
ইতিহাসের এক গৌরবময় মাইলফলক মহান ভাষা-আন্দোলন। এই আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসের মধ্য

১৬৬

২০১৮
২০১৮

মাধ্যমিক বাংলা রচনা

দিয়ে বাঙালির ভাষাতিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মোষ ঘটে । পরে দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলে পাকিস্তানি
স্বৈরাচারী জঙ্গিবাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংথ্াম। এ পটভূমিতেই ১৯৭১-এর ২৬ এ মার্চ বঙ্গাবন্ধু
ঘোষণা করেন স্বাধীনতা । পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দীড়ায় বীর বাঙালি । শুরু হয় এ
দেশে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ঘটনা-_মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলে মুক্তিসেনাদের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ । যুদ্ধে
প্রায় ব্রিশ লক্ষ বাঙালি জীবন বিসর্জন দেয়। অবশেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালির বিজয় সূচিত হয় ।
এই দিনে ঢাকায় এতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দি উদ্যানে) ঘটে ইতিহাসের অন্যতম
গৌরবময় ঘটনা–পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মাথা নিচু করে অস্ত্র মাটিতে ফেলে আত্মসমর্পণ করে
আমাদের বীর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে।

তাৎপর্য : ব্রিশলক্ষ জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা । অনেক অশ্ু বিসর্জনে পাওয়া এ
স্বাধীনতা আমাদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের । প্রজনোর পর প্রজন্ম বয়ে নিয়ে চলেছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের
পতাকা, গাইছে বিজয়ের গৌরবগাথা। তাই বিজয় দিবসের গুরুত্‌ অপরিসীম । প্রতি বছর এই দিনটি
পালনের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মকে এবং বিশ্বকে বারবার মনে করিয়ে দিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আর
মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, বীর শহিদদের কথা । আমরা অনুপ্রাণিত হই আমাদের দেশের গৌরবোজ্জ্বল
ইতিহাসের কথা স্মরণ করে । উদ্বুদ্ধ হই অগ্রগতির পথযাত্রায় এগিয়ে যেতে ।

বিজয় দিবস ও বর্তমান বাস্তবতা : শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জিত
হলেও আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবের আঘাতে আজ ছিন্নভিন্ন । মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনেককিছুই এখন চলে
গেছে আড়ালে । গণতন্ত্র এখন সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন এখন স্বপ্ন
বিলাসিতা । সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ হয়েছে পরিত্যন্ত । আর মুক্তিযুদ্ধের সময় যে জাতীয় এক্য
গড়ে উঠেছিল তা বিভেদ ও সংঘাতে পর্যবসিত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বিজয় দিবস এখনও
আমাদের অনুপ্রাণিত করে ।

অনুষ্ঠানমালা : বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয় মহাসমারোহে। এ দিন সারাদেশ ছেয়ে যায় লাল-সবুজের সাজে।
লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকা । প্রতিটি শহরে পরিলক্ষিত হয় উৎসবের আমেজ । রাজধানী ঢাকার রাস্তায়
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজন করে গণমুখী নানা অনুষ্ঠানের । স্বাধীনতার আবেগে উদ্বেলিত নরনারী
উৎসবের সাজে সেজে সেখানে জমায়েত হন স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীরা নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এইদিন সকালবেলা ঢাকার জাতীয় প্যারেড ময়দানে সেনাবাহিনীর উদ্যাগে কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, কুটনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ
এই কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। চট্টগ্রামে বিজয় দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী এঁতিহ্যবাহী বিজয় মেলার
আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম এবং তার আশেপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার মানুষ এই মেলা দেখতে
আসেন । দেশের প্রতিটি জেলায়ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই দিনটি পালিত হয়।

উপসংহার : বিজয় দিবস আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন হলেও এর সাথে জড়িয়ে আছে ৭১-
এর মহান শহীদদের স্থৃতি, স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর যুদ্ধাহত ও ঘরহারা মানুষের দীর্ঘশ্বাস । এ দিনটি
শুধু আমাদের বিজয়ের দিন নয়, এটি আমাদের চেতনার জাগরণের দিন। তাই এই দিনে প্রতিটি বাঙালি
নতুন করে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় দেশকে গড়তে-_বিশ্বসভায় সামনের সারিতে মাথা উচু করে দীড়াতে।

১৬৭
মাধ্যমিক বালা রচনা
শহিদ দিবস ও একুশের চেতনা
(সংকেত)

সূচনা : একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে চেতনার এক অগ্নিমশাল । ভাষা-আন্দোলনের অমর স্মৃতি
বিজড়িত এই শহিদ দিবস বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপনের দিন।

পটভূমি £ ভাষা-আন্দোলনের সূচনা ১৯৫২ সালের আগেই। ১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িকতাদুষ্ট কৃত্রিম রাষ্ট্র
পাকিস্তানের জন্মের সময়ে এর শাসনক্ষমতা দখল করে পশ্চিম পাকিস্তানি অবাঙালি শাসকগোষ্ঠী । ১৯৫২
সালে পাকিস্তানের কুখ্যাত সরকার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিল । পূর্ববাংলার জনগণ তা মেনে নিল
না। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হলো তীব্র গণ-আন্দোলন।

পুলিশ মিছিলে গুলি চালালো নির্বিচারে । তাতে শহিদ হলো সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকসহ নাম না-জীনা
অনেক ছাত্র ও পেশাজীবী । শহিদের রন্তের প্রেরণায় সে আন্দোলন আরও দুর্বার হয়ে উঠল । শেষে পশ্চিম
পাকিস্তানি শাসকরা বাধ্য হল বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ।

শহিদ দিবসের তাৎপর্য : আমাদের জাতীয় জীবনে আন্দোলনমুখর এ দিনটি অসাধারণ তাৎপর্যপূর্ণ । বুকের
রত্তঝরা এ আন্দোলনের ভেতর দিয়ে অর্জিত হয়েছে বাঙীলির ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার। তা আমাদের
স্বাধীনতা সংগ্রামে দুর্বার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। একুশে ফেব্রুয়ারির সংগ্রামের পথ ধরেই আমরা
স্বাধীনতা সংগ্রামে শামিল হয়েছি, অর্জন করেছি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ।

শহিদ দিবসের স্বীকৃতি : একুশে ফেবুয়ারির মহান গুরুত্ব ও তাৎপর্যের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৯ সালের ১৭ই
নতেম্বর এই দিনটিকে ইউনেস্কো দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্থীকৃতি। ২১ এ ফেবুয়ারি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বের সকল দেশে সকল জাতির মাতৃভাষার মর্যাদা ও স্বীকৃতির এক
অনন্য স্মারক ।

উপসংহার : ১৯৫২ সালের ২১ এ ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষার জন্য আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা ।
এ দিনের মহান আত্মদানের এঁতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি তার স্বদেশের দিকে তাকিয়েছে। একুশের
চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমাদের তাই এগিয়ে যেতে হবে একটি আধুনিক, প্রগতিশীল ও কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে
বাংলাদেশকে গড়ে তোলার পথযাত্রায় ।

স্বাধীনতা দিবস
(সংকেত)

সূচনা : স্বাধীনতা দিবস জাতীয় জীবনের গৌরব ও তাৎপর্যময় দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে
মার্চ। এই দিনটি জাতীয় জীবনের এঁতিহ্য, অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক।

ধতিহাসিক পটভূমি : বাংলাদেশ এক সময় ভারতবর্ষের অঙ্ঞা ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তা
পাকিস্তানের অক্তা হয়। পশ্চিম পাকিস্তানি কুচক্রী শাসকদের কবলে পড়ে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা
শোষিত ও বঞ্চিত হয়। সকল ধরনের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালিরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে ।
ভাষা-আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ধারায় ১৯৭১-এর ৭ই মার্চ বঙ্ঞাবন্ধু ঘোষণা
করেন–‘এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম ।’ ২৬এ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ ।

১৬৮

২০১৮
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন : এ উপলক্ষে কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। পত্রপত্রিকায় বিশেষ প্রকাশনা ও বেতার-টিভির বিশেষ অনুষ্ঠানে দিনটির
তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

উপসংহার : এ দিনের অনুষ্ঠানমালা আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকে উজ্জীবিত করে ||

সংবাদপত্র

ভূমিকা : যেসব উপকরণ মানবজীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত করেছে তার অন্যতম হচ্ছে সংবাদপত্র ।
আধুনিক জীবনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিহার্য । সংবাদপত্র যে কেবল সংবাদ পরিবেশন করে তা নয়,
জনমতের প্রতিফলন ও জনমত গঠনেও সংবাদপত্রের রয়েছে ইতিবাচক ভূমিকা । গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায়
মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার সংবাদপত্রকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে সংবাদপত্র বহু দল ও
মতের ধারক-বাহক হিসেবেও কাজ করে। এভাবে সংবাদপত্র সরকার ও জনগণের মধ্যে রচনা করে
সেতুবন্ধ । কাজ করে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে ।

আধুনিক সংবাদপত্রের বিষয়-বিস্তীর : আধুনিক সংবাদপত্রের ভূমিকা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে
সীমাবদ্ধ নয়। দেশ-বিদেশের রাজনীতি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক নানা সংবাদ ছাড়াও তা পরিবেশন করে বিচিত্র
তথ্য-প্রতিবেদন। শিল্প-সাহিত্যের আলোচনা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা তথ্য এবং সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বিনোদন
জগতের বিচিত্র কর্মধারা এখন সংবাদপত্রের আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। অর্থনীতি ও রাজনীতি, বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি, ইতিহাস ও ভূগোল, ধর্ম ও দর্শন, ব্যবসা ও বাণিজ্য সবই এখন সংবাদপত্রের পাতায় জায়গা করে
নিয়েছে। সংবাদপত্রের থাকে শিশু-কিশোর ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা বিভাগ, মেয়েদের জন্য আলাদা পাতা,
থাকে জনজীবনের সমস্যাভিত্তিক চিঠিপত্রের কলাম | কোনো কোনো পত্রিকা আবার পাঠকদের নিয়ে গড়ে তোলে
আলাদা ফোরাম । কোনো কোনো পত্রিকা বিশেষ বিশেষ ইস্যুতে জনমত জরিপ করে এবং সরকার ও জাতিকে
পরামর্শ দেয়। সব মিলিয়ে সংবাদপত্র এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার চলমান নির্দেশিকা ।

সংবাদপত্র ও জনমত গঠন : গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রকৃত ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে । সংবাদপত্রের
মাধ্যমেই জনগণ জাতীয়-আন্র্জাতিক পরিস্থিতি ও সমাজ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র ও
সরকারের নীতি ও কর্মপন্থা সম্পর্কে জনগণ অবহিত হয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে । ক্ষমতাসীনরা সবসময়
তাদের পদক্ষেপকে জোর সমর্থন করেন আর বিরোধীরা তার সমালোচনা করেন। কিন্তু সংবাদপত্র উভয়
পক্ষের মতামত, যুক্তি ও তথ্য-নির্ভর আলোচনা প্রকাশ করে পাঠকের নিজস্ব অভিমত গঠনে সাহায্য করে ।
সংবাদপত্রের পাতায় জ্ঞানীগুণী ও বিশেষজ্ঞদের লেখা প্রবন্ধ ও অভিমত, কলাম লেখকদের তর্কবিতর্ক,
যুক্তিপ্রদান ও যুক্তিখগুন, পত্রিকার নিজস্ব সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় জনমত গঠনে সাহায্য করে । এভাবে
সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপকে সমর্থন ও গণবিরোধী নীতির সমালোচনায় সংবাদপত্র গুরুতৃপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে থাকে ।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় পরিপূরক ভূমিকা : বর্তমানে আমাদের দেশে পাঠক্রমভিত্তিক এবং পরীক্ষানির্ভর
সার্টিফিকেটমুখী শিক্ষায় শিক্ষার্থীর জ্ঞানের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষা পরিণত হয়েছে
নোট ও গাইভনির্ভর মুখস্থ বিদ্যায়। অন্যদিকে সংবাদপত্র এখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বক্ষেত্রকেই তার
আওতায় এনেছে। ফলে তাতে কেবল দৈনন্দিন জগতের খবরাখবর থাকে না, রাজনীতি, অর্থনীতি,

১৬৯
রচনা সম্ভার ৯-১০, ফর্মা-২২
মাধ্যমিক বাংলা রচনা

সমাজনীতি, সংস্কৃতি, শিল্প-বাণিজ্য, খেলাধুলা, বিনোদন, স্বাস্থ্য, চাকরি, জীবিকা ইত্যাদি সম্পর্কেও নানা
তথ্য থাকে । নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে বুমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়। এতে জনগণের জ্ঞানের
ক্ষেত্র যেমন সম্প্রসারিত হয় তেমনি ভাষাজ্ঞানও বাড়ে । তা ছাড়া দেশ ও জাতির সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে
তারা অবগত হন। তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক সচেতনতা জাগ্রত হয়। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও
সম্গ্রীতিবোধের প্রসার ঘটে | এভাবে সংবাদপত্র জনগণের সর্বতোমুখী শিক্ষায় অবদান রাখে ।

সংবাদপত্রের সীমাবদ্ধতা : সংবাদপত্রের ইতিবাচক দিকের মতো কিছু সীমাবদ্ধতাও চোখে পড়ে । এখন
অনেক সংবাদপত্র বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর মালিকানা বা রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণের অধীন হয়ে পড়েছে। এসব
সংবাদপত্র প্রায়ই শিল্পগোষ্ঠীর কিংবা রাজনৈতিক দলের স্বার্থকেই বড়ো করে দেখে । তা ছাড়া মুক্তবাজার
অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ সংবাদপত্রই পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে । জনস্বার্থের চেয়ে
বাণিজ্য-স্বার্থই এদের কাছে মুখ্য । তা ছাড়া এক শ্রেণির সংবাদপত্র হীন স্বার্থে রাজনীতিক বিভেদ সৃষ্টি ও
বল্লাহীন মিথ্যা প্রচারে জনমতকে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে দায়বদ্ধ নিরপেক্ষ সাংবাদিক
আদর্শও নস্যাৎ হচ্ছে। এটি দেশ ও জাতির জন্যে কল্যাণকর নয়।

উপসংহার £ বর্তমানে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানব উন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণের
মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে সংবাদপত্রগুলো গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উন্নততর জীবন ব্যবস্থার প্রতি
জনগণের আগ্রহ সৃষ্টিতেও সংবাদপত্রের দায়িত্ব কম নয়। আমাদের দেশে রয়েছে ব্যাপক নিরক্ষরতা ও
সামাজিক পশ্চাৎপদতা । এই প্রেক্ষাপটে সমাজ-জীবনে আধুনিক ধ্যান-ধারণা ও বিজ্ঞানমুখী চেতনার বিকাশে
সংবাদপত্রের ভূমিকা হতে হবে কল্যাণমুখী। দলীয় স্বার্থ ও সংবীর্ণতার উধ্র্বে উঠতে হবে সংবাদপত্রকে ।
গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনাসম্পন্ন সুশীলসমাজ গড়ার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার পরিচয় দিতে হবে। জনস্বার্থ ও
মানবতার পক্ষে অবস্থান নিলে সত্যিকার অর্থে সংবাদপত্র হয়ে উঠবে জনগণের কণ্ঠস্বর ।

টেলিভিশন

ভূমিকা : একালের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভা